খেলা ও ধুলারাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮

শেষ যেবার জোগো বনিতোর স্ট্যান্ডার্ড ছুঁতে পেরেছিল ব্রাজিল

“O Jogo Bonito”

কিংবদন্তী পেলে কথা বলতে পছন্দ করেন। কিন্তু খুব সুবিধা করতে পারেন বলা যাবে না। পরস্পরবিরোধী কথা বলেন, ভুলভাল প্রেডিকশন করে হাস্যরসের জন্ম দেন। কিন্তু উপরের শব্দগুচ্ছ বেড়িয়েছিল পেলের মুখ থেকে। খুব হালকাভাবেই হয়তো বলেছিলেন। কিন্তু সময়ের গণ্ডি ছাপিয়ে এই কথাটি হয়ে উঠেছে বিশ্বব্যাপী ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের পরিচয়, যুগে যুগে ব্রাজিলিয়ান দলগুলোর সামনে বেঁধে দিয়েছে উঁচু এক স্ট্যান্ডার্ড। জোগো বনিতো, দ্যা বিউটিফুল গেম। এই ৫০ বছরে সবগুলো ব্রাজিলিয়ান দলই খেলতে চেয়েছে ব্রাজিলিয়ান ব্র্যান্ডের ফুটবল। কেউ পারেনি। এমনকি ১৯৯৮ এর অনিন্দ্যসুন্দর ব্রাজিলও হয়তো পুরোপুরি ছুঁতে পারেনি সেই স্ট্যান্ডার্ড। ছুঁতে পেরেছিল একটি মাত্র দল, ১৯৮২ বিশ্বকাপের ব্রাজিল দল। মাঠে যেন এক ঝাঁক প্রজাপতির মত বিচরণ ছিল তাদের। নাহ, বিশ্বকাপ জেতা হয়নি সেবার।

জোগো বনিতো আসলে কি? সেটা বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতি। ব্রাজিলের সংস্কৃতিজুড়ে ছড়িয়ে আছে বিচ ফুটবল আর গলির ফুটবল। সেই কোপাকাবানা বিচের ছিন্নমূল তরুণ, যার হয়ত খাবার নেই ঘরে, বাবা হয়ত ড্রাগের মামলায় জেলে, সেই তরুণের জীবনেও স্বপ্ন বলতে ফুটবল। ফুটবল নিয়ে যখন এগিয়ে যায় সেই তরুণ, তখন তাঁর মাথায় নেই বস্তির ঘরে ফিরে যেতে হবে তাঁর, ইউরোপের বড় ক্লাবের স্বপ্নও নেই মাথায়। লক্ষ্য কেবল একটাই, সামনে এগুতে হবে, বল জড়াতে হবে জালে। যেন লাথি মেরে সব দারিদ্র, জীবনের সব অভিশাপ জালে বন্দী করার চ্যালেঞ্জ। এই ফুটবল পেছনে আসা শেখায় না, শুধু এগিয়ে যেতে শেখায়। এই ফুটবলে রক্ষণের কোন স্থান নেই, এই ফুটবলে শেষ কথা আক্রমণ। এই ফুটবলের মূলকথা হল, তোমাকে গোল করতে হবে প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি। এই ফুটবলই জোগো বনিতো।

এবার একটানে চলে যাবো ব্রাজিলের সেই ১৯৮২ এর দলে। ব্রাজিলের সেই প্রজন্মকে বলা হয় গোল্ডেন জেনারেশন। সেই সময়ে তো ব্রাজিলিয়ানদের ইউরোপে যাওয়ার চল সেভাবে আসেনি, আর স্কাউটের শিকারি চোখও সেভাবে রাখা ছিল না ব্রাজিলের গলিতে গলিতে। ইউরোপিয়ানরা তাই স্টার বলতে একজনকেই চিনতো। তিনি জিকো, পুরো নাম আর্থার আরতুনেস কইম্ব্রা। তাঁর আরও একটি বিখ্যাত নাম আছে, “সাদা পেলে”। ৭০ বিশ্বকাপে যেমন পেলে, ৮২-তে তেমনি জিকো ছিলেন দলের মধ্যমণি হয়ে।

