চাণক্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০-২৮৩ অব্দ) ছিলেন একজন প্রাচীন ভারতীয় গুরু (শিক্ষক), দার্শনিক ও রাজ-উপদেষ্টা। চাণক্যকে কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও অভিহিত করা হয়। তিনি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞান গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র-এর রচয়িতা। তাঁকেই ভারতের প্রথম অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করা হয়। চাণক্য তাঁর ‘অর্থশাস্ত্র’ বইয়ে কর্মক্ষেত্রে সফলতার জন্য ১১টি নীতি বলে গেছেন যা আজও ধ্রুব সত্য- 

১/ 

a1

এই কারনেই “ইয়েস বস” পথ অবলম্বন করা ব্যক্তিরা চালাক। সৎ হয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মারার থেকে কৌশলী হবার চেষ্টা করুন।সৎ মতামত কষ্টদায়ক এবং মানুষ সেগুলো শুনতে চায় না। অতিরিক্ত সৎ এবং স্পষ্টবাদী হলে আপনি এমন অভদ্র ব্যক্তি হিসেবে গন্য হবেন যিনি অনুভূতির মুল্যায়ন করেন না। অন্যদিকে কৌশলী হলে সেটা কাউকে আঘাত করে না এবং আপনি সহজেই কাজ করিয়ে নিতে পারবেন।

২/

a2

এই পরিকল্পনা আপনার সময়কে নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাবে। একজন চালাক কর্মী ফলাফল দেয় এমন কাজগুলোই করেন। তারা অযথা সময় নষ্ট করেন না, বরং তারা যে কাজ করেন সেই কাজে সৃজনশীল হয়ে সময় বাঁচান।

৩/

a3

কঠোর পরিশ্রমের পরে যে ঘুম আসে, সেটাই সব থেকে শান্তির ঘুম। কঠোর পরিশ্রমের ফল পাওয়া যাক বা না যাক, কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের যে সন্তুষ্টি, সেটা শ্রেষ্ঠ অনুভূতি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমান, আপনাকে আপনার কর্মস্থলের জন্য মূল্যবান কর্মচারীতে পরিনত করবে।

৪/

a4

কর্মক্ষেত্রে যদি আপনার সব থেকে প্রিয় বন্ধু থাকে, সেইক্ষেত্রে এই নীতি আপনার জন্য প্রযোজ্য। মনে রাখবেন এটা কাজের জায়গা- কলেজ নয়, যেখানে আপনার সাথে সহকর্মীদের স্বার্থহীন সম্পর্ক ছিল। নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কতটুকু প্রকাশ করবেন সেই বিষয়ে সাবধানী হন। কল্পনা করুন যদি আপনার গোপনীয় কথা প্রকাশ পেয়ে যায় এবং আপনার কর্মস্থলের অতি প্রিয় বন্ধু আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন? সুতরাং এটা পরিহার করবেন এবং নিজের গোপনীয় কথা নিজের কাছে রেখে আপনার ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের মাঝে সুষম ভারসাম্য রাখবেন।

৫/

a5

এই নীতি শুধু কর্মজীবন নয়, সাধারনভাবে জীবনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমরা অন্যদের সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই কারণ আমরা তাদের সাথে আমাদের আগ্রহের বিষয় ভাগাভাগি করতে চাই, তাদের সঙ্গ লাভ করতে চাই, চাই তারা যেন আমাদের মতো হয়। বন্ধুত্বের পেছনে সবসময়ই উদ্দেশ্য থাকে, কারণ আমাদের সেটার প্রয়োজন রয়েছে। আপনার বন্ধুদের সতর্কতার সাথে নির্বাচন করুন।

৬/

a6

খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের পরে “আনন্দদায়ক কথা”ও মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়। প্রথমত, আপনি কঠোর নির্দেশনার মাধ্যমে কোন সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না, নমনীয় হয়ে চেষ্টা করুন। আপনার কাজ সহজেই হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে!

৭/

a7

দর্শকদের সামনে প্রেজেন্টেশন দেওয়ার সময় কি আপনি ভয় পান বা স্নায়ুচাপে ভোগেন? কিংবা বস বা আপনার দলের লোকেদের সামনে আপনার ধারনা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমতা আমতা করেন? সেই ক্ষেত্রে এই নীতিটা আপনার জন্যে। ভয় সবচেয়ে বড় শত্রু।এটা আপনার লক্ষ্য এবং আপনার মাঝে বাধা হয়ে আছে। আপনি সাহস সঞ্চয় করুন এবং আপনার সেরাটা দিন। এর মাধ্যমেই আপনি ভয়কে জয় করতে পারবেন এবং তাকে বাইরে যাবার রাস্তা দেখিয়ে দিতে পারবেন।

৮/

a8

এটা কঠিন কিছু নয়। যদি প্রতিযোগিতা কঠিন হয়, তাহলে আপনাকেও কঠিন হতে হবে। প্রতিযোগিতার থেকে আপনাকে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হবে। কর্পোরেট জগতে এটাই সফলতা লাভের উপায়।

৯/

এছাড়া সমাজ আপনার ক্ষেত্রে অযাচিত সুবিধা নেবে। ভীতি প্রদর্শনকারী হওয়া আপনাকে সাহায্য করবে, কারণ মানুষ তখন আপনার ক্ষতি করবে না। আপনি যদি নিজেকে অতিবন্ধুভাবাপন্ন, মনোরঞ্জনকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন, তাহলে আপনি সকলের প্রতি ভুল বার্তা পাঠাবেন।

১০/

চাণক্য

যেভাবেই হোক না কেন বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সত্যিটা জানতে পারবেন, সুতরাং তাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন না। যেমন ধরুন, আপনি যদি কোন ইন্টারভিউ দিতে যান এবং আপনাকে যদি উচ্চযোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি প্রশ্ন করে, তাহলে ধাপ্পা দেবার চেষ্টা করবেন না। আপনার ধরা পরে যাবার এবং বোকা হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

১১/

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হচ্ছে এটা। অপরের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়াটা একটা বড় সুযোগ। আপনাকে এটা দেখতে হবে যে আপনি নন, অন্য কেউ ভুল করছে। অপরের ভুল থেকে নেয়া শিক্ষা আপনাকে সফলতার শিখরে পৌছাতে একধাপ এগিয়ে দেবে।

(টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে)

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো