আমেরিকার গৃহযুদ্ধের শেষের দিকে, ১৮৬৫ সালের ১৬ এপ্রিলে জর্জিয়ার কলাম্বাসে মুখোমুখি সংঘর্ষে যুদ্ধের দুই পক্ষ ইউনিয়ন এবং কনফেডারেট ক্যাভালরি। যুদ্ধের কোনো একটি মুহূর্তে বুকে মারাত্মক এক ক্ষত নিয়ে সমরাঙ্গন ছাড়তে বাধ্য হলেন কনফেডারেট কর্নেল জন পেমবার্টন। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটির পরোক্ষ শুরুটা বলা যেতে পারে এখান থেকেই! কর্নেলের বুকের ক্ষতটা ছিল খুবই ভয়াবহ, যা তাকে ঠেলে দিয়েছিল জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে! গভীর ক্ষতের কারণে খুব রক্তক্ষরণ হয়, ডাক্তাররা ভাবলেন আর বাঁচবেন না; তাই, জীবনের শেষ মুহূর্তের অবর্ননীয় কষ্ট লাঘবের জন্যে প্রচুর পরিমানে মরফিন দেওয়া হয় কর্ণেলকে।

যমে-মানুষে টানাটানির পরে আশ্চর্যরকমভাবে বেঁচে গেলেন কর্ণেল। কিন্তু যুদ্ধফেরত অনেকের মতো তার একটা অভ্যাস তৈরি হয়ে গেল; ব্যথানাশক ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়লেন তিনি। এই ব্যথানাশক ঔষধের নিরবিচ্ছিন্ন চাহিদায় পেমবার্টন নিজেই ঔষুধের দোকান খুলে বসলেন! অবশ্য পেমবার্টন কেমিষ্ট ও ফার্মাসিস্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন, বোটানি ও হার্বালিসমের মূলমন্ত্রের থমসনিয়ান মেডিসিনের একজন লাইসেন্সধারী তিনি।

যাই হোক, দীর্ঘদিনের আসক্তি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন কর্ণেল, খুঁজতে লাগলেন বাজে অভ্যাসের প্রতিষেধক। দীর্ঘদিনের পেশাদারী জীবনের সমস্ত জ্ঞান ঢেলে দিলেন নতুন কিছু আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে যা তাকে মুক্তি দিবে আসক্তি থেকে। বিভিন্ন উদ্ভিদ, পাতা, কোকা পাতা ইত্যাদিসহ চালিয়ে যেতে থাকলেন গবেষণা। অবশেষে কর্ণেল কোকা পাতার সাথে ওয়াইন এবং কোলা নাটের সাথে মিশিয়ে তৈরি করলেন তার প্রথম বেভারেজ। পেমবার্টনের ‘ফ্রেঞ্চ ওয়াইন কোকা নার্ভ টনিক’ নামের এই উদ্ভাবন শুধু আসক্তি নিরাময়ের ঔষধ নয়; পেট খারাপ, মাথা ব্যথাসহ আরো কিছু রোগের প্রতিষেধক হিসেবে বিক্রি হতে থাকলো। বেশ দ্রুতই প্রসার পেল তার এই পানীয়, আদতে এটি ঔষুধের দোকানে যেত ঘন সিরাপরুপে, সেখানে প্রশিক্ষিতরা সোডা পানির সাথে পর্যাপ্ত পরিমানে মিশিয়ে খাওয়ার উপযোগী পানীয় হিসেবে তৈরি করতো। গোটা দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় কোকা-কোলার আদিরুপ ছিল এটিই!

কোকা-কোলার আবিষ্কারক কর্নেল পেমবার্টনের দিন বেশ ভালোই চলছিল, কোকা-কোলা আসলে তখন কোকেইন মিশ্রিত অ্যালকোহলের একটি শক্তিশালী মিশ্রন ছিল। কিন্তু আবিষ্কারের বিশ বছর পর ১৮৮৬ সালে কোকা-কোলার আঁতুড়ঘর জর্জিয়ায় কড়াভাবে সীমিত করা হয় অ্যালকোহলের উৎপাদন ও বিক্রি। দমে না গিয়ে কর্ণেল বুদ্ধি করে নতুন করে অ্যালকোহল মুক্ত করে ওয়াইনের পরিবর্তে মিষ্টি সিরাপ মিশিয়ে বেভারেজ তৈরি করে বিক্রি চালিয়ে যেতে থাকলেন।

