ছোট্ট রেহানা, একটি হলুদ জামা ও চাপা আর্তনাদের গল্প

পৃথিবীতে সবচেয়ে অপার্থিব সৌন্দর্যগুলোর মধ্যে ছোট্ট পুতুলের মতো একটা শিশুর হাসি একদম প্রথম দিকেই জায়গা করে নেবে। ছোট্ট একটা মানুষ, তারচেয়েও ছোট্ট ছোট্ট হাত পা নাড়িয়ে খেলছে, মুখ দিয়ে নানারকম অর্থহীন কিন্তু ভীষণ জরুরি (তার কাছে অবশ্যই) শব্দ করে তার মায়ের সাথে ভাবের আদান প্রদান করছে। মাঝে মাঝে মাড়ি বের করে বুকের মধ্যে তোলপাড় করে দেয়া অসম্ভব মিষ্টি হাসি দিয়ে মাকে জানাচ্ছে সে কত খুশি, এমন দৃশ্যের মতো মধুর আর কিছুই নেই বোধ হয়! ঠিক…

"ছোট্ট রেহানা, একটি হলুদ জামা ও চাপা আর্তনাদের গল্প"

রসিক বঙ্গবন্ধু ও মন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরী

ঘটনা- ১ দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু সংসদীয় গনতন্ত্র চালু করলেন ১১ই জানুয়ারী, ১৯৭২। বিকেলে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিক এ বি এম মুসা সহ কয়েকজনের সাথে তিনি আড্ডা দিচ্ছিলেন। তখনো মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টন হয়নি। দপ্তর বন্টনের বিষয়টা নিয়ে সাংবাদিকেরা (মুসা সাহেব সহ) বঙ্গবন্ধুকে কৌতুহলবশত জিজ্ঞেস করলে উনি খুব সিরিয়াস হয়ে বলতে শুরু করলেন, ‘সব এখন বলবো না, একটু পরেই জানতে পারবা। উপযুক্ত ব্যক্তিকেই যথাযথ দায়িত্ব দিয়েছি। তবে একটা দপ্তর নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। অনেক ভেবেচিন্তে সেটা জহুরের…

"রসিক বঙ্গবন্ধু ও মন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরী"

আঠার বছর বয়সের সেই দুর্ধষ ক্র্যাক আবু বকর!

আচ্ছা, একাত্তরের জুনের শুরুতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (পরে শেরাটন, বর্তমানে রুপসী বাংলা)-এ ক্র্যাক প্লাটুনের দুর্ধষ গেরিলাদের গ্রেনেড নিয়ে হামলা করার পর পুরোপুরি সতর্ক ও আরো দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠা হোটেল ইন্টারকনে আবার হামলা চালানোর অচিন্তনীয় দুঃসাহস কার হতে পারে? এমনিতেই হোটেল ইন্টারকন ছিল পাকিস্তানীদের সবচেয়ে দুর্ভেদ্য দুর্গ, সেখানে একবার হামলার পরে স্বাভাবিকভাবেই আর কড়া প্রহরা আর পাহারার ভেতর আবারো টাইম বোমা নিয়ে ঢুকে পড়ার জন্য বিশাল কলিজার দরকার। কে ছিল সেই অমিত সাহসী যোদ্ধা? মাত্র ১৮ বছর…

"আঠার বছর বয়সের সেই দুর্ধষ ক্র্যাক আবু বকর!"

একাত্তরের ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডদের গল্প!

ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস দেখি। জার্মান নাৎসি বাহিনীর নৃশংসতম বর্বরতার শিকার হওয়া কিছু মানুষের গল্প। তাদের উপরে চালানো নির্বিচার গণহত্যার গল্প, যন্ত্রণার গল্প, উঠে দাঁড়াবার গল্প, প্রতিরোধের গল্প, প্রতিশোধের গল্প… ১৯৪১ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। জার্মানী দখল করে নিয়েছে ফ্রান্স। নির্বিচারে ইহুদী নিধন চলছে। এক ইহুদী পরিবার গণহত্যা থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছিল তার ফ্রেঞ্চ প্রতিবেশীর বাড়িতে। কিন্তু আট মাসের মাথায় জার্মান এসএস বাহিনীর কর্নেল হ্যান্স ল্যান্ডারশকুনে দৃষ্টি তাদের ঠিকই খুঁজে বের করে, নির্বিচার গণহত্যা থেকে বেঁচে যায়…

"একাত্তরের ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডদের গল্প!"

