কিউবার ফিদেল ক্যাস্ত্রো, আমাদের শেখ মুজিব…

Ad

আলজিয়ার্সে ১৯৭৩ সালে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনকালে ফিদেল ক্যাস্ত্রো আর বঙ্গবন্ধুর আলাপচারিতার চুম্বক অংশ-

ক্যাস্ত্রো: এক্সেলেন্সি, তাহলে শুনুন। চিলির প্রেসিডেন্ট আলেন্দের মত আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুজিবকেও ‘খরচের খাতায়’ রেখে দিয়েছি। ইউ আর ফিনিশ এক্সেলেন্সি।

মুজিব: কমরেড হঠাৎ করে এ ধরণের কথাবার্তা বলছেন কেন? একটু গুছিয়ে বলবেন কি?

ক্যাস্ত্রো: বিকজ, ইউ হ্যাভ লিগ্যালাইজড দ্য ডিফিটেড এডমিনিস্ট্রেশন ইন বাংলাদেশ। ইউ আর ফিনিশ এক্সেলেন্সি।

(কেননা আপনি বাংলাদেশে একটি পরাজিত প্রশাসনকে আইন সঙ্গত করেছেন এক্সেলেন্সি। আপনি কিন্তু শেষ হতে যাচ্ছেন।)

মুজিব: এক্সেলেন্সি, আপনি জানেন যে, আমাদের বাংলাদেশ আয়তনে একটা ক্ষুদ্র দেশ এবং একাত্তরের যুদ্ধে ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। তাই বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য আমাদের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ঝানু ‘ব্যুরোক্র্যাট’দের প্রয়োজন। এজন্যই আমি পাকিস্তানী আমলের অভিজ্ঞ অফিসারদের চাকুরির ধারাবাহিকতা দিয়ে বাংলাদেশের প্রশাসনে বসিয়েছি।

ক্যাস্ত্রো: বেয়াদপী নেবেন না এক্সেলেন্সি। এদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা বলছেন? ফুঃ? হোয়াট এক্সপেরিয়েন্স দে হ্যাভ গট? উইথ দেয়ার এক্সপেরিয়েন্স এন্ড এডভাইস মাইটি পাকিস্তান লস্ট ইন দ্য ওয়ার। ইয়োর মুক্তি বয়েজ? নো এক্সপেরিয়েন্স। ফাইটিং ফাইটিং এন্ড ফাইটিং- গট ভিকটরি।

(ফুঃ! তাদের কি অভিজ্ঞতা রয়েছে? এসব অভিজ্ঞতা আর পরামর্শের জন্যই তো যুদ্ধে মহাপরাক্রমশালী পাকিস্তানের পরাজয় হয়েছে। আর অন্যদিকে আপনার মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা? কোনোই অভিজ্ঞতা নেই। লড়াই, লড়াই আর লড়াই- বিজয়কে এরাই ছিনিয়ে আনলো)

মুজিব: তাহলে আমরা যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশে পুনর্গঠনের কাজ করবো কীভাবে?

ক্যাস্ত্রো: ব্রিংগ ল’ ইয়ার্স, ব্রিংগ জার্নালিস্টস, ব্রিংগ বিজনেস এক্সিকিউটিভস, ব্রিংগ ডক্টরস, ব্রিংগ ইঞ্জিনিয়ার্স, ব্রিংগ প্রফেসরস এন্ড পুট দেম অন টপ অব এডমিনেস্ট্রেশন। দে উইল ডু মিসটেক, মিসটেক এন্ড লার্ন- বাট নট কনস্পিরেসি। ফর গড সেক। প্লিজ গিভ মোর রেস্পন্সিবলিটি টু ইয়োর মুক্তি বয়েজ। এন্ড ফুললি ট্রাস্ট দ্যাম। আদারওয়াইজ, ইউ আর ফিনিশ মাই এক্সেলেন্সি।

(আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ- এসব পেশার লোকদের এনে সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দিন। এরা ভুল করবে এবং ভুলের পর ভুল করে সঠিক শিক্ষা লাভ করবে- কিন্তু এরা ষড়যন্ত্র করবে না। পরম করুণাময়ের দোহাই দিয়ে বলছি আপনার মুক্তিযোদ্ধা ছেলেদের আরও বেশি করে দায়িত্ব দিন এবং সম্পূর্ণভাবে ওদের বিশ্বাস করুন। অন্যথায় আপনি কিন্তু নিশ্চিহ্ন হতে যাচ্ছেন এক্সেলেন্সি)

তথ্যসুত্রঃ ‘মুজিবের রক্ত লাল’
লেখকঃ এম আর আখতার মুকুল

বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নেয়ার কালে ফিদেল কেঁদেছিলেন, মুজিবও কেঁদেছিলে। ফিদেল যেতে যেতে বলেছিলেন- ‘আই লাভ ইউ কমরেড মুজিব’। ফিদেল গাড়িতে উঠে নিজের টুপি খুলে চিৎকার করে বলেছিলেন ‘জয় বাংলা’।

এই কথাবার্তার আলাদা করে ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের প্রয়োজন খুব একটা দেখতে পাচ্ছি না। স্বনির্ভর এবং খুবই বাস্তবসম্মত আলাপচারিতা। বিপ্লবী ফিদেল ৯০ বছর বয়সে আজ মারা গেলেন, স্বাভাবিক মৃত্যু, বার্ধক্যজনিত মৃত্যু। শেখ সাহেব বেঁচে থাকলে ওনার বয়সও নব্বুইয়ের বেশি হবার কথা। তবে আমাদের শেখ সাহেবকে হত্যা করা হয় আজ থেকে ৪১ বছর আগে, ফিদেলের ভবিষ্যৎবাণীকে অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণ করে দিয়ে।

আজকে কিউবাকে দেখতে দেখতে ভাবি আমাদের গল্পটাও তো এমন হতে পারতো…

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (2 votes, average: 4.50 out of 5)
Loading...
Ad

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

Ad