প্রথম পর্বে বলেছিলাম ক্রিকেট খেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে গেলে কি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং কত ধরণের ফলাফল ক্রিকেট ম্যাচে হতে পারে। আজকে বলবো ক্রিকেট খেলা কত ধরণের হতে পারে।

অফিশিয়ালভাবে ক্রিকেট খেলা কিন্তু তিন ধরণের। এবং প্রতি ধরণের মধ্যেই দুটি করে ভাগ আছে। সেগুলো প্রথমে বলে নিই –

১। ফার্স্ট ক্লাস বা প্রথম শ্রেণী:

এই ধরণের ম্যাচ দীর্ঘ পরিসরে হয়। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনে এই খেলাগুলো হয়। ঘরোয়া ম্যাচ সাধারণত চার দিনের হলেও কোনো কোনো দেশে ফাইনাল ম্যাচগুলো পাঁচ দিনের করা হয়। টেস্ট প্লেয়িং দেশগুলোর এক বা একাধিক সর্বোচ্চ ঘরোয়া আসরের ম্যাচগুলো ফার্স্ট ক্লাস হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া টেস্ট প্লেয়িং দেশগুলোর ‘এ’ দল, ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলা দল এবং আইসিসি সহযোগি দেশগুলোর জাতীয় দল স্বীকৃত দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেললে সেগুলো ফার্স্ট ক্লাস হিসেবে ধরা হবে। তবে অনেক সময় এ ধরণের দলগুলো সেদেশে ট্যুরে আসা বিদেশী দলগুলোর সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে যেখানে স্কোয়াডের সবাইকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো হয়। এক্ষেত্রে এগুলো ফার্স্ট ক্লাস ধরা হয় না। তবে এই ম্যাচগুলোও যদি প্রোপার কন্ডিশন মেনে খেলা হয়, তখন এগুলোও ফার্স্ট ক্লাস হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

টেস্ট ম্যাচ:

টেস্ট প্লেয়িং দেশগুলোর মধ্যে হওয়া ৫ দিনের ম্যাচগুলোই টেস্ট ম্যাচ। এই ম্যাচগুলোও ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ। ক্লাস নাইন টেনে থাকতে অনেকেই পড়েছিলাম, “সকল ক্ষারই ক্ষারক, কিন্তু সকল ক্ষারকই ক্ষার নয়”। একইভাবে, সকই টেস্ট ম্যাচই ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ, কিন্তু সকল ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ টেস্ট ম্যাচ নয়। টেস্ট ম্যাচ যেমন একেবারে স্ট্রিক্ট আইসিসির নিয়ম মেনে খেলা হয়, ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ সব সময় তা নয়। সেখানে আয়োজক বোর্ডের অনেক স্বাধীনতা থাকে। যেমনঃ গোলাপি বলে দিবারাত্রির খেলা টেস্টে চালু হবার আগেই ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস টুর্নামেন্ট দুইটি। এনসিএল এবং বিসিএল।

২। লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ:

এ ধরণের ম্যাচগুলো ওয়ানডে ফরম্যাটে হয়। ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের দল, ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়া দেশের জাতীয় দল এবং এসব দেশের প্রিমিয়ার লীগ ওয়ানডে টুর্নামেন্টের খেলা গুলোই লিস্ট ‘এ’ হিসেবে মর্যাদা পাবে। ফার্স্ট ক্লাসের মতো এখানেও প্রস্তুতি ম্যাচগুলো লিস্ট এ মর্যাদা পাওয়া দলের মধ্যে হলেও সেটা প্রোপার কন্ডিশনে না খেললে লিস্ট এ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে না। লিস্ট এ ম্যাচগুলো সাধারণ ৪০ থেকে ৬০ ওভারের মধ্যে হয়ে থাকে।

ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল:

টেস্টের মতোই ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়া জাতীয় দলগুলোর মধ্যে যেসব খেলা হয় সেগুলোই আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ। সব টেস্ট ম্যাচই যেমন ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ, তেমনি সমস্ত ওয়ানডে ম্যাচই লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ, কিন্তু সব লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ না।

