এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

অদ্ভুত সব মানুষ, বিচিত্র তাদের কাজকারবার!

চলতে ফিরতে কত আজব মানুষের গল্প শুনতে হয় আমাদের। কত অদ্ভুত চরিত্র আর ঘটনাই শুনি আমরা। কারো কারো ঘটনা শুনে সিনেমার গল্প মনে হয়, কারোটা শুনলে আমরা হতভম্ব হয়ে যাই, নিশ্চুপ হয়ে পড়ি। আজকের লেখা এরকম অদ্ভুত কিছু মানুষ নিয়ে!

 শিংওয়ালা দাদিমা

২০১০ সালে চীনের ১০১ বছর বয়সী ঝ্যাং রুফাং তার পাড়া-প্রতিবেশী আর সাংবাদিকদের মধ্যে সাড়া ফেলে দেন যখন তারা আবিষ্কার করে যে ঝ্যাং-এর কপালে একটি শিং গজাচ্ছে! এলাকার লোকজন কুসংস্কার বশে অনেক কিছু মনে করলেও ডাক্তাররা মনে করেন কোন এক রোগেই এমন হচ্ছে।

এক্স রে গার্ল

নাতাশা ডেমনিকা নামের রাশিয়ান এক মেয়ে দাবি করে যে সে তার চোখ দিয়ে মানুষের শরীরের ভেতর পর্যন্ত দেখতে পারে! অনেকটা এক্স-রে’র মতো। প্রথমে সবাই হেসে উড়িয়ে দিলেও যখন কিছু প্রমাণ দেওয়া শুরু করলো মেডিক্যাল ডায়াগোনসিসের ব্যাপারে, তখন সবার মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল!

চল্লিশ বছর নির্ঘুম

ভিয়েতনামের হাই-নক, ১৯৭৩ সালে তার একবার জ্বর হয়েছিল। জ্বর থেকে সুস্থ তো তিনি হয়েছিলেন, কিন্তু তারপর শুরু হয় তার এক অদ্ভুত রোগ- তিনি আর ঘুমাতে পারেন না! সেই রোগ সারেনি ৪০ বছরেও। তার এই “ক্ষমতা”কে অনেকে অলৌকিক ব্যাপার ভাবলেও চিকিৎসকরা একটি রোগ হিসেবে দেখেই কারণ খোঁজার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

পুরুষের পেটে বাচ্চা

ভারতের নাগপুরের ৩৬ বছরের ভগত একদিন পেটে অদ্ভুত অনুভূতি হলে ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তাররা তার পেট পরীক্ষা করে এক আজব ব্যাপার দেখলেন। তার পেটে আরেকটি অপরিণত মানুষ। আসলে সেটি ছিল তার যমজ ভাই, যা স্বাভাবিকভাবে জন্ম না নিয়ে ভাইয়ের পেটে ঢুকে পড়েছিল। সেই শিশুটি আর জন্ম নেয়নি।

বিমানবন্দরে দুই দশক

টম হ্যাঙ্কসের বিখ্যাত মুভি “দা টার্মিনাল” এর কথা মনে আছে? সেই সিনেমা একটি সত্য ঘটনার উপর তৈরি, যার নায়ক একজন ইরানিয়ান রিফিউজি, নাম তার মেহেরান কারিমি নাসেরি। ১৯৮৮ সালে তিনি ফ্রান্সের বিমানবন্দরে রাজনীতিক কারণে আটকা পড়ে সেখানেই থাকা শুরু করেন ২০০৬ পর্যন্ত। উন্নত দেশের চাকচিক্য দেখে ফাঁদে পড়ে রিফিউজি হতে গিয়ে কী করুণ জীবন!

স্বর্গের দিকে উঁচানো হাত

ভারতের সাধু অমর ভারতী সেই ১৯৭৩ সালে শিবের সম্মানে তার হাত আকাশের দিকে উঠিয়েছিলেন। তারপর গঙ্গায় অনেক পানি বয়ে গেছে, কিন্তু আজ অবধি অমর সেই হাত আর নামাননি!

যার মনে আছে সব কথা

কিছু মানুষের স্মৃতিশক্তি ভাল থাকে- জানা কথা। তাই বলে এমন! ৫১ বছর বয়সী আমেরিকার জিল প্রাইস সেই তার  কৈশোর থেকে তার সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ব্যাপার মনে করতে পারেন। কবে কখন ঘুম থেকে উঠেছিলেন, কোন বেলা কি খেয়েছিলেন,তার গন্ধ কেমন ছিল, কবে কোন গান শুনেছিলেন স-সব। জিল বলেন এটি একটি অভিশাপ, এই ক্ষমতা তার মনের শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে।

বায়োনিক মানুষ

সায়েন্স ফিকশনে বায়োনিক মানুষের ব্যাপার-স্যাপার আমরা দেখেছি। সত্যিকার জীবনের এমন একজন মানুষ হলেন ইংল্যান্ডের এলেন ব্রাউন। তার শরীরের এক ডজনেরও বেশি অপারেশন হয়েছে, শরীরের ঢুকেছে অসংখ্য পার্টস। এখন তার শরীরের একমাত্র প্রাকৃতিক সংযোগ মাত্র দুটি- একটি কোমরে, আরেকটি কনুইয়ে।

১০জীবিত না মৃত

?লাল বিহারি নামের এক ভারতীয় কৃষককে ১৯৭৭ সালে সরকার মৃত ঘোষণা করে, তিনি জ্যান্ত থাকতেই। তখন লাল বিহারি আদালতে মামলা করেন। ১৯ বছর লাগে তার প্রমাণ করতে যে তিনি মরেন নাই, বেঁচে আছেন। ভারতীয় উপমহাদেশের আমলাতন্ত্র নিয়ে যাদের ধারণা আছে তারা মনে হয় না এতে খুব বেশি আশ্চর্য হবেন।

১১যে মানুষ সব খাবারের ছবি তুলেন

ফেসবুকে দেখি যারা বেশি বেশি খাবারের ছবি শেয়ার করে তাদের উপর অনেকে বিরক্ত হয়। তারা ইয়েশিরু নাকামাতশু’র কথা শুনলে কি বলবেন কে জানে? জাপানের এই লোক গত ৩৪ বছর ধরে তার প্রত্যেকবেলার খাবারের ছবি তুলে রেখেছেন!

১২সবচেয়ে বড় মুখ

এঙ্গোলার অধিবাসী জোয়াকিম সাধারণ একজন মানুষ হলেও তার শরীরের একটি বৈশিষ্ট্য তাকে আর সাধারণ থাকতে দেয়নি। তাকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুখগহ্বরের অধিকারী। এর সাইজ প্রায় ৬.৬৯ ইঞ্চি, যাতে একটি আস্ত কোকের ক্যান এঁটে যায়।

তথ্যসূত্র- list25.com

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close