ফিচারটি যতবার পড়া হয়েছেঃ 287

গন্ধযুক্ত বাথরুম, হিউম্যান বিহেভিয়ার আর পরিবর্তনের কথা…

Ad

একটা বাথরুমে যান। সেটা টি.এস.সির বাথরুম হতে পারে। কিংবা এই জাতীয় যে কোনো বাথরুম। ভিতরে গিয়ে যখন আপনার হাত দিয়ে চেইন খোলার কথা তখন যদি তীব্র গন্ধের চোটে অপরিষ্কার বাথরুম দেখে হাত নাকে চাইপা ধরতে হয় কেমন লাগবে? মেজাজ খারাপ হয় খুব। আবার মেজাজ ধরে রাখতে গিয়ে ওটা আটকে রাখা যায় না। বেশিক্ষণ আটকে ধরে রাখার চেষ্টা করলে প্যান্ট নষ্ট হবার সমূহ সম্ভাবনা।

এই অবস্থায় কোনো মতে আল গোছে ৩০ সেকেন্ড এর কাজ প্রেশার দিয়ে ১০ সেকেন্ডে সেরে বাথরুম থেকে আমরা বের হয়ে যাই। পানি ঢালার ফাংশন যে আছে এটা আমাদের খেয়াল থাকে না। নাক চাপতে চাপতে বের হয়ে উলটা বাথরুমের আগের ইউজারদেরই গালি দিতে থাকি। লাভ কিছু হয় না। নোংরা বাথরুম শুধু আরো নোংরাই হয়।

আবার এমন বাথরুমও আছে যেখানে হাগু-মুতু করতেও বুক কাঁপবে। এত চকচকে যে নষ্ট করতে ইচ্ছা হবে না। সেই বাথরুমকে ঠিকই আমরা ২ মগ এর জায়গা ৪ বালতি পানি ঢালিয়া বিশুদ্ধ রাখবো।

এটাই হিউম্যান বিহেভিয়ার। অনেক সময় পথে মুতা ধরলে আমরা অনেকক্ষণ ধরে এমন জায়গা খুঁজি যেখানে আগেও কেউ মুতিয়া ভাসায় দিয়ে গেছে। পরিষ্কার জায়গা অপরিষ্কার করতে গেলে সাইকোলজি সম্ভবত বাঁধা দেয়। ঠিক একই ভাবে অপরিষ্কার জায়গা পরিষ্কার করতেও সাইকোলজি আমাদের অনুৎসাহিত করে।

সবাই আজকাল এত সিস্টেমের কথা শুনায়, এত সমালোচক চারদিকে, কিন্তু কেউ সিস্টেম চেঞ্জ করতে আসে না কেনো? কারণ, সাইকোলজিক্যাল বাঁধা। আমরা তো কখনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে খারাপ কাজ করি না। কারণ, ওখানে এসব কাজের প্রচলন নেই। একই মানুষ কেনো সাকুরাতে গিয়ে চার পেগ মদ খেয়ে মাতাল হয়ে পরের দিন সিস্টেম পালটে দিতে চায়? একই মানুষ নিজে ভ্যারিফিকেশনের ঝামেলা থেকে বাচতে গিয়ে পুলিশের পকেটে পয়শা গুঁজে দেয়, আর পরের দিন বলে শালা ঠোলার জাতটাই খারাপ ! এক্সামের আগের রাতে নিজের বাচ্চার জন্য প্রশ্ন খুঁজার স্বভাব যার, সেও মাঝে মধ্যে বলে শিক্ষা ব্যবস্থা আগের মতো নাই !

পরিবর্তন আসবে যদি সেটা নিজে বিশ্বাস করেন। এই জন্য পানি ঢালতে হবে জায়গামতো। অন্তত নিজের ভাগেরটা। দেখবেন গন্ধ কমে যাবে। ধীরে ধীরে…

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (2 votes, average: 4.50 out of 5)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad