এই বোবা আর্তনাদ দেখার কেউ নেই?

হুমায়ূন আহমেদের “ঘেটুপুত্র কমলা” সিনেমা দেখেছেন? বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল আরো নিখুঁতভাবে বললে, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের জলসুখা নামক গ্রামে আজ থেকে দেড়শ বছর আগে যে ঘেটুগানের জন্ম হয় তারই পটভূমিতে এই সিনেমাটি নির্মাণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। হাওর এলাকায় বর্ষার মৌসুমে একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিবন্দী হয়ে থাকে। সমুদ্রের মতো চারিদিকে তাকালে শুধু পানি ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না তখন। একই এলাকা শীতের দিনগুলোতে হয়ে যায় শুকনো খটখটে। কী আশ্চর্য! পর্যটন আকর্ষণ হিশেবে সম্প্রতি খুব জনপ্রিয় হয়েছে…

"এই বোবা আর্তনাদ দেখার কেউ নেই?"

রোম যখন পুড়ছিল, নিরো কি তখন সত্যিই বাঁশি বাজাচ্ছিল?

রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল– একটি বিখ্যাত প্রবাদ বাক্য। প্রবাদবাক্যটি শুনতে শুনতে একসময় কৌতূহল জাগলো। কে এই নিরো? রোমের অগ্নিকান্ড কীভাবে হলো, আর তিনি তখন বেহালা/বাঁশি কেন বাজাচ্ছিলেন? নিরো ছিলেন একজন রোমান সম্রাট। উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে, রোমান সাম্রাজ্যের পঞ্চম সম্রাট ছিলেন তিনি। জুলিও-ক্লডিয়ান রাজতন্ত্রের সর্বশেষ রোমান সম্রাট এই নিরো। তবে নিরো সম্ভ বত রোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে অজনপ্রিয় সম্রাট ছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার তার চেয়ে বেশি আর কেউ করেনি। হত্যা, রক্তপাত তার প্রিয় বিষয়বস্তু। অসংখ্য হত্যাকান্ডের মূল…

"রোম যখন পুড়ছিল, নিরো কি তখন সত্যিই বাঁশি বাজাচ্ছিল?"

রমেল চাকমা কি গোলাম আজমের চেয়েও বড় অপরাধী ছিল?

(১) গোলাম আজম কি কি অপরাধ করেছিল সে কি কারো অজানা ছিল? না। এমনকি গোলাম আজম নিজেও কখনো সেটা অস্বীকার করেনি। আমরা গোলাম আজমের বিচার করেছি। দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীদের দল তার পক্ষে মামলা লড়েছে। প্রকাশ্য আদালতে বিচার হয়েছে। তার পক্ষে স্বাক্ষীরা স্বাক্ষী দিয়েছে। এরপর গিয়ে আদালত ওকে সাজা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সে আবার আপিলও করার সুযোগ পেয়েছে। অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনাবলী সে অস্বীকার করেনি, নানারকম টেকনিক্যালিটির ফাঁক গলে সে বের হতে চেয়েছিল। মরার আগের দিন পর্যন্ত…

"রমেল চাকমা কি গোলাম আজমের চেয়েও বড় অপরাধী ছিল?"

এ এক অন্য বাংলাদেশ!

“ও তুমিই বাংলাদেশ থেকে? ওহ! আমি অনেক কিছু শুনেছি বাংলাদেশ নিয়ে!” আমি প্রমাদ গুনলাম! এই রে! এবারই বুঝি শুরু হয়ে যাবে বন্যা-সাইক্লোন, রানা প্লাজা, জংগী হামলা আর ঢাকার জ্যাম নিয়ে কথা! ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “তাই নাকি! তো কি শুনেছ এত?” “বাংলাদেশ তো ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে গিয়েছে। You guys are doing magic!” উত্তর শুনে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম বলা যায়, সাথে অবাকও হলাম! অফিসের কাজে গত ৪ দিন ধরে কুয়ালালামপুরে আছি। ঢাকা থেকে মাত্র ৪ ঘন্টার…

"এ এক অন্য বাংলাদেশ!"

আপনার সন্তান ভালো আছে তো?

২০১৫ সালে স্পটলাইট নামের একটি সিনেমা মুক্তি পায় হলিউডে। যুক্তরাষ্ট্র এবং আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক চার্চে বছরের পর বছর ধর্মযাজকদের দ্বারা অজস্র শিশুদের যৌন নির্যাতনের খবর জেনেও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ ধামাচাপা দিয়ে চলেছিল প্রতিনিয়ত। পরবর্তীতে একদল সাংবাদিক তদন্ত করে এ ঘটনা ফাঁস করে দেয় একসময়। তারপর আক্ষরিক অর্থেই তোলপাড় শুরু হয়। তো এই সত্য ঘটনা অবলম্বনেই মুভিটা বানানো হয়েছিল। ২০১৩ সালে ভারতে আশারাম বাপু নামের ৭২ বছর বয়সী এক ধর্মগুরু ১৬ বছর বয়সী এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার…

"আপনার সন্তান ভালো আছে তো?"

আবার এঁকেছি- পারলে পোড়া মোবিল ঢালিস!

ওরা অন্ধকারের জীব। এই একুশ শতকের আধুনিক পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতিগুলোকে যখন আমরা চিনি তাদের ভিন্নধর্মী আর চমকপ্রদ শিল্প-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য দিয়ে, তখন এই অন্ধকারের জীবেরা ফতোয়া দেয়, পহেলা বৈশাখ পালন করা হারাম, মঙ্গল শোভাযাত্রা হিন্দুয়ানী উৎসব, এইসব করলে নাকি ঈমান থাকবে না। ঠিক একই কথাগুলো আজ থেকে অর্ধশত বছর আগে বলেছিল আইয়ুব খানের সরকার। তার দুঃশাসন আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের রাস্তা ক্রমেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এদিকে ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ভোরবেলা আলপনা…

"আবার এঁকেছি- পারলে পোড়া মোবিল ঢালিস!"

ইলিশ ক্ষোভ

ডেভেলপমেন্ট জার্নালিজম বলে একটা টার্ম আছে। এর অর্থ হলো এমন সাংবাদিকতা যা উন্নয়নকে প্রভাবিত করে। এই প্রভাব অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব। তারা সরকারের সাথে, আন্তর্জাতিক সংঘের সাথে, উন্নয়ন সংস্থার সাথে কাজ করে নিশ্চিত করে যে মানুষের জন্য দেশের সরকার বা আন্তর্জাতিক সংঘগুলো যেসব সিদ্ধান্ত বা আইন করছে এগুলো আসলেই মানুষের কল্যাণের পথে যায়। “আমি এমন কিছু করতে চাই যা মানুষকে সাহায্য করবে, এটা আমাকে অনুভব করায় যে আমি পেপারের পাতা ভরার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু করি।” জামাইকান…

"ইলিশ ক্ষোভ"

দেশটা ইন্ডিয়া লইয়া গেল রে…

ভারতের শিলিগুঁড়িতে জন্ম নেওয়া মাদারে গণতন্ত্র বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেএসসি ফরমাইয়াছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি ক্ষমতায় থাকবার জন্য এদেশের কিছুই রাখেননি, সব ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এমনকি বাকি যা আছে তাও বিক্রি করে আসবার জন্যই নাকি এবারের ভারত সফরে গেছেন। শুনে প্রথম যে কথাটা মাথায় এলো সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশের আয়তন আসলে কত? ৪৬ বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে, অথচ আজো আয়তন কমছে না। জন্মের পর থেকেই শুনছি, বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ নাই, এইটা নাকি…

"দেশটা ইন্ডিয়া লইয়া গেল রে…"

ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রথম পাঠ

আমার এই লেখাটি সাধারণ মানুষের জন্য। আমার লেখাটি দ্বিধান্বিত প্রজন্মের জন্য, তাদের জন্য যারা ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’ কথাটির প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে অপারগ। এই লেখাটি তাদের জন্য যারা ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’ বলতে মূলতঃ ‘ধর্মবিদ্বেষ’ বুঝে থাকে, যারা বিশ্বাস করে ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মের প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচরণ করা। যারা ‘সেক্যুলারিজম’ শুনলেই নাক সিঁটকায়, ছিঃ ছিঃ করে ওঠে, রব তোলে- ‘গেলো গেলো, ধর্ম গেলো!’ তাই এই লেখাটির শিরোনাম দিয়েছি ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রথম পাঠ। আমি পেশায় একজন শিক্ষক। আমার ক্লাসরুমে বিভিন্ন…

"ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রথম পাঠ"

আসছে বৈশাখে আমরা দ্বিগুণ হব

মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রথম উদযাপিত হয় ১৯৮৯ সালে, চারুকলার ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে। ১৯৮৮ সালে জয়নুল আবেদীনের জন্মবার্ষিকীতে জয়নুল উৎসব নামে একটি অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানে চারুকলার একদল ছেলে-মেয়ে বিশাল বিশাল রঙ তুলি, রঙের টিউব ইত্যাদি তৈরি করে। সেখান থেকেই মঙ্গল শোভাযাত্রার আইডিয়ার জন্ম হয়, যদিও এর আগে ঢাকার বাইরে যশোরে ছোট আকারে এটি আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির মোটিফগুলোকে বৃহৎ আকারে তৈরি করে উপস্থাপন করাই ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্দেশ্য। শুরু থেকেই এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পায় এবং…

"আসছে বৈশাখে আমরা দ্বিগুণ হব"

ঢাকার একাল-সেকাল (পর্ব ১)

এ এক জাদুর শহর। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা এই জনপদটির কেমন যেন এক মায়া! যেখানে হাসি আছে, কান্না আছে, আছে ভালোবাসা-আবেগের এক অদ্ভুত সম্মিলন। নাম তার ঢাকা। আজ যে রঙিন ঢাকার দেখা মেলে, সেই শহরটার ঐতিহ্যের শিকড়টা ইতিহাসের কতটা গহিনে প্রোথিত, তা ভাবতেও বিস্মিত হতে হয়। তাই ঢাকার দুষ্প্রাপ্য ছবিকে নতুন করে আবিষ্কারের নেশায় মেতেছে এগিয়ে চলো, শুরু হয়েছে নতুন এক আয়োজন, ‘ঢাকার একাল-সেকাল’। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব।  দুর্লভ ছবিগুলোর জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা ফেসবুক গ্রুপ DHAKA –…

"ঢাকার একাল-সেকাল (পর্ব ১)"

পুলিশদের কাঁদতে হয় না…

আমরা সম্ভবত খুব ভুল সময়ে ভুল পরিবেশে জন্মেছি, যেখানে ঘৃণা নামক এক লেলিহান শিখা গন্তব্যহীন হয়ে সবকিছু পুড়িয়ে দিয়ে ছাই করে দিয়ে যায়। সাম্প্রতিক দেশে ঘটে যাওয়া ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়াতে এক শ্রেণীর মানুষের আজব সন্দেহের তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যাওয়ায় এক ধরণের আশংকাই জেগে উঠছে এবং সেটা বারবার জাগছে। এসময়ে আশেপাশে অস্থিরতার প্রতীক নামধারী এক ধরণের বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞদের দেখতে পাওয়া যায়! যাদের সবকিছুতে সন্দেহ, ছোট্ট একটা উদাহরণ দিলে পরিস্কার হয়ে যাবে। আমাদের…

"পুলিশদের কাঁদতে হয় না…"