ইতিহাস জানতে আমাদের বড্ড অনীহা যেন! কী হয়েছে আগে, এত কিছু জেনে কী লাভ! বাঁচতে হবে তো বর্তমান নিয়েই! কিন্তু রক্তে ভেজা এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেতে যে হারাতে হয়েছে ৩০ লক্ষ প্রাণ! ৪ লক্ষ মা-বোনের আহাজারিতে ভারী হয়েছে এই জনপদের বাতাস। কী করে ভুলি আমরা নিজেদের এই শেকড়কে? আর তাই চলছে অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্সের উদ্যোগে পাঁচ পর্বের কুইজ আয়োজন, ‘যেভাবে পূর্ব পাকিস্তান থেকে হলো বাংলাদেশ’। কুইজের মাধ্যমেই হোক ইতিহাসের পাঠ। আজ থাকছে চতুর্থ পর্ব। প্রথম পর্ব এই লিংকে। দ্বিতীয় পর্ব এই লিংকেতৃতীয় পর্ব এই লিংকে।

১। Base for all station of east Pakistan police, keep listening, watch, we are already attacked by the pak army. Try to save yourself, over “– এই ঘোষণা কে, কবে দিয়েছিলেন?

কনস্টেবল শাহজাহান মিয়া। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পাকিস্তানীদের হামলার পর সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সারা দেশের পুলিশ স্টেশনগুলোতে বেতারের মাধ্যমে সেই খবর ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তখনকার ওয়্যারলেস অপারেটর কনস্টেবল শাহজাহান মিয়া।

২। “পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘ পৃথিবীতে হিন্দুস্থানের কোন মানচিত্র স্বীকার করে না। ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর বাহিনীর কাফেলা দিল্লীতে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রসংঘের একটি কর্মীও বিশ্রাম গ্রহণ করবে না। এখন থেকে দেশের কোন পাঠাগার, গ্রন্থাগার, পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র বা দোকানে পাকিস্তানের আদর্শবিরোধী কোন পুস্তক রাখা চলিবে না। কোন স্থান, গ্রন্থাগার ও দোকানে পাকিস্তানের আদর্শ ও সংহতিবিরোধী পুস্তক দেখা গেলে তা আগুনে পোড়ানো হবে”- ১৯৭১ সালে এই বক্তব্য কে, কোথায় দিয়েছিলো?

আলবদরের উপকমান্ডার, পূর্বপাকিস্তানের আলবদর প্রধান প্রধান আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ২১ মে ১৯৭১, আলবদরের প্রতিষ্ঠাকালীন বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে এই কথাগুলো বলেছিল।

৩। দ্যা আর্মি অফ ইয়াহিয়া খান হ্যাড ফেইলড টু ক্রাশড দ্যা স্পিরিট অফ দ্যা পিপল অফ ইস্ট পাকিস্তান... ইট ওয়াজ দ্যা ফ্রিডম অর ডেথ!- এই অসামান্য উক্তিটি কার?

উক্তিটি ছিল দুই নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফের।

৪। ‘হানাদার পাক বাহিনীর সহযোগী আলবদররা পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের পর যখন পালিয়ে যায়, তখন তাদের হেড কোয়ার্টারে পাওয়া গেল এক বস্তা বোঝাই চোখ। এ দেশের মানুষের চোখ।“- দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় ১৯শে জানুয়ারি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত লেখায় মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ যে আলবদর হেডকোয়াটারের কথা বলেছেন, সেটা কোথায় ছিল?

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত শরীর চর্চা কেন্দ্র (ফিজিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার)। একাত্তরে একটি ভয়ঙ্কর নাম হয়ে গিয়েছিল এটি। এখানেই ছিল আল বদর বাহিনীর হেডকোয়ার্টার।

৫। এখন পর্যন্ত কতজন যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের ফাঁসী কার্যকর হয়েছে?

মানবতাবিরোধী অপরাধে, গণহত্যা-গণধর্ষণে যুক্ত থাকার অপরাধে এখন পর্যন্ত ৬ জন যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের ফাঁসী কার্যকর হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসী কার্যকর হয়েছে এখন পর্যন্ত।

৬। স্বাধীনতা যুদ্ধে সবচেয়ে সফল গেরিলা অপারেশনগুলোর একটি ছিলো অপারেশন জ্যাকপট। নৌ-সেক্টরের কমান্ডোরা দুঃসাহসী এ অপারেশন চালান। কোন সেক্টরে এই অসমসাহসী অপারেশনটি সংগঠিত হয়েছিল?

মুক্তিযুদ্ধের ১০ নম্বর সেক্টরটি ছিল পুরোটাই নৌ-সেক্টর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত। এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।

৭। জাতিসংঘের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে দৃঢ় গলায় বাংলাদেশের চলমান পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ভয়ংকর গণহত্যা পরিস্থিতির বিবরণ উপস্থাপন করেন কোন রাস্ট্রনায়ক?

জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশে চলমান গণহত্যা পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

৮। বঙ্গবন্ধু জীবনে প্রথম কারাভোগ করেন কত সালে?

১৯৩৮ সালের মার্চ বা এপ্রিলের ঘটনা। বালক শেখ মুজিবের বন্ধু মালেককে হিন্দু মহাসভার সভাপতি সুরেন ব্যানার্জি আটকে রাখলে মুজিব তার বন্ধু বান্ধব নিয়ে মালেককে উদ্ধার করতে যান। সেখানে দু পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়। রমাপদ দত্ত নামের এক ব্যক্তি মুজিবকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে মুজিবও লাঠি দিয়ে তা ঠেকান, এবং এতে রমাপদের মাথা ফেটে যায়। পরবর্তীতে সুরেন ব্যানার্জিরা মামলা ঠুকে দেন যে মুজিব ছুড়ি মেরে রমাপদকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। ফলে ১৯৩৮ সালে তাকে প্রথমবারের মতো জেলে যেতে হয়। ৭দিন পর তিনি জামিন পান।

৯। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবার দুইদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর কোন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হন?

মহানন্দা নদীর তীরে শত্রুর প্রতিরক্ষা ভাঙ্গার প্রচেষ্টার সময় ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর শহীদ হন।

১০। ১৯৭৪ সালে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দলকে একছাতার নীচে আনতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগের পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম নিষিদ্ধ করেন কোন দলকে?

বাকশাল হবার পর প্রথম নিষিদ্ধ হওয়া দলের নাম ছিল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।

সার্বিক সহযোগিতায়- বিজ্ঞানমনস্ক বাংলাদেশের জন্যে অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স। আরো জানতে যোগাযোগ করুন- 01847103102

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-