‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’- আসলেই কি তাই?

“লাইফ ইজ বিউটিফুল” এ বাক্যটা মিথ্যা। প্রচণ্ড রকমের মিথ্যা। বলা যেতে পারে: আমার লাইফ বিউটিফুল/তোমার লাইফ বিউটিফুল। মোটা দাগে “লাইফ ইজ বিউটিফুল” বলা আসলে ভুলও না, অমোচনীয় পাপ। আমার জীবন দিয়ে সবার জীবন নির্ণয় করা কি আসলেই সম্ভব? উচিতও? গত ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার সময়ে ঢাকা গিয়েছিলাম। রাতের দিকে হাকিম চত্বরে গেলাম। দেখলাম, মালপোয়া টাইপের কিছু একটা ভাজা হচ্ছে। আমি আর আমার এক বন্ধু নিলাম দুটি করে সেগুলো। খেতে গিয়ে দেখলাম, ভালো লাগে না। অল্প খাওয়া জিনিসটা…

"‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’- আসলেই কি তাই?"

আমরা পুরুষ, আমরাই কিং অফ দ্য ওয়ার্ল্ড!

আমি একজন ছেলে। জাতে পুরুষ। এবং ছেলে হয়ে জন্মগ্রহণ করে আমি ভীষণ ভাগ্যবান অনুভব করছি। আমি যদি মেয়ে হয়ে জন্ম নিতাম তাহলে যে কত প্রকারের ঝামেলা পোহাতে হতো তা কি আর বলতে? আমার পোশাক-আষাক নিয়ে নানারকম ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হতো। আমি কেন এই পোশাক পরলাম, কেন ওই পোশাক পরলাম না, কেন হ্যান পরেছি, কেন ত্যান পরেছি, আমার এই পোশাকখানা কতখানি শ্লীল ছিলো এবং কতখানি অশ্লীল ছিলো- তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হতো। আমি হিজাব পরি না কেন- এসব নিয়ে…

"আমরা পুরুষ, আমরাই কিং অফ দ্য ওয়ার্ল্ড!"

উদযাপনের মা দিবস, উপলব্ধির মা দিবস

  আমি কাজ করি একটা অনলাইন পত্রিকার ফিচার বিভাগে। চাকরির সাথে আমার সন্তান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে মাসে আমি জয়েন করলাম, সে মাসেই আমি কনসিভ করি। আমার প্রেগনেনন্সি স্পর্শকাতর ছিল, বেশ কিছু সমস্যা ছিল, জটিলতা ছিল আর সব কিছুর উপরে যে জিনিসটা ছিল তা হলো আমার অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সব রাস্তায় মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভারের রাস্তা পড়ে। এটি তিন বছর আগের ঘটনা, এখন যে ফ্লাইওভার আপনারা দেখতে পারেন আমি সেখানে ৬ সপ্তাহের ভ্রূণ পেটে নিয়ে প্রতিদিন বিরাট…

"উদযাপনের মা দিবস, উপলব্ধির মা দিবস"

এক্সকিউজ মি বস, দুই মিনিট সময় দেবেন ঘুমোবার?

এই ব্যস্ত শহুরে কর্মজীবনে দুপুরের খাবার পরে একটু ঘুমের জন্যে শরীরটা কেমন আকুলিবিকুলি করে তা একজন কর্মী মাত্রই জানেন। সকালবেলায় এ্যালার্ম ঘড়ির শব্দে ঘুম থেকে উঠলেন, আধা ঘন্টার মধ্যে সকালিক চাহিদাগুলো পূরণ করে বাসে চেপে বসলেন, অফিসে গিয়ে তুমুল গতিতে কাজ শুরু করলেন চনমনে মন নিয়ে, এসব পর্যন্তই সবকিছু ঠিক থাকে। কিন্তু লাঞ্চের পরেই শরীরটা বিগড়ে বসে। আহ্লাদী প্রেমিকার মতো সে ইনিয়ে বিনিয়ে আপনার কাছ থেকে ঘুম চায়। একটি বালিশ আর বিছানা চায়। এই সময়টায়…

"এক্সকিউজ মি বস, দুই মিনিট সময় দেবেন ঘুমোবার?"

