ইনসাইড বাংলাদেশরাজনীতি নাকি জননীতি

একজন গোলাম রাব্বানী ও নতুন মডেলের ছাত্রলীগ!

বগুড়ার এক রিকশাচালক ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবনধারণ করেন। রাজধানীতে এছাড়া আর বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বন তার নেই। কিন্তু একদিন ঘটে গেলো ভয়ংকর এক দূর্ঘটনা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাছে একটি একটি পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। গোলাম রাব্বানী তখন মানবিক জায়গা থেকে এগিয়ে গেলেন। তিনি সেই পিকআপ ভ্যান চালককে আটক করলেন। শুধু তাই নয়, মোটা অংকের একটা জরিমানা আসায় করলেন। যেনো গুরুতর আহত সেই রিকশাচালকের চিকিৎসা করানো যায়। রাব্বানীর সেবায় সেই যাত্রায় দুটি পা হারিয়েও প্রাণে বেঁচে যান ওই রিকশাচালক, মোটা অংকের সেই জরিমানার টাকায় বাকি জীবনটুকু পরিবার নিয়ে ভালোভাবেই কাটাচ্ছেন তিনি।

গোলাম রাব্বানি, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
ভ্যান চুরি হয়ে গেছে হালিম নামের একজনের, তা শুনে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে গোলাম রাব্বানী একটি ‘ভ্যানগাড়ি’ উপহার দেন তাকে।

আর সেই গোলাম রাব্বানীই হলেন বর্তমান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এটাই কি তাহলে ওবায়দুল কাদের ভাষায় ‘নতুন মডেলের ছাত্রলীগ’?

এবারের ছাত্রলীগ কমিটি নিয়ে সর্বস্তরে একটা আগ্রহ এমনিতেই একটু বেশি ছিল। বিগত কমিটির সময়ে ছাত্রলীগ লাগামহীন কিছু আচরণ করায় এবং বিগত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সেসব নিয়ন্ত্রণ না করে উলটো দায়সারা কথাবার্তা বলে এড়িয়ে যাওয়ার যে মানসিকতা দেখিয়েছে তাতে নেতিবাচক ব্র‍্যান্ডিং হয়েছে ছাত্রলীগেরই। ছাত্রলীগ মুখে বলছে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিশ্বাস করতে হবে, কিন্তু কাজে সেটা প্রমাণ করতে পারেনি। ছাত্রলীগ যা কিছু করে, তার একটা প্রভাব মূল দলের ইমেজের ওপরেও পড়ে৷ সেই জায়গা থেকে নতুন কমিটিতে কারা আসবেন, কি কাজ করবেন সেটা একটা কৌতূহলেরই বিষয়। সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কারণ, নতুন কমিটিতে কারা আসবেন এটা সম্পূর্ণ যাচাই বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ছিলেন। তিনি অনেক সময় নিয়ে, তদন্ত করে, খোঁজ খবর নিয়েই এই কমিটি দিয়েছেন।

এই কমিটির প্রত্যেকটা নেতাই এখন পর্যন্ত নিজের জায়গা থেকে ভাল কিছু করে দেখানোর চেষ্টায় আছেন, এটা বোঝা যাচ্ছে। তারা মিডিয়াকে ফেস করলে গুছিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, অযথাই নেতামি দেখাচ্ছেন না। তাদের আন্তরিকতা স্পষ্ট হচ্ছে একটু একটু করে। একটা বিষয় খেয়াল করা যাচ্ছে, আগে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা ক্ষমতার ক্রিম গাঁয়ে মাখিয়ে যে আলগা ভাব ধরে রাখাকেই রাজনীতি মনে করতেন, নতুন মডেলের ছাত্রলীগ সেই ধারাকে পালটে দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা মাঠে গিয়ে মানু্ষের সাথে কথা বলছে, কোথাও কোনো সমস্যা হলে এড়িয়ে যাচ্ছে না, এগ্রিসিভ হয়ে যাচ্ছে না, কথা বলছে। সবচেয়ে বড় কথা ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে একটা ভাল কাজ করবার ইতিবাচক প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অথচ, এই কমিটি হওয়ারই কথা ছিল না। সম্মেলনের পক্ষে কথা বলায় কেউ কেউ অনেক অপদস্থ, অপমানিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে কমিটির দায়িত্ব নিচ্ছেন বলার পরেও কেউ কেউ এটাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছিল। মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, নেত্রীর কথাই আইন এসব বলে বাইরে বাইরে তারা সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের নামে বিভিন্ন কালিমা লেপনের চেষ্টা করেছিল। বিশেষত, গোলাম রাব্বানির নামেই সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার লক্ষ্য করা গিয়েছিল সেই সময়টায়৷