শুরুতেই কোকা-কোলার ভালো বিক্রি ও প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রখেছে পেমবার্টনের নীতি, তিনি বিতরণে কোন খরচ করতেন না। নিজের প্ল্যান্টে ঘন সিরাপ রুপে তৈরি করে চুক্তিবদ্ধ ও আগ্রহীদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন যারা সঠিকভাবে মিশিয়ে পানীয় তৈরি করতে পারতো এবং তারা তাদের পছন্দমতো করেই বিক্রি করতো। এই পদ্ধতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজার বুঝে স্বাধীনভাবে কোকা-কোলা বিক্রি করত। কোকা-কোলা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পরল গোটা দক্ষিণে, বিক্রি হতে থাকল প্রতি গ্লাস পাঁচ সেন্ট করে।

যে আসক্তি ছাড়তে গিয়ে কর্নেল কোকা-কোলা আবিষ্কার করেছিলেন সেই আসক্তি আবার ফিরে আসে, মরফিনের আসক্তি কোকেইন খুব সামান্যই দমিয়ে রাখতে পেরছিল। মরফিনের ফের আসক্তি কর্ণেলের শারীরিক অবস্থার অবনতির দিকে ঠেলে দিল, স্বাস্থ্যের সাথে খারাপ হতে লাগল আর্থিক অবস্থাও। বাধ্য হয়ে কর্ণেল একসময় তার আবিষ্কারের স্বত্বাধিকার বিক্রি করে দিল তার অনেক ব্যবসায়ী অংশীদারীদের কাছে। ১৮৮৮ সাল, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় নিঃস্ব এবং আসক্ত পেমবার্টন মারা গেলেন। তার এই কোকা-কোলা দুনিয়াজুড়ে কতটা সাড়া ফেলেছে ও প্রভাব বিস্তার করতে যাচ্ছে পরবর্তীতে, সেটা দেখার সৌভাগ্য হয়নি কর্ণেলের।

কিন্তু কোকা-কোলার পরবর্তী স্বত্বাধিকার নিয়ে বেশ একটা নাটকীয় পরিস্থিতির তৈরি হলো।

পেমবার্টনের একজন ব্যবসায়ী অংশীদার অ্যাসা ক্যান্ডলার দাবি করেন পেমবার্টনের মৃত্যুর আগে তিনি কোকা-কোলার নিয়ন্ত্রনের মালিকানা কিনে নিয়েছেন, অন্যদিকে কর্ণেলের ছেলে চার্লস দাবি করেন কোকা-কোলার ব্র্যান্ডের একমাত্র স্বত্বাধিকার তার। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে পেমবার্টনের বিতরন নীতি হুমকির মুখে পড়ে, প্রায় ডুবতে বসে কোকা-কোলা। পেমবার্টনের ছেলে চার্লস নিজেও বাবার মতো একজন মরফিন আসক্ত ছিলেন। এদিকে ক্যান্ডলার বুদ্ধি করে কোকা-কোলার বাকি শেয়ার যাদের কাছে রয়েছে, তা তাদের কাছ থেকে কিনে নিতে থাকলেন যতক্ষণ না তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩০০০ ডলার খরচ করে সমস্ত শেয়ার ও স্বত্বাধিকার নিজের করে নিয়েছিলেন ক্যান্ডার। কর্পোরেট দুনিয়ার অন্যতম জিনিয়াস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা ক্যান্ডারের হাত ধরেই কোকা-কোলা পরিণত হয় বিশাল এক ব্র্যান্ডে, যা বদলে দেয় বেভারেজ দুনিয়ার সামগ্রিক চিত্র। কোকা-কোলার আবিষ্কারক পেমবার্টনের মাত্র মৃত্যুর ছয় বছর পরেই মারা যান তার ছেলে চার্লস।

কোকা-কোলা পানীয়টিকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে পরিশ্রম করেছেন ক্যান্ডার, খাটিয়েছেন অসাধারণ বুদ্ধি। আজকের বিখ্যাত কোকা-কোলার লোগোর ডিজাইনটি এসেছিল কোকা-কোলার ফ্রি কুপন থেকে! মনে করা হয় কোম্পানির প্রচারের জন্যে কোকা-কোলার দেওয়া কুপনই ছিল পৃথিবীর প্রথম ফ্রি কুপন। ক্যান্ডার কোকা-কোলার প্রসারের জন্যে বিতরণ করতে থাকলেন একটি কাগজের টুকরো, যেটি দেখিয়ে পান করা যেত এক গ্লাস ফ্রি কোকা-কোলা! ক্যান্ডারের এই অসাধারণ পরিকল্পনা দারুণভাবে কাজে লেগে যায়, বিনামূল্যে নতুন জিনিস চেষ্টা করে দেখতে কে না চাইবে! কোকা-কোলা ভালো লেগে যাওয়া ক্রেতারা পরবর্তীতে খুশি মনেই নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে বারবার খেয়েছেন। ১৮৯৪ থেকে ১৯১৩ সাল, এই ১৯ বছর গড়ে প্রায় ৯ জন আমেরিকানের ১ জন ফ্রি কোকা-কোলা পান করেছেন! এই কৌশলে গোটা আমেরিকায় দ্রুতই ছড়িয়ে পরল কোকা-কোলার নামডাক। পেমবার্টন অথবা ক্যান্ডারের বুককিপার ফ্র্যাঙ্ক ম্যাসন এই ফ্রি কুপনের ডিজাইন করেছিলেন। পরবর্তীতে যত দিন ক্যান্ডার কোম্পানি চালিয়েছেন, এটিকেই সে অফিশিয়াল লোগো হিসেবে রেখে দিয়েছিলেন।

