১. রক্তের গ্রুপ: ছাত্রলীগের প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের রক্তের গ্রুপ কি সেটা যদি একটা ডাটাবেজ করে রাখা যায়, তাহলে কত হাজার হাজার মানুষের রক্তের সমস্যা সমাধান হয়ে যায় সহজেই! এই ডাটাবেজ করাটা খুব বেশি কি কঠিন?

২. গরীব ছাত্র কল্যাণ তহবিল: প্রতি বছর কিছু ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েও ভর্তি হতে পারে না টাকার অভাবে। এই সংখ্যাটা খুব বেশি না, কিন্তু এই মেধাবীদের মেধার দাম কিন্তু অনেক বেশি। এরকম কিছু ছাত্রের প্রথম ছয় মাসের দায়িত্ব কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাদের পক্ষে নেয়া সম্ভব। এই ছাত্রদের সহায়তার জন্য একটা ছাত্র কল্যাণ তহবিল কিন্তু যেতেই পারে!

৩. চিকিৎসা তহবিল: ছাত্রলীগের বেশিরভাগ নেতাই কিন্তু নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা সন্তান এবং অনেকেই শুধু রাজনীতিতে আসেন বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে। মূলত এরা সুবিধা নেয়া শিখতে পারেন না বলে বয়স শেষে এরা সব হারান। চাকরি করারও তখন বয়স থাকে না, ব্যবসা করারও পুঁজি থাকে না। এর উপর যদি হয় প্রাণঘাতী কোনো অসুখ বা বড় কোনো এক্সিডেন্ট, দেখার কেউ থাকে না। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে নেতাকে যেন হাত পাততে না হয়, অধিকার ও ভালবাসার জায়গা থেকেই যেন তার চিকিৎসার খরচ যোগান দেয়া যায় সেজন্যে একটা চিকিৎসা তহবিল করা খুব দরকার। যত নেতাকর্মী আছেন সবাই সপ্তাহে ১০ টাকা করে দিলেও অনেক বড় তহবিল গড়া সম্ভব।

৪. বিতর্ক আয়োজন: ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ইউনিটভিত্তিক বিতর্ক কর্মসূচি রাখা জরুরি। কেন জরুরি? কারণ, যখন কেউ বিতর্ক করে তখন তাকে অনেক জানতে হয়, পড়তে হয়। সবচেয়ে বড় কথা- বিতর্কের মাধ্যমে বুদ্ধিদীপ্ত, অনলবর্ষী বক্তা ও নেতৃত্ব সৃষ্টি করা সম্ভব।

৫. পাঠচক্র: প্রায় প্রতিটা নেতাই ভাষণের ডায়াসে উঠে গড় গড় করে ঘুরেফিরে একটা কথাই বলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ জানতে হবে, চর্চা করতে হবে। কিন্তু, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যে কি জিনিস সেটা গুছিয়ে বলতে পারেন কেবল অল্প কিছু নেতা। কেন বাকিরা পারেন না? সোজা উত্তর, তারা হয়ত নিজেরাই জানেন না। বই পড়ার, এত ইতিহাস জানবার সময় কোথায়! তাই, প্রতিটি ইউনিটে মাসে একবার অন্তত একটা পাঠচক্র করা উচিত। ১২ মাসে ১২ টা বই। কি অসাধারণ একটা ব্যাপার হবে এমন হলে!

৬. ক্যাম্পাস পরিষ্কার কর্মসূচি: এই পরিষ্কার কর্মসূচি কালেভদ্রে নেয়া হয় এবং তখন যা হয় সেটাকে বলা যায় ছবি উৎসব। কাজের চেয়ে বেশি হয় সেলফি তোলার প্রতিযোগিতা। অথচ, চাইলেই কিন্তু বাংলাদেশের সব ক্যাম্পাস ছাত্ররাই পরিষ্কার রাখতে পারে। কিছুই না, শুধু নিজেদের ভাগের ময়লাটুকু ডাস্টবিনে ফেলা। আর নিজেরা এমন সেলফি প্রতিযোগিতা না করে যারা ময়লা ফেলে তাদের ছবি তুলে তাকে বলা যে ময়লা জায়গামতো ডিলেট না করলে ছবি ডিলেট হবে না। মানুষ কিন্তু নরমের জম, ক্যামেরার ভক্ত। এই কাজ ছাত্রলীগের পক্ষে করা কঠিন কিছু না। যেখানে যখন থাকবেন, তখন ওই জায়গাটুকুর খেয়াল রাখলেই চলবে!

৭. মাদকবিরোধী অভিযান: মাদক ছাত্রছাত্রীদের কি পরিমাণ ক্ষতি করছে বলে শেষ করা যাবে না। মাদক একটি ওপেন সিক্রেট ব্যাপার। কারা বিক্রি করে, কারা খায় এগুলা বের করা খুব কঠিন না। ছাত্রলীগ যদি মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন করে এবং নাগরিক অভিযান চালায় তাহলে সেটার চেয়ে ভালো কাজ আর কিছু হতে পারে না।

৮. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন আর অলীক কল্পনা নয়। টেকনোলজি এখন একমাত্র ভবিষ্যৎ। অথচ, ছাত্রলীগের এতো বিপুল নেতাকর্মীকে কাজে লাগানো হচ্ছে না। অনেক ছাত্রলীগ কর্মী দলের জন্য সময় দিতে দিতে হারিয়ে ফেলেন চাকরির বয়স। ছাত্ররা দলের জন্য সময় দিতে গিয়ে অন্য কিছুতে মনযোগ দিতে পারেন না অনেক সময়। তাই, যদি সরকারিভাবেই দলের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলা ইউনিটের অধীনে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর কেন্দ্র চালু করা হয়, তাহলে একদিকে বেকারত্ব কমবে অন্যদিকে বাংলাদেশ ডিজিটাল হবার যাত্রায় নতুন অনেক তরুণ তুর্কিকে সাথে পাবে।

৯. প্রশ্নফাঁস রোধে ভূমিকা: একটা দেশের ভবিষ্যত তরুণদের জন্য নিরাপদ ভূমি রেখে যাওয়া তো এখনকার তরুণদের কাজ। কিন্তু, সবসময় তা হয় না। আমাদের চোখের সামনে একের পর এক ব্যাচগুলোর প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে কিন্তু আমরা সবাই নির্বিকার। এই প্রথা মেনে নেওয়া কঠিন। প্রশ্ন ফাঁসে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে চাইলেই। প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ এবং গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাস গুলোতে নজরদারির কাজটা ছাত্রলীগের পক্ষে করা সহজ।

১০. শিক্ষামূলক পোস্টার: ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত পোস্টার লাগিয়ে রাখেন রাস্তাঘাটে, নিষেধের পরেও। এই পোস্টার রাজনীতিকে একটু ভিন্ন রুপ কিন্তু দেয়া যেতে পারে ভিন্নভাবে। পোস্টারগুলোতে তেলবাজি না করে শিক্ষামূলক কোনো তথ্য বা চিত্র বা আইডিয়া কিংবা জনসচেতনতামূলক বিষয় প্রচার করা যেতে পারে।

কে জানে! হয়ত এমন ইতিবাচক একটা পরিবর্তন দেশকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে। মুখে মুখে আবার রচিবে তারুণ্যের জয়ধ্বনি!

Comments
Spread the love