তারুণ্যপিংক এন্ড ব্লু

জীবনের যে ১০টি তিতকুটে সত্য আপনার শুনতে ভাল লাগে না!

আমরা প্রত্যেকদিন এত এত কথা শুনি, কী শুনছি তা মনেই থাকে না। আমরা সবই জানি কিন্তু মানতে ভাল লাগে না। আমরা কিছু সত্যকে একদম ইচ্ছে করেই এড়িয়ে যাই নিজেকে কম্ফোর্ট জোনে রাখবার জন্যে। কিন্তু, এগুলো আমাদের প্রতিনিয়ত পিছিয়ে দেয় দুনিয়া থেকে। অল অন আ সাডেন, আমরা নিঃস্ব, ব্যর্থ, হতাশ অনুভব করতে করতে এই দুনিয়ার চৌদ্ধগুষ্টি উদ্ধার করি। কয়েকটি সত্য আপনার শোনা দরকার, ইচ্ছে না করলেও। আপনি জানেন হয়তো এই সত্যগুলো, কিন্তু মানতে চান না-

১। আমরা সবাই কোনো না কোনো সমস্যায় জড়িত। আপনি যাকে রোল মডেল ভাবেন সে নিজেও ডিপ্রেশন পড়ে থাকে কোনো কোনো সময়। যাকে দেখে ভীষণ সুখী মনে করেন সেও এই মুহুর্তে কোনো না কোনো সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। তাই এটা ভাবার কোনো কারণ নেই, সকল সমস্যার ভিক্টিম শুধু আপনি একাই৷ মাঝে মধ্যে কেউ কেউ বলে, হোয়াই অলওয়েজ মি? কথাটা সত্যি না। আপনিই একমাত্র দুঃখী মানুষ না। আপনার দুঃখই সবচেয়ে নির্মম দুঃখ না। যেটা আপনি নিজেকে বোঝান সেটা সত্য না। যার কাছে আপনি নিজের দুঃখ বলে সহানুভূতি পেতে চান, সে কেন আপনার কষ্ট বুঝতে চায় না জানেন? কারণ, সে নিজেও কোনো না কোনো দুঃখের ভেতর বাস করছে। তাই নিজের সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবুন, কিন্তু এটাকে অজুহাত করবেন না।

২। অভিযোগ করার অভ্যাস আমাদের চিরন্তন। খেয়াল করে দেখুন, আপনি সবসময়ই কিছু না কিছু নিয়ে কমপ্লেইন করেই যাচ্ছেন। আপনি কোনো কাজ করতে পারছেন না, কেনো পারছেন না জিজ্ঞেস করলেই একটা অভিযোগ শুনিয়ে দিচ্ছেন। আসলেই কি ব্যাপারগুলো তাই? কমপ্লেইন করা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়। আপনি আসলে সময় নষ্ট করতে ভালবাসেন, দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চান, আরেকজনের উপর বোঝা চাপিয়ে দিতে চান বলেই শুধু অভিযোগ করে বেড়ান। যেই অভিযোগগুলো প্রত্যেকদিন করেন, চাইলে এগুলো খুব সহজে এড়িয়ে যাওয়া যায়।

৩। মানুষের কাছ থেকে শোনা কথায় আমরা বেশ গুরুত্ব দিয়ে বসি। কেউ আমাদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করলে আমরা এটাকে কাউন্টার করি, এগুলো নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়ি। কিন্তু, ব্যাপারগুলো আসলে এতটা গুরুত্বপূর্ণও না। মানুষ আপনার সব কিছু নিয়েই খুঁত ধরবেই, এমনকি আপনি সবচেয়ে নিখুঁত থাকলেও। তারা আসলে ভুল শুধরানোর জন্য ভুল খোঁজে না, তারা ভুলগুলো খুঁজে বের করে তাদের জীবনের অপূর্ণতার কারণে, তারা চায় তাদের চাওয়ামতো আপনি চলুন। তাদের নিজস্ব ইচ্ছাগুলো তারা অন্যের জীবনে দেখতে চায়। কারণ, এগুলো তারা কখনো নিজেরাই অর্জন করতে পারে না। তাই, যদি কারো মতামত আপনার জীবনে গুরুত্ব থাকে, তাহলে সেটা কেবল আপনি।

৪। শিক্ষা কিংবা অনুমতি কোনোটারই বাধ্যতামূলক দরকার নেই জীবনে কিছু করার জন্য। আমরা কোনো কিছুর করার চিন্তা করার সময় ভাবি, এটা করতে ওই যোগ্যতা লাগবে, অমুকের অনুমতি লাগবে, অমুকের সাহায্য লাগবে। এইরকম ভাবি কারণ, আমরা চাই একটা নিশ্চিত পরিবেশ যেখানে আমাদের স্বপ্ন পূরণে কোনো বাধা আসবে না। মানে আমরা নিজেরাই আসলে এক্সকিউজ খুঁজে বের করি আমাদের অযোগ্যতা লুকানোর জন্য। তার মানে হলো, অযোগ্যতা হলো এক্সকিউজ, এপ্রোভাল খুঁজে বের করা। যদি কিছু করতে ইচ্ছা করেই তাহলে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। যদি নিজে ঠিক থাকেন, পথ খুঁজে পাবেনই।

