ওয়ারিশ আজাদ চৌধুরী

একরামুলের অডিও টেপটা শুনার পর থেকেই মাথাটা এলোমেলো হয়ে গেছে। অদৃশ্য ভয় আকড়ে ধরেছে গলার চারপাশটাতে। আম্মা তিন বার কল দিয়ে বলেছে এই ব্যাপারে ফেসবুকে কিছু লেখার দরকার নেই। এমন কি যে দুলাভাই সবসময় লেখালেখিতে সাহস দিত। সেই দুলাভাইও নক দিয়ে বলছে, নাফি একটু কম করে লেখো। যদিও বলতে লজ্জা লাগছে।

আমি উনার কন্ঠের অনুচ্চারিত ফ্যাক্টটা শুনে ফেলেছি। যদিও উনি যতই লুকানোর চেষ্টা করেন না কেন। আমার সামনে শুধু একটা দৃশ্যই ভেসে উঠছে।

প্রাচীন গ্রীস যখন পাপের পূর্ণ শিখরে পৌছেছিল। রোম যখন পাপাচারে ছেয়ে গিয়েছিল। কিংবা অন্য যেকোন সভ্যতা ধরেন যখন নষ্ট হতে হতে ধ্বংসের একেবারে শেষপ্রান্তে গিয়ে পৌছায়।,তখন অপরাধের ধরণগুলো চেঞ্জ হয়ে যায়। কেমন? পিতা মেয়ে ধর্ষণ করে। রাস্ট্রীয় নিরাপত্তা-বাহিনীর হাতে নিহত হয় জনগণ।  শিক্ষক ছাত্রকে খুন করে। সব উল্টো হতে থাকে। যে সত্তাগুলো আমাদের নিরাপত্তা দেয়ার কথাছিলো সে সত্তাদের হাতে আমরা খুন হই। বিশ্বাস কমতে থাকে। ভয় বাড়তে থাকে।

খোদার কসম একরামুল মাদক ব্যাবসায়ী হোক বা না হোক। বাংলাদেশের সংবিধান বলে তার বিচার হওয়ার আগে আদালতের সামনে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রাখে। রাষ্ট্র তাকে এই সুবিধা দিতে বাধ্য। দলের পা চাটতে গিয়ে কিসের যুক্তি দেখান আপনারা। লজ্জা লাগে না। মানুষ না আপনারা?

কিভাবে বলেন একরামুল অপরাধীও হতে পারে? সো হোয়াট? কী পড়ালেখা করেছেন মিয়া! একরামুল অপরাধী হলেও ‘হু দা হেল গিভ ইউ অর দা গিভ অথরিটি দা রাইট টু কিল হিম কুল হেডেডলি? এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং আজ পর্যন্ত কোন দেশের জন্য শান্তি আনতে পারে নাই।

কীসের সভ্যতার কথা বলেন? এই পড়ালেখা করে আসছেন আপনারা। এটারে আইনের শাসন বলে?

অনেক বার বেড়েছি আমরা। আমাদের ডানা অনেক বড় হয়ে গেছে। এই আমি বলে রাখলাম অনেক বার বেড়েছি আমরা। আমাদের ডানা গজিয়ে অনেক বড় হয়ে গেছে। এই আমি বলে রাখলাম- 

রানা প্লাজার ২৫০০ লাশ সাক্ষী
তাজরিনের পুড়ে যাওয়া শ্রমিক সাক্ষী 
বিডিআর বিদ্রোহে পিতা হারান সন্তান সাক্ষী
একরামুলের লাশ সাক্ষী

আমাদের ধ্বংস এগিয়ে আসছে। ধ্বংসের আগে যেমন বিশৃঙ্খলার চরমে উঠে জাতি, আমরাও এখন সেই অবস্থায় আছি। এসব লাশের অভিশাপেই আমরা ধ্বংস হবো। শুনে রাখেন, এন্ড ইজ কামিং…

Comments
Spread the love