সিনেমা হলের গলি

বাঙালির প্রিয় গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সী!

তার নিবাস হ্যারিসন রোডের একটি মেসবাড়ির তৃতীয় তলায়। পরে অবশ্য স্ত্রীকে নিয়ে স্থানান্তরিত হয় কেয়াতলায় নিজস্ব বাড়িতে। তার বাবা ছিলেন ম্যাথমেটিশিয়ান। মা বৈষ্ণব বংশের মেয়ে। এই দুইয়ের মিশ্রণে তার বুদ্ধিবৃত্তি হয়েছে খুবই দৃঢ়। গণিতে সে যেমন পোক্ত, তেমনি তার ইনট্যুশন শক্তিও প্রখর। গোয়েন্দাগিরিতে তার কোন প্রফেশনাল ট্রেনিং নেই। পুঁজি বলতে কেবলই বংশানুক্রমে পাওয়া বুদ্ধিবৃত্তি যাকে নিজে আরও শানিয়ে নিয়েছে নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে। বুদ্ধির জোরের পাশাপাশি তার চারিত্রিক দৃঢ়তাও উল্লেখযোগ্য। তার প্রতিকৃতিও কম আকর্ষণীয় নয়। ধারালো নাক, লম্বা চেহারা, নাতিস্থূল অবয়ব। তার নেশা ও পেশা সত্যের অন্বেষণ করা। কর্মপদ্ধতি দেখে অনেকে হয়তো তাকে ডিটেকটিভ কিংবা টিকটিকি বলে ডাকে, কিন্তু নিজেকে সে সত্যান্বেষী বলে পরিচয় দিতেই ভালোবাসে।

কার কথা বলছিলাম, বুঝে গেছেন নিশ্চয়ই? সে আর কেউ নয়, আমাদের সকলের প্রিয়, অধিকাংশের মতে বাংলা সাহিত্যের সেরা গোয়েন্দা চরিত্র, শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি, শ্রী ব্যোমকেশ বক্সী।

চলুন, কথা বলা যাক এই কিংবদন্তী গোয়েন্দা চরিত্রের সম্পর্কে।

৭ই আষাঢ়, ১৩৩৯ সালে প্রকাশিত হয় শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ বক্সীকে নিয়ে লেখা প্রথম গল্প ‘পথের কাঁটা’। এতদিন বিলিতি গোয়েন্দা গল্পে পাঠকেরা যেধরণের রহস্য রোমাঞ্চের স্বাদ পেয়েছেন, তার সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পেলেন পথের কাঁটার। তাই ইতিপূর্বে বাংলা গোয়েন্দা গল্পের ব্যাপারে যারা নাক সিঁটকেছেন, তারাও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন এই গল্পের। কিছুদিন পর, বাংলা একই সনের ৩রা অগ্রহায়ণ প্রকাশিত হয় ব্যোমকেশকে নিয়ে লেখা দ্বিতীয় গল্প ‘সীমন্ত হীরা’। এই গল্পটি পড়েও বাঙালী পাঠক বিমোহিত। কিন্তু সবার মনে প্রশ্ন, গল্পগুলো কি মৌলিক নাকি শরবিন্দুবাবুও তার পূর্বসূরীদের মত বিদেশী গোয়েন্দা গল্পকে বাংলায় রূপান্তরিত করে, তাতে খানিকটা বাঙালী আমেজ যোগ করে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন?

ব্যোমকেশ বক্সী, সত্যান্বেষী

শরদিন্দু বাবু সবাইকে আশ্বস্ত করলেন, বিদেশী গল্প নিজের নামে চালিয়ে নয়, অজিতের জবানিতে ব্যোমকেশের কাহিনীর প্লট তার নিজস্ব মস্তিষ্কপ্রসূত। যাইহোক, কাহিনীর মৌলিকত্ব নিয়ে পাঠকসমাজে কিছুটা বিতর্ক দেখা দিলেও, ব্যোমকেশের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা কিন্তু ক্রমান্বয়ে বেড়েছে বৈ কমেনি। আর ব্যোমকেশের প্রতি পাঠকের এই ভালোবাসাই শরদিন্দুবাবুকে প্রভাবিত করেিছল এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে। সিদ্ধান্তটা ছিল ব্যোমকেশকে নিয়ে সিরিজ আকারে নিয়মিত গল্প লেখার। সে উদ্দেশ্যেই ব্যোমকেশ চরিত্রটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি লিখে ফেললেন ‘সত্যান্বেষী’ গল্পটি যা প্রকাশিত হয় ১৩৩৯ এর অগ্রহায়ণে। এই গল্পে তুলে ধরা হয় অজিতের সাথে ব্যোমকেশের পরিচয়ের পূর্ব ইতিহাস এবং কিভাবে অজিত যেয়ে ওঠে ব্যোমকেশের হ্যারিসন রোডের বাড়িতে।