গোলাম রাব্বানি, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাঙ্গে গোলাম রাব্বানী।

অথচ, সেই গোলাম রাব্বানিকেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে বিবেচিত করলেন। শেখ হাসিনার চোখ জহুরির চোখ, আর তার সিলেকশন ভুল হওয়ার কথা নয়, সেই আস্থার প্রতিদান দিতে শুরু করেছেন গোলাম রাব্বানি৷

গোলাম রাব্বানির জন্ম মাদারিপুরে। রাজৈর উপজেলায়। তার পরিবারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বেশ পুরানো। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে ছাত্ররাজনীতির সাথে, উত্থান দেখেছেন, দুঃসময় দেখেছেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভুল ত্রুটি দেখে যেমন কি কি করলে পরিবর্তন আসবে ভেবেছেন, দেখেছেন ছাত্রলীগের সম্ভাবনাও, এতোবড় সংগঠনে একটু একটু করে যদি সবাই ভাল কাজ করতে থাকে, দেশ ভরে যাবে ভাল কাজের প্রতিযোগিতায়।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই গোলাম রাব্বানি প্রায়ই খবরের শিরোনাম হচ্ছেন। কিন্তু এবার আর কোনো খারাপ কাজের শিরোনাম নন, বেশিরভাগ সময়েই তার কোনো একটা ভাল কাজের খবরই শিরোনাম হচ্ছে। কমিটি গঠিত হবার পর গত কোরবানি ঈদে টিএসসি চত্বরে গোলাম রাব্বানীর নির্দেশনায় ঈদ বস্ত্র বিতরন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিল প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ পথ শিশু।

গোলাম রাব্বানি, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

ঈদে আরো একটি বিরল দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে৷ হলের কর্মচারীদের সাথে ঈদ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন গোলাম রাব্বানি সহ ছাত্রলীগের সব নেতারা। এরকম ঘটনা সর্বশেষ কবে দেখা গিয়েছিল ক্যাম্পাসে কে জানে! ক্যাম্পাসের মধ্যে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে রাব্বানী নিত্যনতুন চমক দেখাচ্ছেন।

সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনার জন্য সকল ছাত্রসংগঠনকে ডেকেছে। সেই আলোচনায় আবার ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুইজন গিয়েছে। আলোচনা শেষে যখন ছাত্র সংগঠনের নেতারা বের হচ্ছেন তখন দেখা গেল বাইরে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী। আর ছাত্রদলের মাত্র ওই দুজন। ছাত্রদলের ওই দুই নেতাকে তখন নিরাপদে বের করার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী। ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতারা। ছাত্রদলের দুই নেতার মধ্যে ছিল আতঙ্ক। বারবার তারা পেছনের দিকে দেখছিল।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং বিশ্ববিদ্যালয়রে নেতারা ঘিরে রেখেই ছাত্রদলের দুই নেতাকে রেজিস্ট্রার ভবন থেকে বের করে আনলেন। এরপর সেখানে বিদায়ী আলাপের মধ্যেই ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

