খেলা ও ধুলা

পাকিস্তানকে নিয়ে আর কত ছেলেখেলা করব আমরা?

খেলাধুলায় এখন ‘ঈদ’ চলছে! ঈদ নয়তো কি? ক্রীড়ায় শেষ সপ্তাহ জুড়ে জয়রথ চলছে বাংলাদেশের। ক্রিকেট কিংবা ফুটবল, সব কিছুতেই চলছে বিজয়োল্লাস। যেখানে যাকে যেভাবে পাচ্ছে, হারিয়ে দিচ্ছে! হারলেও শুরুতেই রণে ভঙ্গ দিচ্ছে না। গত সাতদিনে ক্রিকেট এবং ফুটবল মিলিয়ে বাংলাদেশ তিনবার হারিয়েছে পাকিস্তানকে! আয়োজক কিংবা পৃষ্ঠপোষক, সবাই যখন ভারত-পাকিস্তান এশিয়া কাপ ফাইনাল ঠিক করে রেখেছে আগেভাগেই, আফগানিস্তানকেও যখন বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী ধরে মন্তব্য করছিলো ক্রিকেটবোদ্ধারা- ইঞ্জুরিতে জর্জরিত বাংলাদেশ তখন সাকিব-তামিমকে ছাড়াই এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে। উঠেছে ফাইনালে। গোটা আসরে উড়তে থাকা ভারতকে ফাইনালে মাটিতে নামিয়ে ছেড়েছে, শেষ বলে এসে জিততে হয়েছে তাদের।

দুর্দান্ত বাংলাদেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে বিরাট কোহলি, চামিন্দা ভাসসহ অধিকাংশ ক্রিকেট খেলোয়াড় ও বোদ্ধাদের। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে বরাবরই নাক উঁচু করা পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকর রমিজ রাজাও এশিয়া কাপের বাংলাদেশকে দেখে নিজ দেশ পাকিস্তানকে পরামর্শ দিয়েছে,

‘এ থেকে পাকিস্তানকে শিখতে হবে। পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে তাদের অনেক কিছু ঠিক করতে হবে। আপনার অধিনায়কত্ব ঠিক করতে হবে, ওপেনিং জুটি ঠিক হতে হবে।’

মাশরাফিকে বলছে, ‘কাপ্তান অব এশিয়া: মাশরাফি বিন মুর্তজা’। এমন খেল খেলেছে বাংলাদেশ, সম্মান আদায় করে নিয়েছে রমিজ রাজারও!

বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, ক্রিকেট-ফুটবল, জয় বাংলা, পাকিস্তান বধ
বুলেট গতিতে আসা শোয়েব মালিকের ক্যাচ ধরার পর মাশরাফি।

বড়দের এমন খেলা দেখে যুবারাই বা বাদ যাবে কেনো! মাশরাফিদের পর একদিন আগে যুবারাও হারাল পাকিস্তানকে। আগের ম্যাচে ৯ জনের অভিষেক ছিল শ্রীলংকার সাথে, হোঁচটও খেয়েছে। কিন্তু অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তিন উইকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে ঘুরিয়েও দাঁড়িয়েছে পোক্তভাবে। মাশরাফিদের মতো যুবাদেরও ছিলো এটি ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ, হেরে গেলেই ছিটকে যেত আসর থেকে। ‘জিততেই হবে’ এমন ম্যাচে পাকিস্তানকে পেলেই যেন জ্বলে উঠছে, হারিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ!

বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, ক্রিকেট-ফুটবল, জয় বাংলা, পাকিস্তান বধ
ছবিটি বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচের।

ফেরা যাক ফুটবলের ‘ঈদ’- এ! টানা চার আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ হয়ে সাফ ব্যর্থতা, সাফল্যের বিচারে ক্রিকেটের চেয়েছে ফুটবল পিছিয়ে যোজন যোজন! তবে আশার আলো দেখাচ্ছেন নতুন কোচ জেমি ডি। এবার সাফে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ বাদ পড়েছে ভাগ্যদোষে, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে। সাফেও বাংলাদেশ হারিয়ে ছিলো পাকিস্তানকে। এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ডামাডোল শেষে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ’ ফুটবল যে সিলেটে শুরু হলো, সে খোঁজ হয়তো রাখেননি অনেকেই। তবে গতকাল সিলেট ঠিকই মেতেছে, মাতিয়েছে সুফিল-জাফর-বিপলুরা। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিপলুর গোলে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে লাওসকে।

বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, ক্রিকেট-ফুটবল, জয় বাংলা, পাকিস্তান বধ
সাফে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ সময়ে করা গোলের পর তপু বর্মণের উদযাপন।
বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, ক্রিকেট-ফুটবল, জয় বাংলা, পাকিস্তান বধ
বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে বিপলুর একমাত্র গোলেই ১-০ গলে জয় পায় বাংলাদেশ।

আর গত পরশু তো বাংলাদেশ প্রমিলা ফুটবলের অনুর্ধ্ব-১৮ দলতো গড়ে বসলো ইতিহাস। পাকিস্তানের জালে বল জড়িয়েছে ১৭ বার, জিতেছে ১৭-০ গোলের ব্যবধানে! সাফের এই জয়ে কিছুটা হলেও চাপা দেয়া গেলো একটা বিস্মৃতির, ১৯৭৮ ব্যাংকক এশিয়ান গেমসের হকিতে পাকিস্তানের কাছে ১৭-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেটিকে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বিপর্যয়কর ফল হিসেবে ধরা হয়। ৪০ বছর পর সেই পাকিস্তানকেই মেয়েদের ফুটবলে ১৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, ক্রিকেট-ফুটবল, জয় বাংলা, পাকিস্তান বধ
অনুর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের জালে বাংলাদেশ বল জড়িয়েছে ১৭ বার!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসানো মেয়েদের ফুটবলে এখন অতিপরিচিত দৃশ্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বয়সভিত্তিক ফুটবলে প্রায়ই প্রতিপক্ষকে ৮/১০ গোলের ব্যবধানে উরিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। পাকিস্তানকে গত মাসেও ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৫ দল হারিয়েছিল ১৪-০ গোলে। বাংলাদেশের মেয়েরা গত দুই/তিন বছরে বয়সভিত্তিক ফুটবলে ইরান, লেবানন, ভারত, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তানের মতো দলকে হারিয়েছে। গতবছর প্রথমবারের মত অনূর্ধ্ব–১৬ এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপে চূড়ান্তপর্বে খেলেছে বাংলার বাঘিনীরা।

বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, ক্রিকেট-ফুটবল, জয় বাংলা, পাকিস্তান বধ
পাকিস্তানকে গত মাসেও ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৫ দল হারিয়েছিল ১৪-০ গোলে।

খেলায় জয় আনন্দ দেয়, কিন্তু জন্মশত্রু পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দেয় পৈচাশিক আনন্দ। এক সময় আমাদের শাসন আর শোষণ করা পাকিস্তানকে আমরা হারিয়ে দিচ্ছি নিয়ম করে- ভেবেই কেমন এক বুক শান্তির নিঃশ্বাস ছাড়া যায়, ‘জয় বাংলা’ বলে একটা চিৎকার দেয়া যায়।

মাশরাফি-সাবিনা কিংবা জামাল ভূঁইয়া, জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো…

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Tanvir Hossain Jony

Apprentice Sub-editor, Egiye-Cholo.com, General Secretary, Lighter Youth Foundation.

Related Articles

Close