সিনেমা নয়, উপলব্ধির নাম ‘কাঁকড়াবিদ্যা’!

কাঁকড়াদের একটি বিশেষ আচরণ সম্পর্কে আমরা অধিকাংশই জানি। তা হলো, যখন অনেকগুলো কাঁকড়া সংগ্রহ করে কোন ঝুড়ি বা বালতিতে রাখা হয়, তখন কিন্তু কাঁকড়াগুলোর শারীরিক সামর্থ্য থাকে নিজেদের সবগুলো পা ব্যবহার করে বালতি বেয়ে উঠে মুক্ত হওয়ার। কিন্তু কাঁকড়ারা কখনো তা করে উঠতে পারে না। কেন? এর কারণ হচ্ছে, কোন একটা কাঁকড়া যখন বালতির দেয়াল বেয়ে উঠতে থাকে, তখন অন্য কাঁকড়াগুলো তার পা ধরে টেনে নামাতে শুরু করে, সে চায় আরেকজনের গায়ের উপর উঠে নিজে…

"সিনেমা নয়, উপলব্ধির নাম ‘কাঁকড়াবিদ্যা’!"

আচ্ছা, আমাদের নাক এত সরু-টিকালো কেন?

আমাদের অনেকের নাকগুলো এতো চোখা চোখা আর লম্বা যে কী আর বলবো! না না, খুশি হওয়ার কিছু নেই। আমি কোন ভালো কথা বলছি না। আমাদের একটি স্বভাবের কথা বলছি। অন্যের জীবনে নাক গলাতে আমরা খুব পছন্দ করি এবং সেটাও বেশ অপ্রীতিকরভাবে! কোন মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরু করেছে কি, শুরু হয়ে যাবে, ‘আরে তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছো! ওমা, ভার্সিটিতে পড়ো, তো বিয়ে কবে করছো, আছে নাকি কেউ, আজকালকার ছেলে মেয়ে…।” কোন ছেলে সদ্য স্নাতক পাশ…

"আচ্ছা, আমাদের নাক এত সরু-টিকালো কেন?"

প্রতিনিয়ত নিজের সাথে যেসব মিথ্যে বলে চলেছি আমরা!

প্রতিনিয়তই নিজের সাথে মিথ্যে বলে চলেছি আমরা। এগিয়ে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করছি কিংবা নিছক সাহসের অভাবে পিছিয়ে পড়ছি। আর তখনই স্রেফ নিজেদের প্রবোধ দেওয়ার জন্য আমরা সান্ত্বনাসূচক কথা বলি, সঙ্গে কবর দিয়ে দেই অজস্র সম্ভাবনাকে। চলুন দেখে নেই এ ধরণের কিছু সান্ত্বনার কথা, যেগুলো আমাদের এগিয়ে চলার পথ রোধ করে রাখছে।   ১। বোঝে না সে বোঝে না অনেকেই মনে করে- আমি একটু অন্যরকম, আমাকে কেউ বোঝে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষই এরকম ভাবে।…

"প্রতিনিয়ত নিজের সাথে যেসব মিথ্যে বলে চলেছি আমরা!"

স্বাধীনতা মানে মুক্ত চিন্তা, মুক্তির চিন্তা

কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে ‘স্বাধীনতা কী?’ তাহলে এর উত্তরে আমি বলব- স্বাধীনতা হচ্ছে কোনো ব্যক্তির বা প্রাণীর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে নিজের মতামত বা যাবতীয় কর্ম প্রক্রিয়া প্রকাশ করতে পারার নামই স্বাধীনতা। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘liberation’ স্বাধীনতা বা মুক্তি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দিনগুলোতে যখন পিটিতে দাঁড়িয়ে গাইতাম ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, তখন শরীরের প্রতিটি রোমকুপ শিউরে উঠতো। ছলছল করে উঠতো দু’চোখের অশ্রু। তখন ভাবতাম, এই যে গাইতে পারায় আমার স্বাধীনতা, বলতে পারায় স্বাধীনতা,…

"স্বাধীনতা মানে মুক্ত চিন্তা, মুক্তির চিন্তা"

