বিবিধ

বাজেটঅর্ডার: এবার অনলাইনে কেনাবেচা করুন দরদাম করে!

অনলাইন মার্কেটের আইডিয়াটা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশেই এখন শ’খানেক নামী-বেনামী অনলাইন শপ আছে। কিন্ত এখানে একটা সমস্যায় পড়েন গ্রাহকেরা। সব পণ্যের দাম বিক্রেতার ইচ্ছা অনুযায়ী সেট করে দেয়া থাকে, ক্রেতার দামাদামি করার কোন সুযোগ নেই এসব জায়গায়। কাজেই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতাকে ঠকতে হচ্ছে। যে জিনিসটার দাম পাঁচশো টাকা হওয়া উচিত, সেটা হয়তো সেট করে দেয়া হাজার টাকাতেই কিনতে হচ্ছে আপনাকে। ক্রেতার সুযোগ-সুবিধার কথা ভাবার অপশনটা নেই এখানে।

চিন্তা করুন তো, একটা অনলাইন মার্কেটের কথা, যেখানে আপনি নিজের সাধ্যমতো দরদাম করেই সবকিছু কিনতে পারবেন। আপনার একটা পণ্য লাগবে? সেই অনলাইন মার্কেটে গিয়ে জানান আপনার চাহিদার কথা। বিক্রেতারাই আপনাকে জানাবে, কত কম মূল্যে তারা এই পণ্যটা আপনার হাতে তুলে দিতে পারবে। ব্যপারটা বেশ অভাবনীয়, আর চমক জাগানীয়া। এই অদ্ভুত মার্কেটপ্লেসটাই বাংলাদেশে তৈরী করে ফেলেছে কয়েকজন তরুণ। নাম দেয়া হয়েছে ‘বাজেটঅর্ডার ডটকম’

বাজেটঅর্ডার মূলত একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে সব ধরনের পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাথে বাজেটঅর্ডারের পার্থক্য হলো, এখানে পণ্য/সেবার মূল্য নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায় ক্রেতা; আর অন্যদিকে ন্যায্যমূল্যে ভালো মানের পণ্য প্রদানকারী বিক্রেতা অগ্রাধিকার পায়, তা সে যতই ক্ষুদ্র বা নতুন ব্যবসায়ী/ সেবা প্রদানকারী হোক না কেন।

বাজেটঅর্ডারের উদ্যোক্তারা সবাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই আইডিয়াটা প্রথম মাথায় এসেছিল সৈয়দ নাজমুস সাদাতের। তিনিই এটার প্রধান উদ্যোক্তা। তারপর এই উদ্যোগে যোগ দেয় সুলতান মাহমুদ, আসিফ জামিল ও জোহায়ের আবতাহি।

বাজেটঅর্ডারের এর ওয়েবসাইটটি বিডিং সিস্টেমে কাজ করে, যেখানে কাস্টোমার (ভোক্তা) তার দরকারী প্রোডাক্টের অর্ডার পোস্ট করবে। সেই অর্ডার অনুযায়ী বিক্রেতা সেই অর্ডার এ বিড করবেন। যেই বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করার পরে ক্রেতার পছন্দ হবে তাকে সিলেক্ট করবেন অর্থাৎ বিক্রেতা সেই অর্ডারটি পাবেন।

ধরা যাক আপনার একটা টিশার্ট লাগবে এবং বাজেট ১০০০ টাকা।এখন আপনি বাজেটঅর্ডারে পোস্ট করবেন এই অর্ডারটা। এবার বিক্রেতাদের পালা, তারা ক্রেতার সেই পোস্টে বিড করবেন। কেউ হয়তো বললেন যে ৮০০ টাকায় টিশার্ট দিতে পারবেন কিংবা কেউ ৭০০ বা ৯০০ টাকায় বিড করলেন। যদি বিক্রেতার সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করার পরে আপনার পছন্দ হয় তাহলে আপনি সেই বিক্রেতাকে সিলেক্ট করবেন, এবং টিশার্ট ডেলিভারি দেওয়ার পরে বিক্রেতা তার ক্লায়েন্টের কাছ থেকে টাকা বুঝে পাবেন।

বাজেটঅর্ডার খুবই ক্রেতাবান্ধব একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে শুধু বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হয় তাই না।এখানে ফটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, কন্টেন্ট রাইটার ইত্যাদি বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে ন্যায্য সম্মানীতে তাদের ছবি/ভিডিও বা লেখা কিনে নিতে পারবেন আপনি। এছাড়া ফুড ডেলিভারি,পার্সেল ডেলিভারি সিস্টেম ইত্যাদিও রয়েছে।অর্থাৎ আপনার যা যা দরকার তার সবকিছুই এখানে পাবেন বাজেটের মধ্যে।