ব্রাজিলের ফরমেশন ছিল ৪-২-২-২। বোঝাই যাচ্ছে, মাঝমাঠ ছিল একটা বক্সের মত। নিখুঁত লাইনে যে সবাই থাকতেন, এমন নয়। জিকো খেলতেন একটু উপরে, তাঁর পাশে যিনি একটু নিচে থেকে শুরু করতেন, লোকটির নাম সক্রেটিস। গ্রিসের মহামতি সক্রেটিস নন, কিন্তু ব্রাজিলের জন্য তাঁর চেয়ে কম কিছু ছিলেন না। দলের অধিনায়ক ছিলেন, দলের ফুটবল দর্শনটা হৃদয়ে লালন করতেন তিনিই। বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক জনাথন উইলসন বলেছিলেন, “Socrates was the brain of Brazil”। ডাক্তারি পাশ করেছিলেন, চর্চা করেননি কখনো। একেবারেই মদ্যপ ছিলেন, কিন্তু মাঠে চনমনে উপস্থিতি ছিল তাঁর। দাঁড়ি আর সাদা হেডব্যান্ডে পরিণত হয়েছিলেন সেই জেনারেশনের স্টাইল আইকনে। বাংলাদেশে ব্রাজিলকে ঘিরে পাগলামোর শুরুটাও এই সক্রেটিসকে দিয়েই। পুরোদস্তুর প্লেমেকার ছিলেন। পাসিং এবিলিটি ছিল দুর্দান্ত, দারুণ সব থ্রু বল বাড়িয়ে কাঁপন ধরাতেন প্রতিপক্ষ রক্ষণে। আর একটা জাদুকরী মুভ ছিল ব্লাইন্ড ব্যাকহিল। এখনো সেসবের ভিডিও দেখলে বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়।

মিডফিল্ডের পরের লাইনে ছিল আরও দুজন তুখোড় খেলোয়াড়। বামের জন খেলতেন একটু উপরে, নাম ফ্যালকাও। এই লোকের নামেই র‍্যাদামেল গার্সিয়া তাঁর ছেলের নাম রেখেছিলেন র‍্যাদামেল ফালকাও। হ্যাঁ, বর্তমান সময়ের কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। টিংটিঙে ছিলেন, তখনকার ছোটখাট শর্টসে দেখাতো বেঢপ লম্বা। টেকনিক্যালি দারুণ গিফটেড এই মিডফিল্ডার দলে খেলতেন ডিপ লাইং প্লেমেকার হিসেবে। দলের এটাকগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেন, মিডফিল্ডের বক্সটিকে যে সুই সুতোয় বেঁধে রাখতেন। ডিফেন্সিভ রোল থাকলেও আর সবার মতই মূল লক্ষ্য ছিল এটাক আর এটাক। তাঁর একটি বড় শক্তির জায়গা ছিল লংরেঞ্জ শট। ডানে খেলতেন টোনিনহো সেরেজো, তিনিও ডীপ লাইং প্লেমেকার। আর সবার মতই ছিল দারুণ পাসিং দক্ষতা। পার্থক্য বলতে তাঁর ওয়ার্করেট ছিল বিশ্বমানের। তাকে ধরা হয় ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে।

অবাক করা বিষয় হল, মিডফিল্ডের চারজনই ছিলেন ক্রিয়েটিভ প্লেমেকার, তারা নিয়মিত পজিশন সুইচ করতেন। একজন হয়ত বল হোল্ড করতেন, অন্যজন উঠে যেতেন ওভারল্যাপ করে। নিজের মধ্যে বোঝাপড়াও ছিল দারুণ। সবাই স্কোর করতে পারতেন। সেরেজো বাদে বাকি সবাই একাধিক গোল করেছিলেন ৮২ এর বিশ্বকাপে।

ফরোয়ার্ড দুজন ছিলেন এডার ও সার্জিনহো। এডার কিছুটা উইঙ্গারের মত খেলতেন। ওয়াইড অফ দ্যা ফিল্ড খেলতেন, এটাকের সময় বক্সে ঢুকতেন। সার্জিনহোও ছিলেন ভালো ফিনিশার। তবে কোচ সান্তানার তুরুপের তাস ছিলেন দুই ফুলব্যাক জুনিয়র ও লিয়েন্ড্রাও। আধুনিক ফুটবলে ফুলব্যাকরা মাঝে মাঝেই উপরে চলে আসেন, তাদের ওভারল্যাপের সুবিধার জন্য উইঙ্গাররা ভেতরের দিকে মুভ করেন। সান্তানার দলে এসবের কোন বালাই  ছিল না। তাঁর দলে প্রতিটি আক্রমণেই অংশ নিতেন ফুলব্যাকরা। অনেকটা দাবার বোর্ডে নৌকার মত, সোজা উঠে আসেন, সামনে যা পান তছনছ করে ফেলেন। তাই টিপিক্যাল উইঙ্গার বলে কিছুর দরকার পরে নি। বিশেষ করে জুনিয়র ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা লেফটব্যাকদের ছোট তালিকায় থাকবেন। মাত্র দুজন ছিলেন সত্যিকারের ডিফেন্ডার। ব্রাজিলকে এর মূল্য চুকাতে হয়েছিল ভালোভাবেই। সে কথা পরে বলছি।

টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের গ্রুপে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, স্কটল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। তখনকার দিনে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ। তাদের সাথেই ছিল প্রথম ম্যাচ। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে যায় ব্রাজিল। এভাবে চলতে থাকে খেলা। পাসের ফোয়ারা ছোটান তারা, ইচ্ছেমত জায়গা বদল করেন, কিন্তু কাজ হচ্ছিল না কিছুতেই। অবশেষে সক্রেটিস ম্যাজিক ম্যাচের ৭৫ মিনিটে। প্রতিপক্ষের বক্সের সামান্য ভেতরে বাম প্রান্তে বল পেয়ে যান সক্রেটিস। দুজন চ্যালেঞ্জারকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে সক্রেটিস শট নেন ৩৫ মিটার বা তারও বেশি দূর থেকে। পোস্টের একবারে বামকোণা দিয়ে বল জড়ায় জালে।এ রপর ৮৯ মিনিটে ফ্যালকাওয়ের ডামি থেকে বল পয়ে যান এডার। এরপর দুর্দান্ত ভলিতে আরেকটি গোল। এমনি আচমকা ছিল সেই শট, গোলকিপার বিস্ময়ে হাঁ হয়ে ছিলেন কিছুক্ষণ। ম্যাচ জিতে গেল ব্রাজিল।

পরের দুই ম্যাচ স্কটল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের সাথে। এই দুই প্রতিপক্ষকে ব্রাজিল বিদ্ধস্ত করলো ৪-১ ও ৪-০ গোলে। তবে গোলই তো সব নয়, চোখে লেগে থাকবে গোলের ধরণ। স্কটল্যান্ডের সাথে বক্সের বেশ বাইরে থেকে নেয়া ফ্রিকিকে একেবারে পোস্টের ডান কোনা দিয়ে গোল করলেন জিকো, সারজিনহোর ডিফেন্সচেরা পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে চিপ করলেন এডার, ফালকাও ও বাদ থাকবেন কেন? সক্রেটিস আড়াআড়ি বাড়িয়ে দিলেন বল, বক্সের বাইরে থেকে ফার্স্ট টাচেই ফ্যালকাওয়ের মাটি ঘেঁষা শট জড়িয়ে গেল জালে। প্রতিটি গোলেই হাঁ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্কটিশ গোলকিপার, সামান্য নড়ারও সুযোগ পেলেন না। নিউজিল্যান্ডের সাথেও জিকো গোল করলেন বাইসাইকেল কিকে। প্রতিটি গোলই যেন অপার্থিব আনন্দের উপলক্ষ।