গোলাম রাব্বানি, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানকে জড়িয়ে ধরেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

গোলাম রাব্বানীর এই নতুন চমককে অনেকে বলছেন রাজনীতিতে সহনশীলতার উদাহরণ। যদিও গোলাম রাব্বানী বলেই দিয়েছেন, ছাত্রদলের পকেটে পেট্রোল বোমা থাকলে এই সহনশীলতা, সহ-অবস্থান থাকবে না।

কিন্তু, গোলাম রাব্বানীর এই সামান্য আলিঙ্গন বেশ আলোচিত হচ্ছে। তিনি যে পথে এগুচ্ছেন, এভাবে এগুতে থাকলে এই ছাত্রলীগ কমিটি নতুন ইতিহাসই সৃষ্টি করবে।

*

রাব্বানীর জন্মদিন গেল কয়েকদিন আগে। তিনি জন্মদিনের দিন ভিডিওবার্তা দিয়ে সবাইকে অনুরোধ করেছিলেন কেউ যেনো তার জন্মদিনে কেক কেটে, ফুল কিনে অযথা টাকা নষ্ট না করে৷ একই দিন তার মায়েরও জন্মদিন। যে মা কিছুদিন আগে চলে গিয়েছেন না ফেরার দেশে। মা দেখে যেতে পারেননি গোলাম রাব্বানী এখন নেতা হয়েছেন, কিন্তু সবচেয়ে বেশি খুশি হবার কথা তো তারই। রাব্বানীর সকল পাগলামিতে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিয়ে ছেলেকে তৈরি করেছেন যেনো সে সবসময়ই মানুষের জন্য ভাল কিছু করতে পারে৷ গোলাম রাব্বানী তাই সবার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, তার এবং তার মায়ের জন্মদিনে তিনি কিছুই চান না। যদি সম্ভব হয় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা যেনো একটা ভাল কাজ করেন এই দিনে, এটাই হবে তার উপহার।

আশ্চর্য হলেও সত্য, সেদিন সবাই যেনো ভাল কাজের প্রতিযোগিতায় নেমে গিয়েছে। কেউ অনাহারী মানুষকে দুপুরের খাবার খাওয়াচ্ছে, কেউ পথশিশুদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করছে। কেউ বঞ্চিত মানুষদের কোনো উপহার দিচ্ছে। এই ছবিগুলোই ভেসে বেড়াচ্ছিল টাইমলাইনে সেদিন। অভূতপূর্ব এক দৃশ্য। একজন নেতা কর্মীদের মধ্যে কিভাবে ভাল কাজের প্রতিযোগিতার ব্যাপারটি মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছেন তার সফল উদাহরণ।

গোলাম রাব্বানি, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
রাস্তায় শুয়ে থাকা একজনকে জামা দিয়ে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন গোলাম রাব্বানী।

আর গোলাম রাব্বানী নিজে প্রত্যেকদিনই শো-অফ করেন, ভাল কাজের শো-অফ! আসলে প্রত্যেকদিন যখন দেখবেন একজন মানুষ একটার পর একটা ভাল কাজ করছে, আজ একে রক্ত দিচ্ছে, কাল ওকে টাকা দিচ্ছে, পরশু অমুককে রিকশা কিনে দিচ্ছে, তরশু আরেকজনকে ভ্যান উপহার দিচ্ছে যেনো খেয়েপড়ে বাঁচতে পারে, অস্বচ্ছল ছাত্রকে শিক্ষা উপকরণ কিনে দিচ্ছে – এই ঘটনাগুলো যখন রোজকার ঘটনা হয়ে যায় তখন আপনি এই কাজগুলোকে কি বিশেষণে বিশেষিত করবেন?

