মানুষের নিজেকে এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসী হিসেবে দাবি করার প্রবণতা নতুন কিছু নয়। যুগ যুগ ধরে অনেকেই নিজেকে এলিয়েন বলে দাবি করেছে। তাদের মধ্যেই অধিকাংশই ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। আবার অনেকের বিষয়টিই ধাঁধা হিসেবেই রয়ে গেছে, অর্থাৎ তাদের দাবির পক্ষেও যেমন কোন প্রমাণ মেলেনি, তেমন প্রমাণ মেলেনি বিপক্ষেও।

সম্প্রতি এ ধরণের নতুন একটি দাবি প্রকাশ্যে এসেছে। আর এবার যে ব্যক্তি নিজেকে এলিয়েন বলে দাবি করছে, সে রাশিয়ার ২১ বছর বয়সী এক তরুণ, নাম বোরিস্কা কিপরিয়ানোভিচ। ক্ষুরধার মস্তিষ্কের এই তরুণ একদম ছোটবেলা থেকেই তার অসাধারণ মেধা আর সকল বিষয়ে অগাধ পান্ডিত্যের মাধ্যমে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষক, সবাইকে চমকে দিয়ে এসেছে।

কিন্তু তার অনন্য মেধার বিষয়টিও চাপা পড়ে গেছে তার একটি দাবিতে, যা কারও কাছে হাসি-তামাশার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, আবার কেউ বা বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে।

পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কী সেই দাবি? দাবিটি হলো, সে নাকি এই পৃথিবীর সন্তান নয়। তার জন্ম নাকি মঙ্গল গ্রহে! খুব অল্প বয়স থেকেই বোরিস্কা এই কথা বলে আসছে যে সে এসেছে ‘যুদ্ধ বিধ্বস্ত লাল গ্রহ’ থেকে। এবং সৌরজগতের মানচিত্র বের করে সে যে গ্রহটিকে চিহ্নিত করে, সেটিও সত্যিকারেরই লাল গ্রহ মঙ্গল। নিজেকে মঙ্গল গ্রহের অধিবাসী দাবি করার পাশাপাশি সে এ কথাও বলে থাকে যে পৃথিবীতে নাকি এই মুহূর্তে আরও অনেক মঙ্গলবাসীই রয়েছে!

বোরিস্কার ভাষ্যমতে, বেশ কয়েক বছর আগে মঙ্গল গ্রহে নাকি দুই ধরণের প্রজাতির মধ্যে একটি ভয়াবহ পারমাণবিক যুদ্ধ সংগঠিত হয়, আর তাতে গ্রহটি যেমন ধ্বুংসস্তূপে পরিণত হয় তেমনি সেখানকার অধিকাংশ জীবই মারা যায়। তবে তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক জীব প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হয়, যাদের মধ্যে বোরিস্কা নিজেও একজন। এবং আরও আশার কথা হলো, মঙ্গল গ্রহে নাকি এখনও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে, আর তারা নিয়মিত বংশবৃদ্ধি করে চলেছে!

মঙ্গলবাসী বোরিস্কা পৃথিবীতে এল কীভাবে? এ প্রশ্নেরও একটি যুক্তিসঙ্গত উত্তর রয়েছে তার কাছে। সে নাকি মঙ্গলগ্রহে থাকতে একজন মার্শান পাইলট ছিল, এবং তার আদি গ্রহ যুদ্ধে আক্রান্ত হলে সে এই পৃথিবীতে পালিয়ে আসে।

বোরিস্কার কথাবার্তা আজগুবি বলে মনে হলেও, ছোটবেলা থেকেই সে এমন অনেক প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে যার ফলে খুব সহজেই তাকে আর দশটা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা করা যায়। তার মা, যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক, বলেন যে জন্মের সপ্তাখানের মধ্যেই নাকি সে কারও সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে মাথা উঁচু করতে পারত। কয়েক মাসের মধ্যেই সে অনর্গল কথা বলতে শুরু করে, এবং বয়স দেড় বছরে পড়ার আগেই সে অনায়াসে লিখতে, পড়তে ও ছবি আঁকতে শুরু করে।

এছাড়াও ছোটবেলা থেকেই বোরিস্কার স্মৃতিশক্তি এক কথায় অবিশ্বাস্য। কোন কথা একবার শুনলে, কোন লেখা একবার পড়লে, বা কোন দৃশ্য একবার দেখলে তা আর কখনোই ভোলে না সে। নার্সারি স্কুলে পড়াকালীনই তার ভাষাগত দক্ষতা এমনকি শিক্ষকদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যার ফলে গোটা স্কুল জুড়েই সে পরিণত হয়েছিল এক জীবন্ত বিস্ময়ে। তাছাড়া গ্রহ-নক্ষত্র ও মহাকাশ সম্পর্কে কোনকিছু পড়ার বা কারও কাছ থেকে জ্ঞানলাভের আগে থেকেই সে এসব বিষয়ে অবগত ছিল, এবং সংস্লিষ্ট বিষয়ে সে তার আশেপাশের যে কারও যে বেশি জ্ঞানের অধিকারী।

বোরিস্কার এত সব প্রতিভাও যদি তার এলিয়েন হওয়ার পেছনে সাক্ষ্যপ্রমাণ না দেয়, তবে এবার বলা যাক তার আরেক কীর্তির কথা। বোরিস্কা প্রায়ই বলে থাকে, এই পৃথিবীর বুকে নাকি অনেক রহস্যই অনুদঘাটিত রয়ে গেছে, অনেক জিনিসই এখনও অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। তার মধ্যে একটি হলো গিজার পিরামিড। বেশ কয়েকবছর আগেই সে বলেছিল, গিজার পিরামিডের ভেতর কিছু চাঞ্চল্যকর রহস্য লুকিয়ে আছে। স্ফিংসটি কোনভাবে খোলা গেলেই নাকি মানবসভ্যতার ইতিহাস চিরতরে বদলে যাবে, এবং কীভাবে সেটি খুলতে হবে তার মেকানিজম নাকি পিরামিডের কানের পেছনে লুকানো রয়েছে। বাস্তবিকই বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে গিজার পিরামিডের অভ্যন্তরে আসলেই নাকি বিশাল বড় একটি ফাপা গহ্বর রয়েছে, আর তাদের ধারণা সেখানে নাকি চমকপ্রদ কোন জিনিসের সন্ধান মিলতে পারে।

সুতরাং বোরিস্কার দাবির অন্তত আংশিক যে সত্য, তা ইতিমধ্যেই দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু বাকিটাও সত্য কিনা তা এখনও প্রমাণসাপেক্ষ্য। দুঃখের বিষয়, নিকট ভবিষ্যতে সেই প্রমাণ মেলার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কেননা মিশরীয়দের কাছে পিরামিড খুবই পবিত্র একটি জিনিস, তাই সে দেশের সরকার হয়ত কখনোই বিজ্ঞানী, গবেষক বা প্রত্নতাত্ত্বিকদের পিরামিড নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেবে না।

তথ্যসূত্র- সায়েন্স ভাইব, দ্যা সান

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-