কোকা-কোলাকে বোতলজাত করে সহজে ভোক্তাদের কাছে পৌছে দেওয়ার পরিকল্পনা ক্যান্ডালারের মাথা থেকে আসেনি, তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল কোকা-কোলার একমাত্র মালিকানা ধরে রাখা এবং সিরাপ রুপে ঔষধের দোকানগুলোতে চালান দেওয়া। সিরাপ থেকে পানীয় তৈরি করার প্রক্রিয়া যথেষ্ট কঠিন ছিল। ১৮৯১ সালে ভিকসবুর্গভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থাপক নিজেদের ব্যবসার তাগিদে প্রথমবারের মতো কোকা-কোলা সিরাপ থেকে পানীয় তৈরি করে বোতলজাত হিসেবে বিক্রির আয়োজন করে। এর আট বছর পর অন্য একটি স্বাধীন বিপণন ব্যবস্থাপক কোম্পানি প্রথম কোকা-কোলা বোতলজাত করার প্ল্যান্ট তৈরি করে বোতলজাত কোকা-কোলা বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করে এবং এটি করার জন্যে তারা ক্যান্ডালের সাথে মাত্র এক ডলারের একটি চুক্তি করে! বোতলে কোকা-কোলার বিক্রি অসাধারণ সাড়া ফেলে দেয়, যদিও সেই চুক্তির এক ডলার পরিশোধ করেনি কোম্পানিটি, যা শেষ পর্যন্ত কোট পর্যন্ত গড়ায়।

১৮৯৮ সালের দিকে প্রতিষেধক হিসেবে কোকা-কোলা আর নিজেদের প্রচার করতে চাইল না, তারা এই মোড়ক থেকে বেড়িয়ে এসে শুধুমাত্র কোমল পানীয় হিসেবে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলো, যা খেলে মানুষ চাঙ্গা হয়ে উঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে একটি আনন্দদায়ক অনুভূতি তৈরি হয়! আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কোকা-কোলার প্রসারের চেষ্টা করেন ক্যান্ডলারের ছেলে চার্লি, সিরাপরুপে কোকা-কোলা ১৯০০ সালে তার ইংল্যান্ড ভ্রমণকালে নিয়ে যান, কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। অন্যান্য আরো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় নানা কারণে। যেমন, জার্মানিতে প্রাপ্তবয়স্করা অ্যালকোহলবিহীন পানীয় পান করবে, এমনটা তারা ভাবতে পারত না, ফ্রেঞ্চরা আমেরিকান বেভারেজ পান করার ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখতো না তখনো। ক্যান্ডলার ও তার ছেলে কোকা-কোলাকে আমেরিকায় ছড়িয়ে দিতে পারলেও বাকি দুনিয়ায় কোকা-কোলার প্রসার হয় অন্য আরেক ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ আর্নেস্ট উড্রফের হাত ধরে।

হোয়াইট মোটর কোম্পানি চালিয়ে, ট্রাক বিক্রেতা ও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে আর্নেস্ট ১৯১৯ সালে কিনে নেন কোকা-কোলা কোম্পানি। এরপর ৬০ বছর চালিয়েছেন কোকা-কোলা কোম্পানি এবং জয় করেছেন প্রায় গোটা দুনিয়ার প্রত্যেকটি অংশ। শুরুতেই আর্নেস্ট বুঝতে পারেন, সিরাপ রুপের চেয়ে বোতলজাত কোকা-কোলা বেশি জনপ্রিয়তা পাবে, তার হাতেই সিরাপ কোকা-কোলার বিক্রিকে ছাড়িয়ে যায় বোতলজাত কোকা-কোলা।