যাইহোক, ১৩৩৯ থেকে ১৩৪৩ পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশ হতে থাকে ব্যোমকেশের নতুন নতুন কাহিনী। কিন্তু এরপরই ব্যোমকেশের নতুন কাহিনী প্রকাশনায় ঘটে লম্বা ছেদ। এর পেছনে ঠিক কি কারণ তা জানা না গেলেও, লেখক স্বয়ং একখানা কৈফিয়ৎ অবশ্য দিয়ে গেছেন। ১৩৪৩ সনে প্রকাশিত ব্যোমকেশের দশম গল্পে (ব্যোমকেশ ও বরদা) সত্যবতীর সাথে ব্যোমকেশের বিয়ে হয়। তারপর তিনি চেয়েছিলেন ব্যোমকেশকে রিটায়ার করিয়ে দিতে, কারণ বিয়ের পর বাঙালী ছেলের মধ্যে আর পদার্থ থাকে না, সে গোয়েন্দাগিরি করবে কিভাবে! এবং সম্ভবত সে কারণেই টানা পাঁচবছর (১৩৩৯-১৩৪৩) ব্যোমকেশকে নিয়ে দশটা গল্প লেখার পর পরের পনের বছর শরদিন্দুবাবুর আর কোনো গল্পে দেখা যায়নি ব্যোমকেশকে।

এরপর আবার ব্যোমকেশের প্রত্যাবর্তন ঘটে ১৩৫৮ সনে, চিত্রচোর গল্পের মাধ্যমে। বাস্তবে মাঝে পনের বছর কেটে গেলেও, লেখকের বর্ণনানুযায়ী বইয়ের পাতায় ব্যোমকেশের বয়স এর মধ্যে বেড়েছে মাত্র চার! তবে এই চার বছরেই যে শরদিন্দু বাবুর বয়সবৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যোমকেশও তার প্রথম যৌবন খুইয়েছে, সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। কদিন পরই, সিরিজের পরবর্তী গল্প ‘দুর্গরহস্য’তে সত্যবতিকে দেখা যায় সন্তানসম্ভবা রূপে, যার ফলে জন্ম হয় খোকার আর ব্যোমকেশের সাফল্যের মুকুটে যোগ হয় নতুন পালক! খোকার জন্মের পর থেকে পরের কাহিনীগুলোতে দেখা যায় হু হু করে বয়স বাড়ছে ব্যোমকেশ আর অজিতের, ক্রমেই প্রবীণ থেকে প্রবীনতর হতে দেখা যায় তাদের। এর অবশ্য একটা যুক্তিসঙ্গত কারণও আছে। প্রথমদিকে প্রতি বছর তিন চারটি করে নতুন গল্প প্রকাশিত হলেও, এরপর থেকে লম্বা বিরতি দিয়ে দিয়ে প্রকাশ হতে থাকে পরের গল্পগুলো। সময়ের সাথে সাথে বয়স বাড়বে, এটাই তো স্বাভাবিক!

