ছয় মারার পরের বলটিতেই আবার ছয় হাঁকাতে যাওয়া কেন?

একটা সময় বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাটসম্যানই টুকটুক করে খেলতেন। সিঙ্গেল-ডাবলসেই রান বেশি হতো। তবে এই প্রজন্মের ব্যাটসম্যানরা শুধু সিঙ্গেলস-ডাবলসেই স্কোরিং শট খেলেন না। তাঁরা ছয় মারতে জানেন এবং ভালোভাবেই জানেন! সাব্বিরের মতো ক্লিন হিটিং, তামিমের মতো ক্লাসিক হিটিং, সাকিবের মতো বুদ্ধিদীপ্ত শট, মাশরাফির মতো পাওয়ার হিটিং কিংবা মোসাদ্দেকের মতো শুধু টাইমিংয়ের খেল- যেমনটাই বলা হোক না কেন, আমাদের ব্যাটসম্যানরা যখন প্রতিপক্ষের বোলারের উপর চড়াও হয়ে ছয় হাঁকান, তা দেখার মতো সুখকর অনুভূতি খুব কমই আছে।   

তবে আক্ষেপের গল্পটা অন্যখানে। স্লগে এসে রান তাড়া করার চেষ্টায় এক ওভারে ১-২-৩-৪-৫-৬ টি ছয় মারলেও সমস্যা নেই পরিস্থিতি বিবেচনায়। কিন্তু ‘ইনিংস মেরামত’ করার সময় ওভারের একটি বলে ছয় মারার পর পরের বলেও ছয় মারতে হবে কেন? সাদা চোখে দেখে মনে হতেই পারে, ‘আহারে, আমাদের ব্যাটসম্যানরা এত্ত আনলাকি! সিক্স মারার পরের বলেই আউট হয়ে যায়!’ কিন্তু ব্যাপারটা আদতেই কি তাই? একটি ছয় মারার পর যেখানে স্ট্রাইক রোটেট করা উচিৎ, ভালো বলকে তার প্রাপ্য ট্রিটমেন্ট দেওয়া উচিৎ- সেখানে টানা ছয় হাঁকানোর চেষ্টায় আউট হওয়ার চাইতে হতাশা আর কী হতে পারে! 

বাকী ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত ধরে রেখেছিলেন সাকিব। অসাধারণ খেলছিলেন। যেভাবে হাল ধরেছিলেন, তাতে নিভে যাওয়া আশার পালে হাওয়া লেগেছিল আবারও। ম্যাচে তখন ২৮তম ওভারের খেলা চলছে। ফার্গুসনের প্রথম বলে ডাবলস, তার পরের বলে অসাধারণ ছয়! ছয়ের মারটি ছিল নিজের কমফোর্ট জোনে। তার পরের বলেই আবার ছয় মারতে গিয়ে আউট সাকিব! এর আগের পাঁচ ওভারেই রান এসেছে ৪১, এই ওভারের প্রথম দুই বলেই ৮ রান-  তারপরও আবার ছয় মারতে গিয়ে আউট হওয়ার পর নিশ্চয়ই সাকিব আক্ষেপে পুড়েছেন! ৩১তম ওভারে আবারও ফার্গুসনের ওভারের প্রথম দুই বলে দুটি সিঙ্গেল, তারপর তৃতীয় বলে সাব্বিরের ছয়। চতুর্থ বলে আবারও ছয় মারতে গিয়ে সাব্বির আউট! শেষমেষ জয় তো হলো ফার্গুসনেরই! কেননা,

‘In the game of cricket, he who has the last laugh is the ultimate winner.’

মাত্র মিনিটখানেক আগেই ধারাভাষ্যকাররা যাদেরকে প্রশংসার বৃষ্টিতে ভেজাচ্ছিলেন, পরমুহুর্তেই তাদের অদূরদর্শিতার জন্য ভৎসর্না করতেও ছাড়েননি। এভাবে ‘Getting carried away’ হওয়া ক্রিকেটে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু আমাদের ব্যাটসম্যানরা যেন ক্রমশ এটিকে একান্ত ‘নিজস্ব সংস্কৃতি’-তে পরিণত করে ফেলছেন। 

দিনশেষে এরকম ভুলের কারণে সমর্থকেরা কষ্ট পান, কখনো কখনো সামাজিক গণমাধ্যম কিংবা চায়ের দোকানে সে রাগ ঝাড়েন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কষ্ট আর আক্ষেপটা বেশি হয় ক্রিকেটারদেরই। তাই কটু মন্তব্য করা ভীষণ অনুচিত। আমরা বরং আশায় বুক বাঁধি, একজন সাকিব আল হাসান কিংবা সাব্বির রহমানরা প্রতিপক্ষ বোলারদের ভালো বলেই আউট হবেন, নিজেদের মুহূর্তের খামখেয়ালিপনায় নয়। 

আরও পড়ুন

জিততে হলে শুধু বাউন্ডারি নয়, সিঙ্গেল-ডাবলসও নিতে হয়!

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-