“বিচ্ছুই হতে যাচ্ছে সর্বাধিক বিকৃত ফান সাপ্লিমেন্ট” – বিভাগীয় সম্পাদক, বিচ্ছু

bicchoo

বিচ্ছু! একসময়ের দুর্দান্ত জনপ্রিয় ফান ম্যাগাজিন। দৈনিক যুগান্তরের সঙ্গে প্রতি রোববার বিচ্ছু পৌঁছাত পাঠকদের হাতে। সম্পাদক ছিলেন তুমুল জনপ্রিয় আশীফ এন্তাজ রবি। রবির দীর্ঘ বিচ্ছুজীবন শেষে সম্পাদকের ডেস্কে ছিলেন লেখক, নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ। এরপর হুট করে বিচ্ছুর প্রকাশনা বন্ধ হয়।

চার বছর পর আবারো ফিরে আসছে বিচ্ছু। আজ রবিবার থেকেই শুরু হয়েছে বিচ্ছুর এই দ্বিতীয় ইনিংস। বিচ্ছুর এই নতুনভাবে এগিয়ে চলার শুরুতে এগিয়ে চলো’র এক ‘বিষময়কর’ রম্য সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়েছিলেন বিচ্ছুর নতুন বিভাগীয় সম্পাদক, বি.স. অথবা বিচ্ছুর ভাষায়, বিষ!

Ad

 

এচঃ বিচ্ছু ফিরলো তাহলে!
বিসঃ তাই, ফিরলো? জানতাম না তো! আপনি বললেন, এখন জানলাম।

এচঃ ইয়ে, না মানে বলছিলাম ফিরেই আসলো তাহলে, মানে এ ব্যাপারে কিছু বলেন আর কি…
বিসঃ পৃথিবী যেহেতু গোল, সবকিছুই ফিরে আসে। পুরাতন প্রেম, পুরাতন প্রেমিকা, ক্রিকেটারদের ফর্ম, উপরের দিকে মারা থুতু, বিচ্ছু, সবকিছুই!

এচঃ তাহলে বিচ্ছুকে ফিরে আসতে হলো কেন? মানে ফিরে আসার জিনিসের তো অভাব নাই। বিচ্ছুকেও ফিরতে হবে?
বিসঃ আসলে শুনেন, ফিরে আসার ব্যাপারটা এত সহজ না। সিস্টেম আছে অনেক! ফিরে আসা খুবই পরিশ্রমের কাজ, বহুত কষ্ট করা লাগে। এতদিন তো বিচ্ছু খায়াদায়া ঘুমায়া ফেসবুকিং কইরা আরামেই ছিল বহুত! কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থরক্ষায় বিচ্ছুকে ফিরে আসার মতো এমন বিশাল আত্মত্যাগটা করতেই হলো।

এচঃ বিচ্ছু ফিরে আসায় দেশ ও জাতির কি ধরণের উপকার হতে পারে বলে মনে করছেন?
বিসঃ দেশে আসলে যে চলমান অশান্তি, এর মূল কারণ হলো, দেশে শান্তি নাই! শান্তি নাই, কারণ দেশে আসলে প্রেম নাই, দেশ প্রেমশূণ্যতায় ভুগছে… ব্যাপারটা অনেকটা রক্তশূণ্যতার মত…

এচঃ আহা, বুঝলাম, কিন্তু বিচ্ছু এই প্রেমশূণ্যতা দূর করতে কীভাবে অবদান রাখবে? ইটস এ ফান সাপ্লিমেন্ট, রাইট? এইটা তো রোমান্টিক পত্রিকা না!
বিসঃ আরে, গার্লফ্রেন্ডের মত আধা কথা শুইনা কথা বলেন ক্যান? শোনেনই না… এখন এইযে দেশে প্রেমশূণ্যতা চলে, এইটা কেন? কেন? দেশে আসলে প্রেম করার সঠিক পরিবেশ নাই। আগে মানুষ প্রেম করতো কোথায়? পার্কে। কিন্তু পার্কে প্রেম করতে করতে কিছু একটা খাইতে থাকা প্রয়োজন। মানে একে অপরকে না আর কি, অন্যকিছু। কারণ, মুখ যদি কিছু চাবাইতে ব্যস্ত থাকে তাইলে কথা কম হবে। যদি কথা কম হয় তাহলে ঝগড়া হওয়ার সম্ভাবনা কম…

এচঃ হ্যাঁ, কিন্তু প্রেমিক প্রেমিকা তো আর বিচ্ছু খাইতে পারবে না?
বি.সঃ বিচ্ছু না খাক, বাদাম তো খাবে! কিন্তু বাদাম খাইতে হলে কী লাগবে? বাদামের ঠোঙ্গা! কিন্তু বাদাম বিক্রেতারা দীর্ঘদিন ধরে ঠিকঠাক বাদাম বেচতে পারেনা। কারণ বিচ্ছুর পাতাই সর্বাধিক পরিমাণ গারবেজ হিসেবে জমা হয়, ঠোঙ্গা বানানোর জন্য পর্যাপ্ত কাগজ পাওয়া সম্ভব হয়। আর বিচ্ছুর পাতা দিয়ে ঠোঙ্গা বানানোর যে আনন্দ, অন্য কাগজ দিয়ে তা নাই! এজন্য বিচ্ছু ফিরে আসার সাথে সাথে আবারো লাখ লাখ ঠোঙ্গা তৈরি হবে, আবারো বাদামের ব্যবসা বাড়বে, বাড়বে পার্কে প্রেমিক প্রেমিকার সংখ্যা! দেশে প্রেম ফিরে আসবে, দূর হবে অশান্তি…

