মিরপুর- দ্যা লাস্ট ব্যাটেলফিল্ড

অস্কার পুরস্কার বিতরণী মঞ্চ। উপস্থাপকের দিকে সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ, টানটান উত্তেজনায় শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। উপস্থাপকের ঠোঁটে রহস্যের হাসি। শেষ পর্যন্ত সেরা চলচ্চিত্রের নাম ঘোষিত হল, মনোনয়ন পাওয়া গুণী পরিচালকদের বিশ্বসেরা সব চলচ্চিত্রকে পেছনে ফেলে সকলের বিস্ফোরিত দৃষ্টির সামনে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে ঘোষিত হলো ‘Mirpur-The Last Battlefield’ এর নাম। বিস্ময়ের তখনো বাকি ছিল। সেরা স্ক্রিপ্ট, সেরা সিনেমাটোগ্রাফিসহ আরো ছয়টি বিভাগে অস্কার জিতলো মুভিটা, এর মধ্যে সেরা পরিচালকও ছিল। হালকাপাতলা মানুষটা উঠে দাঁড়ালেন, একটু আগে সেরা পরিচালক হিসেবে…

"মিরপুর- দ্যা লাস্ট ব্যাটেলফিল্ড"

জহির রায়হান- হারিয়ে যাওয়া এক সূর্যসন্তান এবং কিছু পাকিস্তানি পারজের ম্যাৎকার

/জহির রায়হান তো এক বিখ্যাত সাংবাদিক আছিল,বুঝলা? ফিল্মও ভি বানাইত। একাত্তর সালে গণ্ডগোলের সময় আওয়ামিলিগ নেতারা যখন পলায়া গিয়া কলকাতায় খারাপ পাড়ায় আকামকুকাম করতেছিল, তখন এই ব্যাটা হেইডি ভিডু কইরা একটা ফিল্মই বানায়া ফেললো।হের কাছে আরও তথ্য আছিল, ফাঁস কইরা দিতে চাইছিল। হ্যাঁর লাইগাই তো শেখ মুজিবে দেশে ফিরাই তারে গুম কইরা ফেললো। আহারে, বড় ভালো লোক আছিল/ /এই যে আজ কিছু লোক গোলাম আজম সাহেব, নিজামী সাহেবদের বিরুদ্ধে একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার মত জঘন্যতম অভিযোগ…

"জহির রায়হান- হারিয়ে যাওয়া এক সূর্যসন্তান এবং কিছু পাকিস্তানি পারজের ম্যাৎকার"

শেকড়ের টানে ‘দ্রুম’

আমাদের তরুণদের মাঝে চে গুয়েভারা বেশ জনপ্রিয়। সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যানের মতো মার্ভেল হিরোদের তো আজকাল ছেলেমেয়েরা ছোট থেকেই চিনতে চিনতে বড় হচ্ছে। ভিনদেশী সুপারহিরোদের তারা চিনছে, গর্ব করছে, তাদের প্রতিদিনের জীবনে-ফ্যাশনে চে’র মত বিপ্লবীরা বেঁচে আছেন সগৌরবে। অথচ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-মাংসের সুপারহিরোরা আজ বিস্মৃত অতীত, গেরিলাযুদ্ধের কিংবদন্তী কর্নেল খালেদ মোশাররফ, মেজর এটিএম হায়দারদের আজ ৪৫ বছরের মাথায় নতুন প্রজন্মের প্রায় কেউই চেনে না! যে জমিনে মাথা উঁচু করে চলছি আমরা, সে জমিনের প্রতিটি অংশ…

"শেকড়ের টানে ‘দ্রুম’"

শুভ জন্মদিন জুয়েল, শুভ জন্মদিন রাজপুত্র!

৪৬ টা বছর চলে গেল ছেলেটার হারিয়ে যাবার পর… ৪৬ বছর… সেই যে একটা ছেলে ছিল, রাজপুত্রের মত ফুটফুটে দেখতে, ঠোটের কোনায় সবসময় এক চিলতে হাসি লেগেই থাকতো। রসিকতার জাহাজ ছিল ছেলেটা। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেট কিপিংটাও করত চমৎকার, মাঠ মাতিয়ে রাখতো সবসময়। জন্মরসিক ছিল ছেলেটা। একটা জুটি দাঁড়িয়ে গেছে, উইকেট পড়ছে না, দেখা গেল উইকেটের পিছে দাঁড়িয়েই বান্দা একের পর এক রসিকতা করে যাচ্ছে। বেচারা ব্যাটসম্যান খেলবে কি, হাসতে হাসতেই আউট… কি বিপদ, দেখোতো… দুর্ধর্ষ…

"শুভ জন্মদিন জুয়েল, শুভ জন্মদিন রাজপুত্র!"

কিউবার ফিদেল ক্যাস্ত্রো, আমাদের শেখ মুজিব…

আলজিয়ার্সে ১৯৭৩ সালে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনকালে ফিদেল ক্যাস্ত্রো আর বঙ্গবন্ধুর আলাপচারিতার চুম্বক অংশ- ক্যাস্ত্রো: এক্সেলেন্সি, তাহলে শুনুন। চিলির প্রেসিডেন্ট আলেন্দের মত আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুজিবকেও ‘খরচের খাতায়’ রেখে দিয়েছি। ইউ আর ফিনিশ এক্সেলেন্সি। মুজিব: কমরেড হঠাৎ করে এ ধরণের কথাবার্তা বলছেন কেন? একটু গুছিয়ে বলবেন কি? ক্যাস্ত্রো: বিকজ, ইউ হ্যাভ লিগ্যালাইজড দ্য ডিফিটেড এডমিনিস্ট্রেশন ইন বাংলাদেশ। ইউ আর ফিনিশ এক্সেলেন্সি। (কেননা আপনি বাংলাদেশে একটি পরাজিত প্রশাসনকে আইন সঙ্গত করেছেন এক্সেলেন্সি। আপনি কিন্তু শেষ হতে যাচ্ছেন।)…

"কিউবার ফিদেল ক্যাস্ত্রো, আমাদের শেখ মুজিব…"

‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’- এর মানে কী?

১. শেখ আবদুল মজিদ। সম্পর্কে তিনি খোকার নানা। খোকা ছিলো মানুষটার ডাক নাম। পরিবারের লোকজন মায়া করে এই নামে ডাকতেন। নানা শেখ আবদুল মজিদ অন্য আরেকটা কেতাবি নাম রেখেছিলেন। নাম রাখার সময় নিজের মেয়েকে ডেকে বললেন, ‘মা সায়রা, তোর ছেলে একদিন জগৎজোড়া বিখ্যাত একজন হবে।’ নানা কি জানতেন, যার সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেলেন সে একদিন নিজে একটা গোটা দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে? তিনি শেখ মুজিবর রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু। তিনি বাংলাদেশ। যার সম্পর্কে ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেন,…

"‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’- এর মানে কী?"

এ গ্রেট এস্কেপ: মুজিব পর্ব-৩

(দ্বিতীয় পর্বের পর থেকে) হঠাৎ আজ কুয়াশা খুব বেশী। এই সময়টায় কুয়াশা এত পড়ার কথা না! বাইরে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না কিছুই। কুকুরগুলোও খুব ত্যাদড়, আর উল্টোপাল্টা রাতভর ডাকতে থাকে এই সময়ে। দরজায় শাবল চালানোর শব্দ শোনা যায়,পুলিশ তিন তলার রুমের দরজা ভাঙতে ব্যস্ত, এদিকে খুব একটা খেয়াল নেই। মুজিব ওদের দুজনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে, বাইরে তীব্র কুয়াশা, ওদের উদ্দেশ্য অজানা! মুজিব জানেনা ওরা কোথায় যাচ্ছে! পেছনের গলি দিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে এগোয়, হঠাৎ মুজিবের…

"এ গ্রেট এস্কেপ: মুজিব পর্ব-৩"

এ গ্রেট এস্কেপ: মুজিব পর্ব-২

(প্রথম পর্বের পর থেকে…) ফরিদপুরের দত্তপাড়ার জমিদারেরা খুব নাম করা, আর ওই এলাকায়ও যথেষ্ট প্রভাবশালী। ওই বাড়ীর ছেলে সাইফুদ্দিন চৌধুরী ওরফে সূর্য মিয়া, মুজিবের আত্নীয়। সূর্য মিয়া রাত দুইটা পর্যন্ত জেগে জেগে মুজিবের সেবা করছে, মুজিবের পায়ে ব্যান্ডেজ, খানিক আগেও ব্যথায় কাতরাচ্ছিল। সূর্য মিয়া ভাবে মুজিবের শরীরে কত রক্ত! সূর্য মিয়া খুব যতন করে মুজিবের মাথায় হাত বুলায় আর ভাবে, পোলাডার ঘাড়ের রগ বেজায় ত্যাড়া……! সেদিন সভা শেষে মিছিল নিয়ে বেরিয়েছে ওরা তিনজন, পেছনে কয়েক…