৫। জীবনে দুঃখ-দুর্দশা থাকবেই। কারণ পৃথিবীতে আপনার আগমনটাই একটা কঠিন স্ট্রাগলের ঘটনা। সারাজীবন আপনাকে স্ট্রাগল করতেই হবে, যদি আপনি সমাজের চোখে সফলও হন তবুও করতে হবে। আপনি কিভাবে পুরো ব্যাপারটা দেখবেন তার উপর নির্ভর করে সব কিছু। আপনি যদি দুঃখটাকে নিজের উপর নেন, তাহলেই সেটা আপনার দুঃখ বাড়াবে। যদি এটাকে দূর দূর করে তাড়াতে পারেন, এটা থেকে নতুন কিছু বের করতে পারেন সেটাতেই স্বার্থকতা। মানুষের সবচেয়ে বড় আনন্দ আসলে সমস্যা সমাধান করাতে। মানুষ এই গল্পগুলো করতে ভালবাসে সে কার কি করেছে, কি অর্জন করেছে। আর এসব গল্পের পেছনে কোনো না কোনো দুঃখের ঘটনা থাকেই। তাই দুঃখকে আপনার উপর প্রভাব ফেলতে না দিয়ে এটাকে সমাধান করেন। সেটাই করা উচিত আসলে।

৬। সময়ের কখনোই অভাব হয় না। জীবনভর আপনি নিজেকে কাজ থেকে বাঁচানোর জন্য, কাজ থেকে পালানোর জন্য হাজারটা এক্সকিউজ খুঁজে বের করেন। সবচেয়ে বড় এক্সকিউজ হলো, সময় নেই। খুব ব্যস্ততা। সময়ের অভাবে আপনি লেখতে পারেন না, গান গাইতে পারেন না, বই পড়তে পারেন না, ঘুরতে যেতে পারেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ, ঠিকই ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল নিয়ে এলেমেলোভাবে ইন্টারনেট সার্ফিং করে বেড়ান। অনেক সময় আড্ডা দিয়ে বেড়ান। আপনি চাইলেই এই সময়গুলো কাজে লাগিয়ে নিজের কাজে ব্যয় করতে পারেন! চাইলেই পারেন।

৭। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন বেশিরভাগ সময় মানুষ দ্রুত ফলাফল চায়। তারা যতটুকু কাজ করে তার চেয়ে বেশি রিটার্ন আশা করে। নিজের মূল্য বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যায়। কিন্তু, আপনি যদি নিজের ডেভেলপমেন্টের দিকে নজর দেন, তাহলে আপনার মূল্য কাউকে বোঝাতে হবে না। আপনি কতটুকু ভ্যালু তৈরি করতে পারছেন সেটাই মূল কথা। যখন ভ্যালু তৈরি করতে পারবেন, মানুষ আপনার প্রয়োজনীয়তা এমনিই বুঝবে।

৮। একদিন একটু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নোট লিখুন। দেখেন আপনি কোন কোন জিনিস আপনার জীবনে পেয়েছেন বলে কৃতজ্ঞ, কোন কোন মানুষের কাছে আপনি কৃতজ্ঞ। খেয়াল করলে দেখবেন অনেক মানুষ, অনেক কিছু আপনার জীবনে এমনিতেই আছে। শুধু আপনি এগুলোকে ফোকাস করেন না, করেন যা পাননি তার উপর। কারণ, মানুষ যা পেয়ে যায় তার মূল্য কখনো বোঝে না৷

৯। টাকা কখনো মানুষকে সুখী করে না। তবুও আমরা টাকার পেছনে দৌঁড়াই। কিন্তু, টাকার আসল উদ্দেশ্য কি? এটা আসলে আমাদের কিছু অনুভূতি দেয়। মানুষ আমাদের সুখী ভাবে, আমরা টাকা দিয়ে এটা সেটা কিনি, মানুষ দেখে প্রশংসা করে, হিংসা করে, এই অনুভূতিটা আমরা পছন্দ করি। আমরা অন্যের চোখে নিজেদের সুখী বানাতে গিয়ে নিজেরাই আসল সুখ হারিয়ে ফেলছি। আমরা আসলে চাই অনুভূতি তৈরি করতে। কিন্তু কার জন্য? অন্যের জন্য? নিজেকে ভাল রাখা শিখতে গেলে, নিজের জন্য অনুভূতি তৈরি করতে আমাদের প্রচুর টাকার দরকার নেই। যখন থেকে আমরা অন্যের জন্য বাঁচা বন্ধ করবো, তখন থেকেই আমরা সুখী হতে পারবো।

১০। সব মানুষ স্বপ্ন দেখে কিছু মানুষ সেটা বাস্তবায়ন করে। আপনার মাথায় হাজার হাজার আইডিয়া আছে এই গল্প কাউকে শোনাবেন না। কারণ, বাথরুমে গেলে প্রত্যেকদিন তিনবেলা এরকম আইডিয়া সবাই পায়। অল ইউ হ্যাভ টু ডু ইজ টু প্লে হার্ড। আইডিয়া থাকলে সেটা নিয়ে জানপ্রাণ দিয়ে নেমে পড়েন। কারণ, কেউ না কেউ সেই আইডিয়া নিয়ে আজ হোক, কাল হোক কাজ করবেই। পাঠাও বের হবার এক বন্ধু গর্ব করে বলছিলো, এরকম ভাবনা নাকি সেও ভেবেছে! সো হোয়াট? পাঠাও এখন মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি। আমার বন্ধু চায়ের দোকানের বয়ানবাজ। আপনি কোথায় থাকবেন, চায়ের দোকানে নাকি আইডিয়া বাস্তবায়নের কাজে এটা কেউ ঠিক করে দিবে না, আপনাকেই করতে হবে। একটা উক্তি রেখে যাই আপনার জন্যে-

“Dreaming has become a form of masturbation and it doesn’t lead to anything meaningful. Execution separates those people you deem to be successful from those people you deem to be mediocre, or worse yet, failures”.

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close