স্বপ্নে রাঙানো এক অদম্য যাত্রা

স্বাধীনতা! শব্দটা তার মহিমা অনুযায়ী কি ছোট? কে জানে! শুরুটা ঠিক দশ বছর আগে। জীবন নিয়ে হাজারো স্বপ্ন বোনা ছোট্ট একটা প্রাণ! পারিবারিক বিধিনিষেধের শেকলে বাধা ইচ্ছেগুলো ছিল বাক্সবন্দী! কিন্তু চাওয়াটা হারায়নি। হাজারো ইচ্ছের মাঝে একটা ইচ্ছে, রঙ তুলি দিয়ে কিছু একটা করার। একদিন হুট করেই শেকল আলগা হয় স্বপ্নের বাক্সের! হ্যাঁ, ইচ্ছেটা পুরনের প্রথম ধাপের জন্য নিজের ঈদের ড্রেসটাই দিয়ে দিয়েছিলো আপু!বড় আপু তার পিচ্চিবোনটার উপর যে অদ্ভুত আস্থা রেখেছিলো সেই কৃতজ্ঞতার স্বীকার করবার…

"স্বপ্নে রাঙানো এক অদম্য যাত্রা"

‘অদ্ভুত পেলবতায় মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়েছিলাম’

বাবাকে হারিয়েছি ছেলেবেলায়। মা আমাদেরকে নিয়ে নানাবাড়িতে থাকতেন। নানা কারণে মায়ের মনের অবস্থা বিপর্যস্ত ছিল। সামান্যতেই রেগে যেতেন, কখনো দুঃখী বালিকার মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠতেন। আমার বুকের ভেতরটা বিশাল শূন্যতায় হাহাকার করে উঠত। মাকে বিষণ্ন দেখতে ভালো লাগত না। মনে মনে ভাবতাম, মায়ের খুশির জন্য যদি কিছু করতে পারতাম! আমার কোনো কাজে মা যদি খুশি হতেন! নানাবাড়িতে থাকার সুবাদে মামাদের সঙ্গে মিলেমিশে চলতে হতো। তারাও আমাকে খুব স্নেহ করতেন। প্রায় অসমবয়সী হওয়ার কারণেই কিনা, ছোট…

"‘অদ্ভুত পেলবতায় মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়েছিলাম’"

প্রসারিত হোক চিন্তার স্বাধীনতা

পরীক্ষার শেষ দিনটাকে ছোটবেলায় আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের দিন বলে মনে হতো। শেষ পরীক্ষার আগের রাত থেকেই বুকের মধ্যে ‘কেমন যেন একটা’ উত্তেজনা। গৎবাঁধা পড়াগুলো আরেকবার রিভিশন দিতে মোটেও ক্লান্তি লাগতো না, মনে হতো আর একটু, আর একটু। তারপরই ছুটি। স্কুল নেই, পিটি ক্লাশ নেই, হোমওয়ার্ক নেই। সন্ধ্যার পর কেউ বলবে না ‘যাও পড়তে বস’ কিংবা ‘জোরে জোরে পড় যেন আমি পাশের রুম থেকে শুনতে পারি’। এই বোধটা আনন্দের ছিল। একটু বড় হলে বুঝতে পারলাম,…

"প্রসারিত হোক চিন্তার স্বাধীনতা"

একজন অপরাজিতা

মাদারীপুরে খুব সাধারণ পরিবারে জন্ম আমার। সংসারের খরচ চালাতে মা’কে পড়ালেখা মাঝপথে জলাঞ্জলি দিয়ে জবে ঢুকতে হল, আর বাবা তখনও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। নানার বাড়ীতে আমাদের তখন খুব হিসেবের সংসার। দুই মামা আর এক খালা তখনও পড়ালেখা করছেন। সরকারি চাকুরীজীবী নানার জীবনের সবটা জুড়ে তখন আমি… অফিস শেষ তো আমার সাথে পুতুল খেলা। তখন তো আর এমন বার্বি আর এলসা ছিলো না, আমাদের মাটির সেই ট্যাপা পুতুল আর খালামনির ট্যাসেল কেটে দীঘল চুলের কাপড়ের পুতুল নিয়ে…

"একজন অপরাজিতা"