‘পাকিস্তানী ভাই’ এবং একজন মোস্তফা কামালের গল্প

পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল পেইজ “পাকিস্তান ডিফেন্স”-এ ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত একটা পোষ্ট দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারত এবং বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের বহু পুরোনো শত্রুতা, তারা সবসময়ই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসেছে, এবং তারা কিভাবে গাদ্দারী করে পাকিস্তান ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করেছিল সেটা যেন পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্ম ভুলে না যায়। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দৃশ্য। পোস্টের নিচে সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া কমেন্টটা বাংলাদেশের একজনের, তাতে সে ইংরেজিতে লিখেছে যে, ‘পাকিস্তানিরা আমাদের ভুল বুঝছে,…

"‘পাকিস্তানী ভাই’ এবং একজন মোস্তফা কামালের গল্প"

‘চলেন আখতার ভাই, কিছু পাইক্কা মাইরা আসি!’

ক্র্যাকপ্লাটুনের শহীদ শাফী ইমাম রুমীর মতো তারছিঁড়া বা ক্র্যাকপিপল কনভেনশনাল আর্মিতে সচরাচর দেখা যায় না। কেননা আর্মি মানেই শৃঙ্খলা, কঠোর নিয়মের বেড়াজাল। একাত্তরে পাকিস্তানী আর্মি থেকে বিদ্রোহ করে আসা বাঙ্গালী অফিসাররা সাধারণ গণযোদ্ধাদের নিয়ে যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তৈরি করেছিলেন, সেটাও কঠোর শৃঙ্খলা আর সুনিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই ছিল কয়েকজন বিচিত্র তারছিঁড়া, তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম সেরা দুর্ধর্ষ পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে যেখানে বুক কাঁপাটাই ছিল স্বাভাবিক, সেখানে এই মানুষগুলা ছিল পুরো উল্টো। পাকিস্তানীরা ছিল এদের…

"‘চলেন আখতার ভাই, কিছু পাইক্কা মাইরা আসি!’"

পাকিপ্রেমীদের লাথি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বের করে দেওয়া হোক!

স্বাধীনতার পর ধর্ষিতা বাঙালী মহিলাদের চিকিৎসায় নিয়োজিত অষ্ট্রেলিয় ডাক্তার জেফ্রি ডেভিস গনধর্ষনের ভয়াবহ মাত্রা দেখে হতবাক হয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আটক এক পাক অফিসারকে জেরা করেছিলেন এই বলে- যে তারা কিভাবে এমন ঘৃণ্য কাজ করেছিলো। তাদের সরল জবাব ছিলো; “আমাদের কাছে টিক্কা খানের নির্দেশনা ছিলো, যে একজন ভালো মুসলমান কখনোই তার বাবার সাথে যুদ্ধ করবে না। তাই আমাদের যত বেশী সম্ভব বাঙালী মেয়েদের গর্ভবতী করে যেতে হবে।আমাদের এসব উশৃঙ্খল মেয়েদের পরিবর্তন করতে হবে, যাতে এদের পরবর্তী…

"পাকিপ্রেমীদের লাথি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বের করে দেওয়া হোক!"