১০ গোল করে পরের রাউন্ডে গেল ব্রাজিল। তখনকার বিশ্বকাপ ফিক্সচার ছিল বেশ গোলমেলে। প্রথম রাউন্ডের সেরা দলগুলোকে নিয়ে আবার গ্রুপে খেলা হবে রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে। ব্রাজিল গ্রুপে পেল আর্জেন্টিনা ও ইতালিকে। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা মুখোমুখি। প্রথম পর্বে দারুণ খেলে আর্জেন্টিনা তখন আকাশে উড়ছে। তরুণ ম্যারাদোনা তখন দলে। সেই প্রতাপশালী আর্জেন্টিনাকে টেনে মাটিতে নামালো সক্রেটিসের দল, হারালো ৩-১ গোলে। প্রায় ৪০ মিটার দূর থেকে এডারের বাঁকানো শট গোলকিপারকে হতভম্ব করে বারে গিয়ে লাগলো, ফিরতি শটে গোল করলেন জিকো। ৪-৫ সেকেন্ডের মধ্যে নিজেদের বক্স থেকে ওভারল্যাপ করে প্রতিপক্ষের বক্সে পৌঁছে গেলেন জুনিয়র, পাঁচ ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে ফ্যালকাওয়ের বাড়ানো বল খুঁজে পেল তাকে। গোলকিপারের পাশ দিয়ে আলতো করে বল জড়িয়ে দিলেন জালে। কি দারুণ মুভ, ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে এভাবে উড়িয়ে দেবার পর ব্রাজিলকে কেউ হারাতে পারে এমনটা কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। ব্রাজিলকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ধরা নিয়েছে সবাই। অনেকটা ফর্মালিটির ম্যাচ খেলতে নামলো ইতালি আর ব্রাজিল। ব্রাজিলের ৪ ম্যাচে ১৩ গোলের বিপরীতে ইতালি ৪ ম্যাচে করেছে মোটে ৪ গোল। ক্যামেরুনের পেছনে থেকে গোল ডিফারেন্সে উঠে এসেছে পরের রাউন্ডে। তাদের সুপারস্টার পাওলো রসি সুপারফ্লপ, কোন গোল পাননি ৪ ম্যাচে।  ম্যাচে কেবল ড্র করলেই চলতো ব্রাজিলের, অন্যদিকে ইতালির লক্ষ্য ছিল জয়। কিন্তু সবকিছুর উপরে আরও একটা তাৎপর্য ছিল এই ম্যাচের। এই ম্যাচ ছিল দুই ফুটবল দর্শনের লড়াই। ব্রাজিলের অলআউট এটাকিং ফুটবলের সাথে ইতালির আলট্রা ডিফেন্সিভ কাতানেচ্চিওর লড়াই। একেবারে শুরু থেকেই পুরোদস্তুর এটাকিং খেলতে লাগলো ব্রাজিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিফেন্সের এক বাজে ভুলে ব্রাজিলের জাল বল জড়ালেন পাওলো রসি, টুর্নামেন্টে তাঁর প্রথম গোল। এরপর চললো মনমুগ্ধকর এক লড়াই। পাসের মালা গেঁথে বারবার আক্রমণে যাচ্ছে ব্রাজিল, কখনো রক্ষণ আবার কখনোবা গোলরক্ষক দিনো জফ চোয়ালবদ্ধ প্রতীক্ষায় ফিরিয়ে দিচ্ছেন সব আক্রমণ। কিন্তু কতক্ষণ। সক্রেটিসের গোলে সমতা ফিরল ম্যাচে। কিন্তু কিসের কি, ব্রাজিলের এটাক চলতেই থাকলো, বারবার জুনিয়র উঠে এলেন আক্রমণে, জুনিয়রের এমনই এক ভুলে আবার দলকে এগিয়ে দিলেন রসি। সেবারও একই অবস্থা, কিছুতেই গোলমুখ খুঁচে না ইতালির। এসময় গোছানো এক আক্রমণ থেকে ফ্যালকাওয়ের শটে সমতা ফিরল ম্যাচে। ম্যাচের তখন প্রায় ৭০ মিনিট, ২-২ সমতায়। এই স্কোর শেষ পর্যন্ত থাকলে ব্রাজিল চলে যাবে পরবর্তী রাউন্ডে।

বর্তমান ফুটবলে এসব ক্ষেত্রে আমরা দেখি পায়ে বল রেখে খেলা স্লো করে দিতে, সূক্ষ্মতম অজুহাতে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করতে। কোন এই ব্রাজিল তো অন্য দর্শনের দল, এসব তাদের মাঝে নেই। এমনকি ডিফেন্সটা আঁটসাঁট করে এটাক করার যে স্বাভাবিক কৌশল সেটাও তারা জানতেন না। পিছিয়ে আসা শেখেন নি তারা, শিখছেন এগিয়ে যেতে। তারা জানতেন মাঠে একমাত্র কাজ গোল করা, আর দলের একমাত্র লক্ষ্য জয়। তাই আবারো সেই অলআউট এটাক, আবারো ভুল, আবারো পাওলো রসির গোল! দুইবার পেরেছিলেন সক্রেটিস ফ্যালকাওরা, এবার আর পারলেন না। ম্যাচ জিতে গেল ইতালি। নিজেদের জেদ আর রক্ষণ দুর্বলতায় ম্যাচ হারলো অনিন্দ্যসুন্দর ব্রাজিল, সাথে ছিটকে পড়লো টুর্নামেন্ট থেকেও। আর শেষ পর্যন্ত গিয়ে এই ইতালিই হলো চ্যাম্পিয়ন, ব্রাজিল ম্যাচের আগে কেউ পাত্তাই দেয়নি যাদের।

এই ম্যাচে ব্রাজিলের হারের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। এই ম্যাচ ফুটবল ট্যাক্টিক্স নিয়ে কোচদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। খেলোয়াড়দের সেই অপার স্বাধীনতা আর মনের আনন্দে খেলার সুযোগ হারিয়ে যায়, তাঁর জায়গা নেয় কোচের খাতায় হিসেব করা নিখুঁত ট্যাক্টিক্যাল ফুটবল। সেই খেলায় হয়তো ফল আসে, কিন্তু চোখ জুড়ায় না। জিকো হয়তো ঠিকই বলেছিলেন, “সে ম্যাচে ব্রাজিল হারেনি, হেরে গিয়েছিল ফুটবল”। সাথে সাথে হারিয়ে গেছে জোগো বনিতো- দ্যা বিউটিফুল গেইম।

*

এখন ঘরে বসেই অনলাইনে কিনুন ক্যাসপারস্কি ল্যাবের সব পণ্য, খুব সহজে। অনলাইনে পেমেন্ট, অনলাইনেই ডেলিভারি!

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close