যা ঘটছেরাজনীতি নাকি জননীতি

বুটেক্স ছাত্রলীগের প্রতি: মিথ্যা ‘কটূক্তির’ অভিযোগ প্রত্যাহার করুন

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম। জাহিদের সাথে আমার পরিচয় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার কাজ করার প্রবল আগ্রহ থেকে। এই ছেলেটার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পড়ালেখা ঈর্ষা করার মত। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক একটা প্রোজেক্টে একত্রে কাজ করেছি। মাঝেমধ্যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ, সমাজ, রাজনীতির ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আড্ডা দেই। এসব বিষয়ে জাহিদের পড়ালেখা, ডেডিকেশন, ভালোবাসা সবকিছুই ঈর্ষনীয়।

সেই ছেলে আজ থেজে একদিন আগে অনলাইন ভিত্তিক পত্রিকা সিলেট-টুডে’র একটা নিউজ শেয়ার করে। খবরটার শিরোনাম ছিলো এমন- “শেখ হাসিনার নোবেল মনোনয়ন ও মিথ্যা প্রচারণা”।

আপনারা সবাই জানেন নোবেল মনোনয়নের বিষয়টি সবসময় গোপন রাখা হয়, কোন ভাবেই সেই তালিকার কথা আগে থেকে জানা যায় না। কিছুদিন আগে একশ্রেণী দালাল শ্রেণীর অতি-লীগার জোর করে একটি ভুয়া নিউজ বের করেন যে- নোবেল পুরস্কারের শর্টলিস্টে প্রধানমন্ত্রীর নাম নাকি আছে। আমরা সবাই-ই সেই নিউজটি দেখেছি। এটা নিয়ে যথেষ্ট হাসাহাসিও করেছি। আমাদের বুঝতে হবে এখানে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোন হাসাহাসি হচ্ছে না। হচ্ছে তাদের নিয়ে যারা অন্ধভাবে এমন নিউজ বানায় আর সেটা ছড়ায়।

ব্যাপারটা যদি এভাবে ভেবে দেখেন- যেহেতু নোবেল কমিটির তালিকা একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগে কেউ জানতে পারে না (পঞ্চাশ অছর) তাই আমি আপনি যে কেউই দাবী করে বসতে পারি নোবেল মনোনয়নের তালিকায় আমাদের নাম আছে। পঞ্চাশ বছর পার হওয়ার আগে কেউ সেটাকে ভুল বলতে পারবে না। যেই অতিভক্তরা প্রধানমন্ত্রীর নোবেল মনোনয়নের ভুয়া খবরটি ছড়াচ্ছিলো তাদের উদ্দেশ্য করে সিলেট-টুডে পত্রিকার সেই খবরটি শেয়ার করে জাহিদ। সাথে উপর দিয়ে লিখে দেয়-

“নোবেল পুরষ্কারের যে তিনজনের শর্টলিস্ট প্রকাশ করছে- তাতে আমার নামও আছে। কেউ পারলে প্রমাণ করুক আমার নাম নাই!”

হঠাৎ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হল এই স্ট্যাটাসে নাকি প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করা হয়েছে। এই অভিযোগে তাকে হল থেকে বের করে দেয়া হলো। তার এই স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট দিয়ে অভিযোগ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। মজার বিষয় প্রশাসন অভিযোগ আমলেও নিয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে জাহিদকে হল ছেড়ে দিতে নোটিশ ও দিয়েছে ক্যাম্পাস এবং জানিয়েছে তদন্তসাপেক্ষে যথাযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আমি একটা কথা খুব জোর গলায় বলতে পারি। ছাত্রলীগের বুটেক্স শাখার যেকোন সদস্যের চাইতে এই ছেলে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী-লীগ সম্পর্কে অনেক বেশি জানে এই কথা আমি একেবারে চোখ বন্ধ করে লিখে দিতে পারি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তার বুকে যে পরিমাণ শ্রদ্ধা, সম্মান আর ভালোবাসা জমা আছে সেটার সাথে এই ছাত্রলীগের পুরো কমিটির বঙ্গবন্ধুর প্রতি ডেডিকেশনকে মাপলে জাহিদ জয়ী হবে। ওর সাথে মাত্র কয়েকবার দেখা হওয়া দিয়েই আমি এই কথাটা এত জোর দিয়ে বলতে পারছি।

অনেকেই আছেন যারা বুক থেকে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন। আপনাদের অনুরোধ করছি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন। প্রিয় ছাত্রলীগের ভাইয়েরা, জেনে রাখুন। জাহিদের লেখায় কোন ভাবেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কটূক্তি করা হয় না। বরং অপদস্থ করা হয় তাদের প্রতি যারা অন্ধভাবে বলে বেড়ায় নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর নাম আছে। আপনারা আপনাদের এই অন্যায্য অভিযোগটি তুলে নিন। নিজেদের আর মানুষের কাছে লজ্জার পাত্রে পরিণত করবেন না। এসব লজ্জাজনক কাজ করে এই রাষ্ট্রকে দয়া করে এভাবে আর লজ্জা দেবেন না, হেও করবেন না। করজোরে মিনতি করছি, দয়া করুন…

আজকে এক জাহিদের প্রতি এমন অনাচার হলে হয়তো কিছুই হবে না, কিন্তু পরশু হাজারো জাহিদ নিশ্চয়ই তৈরি হবে। নিপীড়ন করে একজন জাহিদের মুখ আপনারা নাহয় বন্ধ করলেন। লাখ লাখ জাহিদের মুখ কি বন্ধ হবে? তারা কিন্তু সত্যটা বলেই দেবে। জাহিদ যদি বলে থাকে নোবেল পুরষ্কারের শর্ট লিস্টে তার নাম আছে তাহলে এখন আমিও দাবী করলাম নোবেল কমিটির শর্ট লিস্টে আমারও নাম আছে। এবার আসুন। আমার নামেও কটুক্তির মামলা ঠুকে দিন।

সেটা পারবেন না। পারবেন না কারণ আপনারা নিজেরাও জানেন এতে কটূক্তি নেই। সত্যকে মেনে নিন, জাহিদের লেখায় কটুক্তির কোন উপাদান নেই, জাহিদ ভুল কিছুই লেখেনি।

সত্যের জয় হোক…

জাহিদকে সসম্মানে হলে ফিরিয়ে আনা হোক…

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close