অনেকে গোলাম রাব্বানীর এই কাজগুলোকে শো-অফ বলে খোঁচা দিচ্ছেন। অনেকে বলছেন সামনে নির্বাচন তাই এসব নাটক। অনেকে বলছেন এসব স্ট্যান্ডবাজি। যদি স্ট্যান্ডবাজিও হয়, তাহলে ভাল কাজের স্ট্যান্ডবাজি হলে কি এমন ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে মানুষের? আমরা সমালোচনা করে কোনো মানুষের জীবন পালটে দিতে পারছি কি? যেখানে গোলাম রাব্বানী একজন কর্মহীন, অস্বচ্ছল মানুষকে রিকশা/ভ্যান কিনে দিয়ে তাকে বাঁচার একটা রাস্তা দেখাচ্ছে সেটা যদি স্ট্যান্ডবাজি হয় এরকম একটা স্ট্যান্ডবাজি প্রত্যেকের করা উচিত। রাব্বানীর মতো প্রতিদিন না পারলেও জীবনে একবার হলেও করা উচিত।

রাব্বানী মাদারীপুর গেলেন নেতা হওয়ার পর। হাজার হাজার মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। এরকম জনপ্রিয়তা সব ছাত্রনেতাদেরই থাকে, যতদিন পর্যন্ত তিনি নেতা থাকেন, ততদিন। কিন্তু, গোলাম রাব্বানী এই জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছেন। যারা বলেন, রাব্বানীর কাজ শুধুই লোক দেখানো তাদের অবগতির জন্য বলা রাব্বানীর যখন নেতা হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও ছিল না, তখনো তিনি যার তার বিপদে এগিয়ে যেতেন, যখন তার নামে সবাই সমালোচনা করছে, অপপ্রচার করছে, তখনো তিনি নিজের কাজটাই করে গেছেন। মানুষ সমালোচনায় ব্যস্ত, রাব্বানী ব্যস্ত কারো মুখে হাসি ফুটাতে। এটা তার সহজাত প্রবণতা। তাই নেতা কিংবা সামনে নির্বাচন এই ভেবে রাব্বানী “লোক দেখানো” কাজ করছেন এটা ভাবা ভুল।

এই কাজগুলো তিনি করার অনুপ্রেরণা পেতেন মায়ের প্রশ্রয়ে। ছোটবেলায় তিনি নিজের বাসার খাবার দাবার প্রতিবেশীদের দিয়ে আসতেন। যেমন একবার নাকি ঘরের চিনির বয়াম বাড়ির পাশে এক বস্তিঘরের পরিবারকে দিয়ে এসেছিলেন। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, রাব্বানী উত্তর দিয়েছেন, মা ওরা শুধু আলু ভর্তা দিয়ে রুটি খায় ওদের বাসায় চিনি নাই।

মা কিছু মনে করতেন না, হয়ত গর্বই করতেন। তিনি এখন সবচেয়ে বেশি গর্ব করতেন যদি দেখতে পেতেন, তার ছেলে কত মানুষের ভালবাসা পাচ্ছে, সে নেতা বলে নয়, সে মানুষের কথা ভাবে, তাদের জন্য কাজ করে এজন্যে৷ কিন্তু মা এসব দেখতে পেলেন না। রাব্বানী নেতা হওয়ার অল্পকিছুদিন আগেই তিন দেহত্যাগ করেন। তাই মাদারীপুরের রাস্তায় যখন তার হাতে যখন একটা ছবির ফ্রেম দেয়া হয়, যে ছবিতে তিনি আর তার মা, তখন একদম শিশুর মতো কাঁদতে থাকেন গোলাম রাব্বানী, পাশে হাজার হাজার মানুষ, তিনি এখন নেতা, এসব কিছু ছাপিয়ে তার কেবলই মনে হতে থাকে, তার মা নেই আজ, তিনি আজ থাকলে সব পূর্ণ থাকতো।

গোলাম রাব্বানি, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
মাদারীপুরে গণসংবর্ধনায় মায়ের ছবি পেয়ে আবেগ তাড়িত হয়ে কেঁদেই ফেলেন গোলাম রাব্বানী।