ওয়ানডে ম্যাচ কিভাবে তৈরি হলো সেটা তো আগের পর্বেই বলেছিলাম। একদিনের ক্রিকেট ওয়ানডের আগে থেকেই ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা হচ্ছিল, যদিও ২০০৬ সালে এসেই আইসিসি লিস্ট ‘এ’ কে অফিশিয়ালি স্বীকৃতি দেয়। শুরুতে ওয়ানডে ৬০ ওভারেই খেলা হতো, তবে ওয়ানডে ম্যাচ ৫০ ওভারে নেমে আসে ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে এসে। ইংল্যান্ড উত্তর দিকে এবং অস্ট্রেলিয়া অনেকটা দক্ষিণ দিকে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে গ্রীষ্মকালে দিনের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি হতো, আর সেখানে শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালে ক্রিকেট খেলা হওয়ায় সারাদিনে ৬০ ওভারের ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব ছিল। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ভারতীয় উপমহাদেশে আয়োজন করতে গিয়ে দেখা গেল সমস্যা। সেখানে ক্রিকেট সিজন শুরু হতো শরৎ কালে অর্থাৎ অক্টোবর নভেম্বরে আর শেষ হতো বসন্তের শেষে অর্থাৎ মার্চ এপ্রিলে। ফলে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মত লম্বা দিনের সুবিধা সেখানে পাওয়া যেত না। আর সে যুগে ফ্লাডলাইট না থাকায় দিনের আলো থাকতে ১২০ ওভার শেষ করা কষ্টকর ছিল। সেজন্যই ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ৫০ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। ইংল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকার মতো কয়েকটি দেশে এখন ঘরোয়া লীগে ৪০ ওভারের লিস্ট এ ম্যাচ আয়োজন করা হয়।

৩। টি টুয়েন্টি:

এটাকে অনেকটা ওয়ানডে ফরম্যাটের আপডেটেড ভার্সনও বলা চলে। ২০০২ সালে ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের মার্কেটিং ম্যানেজার স্টুয়ার্ট রবার্টসন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খেলাটাকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে এটি চালু করার প্রস্তাব দেন এবং ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডে এটি চালু হয়। আন্তর্জাতিকভাবে ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক টি টুয়েন্টি ম্যাচ হয়। এ ম্যাচটা দুই দলের প্লেয়াররা অনেক মজার ছলে খেলেছিলেন, যেমন গ্লেন ম্যাকগ্রার আন্ডারআর্ম বল করা, খেলোয়াড়দের পুরোনো আমলের জার্সি এবং উইগ পরে আসা, আম্পায়ার বিলি বাউডেনের ম্যাকগ্রাকে লাল কার্ড দেখানো ইত্যাদি।

ভিডিও লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=sBk1XFlYZ9c

২০০৭ সালে আইসিসি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবার কথা ভেবে ওয়ার্ল্ড টি টুয়েন্টি আয়োজন করে। সেই টুর্নামেন্ট দারুণভাবে সফল হয়। ভারতের ওই টুর্নামেন্টের আগে একটিও টি টুয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও সেই টুর্নামেন্টে তারা নবীন একটি দল নিয়ে এসে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়। ফাইনালে হাই ভোল্টেজ ভারত পাকিস্তান ম্যাচ এবং উত্তেজনাকর ফিনিশিং দিয়ে এই ফরম্যাট হট কেকে পরিণত হয়। বাণিজ্যিক রেশারেশির ফলে ভারতে প্রথমে বিদ্রোহী আইসিএল চালু হয় এবং এটি নিষিদ্ধ হবার ফলে বাংলাদেশ সহ অনেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইসিএলকে টেক্কা দিতে ভারত আইপিএল টি টুয়েন্টি লীগ শুরু করে এবং এই লীগে বিশ্বের সেরা প্রায় সব প্লেয়ারই অংশ নেয়। এর ফলে বিশ্ব ক্রিকেটের গতিপথই বদলে যায়। সমস্ত দেশেরই এখন নিজস্ব টি টুয়েন্টি লীগ আছে। টি টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক দলগুলো খেললে সেটা আন্তর্জাতিক টি টুয়েন্টি হিসেবে পরিগণিত হয়।

তিনটি ফরম্যাটের মধ্যে ছয়টি ফরম্যাট কীভাবে আসে সেটা বোঝার জন্য আমরা সাকিব আল হাসানের প্রোফাইল দেখতে পারি –

লিঙ্কঃ http://www.espncricinfo.com/bangladesh/content/player/56143.html

আসলে ফরম্যাট তিনটাই, শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক অংশটাই আলাদা করে দেখানো হয়েছে।

বিস্তারিত:

