অনেক দেশেই রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে তারা অনেক সময় অনেক জায়গা অপরিস্কার করেন, কিন্তু কখনোই পরিস্কার করেন না। আমাদের দেশে রাজনীতিবিদদের কথা তো বাদই থাক, সাধারণ শিক্ষিত মানুষরাও সব সময় এখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে অপরিস্কার করছে। কিন্তু কোন জায়গা পরিস্কার করার কোন ইচ্ছে নেই কারও মধ্যে। যেন নিজের ফেলা ময়লাও, নিজে পরিস্কার করলে জাত যাবে। অথচ আমরা নিজেদের সভ্য জাতি বলে দাবী করি।

নিজেদের সভ্য জাতি বলে দাবী করলে, সভ্যতাটা যে কি তাও তো জানা দরকার। সভ্যতা আর শিষ্টাচারের এমনই এক নজির দেখালেন ডাচ্ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতে। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বিবিসির রিপোর্ট অনুসারে, ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতে নিজের নোংরা করা পার্লামেন্ট ভবনের মেঝে নিজেই পরিস্কার করে আদব-কায়দা আর শিষ্টাচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

ডাচ প্রধানমন্ত্রী, মার্ক রুতে, কফি পরিষ্কার, সভ্য জাতি

গত ৪ জুন, ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতে হেগ এ স্বাস্থ্য, জনকল্যাণ এবং ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাবার সময় হাত থেকে কফি ফেলে দেন। ফেলে দেন বা বলে বুঝি বলা উচিত, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কফি পড়ে যায়। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের না ডেকে, মার্ক রুতে নিজেই মেঝেতে ফেলা কফি পরিস্কার করতে শুরু করেন।

যখন তিনি একটি ঝাড়ু হাতে মেঝে পরিস্কার করতে শুরু করেন মার্ক রুতে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তার আশেপাশে এসে জড়ো হয়। প্রথমে নিজে নিজে চেষ্টা করলেও, পরে অবশ্য পরিস্কার করার যন্ত্র সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য তাকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সাহায্য নিতে হয়।

ডাচ ব্রডক্যাস্টিং মিডিয়া এনওএস এর একজন রিপোর্টার প্রধানমন্ত্রীর মেঝে পরিষ্কার করার এই ভিডিওটি ধারণ করে এবং প্রচার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মার্ক রুতে যখন মেঝে পরিস্কার করার চেষ্টা করছিলেন তখন তাকে ঘিরে থাকা পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা খুশি হয়ে হাততালি দিচ্ছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করছিল।

রুতের নিজের করা নোংরা স্থান পরিস্কারের এই ঘটনাটি অবশ্য নেদারল্যান্ডের লোকেদের কাছে খুব একটা নতুন ব্যাপার নয়। এ নিয়ে নিউজ করায় নেদারল্যান্ডের লোকেরা বরং খানিকটা বিরক্তই হয়েছে। তাদের মতে, এ তো খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। সব মানুষেরই নিজের নোংরা করা স্থান, নিজে পরিস্কার করা উচিত। এ নিয়ে খবর প্রচারের কি আছে!

ডাচ প্রধানমন্ত্রী, মার্ক রুতে, কফি পরিষ্কার, সভ্য জাতি

মার্ক রুতের মেঝে পরিস্কার করার ভিডিওটি বিবিসির আরবি ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে ভিডিওটি দেখা হয়েছে লক্ষ লক্ষ বার। লোকজন এ ঘটনায় ডাচ প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছে খুব। অনেক দেশেই এটা খুব বড় ঘটনা। ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস নিউজপেপারে এ ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে। টুইটারেও এ ঘটনা আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নেদারল্যান্ডে এ ঘটনা খুব বড় কোন ব্যাপার না হলেও, দুনিয়ার অনেক দেশের নেতাদের কাছে এ ঘটনা দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে বলে অনেকেই মতামত দিচ্ছে।

নেদ্যারল্যান্ডের জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। মাত্র ১৭ মিলিয়ন। সে দেশের নেতাদের মধ্যে নেতাসুলভ অভিব্যক্তি খুব একটা দেখা যায় না। গত বছর মার্ক রুতে নির্বাচনের পরে যখন জোট সরকার গঠন করে,  তখন একদিন ডাচ হেড অব স্টেটের সাথে দেখা করতে কিং উইলিয়াম আলেক্সান্ডার প্রাসাদে গিয়েছিল সাইকেলে চড়ে। সেসময়ও মিডিয়াতে বেশ আলোচনায় আসেন তিনি।

কিছু ডাচ জার্নালিস্ট অবশ্য এ ঘটনাকে অন্য ভাবেও ব্যাখ্যা করছেন। তাদের মতে, ডাচ প্রধানমন্ত্রী যে শুধু নম্রতার দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের জন্য মেঝে পরিস্কার করেছেন তেমন ভাবার কিছু নেই, তিনি এটা করেছেন মিডিয়াতে আলোচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে। এনওএস রিপোর্টার ইরিন ওস্টভেন, যিনি মার্ক রুতের মেঝে পরিস্কার করার ভিডিওটি ধারণ করেন তার মতে,  রুতে ভালভাবেই জানেন কখন ক্যামেরা তার আশেপাশে থাকে আর কখন থাকে না। ক্যামেরা সেই জায়গায় ছিল দেখেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

ডাচ জার্নালিস্ট এন আর সি হ্যান্ডেলসব্রেড নিউজপেপারের এমিলি ভেন আউটেরেন আবার এ ঘটনার অন্য একটি দিক নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী রুতের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করার মত কিছু ছিল না, লক্ষ্য করার মত ছিল পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া। তিনি টুইটারে লেখেন, নেদারল্যান্ডের মত আর কোন দেশে এমন ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এভাবে আনন্দের সাথে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর মেঝে পরিস্কার করার দৃশ্য দেখার সাহস পায়?

আমি তো বলি ডাচ্ প্রধানমন্ত্রী যে উদ্দেশ্যেই এ কাজ করে থাকুক, নিজের করা নোংরা জায়গা একজন প্রধানমন্ত্রী নিজে হাতে ঝাঁড়ু নিয়ে পরিষ্কার করছেন- এমন ঘটনা আমাদের মত পিছিয়ে পড়া দেশের নেতাদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে। আমাদের দেশে যেখানে সাম্যান্য একটু টাকা পয়সা হলে, লোকজন নিজেদের অভিজাত ভাবা শুরু করে এবং নিজের কাজ নিজে করাকে অসন্মানের মনে করে, সেখানে শুধু নেতাদের কেন সাধারণ মানুষদের কাছেও এ ঘটনা শিক্ষণীয় হতে পারে। নিজের কাজ নিজে করলে যে সন্মান কমে না, বাড়ে- এ ব্যাপারটা যদি শিখতে পারি, আমরাও হয়তো সত্যি সত্যিই একদিন নিজেদের সভ্য জাতি বলে দাবী করতে পারব।

*

এগিয়ে চলোর এই ১০০% কটন, ১৬০ জিএসএমের প্রোডাক্ট পেতে কল করুন এই নাম্বারে- 01670493495 অথবা অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করে ফেসবুকে ম্যাসেজ করুন।

Comments
Spread the love