"এ গ্রেট এস্কেপ: মুজিব পর্ব-২"

এ গ্রেট এস্কেপ: মুজিব পর্ব-১

২৩ শে জুন ১৯৪৯ আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সম্মেলন শেষ হয়। সভাপতি হলেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারন সম্পাদক শামসুল হক আর শেখ মুজিব হল একমাত্র যুগ্ম সম্পাদক! খেলা কিন্তু শুরু! এদিকে পুরান ঢাকার প্রভাবশালী মানুষ ইয়ার মোহাম্মদ খান, যার এক ডাকে মুহুর্তের ভেতর কয়েক’শ মানুষ জড়ো হয়ে যায়, সেই তিনিও আওয়ামি লীগে যোগ দিলেন। নবাবজাদা লিয়াকত আলী খান সাহেব ১১ই অক্টোবর পূর্ব বাংলায় আসবেন! শেখ মুজিব ভাবেন, ওইদিন কিছু একটা করতে হইবোই! শেখ মুজিব…

"এ গ্রেট এস্কেপ: মুজিব পর্ব-১"

সেদিন খুন হয়েছিল বাংলাদেশ…

জাতীয় চার নেতার লিস্ট হাতে দিয়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন বললো, এদেরকে আলাদা করে দিন। রশিদ আগেই ফোন করে প্রিজনের আইজিকে বলেছিলো মোসলেম উদ্দিনের আসার কথা। আইজি নুরুজ্জামান জেলার আমিনুর রহমানের হাতে লিস্ট দিয়ে বললেন, ‘তাদেরকে আলাদা এক রুমে নিয়ে আসেন।’ পাগলা ঘন্টা বেজেই চলেছে, জেলের নিরাপত্তার জন্য ২০০ বিডিআর, পুলিশ সদস্য ছিল কিন্তু নিয়ম মোতাবেক কেউই এগিয়ে আসলো না। জেলার আমিনুর ও সুবেদার ওয়াহেদ মৃধা চাবি নিয়ে ১ নম্বর রুমের তালা খুলেন, এ সময় তাজউদ্দীন…

"সেদিন খুন হয়েছিল বাংলাদেশ…"

শুভ জন্মদিন গুরু, শুভ জন্মদিন ক্রিকপ্লাটুন!

ইয়ে সালে কালা মছুয়া বাঙ্গাল কেয়া ক্রিকেট খেলতা, ও তো সির্ফ মাছলি খাতা অর মাছলি কি সুরুয়া উসকো হাত সে পারতা রাহা তা… হাসতে হাসতে পাঞ্জাবীদের ছুড়ে দেওয়া এই টিটকারি সহ্য করতে পারতেন না লাডু ভাই, মাথায় আগুন ধরে যেত… পেশায় সাংবাদিক মানুষটা ছিলেন খেলার পাগল, ফুটবল খেলতে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। ক্রিকেটেও কম যেতেন না। দৈনিক আজাদে সহসম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করলেও এক পর্যায়ে ক্রিকেট-ফুটবলে এমনই অন্তঃপ্রান গেলেন যে, ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবেই তাকে সবাই চিনতে শুরু…

"শুভ জন্মদিন গুরু, শুভ জন্মদিন ক্রিকপ্লাটুন!"

একটি পতাকার জন্ম! | egiye-cholo.com

১৯৭০ সালের ৭ জুন, পল্টন ময়দানে জয়-বাংলা বাহিনীর (যার আগে নাম ছিলো জহুর বাহিনী) কুচকাওয়াজ হবে আর বঙ্গবন্ধু সেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম প্রধান সমন্বয়কারী। ৬ জুন রাতে হঠাৎ সিদ্ধান্ত, ওই কুচকাওয়াজে জয় বাংলা বাহিনীর একটা পতাকা থাকতে হবে, যেখানে গাঢ় সবুজের মাঝে থাকবে লাল বৃত্ত। কাপড় জোগাড়ের জন্য রফিকুলকে বললেন মনিরুল। রফিকুল ছাত্রলীগের মধ্যে ‘লিটল কমরেড’ নামে পরিচিত। রফিক, জগন্নাথ কলেজের ছাত্র নজরুলকে নিয়ে নবাবপুর চষে বেড়ালেন, পেলেন না কালচে সবুজ…

"একটি পতাকার জন্ম! | egiye-cholo.com"