বর্তমানে তুমুল দর্শকনন্দিত (অথবা নিন্দিত!) স্টার বাংলার সিরিয়াল পটল কুমার গানওয়ালার কথা হয়তো অনেকেই জানেন! পটেশ্বরী নামের ছোট্ট গ্রামের মেয়ের গান গাওয়ার জন্য “পটল” ছদ্মনাম নিয়ে ছেলে সেজে গানের জগতে সুনাম কুড়াবার গল্প। পটেশ্বরী তথা পটলের কাহিনী তো নিছক গল্প মাত্র! সিরিয়াল চলবে হয়তো আরও কয়েক বছর। কিন্তু আজ যে বাস্তব জগতের মানুষটির গল্প লিখব, একজন নারী হয়েও তিনি পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে সবার চোখকে ধুলো দিয়ে সফলভাবে কাটিয়েছিলেন প্রায় ৫০ বছর! বলছি বিলি টিপটনের কথা।

’৪০-’৫০ এর দশকের আমেরিকার প্রখ্যাত জ্যাজ ব্যান্ড মিউজিশিয়ান বিলি টিপটন আরথ্রাইটিসের যন্ত্রনায় ভুগতে ভুগতে ১৯৭০ সালে মিউজিক জগত থেকে পুরোপুরি অবসর নিয়ে নিয়েছিলেন! খুব গরীবী হালে একটা মোবাইল হোমে (যেই সব বাড়ি ইঞ্জিন ও চাকার সাহায্যে স্থানান্তর করা যায়, তিন গোয়েন্দায় হয়তো পড়ে থাকবেন) থাকতেন তার তিনটি পালক পুত্র এবং ‘স্ত্রী’ ম্যারিঅ্যানের সাথে! অভাব অনটনে পেপটিক আলসার আর আরথ্রাইটিসে ভুগে ১৯৮৯ সালে ৭৪ বছর বয়সে মারা যান মিস্টার টিপটন… ‘মিস্টার’?

cho

রহস্য উন্মোচন হয় ময়নাতদন্তের সময়! বেরিয়ে আসে যে, “মিস্টার” উইলিয়াম “বিলি” টিপটন আসলে জন্মগতভাবে একজন নারী, যিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় পুরুষ হবার সুদক্ষ অভিনয় করে গেছেন মাত্র! ঘটনা জানাজানি হবার পরে তদন্ত আরও অনেক দূর গড়ায়। বেরিয়ে আসে টিপটনের এই অদ্ভুতুড়ে দ্বৈত জীবনের নানান চমকপ্রদ তথ্য যা তিনি সারা দুনিয়ার কাছেই এতদিন গোপন করছিলেন!

তদন্তে জানা যায়, “মিঃ” টিপটনের জন্মসুত্রে আসল নাম “ডরোথি লুসিলি টিপটন”, ১৫ বছর বয়সে গানের জগতে ক্যারিয়ার গড়তে ১৯৩০ সালে বাড়ি ছাড়েন তিনি। কিন্তু তৎকালীন সময়ে একজন মেয়ের জন্য পেশাদার সঙ্গীত ক্যারিয়ার গড়াটা কঠিন ছিল বলেই কিনা, তিনি পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে, “বিলি” নাম নিয়ে (যা আসলে তার বাবার ডাক নাম) স্টেজে পারফর্ম করতে শুরু করেন! বাজাতেন পিয়ানো এবং স্যাক্সোফোন… ১৯৪০ সাল নাগাদ তিনি পুরোপুরিভাবেই একজন পুরুষ হিসাবেই দিনযাপন করতে থাকেন! তিনি তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য নারীর সাথেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন! এবং সবাইকেই তিনি গল্প শুনাতেন যে, একটি গুরুতর গাড়ি এক্সিডেন্টে ছেলেবেলায় তার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। নিজের স্তনযুগল লুকাতেও তিনি বুকে বিশেষ “প্যাড” ব্যবহার করতেন এবং কারণ হিসেবে দেখাতেন ওই এক্সিডেন্টেই তার বুকের হাড় ভেঙ্গে যাবার কথা!

মিউজিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকে অবসর, অবসরের পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সারা দুনিয়ার কাছেই তিনি একজন “পুরুষ” হিসেবে সফলভাবে অভিনয় করে গেছেন! এমনকি তার জন্মদাতা পরিবারও তার এই দ্বৈত জীবনের কথা জানতো না। ছুটিছাটায় তিনি যখন বাড়ি যেতেন, তখন ছদ্মবেশ পাল্টিয়ে “ডরোথি” হয়েই যেতেন। তাদের সাথে থাকতেন, ফিরে আসার পর আবার হয়ে যেতেন “বিলি”!

নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য ডরোথি নামের মেয়েটা হয়েছিল বিলি নামের ছেলে, বেছে নিয়েছিল দ্বৈত জীবন। কিন্তু এই দ্বৈত জীবনে অভিনয় করতে করতে তার নিজস্ব সত্তাটিই তিনি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিলেন! তাই তো মৃত্যু পর্যন্ত তিনি বিলি হয়েই মৃত্যুবরন করেছিলেন, কাউকেই জানতে দেননি তার ডরোথি হবার পরিচয়।

মানুষ কতই না অদ্ভুত হয়!

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-