এই একটা অপূর্ণতা নিয়েই গোলাম রাব্বানী যেনো দ্বিগুণ উৎসাহে ভাল কিছু করার চেষ্টা করছেন। তিনি ফেরেশতা নন, তাই সব ভাল কাজ তিনি একাই করে ফেলবেন, সব কিছু তার ভাল হবে এমনতো নয়। কিন্তু তার ভাল কাজের দেখাদেখি যদি আরো কয়েকজন উৎসাহ পায়,তাহলে ক্ষতি তো নেই।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে রুপ দিতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছেন গোলাম রাব্বানী সহ বর্তমান নেতৃত্ব। কয়েকদিন আগে গোলাম রাব্বানী ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোনও ইউনিট বা পদধারী নেতার নাম ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তথ্যপ্রমাণসহ লিখিতভাবে জানালে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এছাড়া ছাত্রলীগ সাইবার ব্রিগেড গঠন করার চেষ্টা করছে যার মাধ্যমে অনলাইনে সঠিক তথ্য যাচাই বাছাই করে সেটা সবার কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

রাব্বানী চান ছাত্রলীগ শুধু রাজনীতিই করবে না, বরং পড়ালেখায়ও সাহায্য করবে। ছাত্রলীগের সংবাদ পোর্টাল BSLnews করবার পাশাপাশি এর সাব-ডোমেন হিসেবে বিএসল ক্যারিয়ার ও বিএসএল এডুকেশন করতে চান গোলাম রাব্বানী। বিএসএল এডুকেশনে একটা ছাত্রের ক্লাস ফাইভ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত যেকোনো ধরনের এডুকেশনাল মেটেরিয়ালস থাকবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “ভর্তি কোচিংয়ে শিক্ষার্থীরা হাজার হাজার টাকা খরচ করছে, আমরা সে কোচিং বিএসল এডুকেশনের মাধ্যমে ফ্রি দেব। ভিডিও লেকচার থাকবে, পিডিএফ শিট দেয়া হবে। তারা এখান থেকে নিয়ে সরাসরি পড়তে পারবে। এটা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”

সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ছাত্ররাজনীতি করে প্রাপ্তির খাতায় নেতারা শুধু যেন ভালবাসা অর্জনের চেষ্টা করে আর ব্যাক্তিগত অর্জনের জন্য সবাই যেনো পড়ালেখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় সেটাই তিনি প্রচার করতে চাচ্ছেন।

তিনি পাবলিক স্ট্যাটাসে বলেছেন, “ছাত্র রাজনীতির পাঠশালা’য় তাই তুমি সাদরে আমন্ত্রিত। তবে মনে রেখো, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, বাবা-মা, পরিবারের স্বপ্ন পূরণে তোমার জন্য লেখাপড়াটা কিন্তু মুখ্য! রাজনীতিসহ অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে বিদ্যা অর্জনকে প্রাধান্য দেয়া, জ্ঞান অন্বেষণ করা, ভালো রেজাল্ট করার তাগিদ অনুভব করাটা তাই ‘কম্পালসারি’!

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আইন বিভাগেরই ছাত্র গোলাম রাব্বানী।

আর যেকোন পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনীতির চর্চাটা ‘অপশনাল’, মোহের বশে কম্পালসারিকে উপেক্ষা করে কেবল অপশনালের পিছু ছুটলে আম-ছালা দুটো হারানোর শঙ্কা অবশ্যই আছে। ফরজ বাদ দিয়ে নফল নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করলে একটা সময় সব হারিয়ে সঠিক উপলব্ধি হলেও সে আত্ম-উপলব্ধি তোমাকে দীর্ঘশ্বাস আর হাহুতাশ ছাড়া কিছুই দেবে না!”

