কয়েক সপ্তাহ আগে, আমার ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটালিস্ট’ এর গ্রাহকদের জন্য কোন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে কিনা তা খুঁজতে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। এবং সেখানে গিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমি আবিষ্কার করি, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি, যাকে বলে, একটি সব সম্ভবের দেশ। আপনার যদি চেনাজানা প্রভাবশালী কোন ব্যক্তি থেকে থাকে, ব্যস, তাহলেই হলো। আপনার জন্য বিনিয়োগের রাস্তার কোন অভাব হবে না।

আপনি যদি বিষয়টি নিয়ে একটু মাথা খাটান, এটি অনেকটাই যেন বিটকয়েনের মতো।

‘যেকোন কিছুই সম্ভব!’

আমার বন্ধু আসিফের ঢাকার একদম কেন্দ্রেই একটি এপার্টমেন্ট আছে। আর সেই এপার্টমেন্টের ছাদে আসিফের একটি ছোট ফার্মও আছে। মুরগী, শূকর এইসবের আরকি। ‘তুমি এটা করতে পারো?’ আসিফের বাসায় থাকাকালীন তাকে প্রশ্ন করেছিলাম। কারণ আমি বাস করি সিঙ্গাপুরের মত একটি দেশে, যেখানে প্রতিটি কাজ নিয়মকানুন মেনে করতে হয়, নয়তো বিপদে পড়তে হয়। আমার কথা শুনে আসিফ হেসে ফেলেছিল, ‘না পারার কি আছে?’ সেদিনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, বাংলাদেশে যা ইচ্ছা তা-ই করা সম্ভব।

কিছুক্ষণ সেখানে গিয়ে থাকুন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এমন কারও দেখা পেয়ে যাবেন যার দুইটি বউ। কিংবা আপনার পিল দরকার? প্রেসক্রিপশনের কোন দরকার নেই। ফার্মেসিতে গিয়ে স্রেফ নামটি বলুন, পেয়ে যাবেন। কিংবা ছুটির দিন সন্ধ্যাবেলাও হুট করে আপনার শার্ট আয়রন করার দরকার? একটু জোর করুন, হোটেলের ডোরম্যান নিজে আপনার রুমে এসে কাজটি করে দিয়ে যাবে।

বিটকয়েনেরও অসংখ্য সুবিধার মধ্যে একটি হলো, এটি সাধারণ অর্থের মতো নিয়মকানুন মেনে চলে না, চলার প্রয়োজনও হয় না। ধরুন আমি আপনাকে বিটকয়েন পাঠাতে চাই। খুবই সহজ ব্যাপার। মিনিট তিনেকের মতো লাগবে। এবং একদমই কম খরচে, নিরাপদে, অনায়াসে কাজটি হয়ে যাবে। একই সাথে এটি ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর চেয়ে হাজারগুণে সহজ ও সস্তা। যদি আমার কাছে একাউন্ট নাম্বার থাকে, তবে আমি প্রায় মুহূর্তের মধ্যেই যে কাউকে বিটকয়েন পাঠাতে পারি। এবং এ জন্য আমার কারও কাছ থেকে অনুমতি বা অনুমোদন নেয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। আমি যদি শুধু চাই, তাহলেই কাজটি করে ফেলতে পারি।

এজন্যই অনেকের ধারণা যে সন্ত্রাসী, চোরাকারবারী আর মাদক পাচারকারীদের জন্য বিটকয়েন খুবই সুবিধাজনক একটি মাধ্যম। কিন্তু বাস্তবতা মোটেই সেরকম কিছু নয়। বিটকয়েনের মাধ্যমে করা প্রতিটি ট্র্যানজেকশনই ট্র্যাক করা হয়, ও সেই ডেটা রেকর্ড করা হয়ে থাকে।

এভাবেই বর্তমান ব্যাংকিং সিস্টেমের মত অতটা না হলেও, বিটকয়েন ক্রমেই নিয়মানুবর্তী হয়ে উঠছে। আর তাই বোধহয়, বিটকয়েনকে আর একদমই বাংলাদেশের মতো ‘যা খুশি তাই’ বলার উপায় নেই।

চেনাজানা কাউকে খুব দরকার

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সহজে ব্যবসা করতে পারা। বিশ্বব্যাংকের ‘Ease of Doing Business’ অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৮৭তম কঠিন জায়গা বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার জন্য। প্রতিটি গ্রাহককে নতুন সংযোগ পাওয়ার জন্য গড়ে ৪০৪ দিন অপেক্ষা করতে হয়।