বাজেটঅর্ডারের এর মাধ্যমে একজন বিক্রেতা সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটা পাচ্ছেন, সেটা হলো প্রোডাক্টের জন্য বিশাল বড় একটি মার্কেটপ্লেস। ফলে পণ্যের প্রচার,ফেসবুকে বুস্টিং বাবদ বিক্রেতার খরচও কমে আসবে। ক্রেতা পাওয়ার জন্য যে মার্কেটিং বা প্রচার এর প্রয়োজন, তার দায়িত্ব বাজেটঅর্ডার নিয়ে নিচ্ছে। অন্যান্য বড় বড় কোম্পানির মতো বিক্রেতা নিজের পণ্য ক্রেতার কাছে তুলে ধরার জন্য সমান সুযোগ পাবেন।ফলে আরও বেশি বেশি পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি হবে। ক্রেতাকে রেটিং দেওয়ার সিস্টেম রয়েছে।তাই ক্রেতা কেমন,তিনি কি প্রায়ই অর্ডার ক্যান্সেল করেন কি না,পেমেন্ট নিয়ে সমস্যা করেন কি না এই ব্যাপারে বিক্রেতা সতর্ক থাকতে পারবেন।

আগেই বলা হয়েছে, অন্যান্য অনলাইন মার্কেটের মতো বাজেটঅর্ডার শুধু বিক্রেতার কথাই ভাবে না। এখান থেকে মূল সুবিধাটা আসলে ক্রেতাই পাবেন। নিজের বাজেটের মধ্যে যে কোন পণ্য খুঁজে পাবেন আপনি, তাই পণ্যের দাম নিয়ে মোটেও চিন্তা করতে হবে না। ক্রেতা চাইলে নিজের অর্ডার এ বিড করার জন্য কোন বিক্রেতাকে ইনভাইটেশন ও পাঠাতে পারবেন। পেমেন্ট সিস্টেম ক্যাশ অন ডেলিভারি হওয়ায় প্রতারণা হওয়ার সুযোগ নেই। বিক্রেতাকে রেটিং দেওয়ার সিস্টেম রয়েছে। তাই বিক্রেতা নিজের পণ্যের গুণগত মান রক্ষা করবে সবসময়।

বাজেটঅর্ডার বাজারে আনার প্রধান প্রধান কারন হলো ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে একটা সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি করা। অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে সহজলভ্যতা বৃদ্ধির জন্যেই এসেছে বাজেটঅর্ডার। সঠিক মূল্যে পণ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে এই মার্কেটপ্লেস। বিক্রেতাদের বৃহৎ বাজারে নিজদের পণ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সবাইকে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌড়াত্ন্য কমিয়ে পণ্যের দাম কমিয়ে আনার ব্যাপারটা বেশ ভাবিয়েছে এই তরুণদের। সেখান থেকেই জন্ম হয়েছে এই আইডিয়াটার। পণ্য উৎপাদনকারী যেন তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় তা নিশ্চিত করাই বাজেটঅর্ডারের লক্ষ্য।

বাজেট অর্ডারের শুরুর গল্পটা শোনাচ্ছিলেন সৈয়দ নাজমুস সাদাত, তিনি বলছিলেন- “আমরা প্রথমে খুব চিন্তায় ছিলাম যে এই উদ্যোগ মানুষের পছন্দ হবে কিনা। কিন্তু আমাদের আনন্দের আর কোন সীমা ছিলো না যখন দেখি ওয়েবসাইট লঞ্চ করার মাত্র ২০ দিনের মধ্যে ৩১০ জনের বেশী ইউজার রেজিস্টার করেছে আমাদের সাইটে, ৩০টার বেশি অর্ডার এসেছে সারা বাংলাদেশ থেকে। আমরা এখন পর্যন্ত কোন মার্কেটিংই করিনি ওয়েবসাইটের।সুতরাং এসবই সম্ভব হয়েছে ওয়ার্ড অফ মাউথ এর কারণে। মানুষ উপকৃত হচ্ছে বলেই তারা আবার আসছে এবং অন্যদেরকেও বাজেটঅর্ডার সম্পর্কে বলছে। সুতরাং আমরা যেই উদ্দেশ্য নিয়ে বাজেটঅর্ডার শুরু করেছিলাম তা সফলতার মুখ দেখছে আস্তে আস্তে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে মানুষ নিজের বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা করে খুশি হচ্ছেন। আমরা তাতেই আনন্দিত।”

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close