২৫ লাখ নেতা কর্মীও যদি হয় এর মধ্যে মাত্র ৫ হাজার জন রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারে হয়ত শেষ পর্যন্ত। বাকিদের কি করতে হবে? পড়ালেখা। সেটাই স্মরণ করে দিতে চেয়েছেন তিনি। স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন,

“অবশিষ্ট ২৪ লাখ ৯৫ হাজার নিজের যৌবনের মহামূল্যবান সময়, শ্রম, মেধা, আবেগ সব ঢেলে দিয়েও একসময় শূন্যহাতে অপাংক্তেয় হিসেব হারিয়ে যায়! ‘টয়লেট টিস্যুর রাজনীতি’তে তাদের ব্যবহারিক উপযোগিতা যে শেষ, মাথাগোনা রাজনীতিতে তাদের প্রয়োজন ততদিনে ফুরিয়ে গেছে!

আর এমন একটা সময় সে রাজনীতি থেকে ঝরে পরে বা বঞ্চিত হয় যখন পড়ার টেবিলে বসার সময় শেষ, সরকারি চাকরির বয়স শেষ, বিয়ের বয়স যায় যায়, নেই কোন সামাজিক পরিচয়, ব্যবসায়ের জন্য নেই কোন পুঁজি। পরিবারের জন্য সে ‘বোঝা’, এতদিন তাকে নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করা বড় নেতা’র কাছে ধরনা দিলে সেখানেও সে একটা ‘উটকো ঝামেলা’!

গোলাম রাব্বানি, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
“ক্লিন ক্যাম্পাস-সেফ ক্যাম্পাস” উদ্যোগে অংশ নেয়া উচ্চ-মাধ্যমিক ছাত্রলীগের সাথে গোলাম রাব্বানী।

সে ঘোর অমানিশায় মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রতিহিংসা, মামলা-হামলার শিকার হবার ঝুঁকি তো আছেই! সব মিলে দুর্বিষহ হতাশা আর অন্যের করুণা নির্ভর অনিশ্চিত জীবনের হাতছানি!”

একজন নেতা এতো সুন্দর করে পড়ালেখার গুরুত্ব তুলে ধরবেন সেটা কেউই ভাবেনি। লেখালেখিতে তিনি এমনিতেও নিয়মিত। “ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক অর্জন” শিরোনামে তার একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, ছাত্রলীগের রাজনৈতিক ইতিহাসের চুম্বুক অংশগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে রাব্বানীর এই বইটি।

গোলাম রাব্বানি, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
রাজশাহী সিটি মেয়র নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন গোলাম রাব্বানী।

এই ছাত্রলীগের হাতে অনেক গুরুদায়িত্ব। সামনে নির্বাচন, এটা যেমন মাথায় রাখতে হবে তাদের তেমনি ছাত্রলীগের ইতিবাচক ব্র‍্যান্ডিং গড়ে তুলতে ভালকাজগুলো করে যেতে নিরন্তর। সাধারণ ছাত্রদের সাথে যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে সেই দেয়াল ভেঙ্গে দেয়ার কাজটাও এই ছাত্রলীগের৷ সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল ছাত্রলীগের কাজকে সবাই কিভাবে এপ্রিশিয়েট করেছে তা তো সবারই জানা। সেই ঘটনা যেনো নতুন করে জানান দিয়েছে ডাকসু চাইলে কি করতে পারে, ছাত্রলীগ চাইলে কতটা ইনোভেটিভ হতে পারে। এই বর্তমান কমিটির সেই সামর্থ্য আছে, এই ধরণের ইতিবাচক কাজ করার আগ্রহ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া। গোলাম রাব্বানী ইতিমধ্যে অনেক কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সেসবের বাস্তবায়ন হলে ছাত্রলীগের যেমন সুনাম বাড়বে, সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বাংলাদেশ। নতুন মডেলের এই ছাত্রলীগের উপর সেই বিশ্বাসটাই রাখতে চায় সবাই।

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close