অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সানগ্লাস ও আমাদের আফসোস

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে জরিমানা করা হয়েছে, ১০০ ডলার। অপরাধ হলো, তিনি এক জোড়া সানগ্লাস উপহার হিসেবে পেয়েছেন এবং সে উপহারের কথা ঘোষণা করেননি ৩০ দিনের মধ্যে।

গত বছরের জুনে, সানগ্লাস জোড়া তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন কানাডার পূর্বাঞ্চলের প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডের গুয়ের্নসি কোভ এলাকার ফেলো ‘আর্থলিঙ্কস আই্ওয়্যার’র প্রধান, ম্যাকক্লাউচল্যান। হাতে বানানো সানগ্লাস জোড়ার খুচরা মূল্য ৩০০-৫০০ ডলারের মাঝামাঝি। ম্যাকক্লাউচল্যান সবসময় নিজের এলাকায় বানানো বিখ্যাত জিনিস প্রদর্শন করতে পছন্দ করেন। তাই, ভালো মনেই হয়ত লোকটি প্রধানমন্ত্রী এবং তার স্ত্রীকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন নিজের এলাকায় তৈরি চামড়ায় মোড়া সানগ্লাস- ম্যাকক্লাইচল্যানের কমিউনিকেশন ডিরেক্টরের এমনই দাবী।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী, জাস্টিন ট্রুডো, জরিমানা

প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো গত বছর তার ভিয়েতনাম ট্যুরের সময় সানগ্লাস জোড়া পরেছিলেন। যেটা দেখে সানগ্লাসের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের লোকজন খুশি হলেও, খুশি হয়নি কানাডার আইন ব্যবস্থার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা।

কানাডার আইন অনুযায়ী সেদেশের প্রধানমন্ত্রী দুইশো ডলারের বেশি দামের কোন উপহার গ্রহণ করলে ৩০ দিনের মধ্যে তা সরকারীভাবে ঘোষণা করতে হয়। ট্রুডোর নেওয়া উপহারটির দাম দুইশো ডলারের বেশি ছিল। কিন্তু তবু তিনি ৩০ দিনের মধ্যে উপহার পাওয়া সানগ্লাসের কথা ঘোষণা করেননি। তাই, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে কানাডার পার্লামেন্টের নৈতিকতা সংক্রান্ত কমিটি ঘোষণা করেছে, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট আইনের ২৫তম ধারা ভঙ্গ করে অপরাধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। আর এ কারণেই তাকে ১০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর অবশ্য ট্রুডোকে দোষী মানতে নারাজ। জাস্টিন ট্রুডোর প্রেস সচিবের জানিয়েছে, “প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে উপহারের কথা ঘোষণা করতে দেরি হয়েছে”।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন বা সিবিসি নিউজের এই খবরটা পড়ে মনে মনে হাসছিলাম। মজা পেয়ে নয়। কৌতুক অনুভব করছিলাম বলে হাসছিলাম। কেবল “মাত্র” একটা উপহার পাওয়া সানগ্লাসের কথা ঘোষণা করতে দেরি হওয়ায় কোন দেশে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে ১০০ ডলার জরিমানা করা হয়, আর কোন দেশের চুঁনোপুঁটিরাও কোটি কোটি সরকারী টাকা জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়েও নিশ্চিন্তে, নির্ভাবনায় ঘুরে বেড়ায়। কৌতুক ছাড়া আর কি!

কানাডার প্রধানমন্ত্রী, জাস্টিন ট্রুডো, জরিমানা

“মাত্র” কথাটার উপর জোর দিলাম, সেটা বলা উচিত হয়নি বলে। অপরাধ তো অপরাধই। আইন মানে আইন। জানি, কোন অপরাধকেই “মাত্র” বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়, সে যত ছোটই হোক। সব অপরাধেরই শাস্তি হওয়া উচিত, সব অপরাধীরই শাস্তি হওয়া উচিত।

শুধু আফসোস হয় এই ভেবে যে, আমাদের দেশেও যদি থাকত এমন কঠোর আইন, তবে হয়ত দেশটার এই হাল হতো না! অপরাধের এত ডালপালা গজাতো না! অপরাধীরা নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারত না, ক্রমান্বয়ে আরও বড় অপরাধের দিকে ঝুঁকতে পারত না! শুধু আফসোস হয়, আর কিছু নয়!

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close