যেভাবে পূর্ব পাকিস্তান হলো বাংলাদেশ (কুইজ-১)

ইতিহাস জানতে আমাদের বড্ড অনীহা। কী হয়েছে আগে, এত কিছু জেনে কী লাভ! বাঁচতে হবে তো বর্তমান নিয়েই। কিন্তু রক্তে ভেজা এই স্বাধীনতা পেতে যে হারাতে হয়েছে ৩০ লক্ষ প্রাণ! ৪ লক্ষ মা-বোনের আহাজারিতে ভারী হয়েছে এই জনপদের আকাশ! কী করে ভুলি আমরা নিজেদের এই শেকড়কে? আর তাই আজ থেকে শুরু হলো এগিয়ে চলোর নিয়মিত কুইজ আয়োজন, ‘যেভাবে পূর্ব পাকিস্তান হলো বাংলাদেশ’। কুইজের মাধ্যমেই হোক ইতিহাসের পাঠ। আজ থাকছে প্রথম পর্ব। 

"যেভাবে পূর্ব পাকিস্তান হলো বাংলাদেশ (কুইজ-১)"

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিছু দুষ্প্রাপ্য ছবি

শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মহানায়ক ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা জন্মেছিলেন আজ। তাঁর কিছু দুষ্প্রাপ্য ছবি প্রকাশিত হলো আজকের এই বিশেষ দিনে।  ছবি কৃতজ্ঞতা- জন্মযুদ্ধ ৭১

"বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিছু দুষ্প্রাপ্য ছবি"

‘স্বাধীনতা’- এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো?

সে এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা। একাত্তরের মার্চের সেই অদ্ভুত অগ্নিস্রোতে প্রতিদিন তখন মারা যাচ্ছে অগুনতি মানুষ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত দল আওয়ামীলীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে জেনারেল ইয়াহিয়া তার সেনাবাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে। বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়ার মাঝে ব্যবধানটা ক্রমেই কমে আসা সে মার্চের ৭ তারিখ দুপুরে রেসকোর্স ময়দানের ডায়াসে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু, সামনে স্বাধীনতাকামী লক্ষ লক্ষ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায়। একটা জাতির সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা স্রেফ একটা মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত নির্দেশের অপেক্ষায়! কি বলবেন বঙ্গবন্ধু? আকাশে…

"‘স্বাধীনতা’- এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো?"

সারাদিন উচ্চস্বরে ভাষণ বাজালেই কি বঙ্গবন্ধুকে সম্মান দেয়া হয়?

“পাকিস্তান এক সুন্দর ফুলের ফুলদানীর নাম আর শেখ মুজিব সেখানে এক বিষাক্ত মৌমাছি। সে সমস্ত মধু শুষে নেবে এবং হাতুড়ি দিয়ে এই ফুলদানীকে ভেঙ্গে চৌচির করবে।” ষাটের দশকের এক পাকিস্তানি দার্শনিকের ভবিষ্যৎবাণী এটা। পাকিস্তান নামক দেশটি প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা পতন দিবস পালন করে। দুঃখ দুঃখ মনে টক-শো করে, বিশ্লেষণ করে, কেন পাকিস্তানের পতন হলো? বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করে তারা দেখান সব কিছুর পেছনে মুজিব ব্যাটাই দায়ী। বিরোধী শিবিরকে জানাটা এজন্যই জরুরি… আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধের…

"সারাদিন উচ্চস্বরে ভাষণ বাজালেই কি বঙ্গবন্ধুকে সম্মান দেয়া হয়?"

“পাকিস্থানের পতাকা/ জ্বালিয়ে দাও- পুড়িয়ে দাও”

পহেলা মার্চ রাতেই বঙ্গবন্ধু সংবাদপত্রে এক দীর্ঘ বিবৃতি দেন (দৈনিক আযাদ,সংবাদ; ২রা মার্চ-১৯৭১)। তিনি বলেন “….সমগ্র বাংলাদেশ স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে প্রমান করে দিয়েছে যে, বাঙালিরা আর নির্যাতিত হতে রাজী নয় এবং তারা একটি ‘স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক’ হতে দৃঢ়সংকল্প….” ওই দিনেই তিনি দুপুরের দিকে হোটেল পূর্বানীতে ডেকে পাঠালেন সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনিদের। আর বললেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে। উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো সেদিন ছাত্র ইউনিয়নের…

"“পাকিস্থানের পতাকা/ জ্বালিয়ে দাও- পুড়িয়ে দাও”"