ব্যোমকেশ বক্সী, সত্যান্বেষী

শেষের দিকে নতুন গল্পের প্রকাশনায় বিলম্ব ঘটলেও, ব্যোমকেশকে নিয়ে লেখা গল্পের অসাধারনত্ব কিন্তু পিছলে যায়নি একটিবারের জন্যেও। বরং পথের কাঁটা থেকে শুরু করে বিশুপাল বধ পর্যন্ত সকল গল্প পড়লে অনুধাবন করা যাবে, লেখক প্রতিটি গল্পে নতুন প্লট নিয়ে আসলেও মূল থিমটি কিন্তু একই রেখেছেন। সিরিজের শুরু থেকে শেষ অব্দি ত্রিশের দশক থেকে ষাটের দশকের বাঙালিয়ানারও মূর্ত প্রতীক হয়ে ছিল ব্যোমকেশ ও অজিত চরিত্র দুইটি। অজিত আর ব্যোমকেশের বন্ধুত্ব, খুনসুটি প্রভৃতি ছিল প্রথম দিককার গল্পগুলির বৈশিষ্ট্য। ব্যোমকেশের বিয়ে হলে যোগ হয় সত্যবতীর সাথে তার রোমান্স, দাম্পত্য কলহ ইত্যাদি দিকও। সবমিলিয়ে বাঙালী চরিত্রগুলো বাস্তব জীবনে যেমন হয়ে থাকে, ব্যোমকেশ-অজিত-সত্যবতীদের মাধ্যমে ঠিক সেটাই বইয়ের পাতায় তুলে এনেছেন লেখক। আর এখানেই লেখকের সার্থকতা। উল্লেখিত কারণগুলোর ফলে পাঠক সহজেই নিজেদেরকে রিলেট করতে পেরেছেন গল্পের চরিত্রদের সাথে। ব্যোমকেশদের আড্ডায় পাঠকের নিজেকে কখনো অনাহুত মনে হয়নি, সহজেই মিশে যেতে পেরেছেন তাদের সাথে।

ব্যোমকেশের গল্পে যে ধরণের অপরাধের কথা উঠে এসেছে, সেগুলোও কিন্তু ছিল অতি বাস্তব। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যারই আলোকপাত করেছেন লেখক ব্যোমকেশের গল্পগুলিতে। উল্লেখ্য, লেখক নাকি ব্যোমকেশ বিষয়ক গল্পের প্লট তৈরী করতেন পত্রিকায় প্রকাশিত খবর পড়ে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, ব্যোমকেশের গল্পে উঠে আসা সামাজিক সমস্যা ও অপরাধসমূহ তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে কতখানি বাস্তবসম্মত ছিল।

ইংরেজি ১৯৩৩ হতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮ বছরে ব্যোমকেশকে নিয়ে ৩৩ টি গল্প লিখেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এরমধ্যে ১৯৭০ সালে লিখতে শুরু করা বিশুপাল বধ গল্পটি তিনি শেষ করে যেতে পারেননি।

ব্যোমকেশ বক্সী, সত্যান্বেষী

ব্যোমকেশকে নিয়ে লেখা ৩৩ টি গল্পের মধ্যে প্রথম ২৭ টিতে কথকের ভূমিকায় ছিল অজিত। সে গল্পগুলোকে সাধু ভাষায় বর্ণনা করত। সিরিজের ২৮ তম গল্প তথা রুম নম্বর ২ হতে ব্যোমকেশের গল্প রচিত হয় তৃতীয় পুরুষের বর্ণনায়, চলিত ভাষায়। এই গল্প থেকে পরের গল্পগুলো অজিত চরিত্রের উপস্থিতিও কমতে শুরু করে। অজিতের অনুপস্থিতি ও তার বর্ণনার ভাষার অভাবে অনেক পাঠক ক্ষুব্ধ হন। কিন্তু তারপরও শরদিন্দু বাবু অজিতকে ফিরিয়ে আনেননি। অজিতের শুন্যতা প্রথম কয়েকটি গল্পে স্রেফ তৃতীয় পুরুষের বর্ণ্নার মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব ছিল না বিধায় ‘শজারুর কাঁটা’ ও এর পরের তিনটি গল্পে লেখক গল্প উপস্থাপনায় নতুনত্ব আনেন। এবং এই নতুনত্বের দিকটিকে পাঠক বেশ উচ্ছ্বাসের সাথেই গ্রহণ করেন। ফলে অজিতের অনুপস্থিতির বিষয়টি অচিরেই ঢাকা পড়ে যায়।