১। ফার্স্ট ক্লাস: https://en.wikipedia.org/wiki/First-class_cricket

২। লিস্ট এ: https://en.wikipedia.org/wiki/List_A_cricket

৩। টুয়েন্টি টুয়েন্টি: https://en.wikipedia.org/wiki/Twenty20

 

আনঅফিশিয়াল ফরম্যাট-

এ ছাড়া আনঅফিশিয়াল কিছু ফরম্যাট রয়েছে যা আন্তর্জাতিক প্লেয়াররা খেললেও আইসিসি স্বীকৃত না। এমন কিছু ফরম্যাটঃ

১। গেমস ক্রিকেট:

এশিয়ান গেমস বা সাফ গেমসে এই ক্রিকেট দেখা গেছে। এতে আন্তর্জাতিক প্লেয়াররা খেললেও এবং এর সমস্ত নিয়ম কানুন প্রফেশনাল ক্রিকেটের সাথে মিল থাকলেও এ ধরণের ক্রিকেট আইসিসি স্বীকৃত নয়।

২। সিক্স এ সাইড ক্রিকেট:

এখানে দুই দলে ছয়জন করে প্লেয়ার খেলেন। মাঠের সাইজ অনেক ছোট হয়। খেলা হয় পাঁচ ওভারের এবং প্রত্যেক বোলার মাত্র ১ ওভারই বল করতে পারেন। কোনো ব্যাটসম্যান ৩০ রানের বেশি করলে বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে হয়। অবশ্য সব ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেলে ওই ব্যাটসম্যান আবার খেলতে পারে। টিমের ৫ জন আউট হলেও শেষ নট আউট ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করে যেতে পারে আর শেষ আউট হওয়া ব্যাটসম্যান নন ব্যাটিং রানার হিসেবে খেলতে পারে। ওয়াইড এবং নো বলে ২ রান করে যোগ হয়। হংকং এ এই ধরণের আসর নিয়মিত হয়।

৩। ক্রিকেট ম্যাক্স:

এই ফরম্যাটটা মূলত নিউজিল্যান্ডেই খেলা হয়। এটি উদ্ভাবন করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মার্টিন ক্রো। এতে টেস্ট এবং টি টুয়েন্টি দুটিরই মজা পাওয়া যায়। এখানে দুই দল ১০ ওভারের দুটি করে ইনিংস খেলে এবং দুই ইনিংস মিলিয়ে ফল নির্ধারিত হয়। একজন বোলার দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪ ওভার বল করতে পারে। একটা নির্দিষ্ট দুরত্বের বাইরে বল পাঠালে ১ বলে ৮ কিংবা ১২ রানও পাওয়া যায় এখান থেকে। মূলত নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া দলগুলো এ ধরণের ম্যাচ খেললেও নিউজিল্যান্ড ভারত, ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাতীয় দলের সাথেও এমন ম্যাচ খেলেছে। এমনই একটি ম্যাচের স্কোরকার্ডঃ http://www.espncricinfo.com/ci/engine/current/match/112812.html

৪। ইনডোর ক্রিকেট:

এই ক্রিকেট মূলত ইনডোরে খেলা হয় বলেই এমন নাম। মাঠের বদলে সাধারণত উডেন ফ্লোরে খেলা হয়। এই খেলায় নিয়মের অনেক ভ্যারিয়েশন আছে। যেমন – ওয়াইডে, ২ রান দেয়া বা নির্দিষ্ট রান করার পর বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া, ওভার সংখ্যা, খেলোয়াড় সংখ্যা অনেক কিছুতেই বেশ ভ্যারিয়েশন আছে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে একটা ইনডোর টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল যেটা বেশ আলোচিত হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক অনেক তারকাই ছিলেন।

অ্যামেচার ক্রিকেট-

অ্যামেচার ক্রিকেটের আসলে প্রকারভেদের সীমা নেই। তবুও কিছু কিছু প্রকার এখানে দেয়ার চেষ্টা করবো।

১। ইভিনিং ক্রিকেট:

এটা ইংল্যান্ডে বেশি খেলা হয়। টি টুয়েন্টির মতো এখানেও ১২০ বলের ইনিংস হলেও এতে ৮ বল করে ১৫ ওভার খেলা হয়। সিক্স এ সাইডের মত এখানেও ব্যাটসম্যানকে নির্দিষ্ট রানের পর অবসরে যেতে হয়। বোলার সর্বোচ্চ ২ বা ৩ ওভার বল করতে পারেন। ওয়াইড বা নো বলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল না দিয়ে এক বলেই ২ রান দেয়া হয়। তবে দুই ইনিংসেই শেষ ওভারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর না।