bicchu

এচোঃ বোঝা গেল ব্যাপারটা! আচ্ছা, বিচ্ছুর যে পুরোনো জনপ্রিয়তা, এব্যাপারে আপনার কি মনে হয়, সে জায়গাটা ধরে রাখা কতটুকু চ্যালেঞ্জিং হতে পারে?
বিসঃ আমার বরং মনে হয় পাঠকদের জন্যই বিচ্ছুর ফিরে আসাটা বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে!

এচোঃ কিরকম?
বিসঃ মনে করেন, বাজারে বেশ কিছু ফান ম্যাগাজিন অলরেডিই আছে। পাঠককে অলরেডি প্রচুর পরিমাণে লেমনেস সহ্য করতে হয়। এর মধ্যে আরও একটা এমন তীব্র লেম জিনিস পাঠক কীভাবে হজম করবে, কি খেয়ে হজম করবে, হজম করতে না পারলে কি করবে, নানারকম চ্যালেঞ্জ। আশা করি, বিচ্ছু প্রকাশ হতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে হজমির বিক্রির পরিমাণও বাড়বে। আচ্ছা, এইটাও তো দেশের অর্থনীতিতে একটা উন্নতি, এইটাও নোট কইরা নেন দেশ ও জাতির উন্নতির লিস্টে…

এচঃ ইয়ে, অনলাইনে কিন্তু কিছু ভালো ফান সাইট, ভালো ওয়েব পোর্টালও আছে, যেমন ধরেন ইয়ে, এই যে এগিয়ে চলো ডট কম…
বিসঃ আরে মিয়া, আমরা কি নাই নাকি অনলাইনে? রাস্তার যে ফকির, এখন তো তারও একটা ফেসবুক একাউন্ট থাকে, পেজ থাকে, নাম থাকে এঞ্জেল ফকির অথবা ফকির খান। এই যে যেই রিকশায় কইরা আপনি অফিসে আসছেন, দেখবেন সেই রিকশাওয়ালারও নিজস্ব ফেসবুক ফ্যান পেজ আছে। বিচ্ছুর কি আর ফেসবুক নাই? ফেসবুক পেজের লিংকটা বলি দাড়ান, লাইক দিয়েন… facebook.com/bicchoooo

এচঃ ও হ্যাঁ, ফেসবুক পেজ। বাহ, দারুণ। কিন্তু বিস ভাই, একটা জিনিস বুঝলাম না… বিচ্ছুর ফেসবুক পেজের ইউজারনেমে এত গুলা ‘ও’ কেন?
বিসঃ ও মানে? ও কে? কার কথা বলতেসেন? কে? কারা?

এচঃ ও… মানে ইংরেজি বর্ণ ও!
বিসঃ ওওওও, আচ্ছা। ইয়ে, এইটার আসলে একটা ফিলসফি আছে। এই চারটা ‘ও’ যথাক্রমে বিভাগীয় সম্পাদকের রসবোধ, লেখার মান, কমনসেন্স আর শিক্ষাগত যোগ্যতা, এই চারটা জিনিসের পরিমাণ নির্দেশ করে। যেহেতু ইংরেজি ‘ও’ অনেকটা বাংলা ‘জিরো’র মতো দেখতে, মানে, বোঝেনই তো… ইট হ্যাজ এ হিউজ মেসেজ…

এচঃ আচ্ছা আচ্ছা, বাহ! খুবই ইন্টেলেকচুয়াল ব্যাপার। তো ফিরে আসার পর বিচ্ছুর লক্ষ্য কী হতে যাচ্ছে?
বিসঃ আসলে দেশের সর্বাধিক বিকৃত ফান সাপ্লিমেন্ট হওয়াই আমাদের লক্ষ্য! আচ্ছা ওইযে বেশি বিক্রি হয় যেইটা ওইটার বানানটা কিরাম যেন? আমি বানানে একটু উইক…

এচঃ এগিয়ে চলোর পক্ষ থেকে বিচ্ছুকে শুভেচ্ছা, বিচ্ছুর যাত্রা সাফল্যময় হোক, এগিয়ে চলুক বিচ্ছু…
বিসঃ রাখেন মিয়া শুভেচ্ছা, আপাতত আমার এগিয়ে চলা বেশি দরকার, আমার যাওয়ার ভাড়াটা দিয়েন আগে, সাক্ষাৎকার নিবেন শুইনা পার্ট মাইরা সিএনজিতে আসছি, একটা টাকা নাই মানিব্যাগে… আপাতত যাওয়ার ভাড়াটা দিলে আমি বাসার দিকে এগিয়ে চলতে পারতাম…

(বিচ্ছু আবারও প্রকাশিত হচ্ছে আজ রবিবার, ১৬ অক্টোবর থেকে, দৈনিক যুগান্তরের সঙ্গে। প্রকাশিত হবে আগের মতোই, প্রতি রবিবার…)

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 5.00 out of 5)
Loading...
Ad

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

Ad