আচ্ছা, আমাদের নাক এত সরু-টিকালো কেন?

আমাদের অনেকের নাকগুলো এতো চোখা চোখা আর লম্বা যে কী আর বলবো! না না, খুশি হওয়ার কিছু নেই। আমি কোন ভালো কথা বলছি না। আমাদের একটি স্বভাবের কথা বলছি। অন্যের জীবনে নাক গলাতে আমরা খুব পছন্দ করি এবং সেটাও বেশ অপ্রীতিকরভাবে! কোন মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরু করেছে কি, শুরু হয়ে যাবে, ‘আরে তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছো! ওমা, ভার্সিটিতে পড়ো, তো বিয়ে কবে করছো, আছে নাকি কেউ, আজকালকার ছেলে মেয়ে…।” কোন ছেলে সদ্য স্নাতক পাশ…

"আচ্ছা, আমাদের নাক এত সরু-টিকালো কেন?"

প্রতিনিয়ত নিজের সাথে যেসব মিথ্যে বলে চলেছি আমরা!

প্রতিনিয়তই নিজের সাথে মিথ্যে বলে চলেছি আমরা। এগিয়ে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করছি কিংবা নিছক সাহসের অভাবে পিছিয়ে পড়ছি। আর তখনই স্রেফ নিজেদের প্রবোধ দেওয়ার জন্য আমরা সান্ত্বনাসূচক কথা বলি, সঙ্গে কবর দিয়ে দেই অজস্র সম্ভাবনাকে। চলুন দেখে নেই এ ধরণের কিছু সান্ত্বনার কথা, যেগুলো আমাদের এগিয়ে চলার পথ রোধ করে রাখছে।   ১। বোঝে না সে বোঝে না অনেকেই মনে করে- আমি একটু অন্যরকম, আমাকে কেউ বোঝে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষই এরকম ভাবে।…

"প্রতিনিয়ত নিজের সাথে যেসব মিথ্যে বলে চলেছি আমরা!"

স্বাধীনতা মানে মুক্ত চিন্তা, মুক্তির চিন্তা

কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে ‘স্বাধীনতা কী?’ তাহলে এর উত্তরে আমি বলব- স্বাধীনতা হচ্ছে কোনো ব্যক্তির বা প্রাণীর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে নিজের মতামত বা যাবতীয় কর্ম প্রক্রিয়া প্রকাশ করতে পারার নামই স্বাধীনতা। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘liberation’ স্বাধীনতা বা মুক্তি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দিনগুলোতে যখন পিটিতে দাঁড়িয়ে গাইতাম ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, তখন শরীরের প্রতিটি রোমকুপ শিউরে উঠতো। ছলছল করে উঠতো দু’চোখের অশ্রু। তখন ভাবতাম, এই যে গাইতে পারায় আমার স্বাধীনতা, বলতে পারায় স্বাধীনতা,…

"স্বাধীনতা মানে মুক্ত চিন্তা, মুক্তির চিন্তা"

স্বপ্নে রাঙানো এক অদম্য যাত্রা

স্বাধীনতা! শব্দটা তার মহিমা অনুযায়ী কি ছোট? কে জানে! শুরুটা ঠিক দশ বছর আগে। জীবন নিয়ে হাজারো স্বপ্ন বোনা ছোট্ট একটা প্রাণ! পারিবারিক বিধিনিষেধের শেকলে বাধা ইচ্ছেগুলো ছিল বাক্সবন্দী! কিন্তু চাওয়াটা হারায়নি। হাজারো ইচ্ছের মাঝে একটা ইচ্ছে, রঙ তুলি দিয়ে কিছু একটা করার। একদিন হুট করেই শেকল আলগা হয় স্বপ্নের বাক্সের! হ্যাঁ, ইচ্ছেটা পুরনের প্রথম ধাপের জন্য নিজের ঈদের ড্রেসটাই দিয়ে দিয়েছিলো আপু!বড় আপু তার পিচ্চিবোনটার উপর যে অদ্ভুত আস্থা রেখেছিলো সেই কৃতজ্ঞতার স্বীকার করবার…

"স্বপ্নে রাঙানো এক অদম্য যাত্রা"