২। ব্যাকইয়ার্ড বা উঠান ক্রিকেট:

এই ধরণের ক্রিকেট সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও প্রচুর জনপ্রিয়। এ ধরণের ক্রিকেটের কিছু সাধারণ নিয়ম আছে যেমন – প্রথম বলে আউট হলে সেটা আউট না, এলবিডব্লিউ নেই, ছক্কা মারলে আউট, এক ড্রপের পরে এক হাতে ক্যাচ ধরলে আউট ইত্যাদি। প্লেয়ার কম হলে অনেক সময় ব্যাটসম্যান রা পালা করে ব্যাটিং এ নামে আর বাকি সবাই বোলিং আর ফিল্ডিং করে।

৩। রুফটপ বা ছাদ ক্রিকেট:

এটিও খুবই জনপ্রিয় ফরম্যাট বাংলাদেশে। এর একটা নিয়ম আছে যে রান নয়, বরং কে কত বল টিকে থাকে এটিই দেখা হয়। ছাদ থেকে বল ফেললেই আউট। অনেকটাই কাছাকাছি ধরণের ক্রিকেটকে ‘গার্ডেন ক্রিকেট’ নামে ইংল্যান্ডে খেলা হয়।

৪। বিচ ক্রিকেট:

এ ধরণের ক্রিকেটে অনেক সময় বালিতে বল পড়ে বাউন্স না হওয়া এড়ানোর জন্য ফুলটস বল করা হয়। এখানে বাকি সব নিয়ম এক থাকলেও একটা উল্লেখযোগ্য নিয়ম হলো পরপর দুইটা বল মিস করলেই ব্যাটসম্যান আউট ধরা হয়। ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলোয় এ ফরম্যাট অনেক জনপ্রিয়।

৫। টেপ টেনিস ক্রিকেট:

এ ধরণের ক্রিকেট উপমহাদেশে খুব জনপ্রিয়। রাস্তায় বা গলিতে এ ধরণের ক্রিকেট প্রচুর খেলা হয়। জায়গাভেদে এর নিয়মে অনেক ভ্যারিয়েশন হয়। তবে বিশেষ করে পাকিস্তানে এই টেপ টেনিসের সুইং এর কৌশল আয়ত্ব করেই অনেক ফাস্ট বোলার বেরিয়ে এসেছে।

৬। ফ্রেঞ্চ ক্রিকেট:

এই ধরণের ক্রিকেট ইউরোপে শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয়। এর উল্লেখযোগ্য নিয়ম হচ্ছে এতে কোনো স্টাম্প নেই, বরং ব্যাটসম্যানের পায়ে লাগলেই আউট।

৭। কুইক ক্রিকেট:

এ ধরণের ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া – নিউজিল্যান্ডে শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয়। সাধারণত প্লাস্টিকের ব্যাট ও বল দিয়ে খেলা হওয়া এই ক্রিকেটে খেলোয়াড় সংখ্যা ও সময়ভেদে মাঠের আকারেও পরিবর্তন করা হয়। তিন ধরণের কুইক ক্রিকেট হয়, যেমন-

  • পেয়ার কুইক ক্রিকেট – যেখানে ৪ টা বা ৫ টা পেয়ার থাকে এবং প্রতি পেয়ার ২ ওভার করে ব্যাটিং এর সুযোগ পায়।
  • লর্ডস গেম – যেখানে আন্ডারআর্ম বোলিং করা হয় এবং মাত্র ১ সেট স্টাম্প থাকে।
  • কন্টিনিউয়াস কুইক ক্রিকেট – যেখানে ব্যাটে বল লাগুক আর না লাগুক – ব্যাটসম্যান কে দৌড়াতেই হবে।

এর আরও অনেক ছোটখাট মজার নিয়ম আছে, যেটা সময় স্বল্পতায় দেয়া গেল না। তবে আগ্রহীরা পড়ে আসতে পারেন এখান থেকেঃ http://www.ubergames.co.uk/kwik-cricket-rules-a34.html

৮। ডিক্লারেশন ক্রিকেট:

