সিনেমা হলের গলি

ক্রিস ইভানস: একটি টুইট এবং প্রথম অ্যাভেঞ্জারের বিদায়

২০১১ সালের ২২শে জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেয়েছিল মার্ভেল ইউনিভার্সের মুভি “ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার”। যেখানে ক্যাপ্টেন আমেরিকা চরিত্রে অভিনয় করে সুদর্শন ক্রিস্টোফার রবার্ট ইভানস সবার নজর কেড়েছিলেন। হতে পেরেছিলেন আপনার, আমার মতো আরও অনেকেরই প্রিয় সুপারহিরো। তারপর একে একে অভিনয় করলেন ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ উইন্টার সোলজার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্সঃ এইজ অফ আল্ট্রন’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়ার’, এবং আসছে মুভি ‘অ্যাভেঞ্জার্স ফোর’-এ। তাছাড়া এমসিইউ (মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স)-এর অন্যান্য মুভিতে তাকে অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে।

কিন্তু গতকাল তিনি টুইট করলেন- “অফিসিয়ালি গুটিয়ে ফেলা হলো ‘অ্যাভেঞ্জার্স ফোর’ এর কাজ। এটা ছিলো একটি আবেগবহুল দিন। কমপক্ষে আট বছরের বেশী সময় ধরে এই চরিত্রে অভিনয় করা ছিলো সম্মানজনক। ক্যামেরার সামনে, ক্যামেরার পেছনে, এবং দর্শক সারিতে থাকা সবাইকে ধন্যবাদ স্মৃতিগুলোর জন্য। আমি চিরকৃতজ্ঞ।”

বলার অপেক্ষাই রাখে না, আমাদের প্রিয় ক্যাপকে পরবর্তী মুভির পর কতটা মিস করতে হবে আমাদের সবাইকে! আট বছরের বেশী সময় ধরে অভিনয় করে যাওয়া একটি চরিত্রকে চিরবিদায় জানানো অবশ্যই খুব আবেগঘন অভিজ্ঞতা। কিন্তু যত দূর জানা যাচ্ছে, মার্ভেল ক্যাপকে বেশ শক্তপোক্ত বিদায় দেবে। হতে পারে, আসছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স ফোর’-এ আমরা আমাদের প্রিয় ক্যাপের গৌরবান্বিত মৃত্যু দেখতে পাবো!

বেশ কিছু সময় ধরেই ধারণা করা হচ্ছিলো ক্যাপের মৃত্যুই হবে “অ্যাভেঞ্জার্স” সিরিজের উপসংহার বা সমাপ্তি। আসলে তা হওয়া উচিৎ বলে অনেকেই মনে করেন। কেননা এটা একটা যুদ্ধ। আর একটা যুদ্ধের মূল্য প্রাক্তন সৈন্য স্টিভ রজার্সের চাইতে কে ভালো জানবে? তাই না? অ্যাভেঞ্জার্সরা তাদের দলের বেশ কিছু সৈন্য হারাতে চলেছে। অবশ্য যদি না থানোসের মরণঘাতী চুটকির প্রভাব উল্টে দেয়া যায়।

যদিও ক্যাপ ‘ইনফিনিটি ওয়ার’-এর প্রথম পর্বে বেঁচে যেতে পেরেছিলেন। কিন্তু এখন তাকে তার অর্ধমৃত দল নিয়েই মহা ক্ষমতাধর থানোসের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। সাথে বাড়তি থাকবে তার বিশাল অনুশোচনা। যে অনুশোচনা তৈরি হয়েছিল দলের ভাঙ্গনে। দলের সদস্যদের হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া। স্টিভ রজার্সকে আমরা যতদূর জানি, সে তার দলের সদস্যদের নিরাপদ এবং জীবিত রাখার জন্য অবশ্যই দ্বিগুণ যুদ্ধ করবে। এবং নিজেকে উৎসর্গ করবে অন্যদের বাঁচিয়ে দিতে। ঠিক ব্রুকলিনের সেই চামড়াসর্বস্ব ছেলেটির মতো, যে বেশ ক’বছর আগে অন্যদের বাঁচাতে গ্রেনেডের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। (ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার)

অবশ্য ক্রিস ইভানসের এই শিল্ড বা বর্ম সমর্পণের সংবাদ খুব একটা অকস্মাৎ নয়। কারণ গত মার্চেই ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর কাছে দেয়া এক ইন্টারভিউতে জানিয়েছিলেন, তিনি হয়তো ‘অ্যাভেঞ্জার্স ফোর’ এর পর মার্ভেল স্টুডিওর সাথে তার চুক্তিপত্র আর নবায়ন করবেন না। ইভানস বলেছিলেন, “আপনি চাইবেন তারা (মার্ভেল) আপনাকে ঠেলে নামিয়ে দেয়ার আগেই ট্রেন থেকে নেমে যেতে।”

যদিও ভবিষ্যতে এমসিইউ-এর মুভিতে ক্রিস ইভানসকে আবার দেখার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে স্বয়ং ইভানস নিজে তা ভাবছেন না। ফলে আমরা ক্রিস ইভানসকে তার চিরচেনা ক্যাপ্টেন আমেরিকা চরিত্রে শেষবারের মতো দেখতে পাবো ২০১৯ সালের ৩রা মে মুক্তি পেতে চলা ‘অ্যাভেঞ্জার্স ফোর’ মুভিতে।

সবশেষে একটা কথা বেশ হলফ করে বলা যায়। কিংবা নিজের সাথে একটা প্রতিশ্রুতি। প্রিয় ক্রিস ইভানস, যাই ঘটুক, যেভাবেই ঘটুক, আমাদের ক্যাপ সবসময় আপনিই থাকবেন। অন্য কেউ নয়।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close