মনের অন্দরমহললেখালেখি

ভাগ্যিস, সেদিন হেলমেটটা ছিল!

রাতুল রাহা

আজ হয়ত এই কথাগুলো লেখার জন্য বেঁচে থাকতাম না। নতুন জীবন নিয়ে ফিরে এলাম, নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে। যে মিরাকলে আমি বিশ্বাস করতাম, সেটিই ঘটলো আমার সাথে।

কাল সকালে একটা রাইড ছিলো, তাই সাইকেল পাম্প করাতে নিয়ে বের হয়েছিলাম রাত ৮টার দিকে। কাছাকাছি গেলে, হেলমেট নেই না গত দুই মাস ধরে। অনেকদিনে ধুলো জমে গেছিলো হেলমেট-গ্লাভসে। আজও নেয়ার কথা ছিলো না। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তি যেন আজ আমার কানে বারবার বলছিলো- হেলমেট-গ্লাভস নে। দুইবার হাতে নিয়েছি আবার দুইবার রেখে দিয়েছি। তৃতীয়বার ধুলো ময়লা ঝেড়ে হেলমেট গ্লাভস পরে নিয়েছিলাম। সিলেট-সুনামগঞ্জ হাইওয়েতে ‘ট্রাকের বেপরোয়া’ গতি সম্পর্কে সিলেটবাসীর অভিযোগ অনেকদিনের।

খুব আস্তে আস্তে চালাচ্ছিলাম, পাঠানটুলা পয়েন্টে(যেখানে ট্রাকের কারণে আরও অনেক এক্সিডেন্ট ঘটেছে এবং প্রাণনাশ হয়েছে) পিছন থেকে একটা ট্রাক দেখে বাঁ দিকে সরলাম, কিন্তু জানি না কিভাবে ট্রাকটি আমাকে এসে প্রায় ৩৫ কিলো/ঘন্টা বেগে ধাক্কা মারলো, রাস্তা ফাঁকা ছিলো, তারপরেও এসে পাশ থেকে আমার হ্যান্ডেলবারে ধাক্কা মারলো।

এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো এই বুঝি আমার মৃত্যু। সাইকেল সহ আমি অর্ধেক ট্রাকের নিচে। এক সেকেন্ডের জন্য চোখ বন্ধ করে ফেললাম, এই ভেবে যে ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হতে যাচ্ছি. মাথা খুব জোরে ধাক্কা খেলো পিচরাস্তায়, আমি যেভাবে ছিলাম সেভাবেই সাইকেলের স্যাডেলে।

ট্রাকটি পালিয়ে গেলো সাইকেলটিকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে । লোকজন এসে ধরাধরি করে তুললো । রক্তে হেলমেট ততক্ষণে ভিজে গিয়েছে, হাত পায়ে রক্ত। লোকজন নিয়ে গেলো একটা ফার্মেসিতে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিলাম। গত দশ বছরে বিন্দুমাত্র এক্সিডেন্টও হয় নি, কখনো। দশ বছর পর এই ঘটনা।

বন্ধু রিংকু, শুভ্রকে ফোন দিলাম, ওরাও দ্রুত চলে এলো। তারপর আরেকটি ফার্মেসিতে গিয়ে আহত স্থানগুলো ড্রেসিং করিয়ে চা-টা খেতে খেতে আড্ডা দিলাম বেশ কিছুক্ষণ। বন্ধুরা আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছিলো, কিন্তু কেন জানি আমি খুব স্বাভাবিক ছিলাম।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং হচ্ছে, এক্সিডেন্টের পর যে তাৎক্ষণিক ভয় বা ট্রমা সৃষ্টি হয় বা আফটার শক হয়, তার বিন্দুমাত্রও হয় নি। আমি খুব আশ্চর্যরকম নির্বিকার ছিলাম ঘটনাটি নিয়ে । অথচ আজ আমার লাশ নিয়ে বাড়ির লোক কান্নাকাটি করতে পারতো কয়েক ইঞ্চি এদিক সেদিক হলে।

যাই হোক, ভালো আছি, হেলমেট আমার জীবন বাঁচিয়ে দিলো । আমি সবসময় মানুষজনকে বলে এসেছি হেলমেটের কথা। অনেকে ঠাট্টা করতো, সাইকেলে আবার হেলমেট লাগে নাকি! হ্যাঁ, একটা হেলমেটের কারণেই বেঁচে গেছি আজ। রক্তাক্ত ছবিগুলা ফেসবুকে দিতে ইচ্ছে করছে না। হেলমেটও ভেঙে গেছে। এখন ভালো আছি।

ছবি কৃতজ্ঞতা: বিডি সাইক্লিস্ট ফেসবুক গ্রুপ।

Comments

Tags

Related Articles