রকমারিরিডিং রুম

বইমেলায় এক অসামান্য উদ্যোগের গল্প

গ্রন্থমেলায় শিশুরা বাবা মায়ের সাথে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন স্টলে গিয়ে বই দেখছে, বই হাতে নিয়ে খুব দ্রুত দুই এক পাতা পড়ে ফেলছে, পড়ার পর আবার বাবা বা মা’কে সেই বই কিনে দেবার জন্যে ঠাসঠাস করে যুক্তি দিয়ে বলছে, এই দৃশ্যগুলো খুবই সুন্দর। দেখতে ভালো লাগে। দেখলেই মনে হয়, বাহ্, দারুন তো!

আসলে এরকমই প্রতিটা শিশুর ক্ষেত্রে হওয়া উচিৎ। শিশুরা বড় হবে সুস্থ সুন্দর পরিবেশে, শোবার সময়টাতেও হাতে একটা গল্পের বই থাকবে, রুমের চারপাশে বই থাকবে ছড়ানো ছিটানো, দৃশ্যটা আশাব্যঞ্জক। সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে এরকম একটা দৃশ্য বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও সেরেব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এরকম একটা দৃশ্য চিন্তা করা খুব কঠিন।

আমাদের সমাজ এ ধরণের শিশুদের জন্যে খুব একটা বান্ধব ধরনের না। এই বিশেষ শিশুদের আলাদা কোন ব্যবস্থা কোথাও ঠিকভাবে করা হয়না। আশপাশের লোকজন নানাভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্থ শিশুটির বাবা মাকে হেয় করার চেষ্টা করে, কখনো কখনো শিশুটিকেও খুব বিশ্রী আক্রমণের শিকার হতে হয়। এসকল কারনেই শিশুটির বাবা মা শিশুটিকে একেবারে অন্তঃপুরে নিয়ে রাখেন। শারিরীক অক্ষমতাকে জয় করার জন্যে যে শিশুটির প্রয়োজন ছিলো সমাজের মূলস্রোতের সাথে বেশি বেশি মেশা, তাকেই হয়ে যেতে হয় অন্ধকারের মানুষ।

একুশে গ্রন্থমেলার মতো একটি জায়গা হতে পারে সেরেব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্যে সমাজের মূলস্রোতে আসার একটি প্ল্যাটফর্ম। এজন্যে সমাজের সকলের পাশাপাশি সবার আগে শিশুদের বাবা মায়েদের এগিয়ে আসতে হবে।

গত দুই বছর ধরে একুশে গ্রন্থমেলায় সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন শারিরীকভাবে অক্ষম মানুষদের মেলায় পরিভ্রমণের জন্যে হুইলচেয়ার ও স্বেচ্ছাসেবক রাখা শুরু করেছে। এবছর ২০১৮ এর গ্রন্থমেলায় আমরা সিএসএফ গ্লোবাল তাঁদের এই মহতী উদ্যোগের সাথে আছি। আমরা মেলায় সেরেব্রাল পালসি ও অন্যান্য পক্ষাঘাতে আক্রান্ত শিশুদের জন্যে রেখেছি ৮ টি বিশেষ হুইলচেয়ার। সাথে আছেন সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরা। গোটা কার্যক্রমটি শুরু হয়েছে ২রা ফেব্রুয়ারী। কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন একাডেমি পরিচালক ড. জালাল আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন সিএসএফ গ্লোবালের সাধারন সম্পাদক আবু ঈসা মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন এবং সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক মইনুল ফয়সল। সেবামূলক এই কার্যক্রমটি চলবে পুরো মেলার মাস জুড়ে এবং কোনরকম বিনিময় মূল্য ছাড়া। আমরা চাই, আমাদের আত্মার মেলা হোক সবার জন্য উন্মুক্ত এবং সুগম্য।

একুশের গ্রন্থমেলায় আমন্ত্রণ।

Comments

Tags

Related Articles