‘অদ্ভুত পেলবতায় মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়েছিলাম’

বাবাকে হারিয়েছি ছেলেবেলায়। মা আমাদেরকে নিয়ে নানাবাড়িতে থাকতেন। নানা কারণে মায়ের মনের অবস্থা বিপর্যস্ত ছিল। সামান্যতেই রেগে যেতেন, কখনো দুঃখী বালিকার মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠতেন। আমার বুকের ভেতরটা বিশাল শূন্যতায় হাহাকার করে উঠত। মাকে বিষণ্ন দেখতে ভালো লাগত না। মনে মনে ভাবতাম, মায়ের খুশির জন্য যদি কিছু করতে পারতাম! আমার কোনো কাজে মা যদি খুশি হতেন! নানাবাড়িতে থাকার সুবাদে মামাদের সঙ্গে মিলেমিশে চলতে হতো। তারাও আমাকে খুব স্নেহ করতেন। প্রায় অসমবয়সী হওয়ার কারণেই কিনা, ছোট…

"‘অদ্ভুত পেলবতায় মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়েছিলাম’"

প্রসারিত হোক চিন্তার স্বাধীনতা

পরীক্ষার শেষ দিনটাকে ছোটবেলায় আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের দিন বলে মনে হতো। শেষ পরীক্ষার আগের রাত থেকেই বুকের মধ্যে ‘কেমন যেন একটা’ উত্তেজনা। গৎবাঁধা পড়াগুলো আরেকবার রিভিশন দিতে মোটেও ক্লান্তি লাগতো না, মনে হতো আর একটু, আর একটু। তারপরই ছুটি। স্কুল নেই, পিটি ক্লাশ নেই, হোমওয়ার্ক নেই। সন্ধ্যার পর কেউ বলবে না ‘যাও পড়তে বস’ কিংবা ‘জোরে জোরে পড় যেন আমি পাশের রুম থেকে শুনতে পারি’। এই বোধটা আনন্দের ছিল। একটু বড় হলে বুঝতে পারলাম,…

"প্রসারিত হোক চিন্তার স্বাধীনতা"

একজন অপরাজিতা

মাদারীপুরে খুব সাধারণ পরিবারে জন্ম আমার। সংসারের খরচ চালাতে মা’কে পড়ালেখা মাঝপথে জলাঞ্জলি দিয়ে জবে ঢুকতে হল, আর বাবা তখনও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। নানার বাড়ীতে আমাদের তখন খুব হিসেবের সংসার। দুই মামা আর এক খালা তখনও পড়ালেখা করছেন। সরকারি চাকুরীজীবী নানার জীবনের সবটা জুড়ে তখন আমি… অফিস শেষ তো আমার সাথে পুতুল খেলা। তখন তো আর এমন বার্বি আর এলসা ছিলো না, আমাদের মাটির সেই ট্যাপা পুতুল আর খালামনির ট্যাসেল কেটে দীঘল চুলের কাপড়ের পুতুল নিয়ে…

"একজন অপরাজিতা"

নারীবাদ কী এবং কেন?

পুরুষতন্ত্রের প্রতি বিতৃষ্ণা আর পুরুষ-বিদ্বেষের মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ। নারীবাদকে আমরা অনেকেই দ্বিতীয়টির সাথে গুলিয়ে ফেলি। আমার আজকের লেখাটি সেরকম কিছু ভুল ভাঙ্গার প্রয়াস। পুরুষতন্ত্র কি সেটি দিয়ে একটু শুরু করি। খুবই সাধারণ অর্থে, পুরুষতন্ত্র হচ্ছে সেই ভাবনাটি, যে পুরুষরা নারীর চাইতে শ্রেয়। সেটি বুদ্ধিতে হতে পারে, কিংবা শক্তিতে, – অর্থনীতি বা রাজনীতি, বা যে কোন কিছুতেই। আমরা যারা ভালোমানুষ, তারা হয়তো হুট করে তেমনটি ভাববো না; আমরা বলবো, “কে ভালো কে মন্দ সেটি ব্যক্তিবিশেষে নির্ধারণ…

"নারীবাদ কী এবং কেন?"

জীবনটা তো আগেই বেশ ছিল!