বইয়ের পাতায় ব্যোমকেশ যতটা জনপ্রিয়, বড় পর্দা, ছোট পর্দা কিংবা আজকাল মোবাইল-ট্যাবের একেবারে পিচ্চি পর্দায়ও ব্যোমকেশের জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কম নয়। বরং ভাবতে অবাকই লাগে যে এই একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই বাংলা এবং হিন্দিতে কতবার চলচ্চিত্র, টিভি সিরিজ বা ওয়েব সিরিজ নির্মিত হয়েছে। ১৯৬৭ সালে ‘চিড়িয়াখানা’র মাধ্যমে প্রথম বড়পর্দায় আসে ব্যোমকেশ, তাও আবার সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায়, আর ব্যোমকেশ চরিত্রে স্বয়ং মহানায়ক উত্তম কুমার! এরপর ১৯৭৪ সালে সতীন্দ্র ভট্টাচার্য্যকে ব্যোমকেশের ভূমিকায় নিয়ে ‘শজারুর কাঁটা’ নির্মাণ করেন মঞ্জু দে। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও বড় পর্দায় ফিরে আসে ব্যোমকেশ, স্বপন ঘোষালের হাত ধরে। তার নির্মিত ‘মগ্ন মৈণাক’-এ ব্যোমকেশ চরিত্রে ছিলেন শুভ্রজিৎ দত্ত। আর এরপর থেকেই যেন ব্যোমকেশকে নিয়ে ছবি বানানোর নতুন জোয়ার সৃষ্টি হয়।

পরের বছরই আবীর চট্টোপাধ্যায়কে ব্যোমকেশ চরিত্রে নিয়ে ব্যোমকেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি তৈরি করেন অঞ্জন দত্ত। আবীরকে ব্যোমকেশ আর শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে অজিতের ভূমিকায় নিয়ে অঞ্জন দত্ত তিনটি ছবি বানান – ব্যোমকেশ বক্সী (আদিম রিপু), আবার ব্যোমকেশ (চিত্রচোর), ব্যোমকেশ ফিরে এলো (বেণীসংহার)। তারপর আবীর অঞ্জন দত্তকে ছেড়ে যোগ দেন অরিন্দম শীলের ব্যোমকেশকে নিয়ে সৃষ্ট নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে হর হর ব্যোমকেশ (বহ্নি-পতঙ্গ) আর ব্যোমকেশ পর্ব (অমৃতের মৃত্যু)।

ব্যোমকেশ বক্সী, সত্যান্বেষী

অন্যদিকে অঞ্জন দত্তের ফ্র্যাঞ্চাইজ থেকে আবীরের বিদায়ের পর থেকে যীশু সেনগুপ্তকে নিয়ে ছবি বানাতে শুরু করেন অঞ্জন, অজিত থাকে সেই শাশ্বতই। এখন পর্যন্ত এই ত্রয়ীর হাত ধরে এসেছে ব্যোমকেশ বক্সী (কহেন কবি কালিদাস), ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানা (চিড়িয়াখানা) ও ব্যোমকেশ ও অগ্নিবান (অগ্নিবান ও উপসংহার)। সুজয় ঘোষকে ব্যোমকেশ বানিয়ে চোরাবালি অবলম্বনে সত্যান্বেষী নির্মাণ করেন ঋতুপর্ণ ঘোষও। শৈবাল মিত্রের শজারুর কাঁটায় ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে দেখা মেলে বুড়ো ব্যোমকেশের। এছাড়া ২০১৫ সালে সুশান্ত সিং রাজপুতকে ব্যোমকেশ হিসেবে নিয়ে দিবাকর ব্যানার্জি হিন্দিতেও নির্মাণ করেন ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী!

ব্যোমকেশ বক্সী, সত্যান্বেষী

১৯৯৩ সালে টিভির পর্দায় রজত কাপুরকে ব্যোমকেশের ভূমিকায় নিয়ে কালজয়ী একটি হিন্দি সিরিজ নির্মাণ করেন বাসু চ্যাটার্জী। প্রথমে সুদীপ মুখোপাধ্যায় আর পরে সপ্তর্ষি রায়কে নাম ভূমিকায় নিয়ে দুই দফা টিভির জন্য ব্যোমকেশ বানান স্বপন ঘোষাল। ২০১৪-১৫ সালে আবার গৌরব চক্রবর্তীকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যোমকেশ সিরিজ প্রচারিত হয় কালার্স বাংলায়। আর এই মুহূর্তে এসভিএফের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের দারুণ সাড়া জাগিয়েছে ব্যোমকেশ ওয়েব সিরিজ, যেখানে ব্যোমকেশের ভূমিকায় অভিনয় করছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ইতিমধ্যেই তিনটি সিজন পার করে ফেলেছে সিরিজটি।

হাজার হাজার টাকার ‘অরিজিনাল’ জার্সি কিংবা রেপ্লিকা কেনার দিন শেষ। এবার বিশ্বকাপ ফুটবল সেলিব্রেট করুন ‘দেশী স্টাইলে’, মাত্র ২৯০ টাকায়! বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এই লিংকে

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close