তবে ধারণা করা যায়, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা জানতেন না কার সাথে তাদের কথা বলা উচিৎ। তাদের অতি অবশ্যই যাওয়া উচিৎ ছিল ঢাকা ক্লাবে, যেটি কিনা ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি জায়গা যেখানে গেলে মনে হয় সময় এখনও সেই ১৯৫০ সালের দিকেই আটকে আছে।

তবে সেটা কোন বিষয় নয়। বিষয় হলো, এটি সেই জায়গা যেখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্পদশালী ও প্রভাবশালী মানুষদের আনাগোনা লেগে থাকে। আপনার জন্ম যদি কোন সঠিক পরিবারে হয়ে থাকে, আপনি যদি কোন সঠিক স্কুলে পড়ে থাকেন, আপনি যদি কয়েক বছর পশ্চিমা কোন দেশে কাটিয়ে আসেন, এবং ঢাকা ক্লাবে গিয়ে বিলিয়ার্ড খেলতে পছন্দ করেন – তবে খুব সহজেই আপনি সঠিক লোকদের দেখা পেয়ে যাবেন, যারা আপনাকে যেকোন সমস্যা থেকে উদ্ধার করে দিতে পারবে, এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগও ৪০৪ দিনের চেয়ে অনেক কম সময়ে পাইয়ে দিতে পারবে।

বিটকয়েনের সাথে এসবের কি সম্পর্ক?

এই ক্রিপ্টোকারেন্সির দুনিয়ায় – যদিও এটি এখনও অনেক ছোট – আপনি কাদের চেনেন বা কাদের সাথে আপনার ওঠাবসা আছে তা খুবই জরুরি একটি বিষয়। এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি যেহেতু এখনও একদমই নতুন একটি বিষয়, তাই এই সেক্টরে অনেক হাতুড়ে ডাক্তার আছে, আর আছে অনেক প্রতারকও।

১৯৯৯-২০০১ সালের দিকে কোন কোম্পানি তাদের নামের শেষে ‘ডট কম’ লাগালেই লোকজন তাদেরকে ইন্টারনেটের ব্যাপারে খুব বড় কোন লায়েক ভাবতে শুরু করত, আর তার ফলে শেয়ার বাজারে তাদের দর হু হু করে বেড়ে যেত। এখনও যে কেউ নিজের ICO (initial coin offering) খুলে আপনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতেই পারে। সেজন্য এখানেও সঠিক ব্যক্তির সাথে আপনার চেনাজানা আছে কিনা তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

‘এখনও এটি নতুন… তাই লাভের সম্ভাবনা ব্যাপক’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোয় প্রবেশের দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখনও যারপরনাই নতুন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটি, যেটি প্রায় ২২টি হংকং এর সমান, কিংবা তিনটি দক্ষিণ কোরিয়ার সমান। কিন্তু তারপরও অবাক করা ব্যাপার হলো, সেখানে একটিও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক নেই। হ্যাঁ, বাংলাদেশের জনপ্রতি জিডিপি খুবই কম। বছরে ১,৩৬০ মার্কিন ডলার (যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৭,৪৬৭ মার্কিন ডলার)। কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, মাঝেমধ্যে পথ চলার সময় আপনাকে খোঁড়া ভিক্ষুকদের পাশ কাটিয়ে যেতেই হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বছরে ৬-৭ শতাংশ হারে। এবং আগামী ৩০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির দেশগুলোর একটি১

আর ক্রিপ্টোকারেন্সি?

যেমনটি আপনাদেরকে আগেই দেখিয়েছি, ক্রিপ্টোকারেন্সি খুব শীঘ্রই আমাদের চেনা পৃথিবীটাকে আমূল বদলে দেবে।

মাত্র বছর পাঁচেক আগেও ক্রিপ্টোকারেন্সি বলে সেরকম কিছুর অস্তিত্বই প্রায় ছিল না। আর এখন বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মোট মূল্যমান ১৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো। কিন্তু তারপরও এটি অ্যাপলের ব্যালেন্স শিটে যে পরিমাণ অর্থ আছে, তার অর্ধেকও নয়। (কিংবা অন্যভাবে ধরতে গেলে, এটি এখনও বাংলাদেশের মোট জিডিপির চেয়ে কম)

ক্রিপ্টোকারেন্সির যে অসীম সম্ভাবনা, তার ভগ্নাংশের কিছুটাও যদি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অর্জন করা যায়, তাহলে এর মূল্যমান বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এজন্যই আমাদের বিশ্বাস, আজ থেকে সকলেরই উচিৎ কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনে ফেলা!

বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-