এই ধরণের ক্রিকেটের নিয়ম অনেকটাই ট্র্যাডিশনাল। পার্থক্য এই যে, এতে দুই ইনিংস মিলিয়ে একটা সময় বা ওভার লিমিট করে দেয়া থাকে এবং এক ইনিংস করে খেলা হয়। প্রথমে ব্যাট করা দল যদি মনে করে যথেষ্ট রান করেছে এবং এর ভেতরে বিপক্ষকে আটকাতে পারবে তাহলে ডিক্লেয়ার করতে পারে। দ্বিতীয় দল যদি রান টপকাতে না পারে আবার অলআউটও না হয়, তাহলে ড্র মেনে নেয়া হয়।

৯। কিলিকিতি বা কিরিকিতি:

এটি সামোয়ার জাতীয় খেলা। নিউজিল্যান্ডেও এটি বেশ জনপ্রিয়। এই খেলায় কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় সংখ্যা নেই এবং এর নির্দিষ্ট নিয়ম নেই বরং জায়গা এবং খেলোয়াড় সংখ্যা ভেদে নিয়মে ভিন্নতা আসে। একটি ভিন্নতা আছে সেটা হলো এখানে দুই প্রান্তেই দুইজন উইকেটকীপার থাকে।

এছাড়া আরও অনেক ধরণের ক্রিকেট আছে যেমন অস্ট্রেলিয়ার বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য ওভার ৬০ ক্রিকেট, মহিলাদের খেলা ভিগোরো ক্রিকেট, ক্যারিবিয়ানে খেলা প্লাকা বা প্লাকুইটা, পাপুয়া নিউগিনিতে হওয়া ট্রোব্রিইয়ান্ড ক্রিকেট ইত্যাদি।

মজার ক্রিকেট-

ক্রিকেট খেলতে যে সব সময় ব্যাট বল বা পিচ লাগবে এমনও না কিন্তু! এবার সেসব মজার ক্রিকেটের কথাই বলছি। অনেকে হয়তো ছোটবেলায় এ ধরণের ক্রিকেট খেলেছেনও-

১। কার ক্রিকেট:

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয় লং ড্রাইভে বাচ্চাদের ব্যাস্ত রাখার জন্য এই মজার খেলা খেলা হয়। এখানে কেউ একজন ব্যাটসম্যান হয় এবং গাড়ির রং দেখে নির্দিষ্ট রং এর জন্য নির্দিষ্ট রান হিসাব করা হয়। কতগুলো গাড়ি কোন রং এর গেলো এটা একটা নির্দিষ্ট সময় অথবা দূরত্ব পর্যন্ত হিসাব করা হয়। সবার পালা শেষ হবার পরে যার রান বেশি সে-ই বিজয়ী হয়।

২। কার্ড ক্রিকেট:

এখানে বিভিন্ন কার্ডে বিভিন্ন রান অথবা আউট ইত্যাদি লেখা থাকে। ব্যাটসম্যান কে কার্ড গেস করতে হয় লটারির মত করে আর এভাবেই রান হিসাবের পরে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়।

৩। পেপার ক্রিকেট:

এটা ছোটবেলায় অনেকেই খেলেছেন। একটা কাগজে একটা বৃত্তের মধ্যে বিভিন্ন ঘরে বিভিন্ন রান সংখ্যা এবং আউট লেখা থাকে। ব্যাটসম্যান চোখ বুঝে কোনো একটা ঘর সিলেক্ট করে আর সেই রান যুক্ত হয়।

৪। বুক ক্রিকেট:

এটা দুইজনের খেলা। এই ক্রিকেটে কোনো একটা বইয়ের পাতা উল্টে জোড় সংখ্যার পাতার শেষ অঙ্ককে রান ধরা হয়। ২, ৪, অথবা ৬ রান সাধারণভাবেই হয়। শেষ অংক ০ হলে আউট ধরা হয়। শেষ অংক ৮ হলে ব্যাটসম্যান অতিরিক্ত আরেকটি সুযোগ পায় এবং ওই ৮ রান এক্সট্রা ধরা হয়। সময় কাটানোর জন্য এটিও মজার একটা খেলা।

সম্ভবত ক্রিকেটই সবচেয়ে বেশিভাবে নিজেদের নিয়ম করে খেলা যায়। সারা বিশ্বের নানা অঞ্চলে আরও অনেক ধরণের ক্রিকেটই ছড়িয়ে আছে। কে বলে ক্রিকেট জনপ্রিয় খেলা না!

 

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-