আক্ষেপ, হতাশা আর প্রাপ্তির গল্প…

মাঝে মাঝে ক্রিকেটের সঙ্গে জীবনের বড্ড মিল খুঁজে পাওয়া যায়। জীবনের মতো ক্রিকেটও আপনাকে অনেকগুলো পথ বাতলে দিবে, সেখান থেকে সঠিক পথটাই আপনাকে খুঁজে নিতে হবে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পাওয়া সুযোগগুলো লুফে নিতে হবে দু হাত ভরে! তবেই না আপনি বিজয়ী!

ক্রিকেট এমনই! সব ম্যাচে ভাল খেলেও জেতা যায় না। প্রতিটা ম্যাচ, প্রতিটা ম্যাচের ছোট ছোট সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। আর সেসব ঠিকঠাক করেই ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। অথচ প্রথম ওয়ানডেতে জিতে যাওয়া ম্যাচটা মুঠো থেকে যেভাবে চুরি হয়েছিল, তা না হলে সিরিজ জয়ের এই ব্যবধানটা হয়তো বাংলাদেশের পক্ষেই থাকতো! সেই সাথে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে সিরিজ হারানোর সাথে সাথে দেশের মাটিতে টানা সাতটি সিরিজ জেতাও হয়ে যেত! অথচ এখন সেখানে মাথা উঁচু রেখেই আমরা বলব, দেশের মাটিতে সর্বশেষ আটটি সিরিজের মাঝে সাতটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ!    

টসের কথাই ভাবুন। বৃষ্টির উপদ্রব, শিশির- নানান ব্যাপার মাথায় রেখে সিরিজজুড়েই টস ছিল অন্যতম এক্স-ফ্যাক্টর। অথচ টানা তিনটি ম্যাচেই টসে হেরেছেন মাশরাফি! তারপর পয়মন্ত ভেন্যু হিসেবে চট্টগ্রামের কথাই ভাবুন। ম্যাচের আগের রেকর্ড বলছিল, সেই ২০১০-সালের পর চট্টগ্রামে ম্যাচ হারেনি বাংলাদেশ। এই মাঠেই সর্বশেষ ৮টি ম্যাচের মাঝে ৭টিতেই জয়ের সাফল্য বাংলাদেশের। ব্যাটিংয়ে নেমে দলের রানও হয়েছে জেতার মতো, ২৭৭। সেটিও পর্যাপ্তই বলতে হবে, কারণ পরে ব্যাট করে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান মাত্র ২৩৯! আর পরে ব্যাট করে জয়ের রেকর্ডটাও যে বাংলাদেশের, ২০১১ এর বিশ্বকাপে ২২৫-এর টার্গেট তাড়া করে হারিয়েছিলো এই ইংল্যান্ডকেই! অথচ কী হলো! শিশিরের প্রভাবে আমাদের স্পিনাররা বলটা ঠিকমত গ্রিপও করতে পারছিলেন না। ম্যাচশেষে মাশরাফি বলছেন-

“আজকে যে উইকেট ছিল, শিশির পড়ে স্পিনাররা আর টার্ন পায়নি। খুব সহজ হয়ে গিয়েছিল ওদের কাজ, যেটা খুব কঠিন হওয়ার কথা ছিল। যে পরিমাণ শিশির পড়েছে, এর অর্ধেকও পড়লে আমি নিশ্চিত ২৭৮ রান তাড়ায় ম্যাচটি পুরোপুরি অন্যরকম হতে পারতো।”  

২৭৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য এতটুকু সুযোগও দেয়নি আজ। বাংলাদেশের ইনিংসে যেখানে তামিম, ইমরুল, সাব্বিরের ফিফটি মিসের আক্ষেপ। সেখানে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারে দুইটি অর্ধশতক। দুই দল ৬টি করে উইকেট হারালেও ব্যক্তিগত রানেই মূলত ব্যবধান গড়েছে ইংল্যান্ড। ভিন্সের ৩২ এর বিপরীতে তামিমের ৪৫, বিলিংসের ৬২ এর বিপরীতে ইমরুলের ৪৬, ডাকলেট এর ৬৩ এর বিপরীতে সাব্বিরের ৪৯! মিডল-অর্ডারে বাংলাদেশের তিনজন পারই হতে পারেননি দুই অংকের ঘর, সেখানে ইংল্যান্ডের একমাত্র মঈন আলী। বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং তিন জায়গায় আজ এগিয়ে ছিলো ইংল্যান্ড। সিরিজ জিতে তার ফলও এসেছে।

কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সুযোগ এসেছিলো প্রথম ওয়ানডেতে! ৩১০-এর বড় টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইমরুলের শতক আর সাকিবের অর্ধশতকে বাংলাদেশ জয়ের দাঁড়প্রান্তে। ব্যক্তিগত ৭৯ রানে সাকিব ফিরে যাবার আগে বাংলাদেশের দরকার ছিলো ৫১ বলে ৩৯ রান। নিশ্চিত জেতা ম্যাচ বাংলাদেশ হেরেছিল ২১ রানে। অথচ আজ পঞ্চম উইকেটে বাটলার দলকে ২২৭ রানে রেখে যখন আউট হলেন, ইংল্যান্ডের দরকার তখন ৫ উইকেটে ৫৬ বলে ৫১ রান। প্রথম ম্যাচের চেয়ে কিঞ্চিৎ কঠিনই! এই কঠিন কাজটি খুব সহজেই শেষ করলেন স্টোকস-ওকস জুটি। ৪ উইকেটের ম্যাচ জয়ের সাথে ২-১ এ সিরিজটা জিতে নিলেন।

অনেক আক্ষেপের গল্প আছে, প্রাপ্তির হাতছানি থাকা সত্ত্বেও কাছে গিয়ে তাকে ছুঁতে না পারার বেদনা আছে। কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপের পর যে ইংল্যান্ডকে ক্রিকেটবিশ্ব দেখছে, সেই ইংল্যান্ড হলো সাহসী ইংল্যান্ড, আক্রমণাত্মক সুন্দর ইংল্যান্ড, জাত-পাত কৌলীন্যের বেড়াজাল ছিঁড়ে প্রথা ভঙ্গকারী স্বপ্নবাজ ইংল্যান্ড! সেই ইংল্যান্ডের সাথে পুরো সিরিজে সমানে সমানে পাল্লা দিয়েছে বাংলাদেশ। এর চাইতে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-