বোতলে ঠান্ডা কোকা-কোলা খাওয়ার ব্যবস্থা চালু করেন আর্নেস্ট, কয়েন চালিত কুলার চালু করেন আমেরিকার বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনে যেখান থেকে পাওয়া যেত ঠান্ডা কোকা-কোলা। আমেরিকায় আরো সহজলভ্য করার পর আর্নেস্ট এবার বাকি পৃথিবীতে কোকা-কোলা বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে মজার ও আনন্দদায়ক চাঙ্গাকারী আমেরিকান পানীয় হিসেবে ইউরোপে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয় কোকা-কোলার, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ইউরোপের বাজারে কোকা-কোলার চাহিদা। আর্নেস্ট ইউরোপের বাজার ধরার জন্যে সবুজ রঙের বিশেষ বোতলের ব্যবস্থা করলেন যা দেখতে অনেকটা শ্যাম্পেইনের বোতলের মতো। ফ্রান্সের বাজার ধরার জন্যে এটিকে অনেকটা ওয়াইনের মত করে এবং ওয়াইনের বোতলের মত দেখতে বোতলে বাজারজাত করা হতো। আর্নেস্টের বাজার ধরার এসব কৌশল বেশ সাফল্য অর্জন করে, আমেরিকার বাইরের কোকা-কোলা ১৯২৬ সালে নিজেদের অফিস প্রতিষ্ঠা করে বিক্রি বাড়ানোর জন্যে।

এরপরেই শুরু হয়ে কোকা-কোলার অন্য এক পথ চলা, ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে ইউএস দলের অফিশিয়াল স্পন্সর হিসেবে কোকা-কোলা প্রায় ৪০,০০০ বোতল নিয়ে আমস্টারডামে যায়। আর্নেস্টের ছিল কর্পোরেট দুনিয়াকে বোঝার এক অসামান্য দক্ষতা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে আর্নেস্ট ইউএস সামরিক বাহিনীর সাথে কোকা-কোলার একটি যোগসূত্র স্থাপন করেন। তিনি ওয়াদা করেন আমেরিকান সৈন্য যুদ্ধের জন্যে যেখানেই যাবে সেখানেই তিনি কোকা-কোলা পাঠাবেন তাদের জন্যে; কিছু ব্যতিক্রম বাদে আর্নেস্ট তার কথা রেখেছিলেন। প্রয়োজনে আমেরিকান সৈন্য যেখানেই থামতো, সেখানেই তাদের দরকারী রসদের সাথে অপেক্ষা করতো কোকা-কোলার বোতল। মিত্র দেশের লোকেরা সেইসব কোকা-কোলা আমেরিকানদের সাথে পান করার সুযোগ পেত, এভাবে দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে কোকা-কোলা ছড়িয়ে পরে আরো দ্রুত গতিতে। কোকা-কোলা আমেরিকার হলমার্ক হয়ে উঠলো। যুদ্ধ শেষে আমেরিকান সৈন্য বিভিন্ন দেশ ছেড়ে নিজেদের দেশে ফিরে আসলেও কোকা-কোলার চাহিদা থেকে গেল ঐসব দেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে। কার্বোনেটেড কোকা-কোলা ১৯৮৫ সালে মহাশূন্যেও নিয়ে যাওয়া হয় স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জের একটি রিসার্চের অংশ হিসেবে।

ইতিহাসের সবচেয়ে প্রসারিত পণ্য হিসেবে ধরা হয় কোকা-কোলাকে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কোকা-কোলা পাওয়া যায়। যুগের পর যুগ কোকা-কোলা কোম্পানি বাজারজাতকরণের অভিনব সব কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের এই কোমল পানীয়কে পৌছে দিয়েছে অনন্য এক পর্যায়ে, যা তাদের নিয়ে গেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোম্পানিদের কাতারে। অ্যাপল ও গুগলের পর পৃথিবীর তৃতীয় দামি কোম্পানি হচ্ছে কোকা-কোলা, যাদের সম্পদের পরিমান বর্তমানে ৯০ বিলিয়ন ডলার যা পেপসি ও নাইকের যুগ্ম সম্পদের চেয়ে বেশি! আমেরিকার সংস্কৃতির সাথে কোকা-কোলা এতটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত যে অনেক ক্ষেত্রে ‘কোকা কলোনিয়াজাইশন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় দেশটির ইতিহাসের একটি অংশ হিসেবে।

একজন ফার্মাসিস্ট যিনি এই বেভারেজটি আবিষ্কার করেছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন মানুষের মধ্যে একমুহূর্তে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ও চাঙ্গা করতে যা তাদের সুখী করবে! পেমবার্টন মরফিন আসক্তি কাটাতে পারেননি, শেষ পর্যন্ত ক্যান্সারে ধুঁকতে ধুঁকতে রিক্ত হস্তে মারা গিয়েছিলেন। তাই ‘Coca Cola brings Happiness’-তত্ত্ব তার বেলায় খাটেনি হয়তো। কী অদ্ভুত, তাই না? তবে বছরের পর বছর ধরে এই একটি পানীয় যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটিই বা কম অদ্ভুত কীসে!

Comments
Spread the love