সময়কাল উনিশশ আটানব্বই। সবেমাত্রই ক্লাস এইটে উঠেছি। এই বয়সী ছেলেদের যা হয়! হঠাৎ করেই মনে মনে তারা বেশ বড় হয়ে যায়! বড়রা যদিও তাদেরকে ভুলেও বড় মনে করে না। তারা কিন্তু ঠিকই বড়দেরকে বেকুব এবং নিজেদেরকে যারপরনাই ভাবুক হিসেবে ভাবা শুরু করে দেয়। এলাকায় আমার সমবয়সী কোন বন্ধু ছিল না। যারা ছিল সবাই আমার থেকে দুই ক্লাস উপরের। সমবয়সীদের সাথে তাই আমার কখনই জমে উঠেনি। রাতারাতি তাই তথাকথিত বড়দের মাঝের বড় হয়ে উঠতে আমারও বেশি…

"জীবনটা তো আগেই বেশ ছিল!"

এ জার্নি ফ্রম শাহবাগ টু ডালাস

এক সপ্তাহ আগে ডালাসের এয়ারপোর্টে মিছিল করছিলাম। একটু পরপর বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছি সবাই মিলে; অযাচিত হয়রানি হচ্ছিলো বিভিন্ন বিমানবন্দরে, কমলারাজার এক উটকো আইনের কারণে, ডালাসেই অযথা অনেকেই আটকে ছিলো, তাদের সবাইকে মুক্ত করতে আমাদের এই সমবেত হওয়া। সেখানে একটি মেয়ে, আমার পাশেই দাঁড়ানো ছিলো;- আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্রমাগত আপডেট দিচ্ছিলাম বলে নিজেই আমাকে খুঁজে বের করেছে। আমি পরে জেনেছি, এই কদিনে, যে ও ছোট শহরের মেয়ে, বাইরের পৃথিবী তেমন কিছু ওর দেখা হয়নি; এই অবিবেচক…

"এ জার্নি ফ্রম শাহবাগ টু ডালাস"

একজন দেবশিশু, দুটি চুম্বক এবং অগুনতি সম্ভাবনা

১৯ জানুয়ারি দুপুর থেকেই আমার মনটা খুব চঞ্চল হয়ে ছিল। কারণ, একজন বিশেষ মানুষ আমার জন্যে অপেক্ষায় ছিল। মিরপুর ১০ নম্বরের একটি অফিস ভবনে বোতলবন্দী শীতের মিঠে রোদটায় ছিল অন্যরকম উষ্ণতা। খিচুড়ি আর মুরগীর মাংস দিয়ে ভরপেট লাঞ্চ করার পর শরীর একটু আরাম চায়, চায় একটু পেলবতা, নরম স্পর্শ, হেলান দেয়ার মতো একটি রিভলভিং চেয়ার, বেশি না বড়জোর সাত মিনিট উনষাট সেকেন্ডের জন্যে! কিন্তু সেদিন আমাকে অলস আয়েশ মোটেও প্রলুদ্ধ করছিল না। যার কাছে যাব,…

"একজন দেবশিশু, দুটি চুম্বক এবং অগুনতি সম্ভাবনা"

ফেসবুক ব্যবহারে লাগাম টেনে ধরছেন তো?

একটা খুব অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে চারপাশে। নিজেকে সুখী দেখানোর চেষ্টা। নিজেকে বড় প্রমাণের চেষ্টা। কিংবা নিজেকে যেকোনো উপায়ে তথাকথিত “ফেমাস” বানানোর চেষ্টা। এর বাইরে তরুণ পর্যায়ে ফেসবুক-টিজিংটা খুব প্রকাশ্যেই দেখা যাচ্ছে আজকাল। যারা কিছুটা বয়স্ক, তারাও যেন সব কিছুতে একটা পক্ষ দাঁড় করিয়ে সমালোচনা করে যাবেন এমন পণ করেছেন। ফেসবুক হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ময়দান। মানুষ অন্তরে ধারণ করছে এক কথা, ফেসবুকে প্রচার করছে আরেক কথা। সবচেয়ে বড় রেসিস্ট বর্নবাদী যে ছেলেটা,…

"ফেসবুক ব্যবহারে লাগাম টেনে ধরছেন তো?"