ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা চার ম্যাচ। দেশের মাটিতে। প্রতিপক্ষ খুব কঠিন ছিল না। এই সিরিজে তিন ম্যাচ। প্রথম দুই ম্যাচে উইকেট ছিল দেশের মতোই। গতকাল খুব ভালো ব্যাটিং উইকেট। তারপরও পারলেন না।

টিম ম্যানেজমেন্টের জায়গা থেকে দরকার ছিল তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ ও সমর্থন দেওয়া। সেটি দেওয়া হয়েছে। তবু পারলেন না। মহামূল্য সুযোগের কতটা হেলায় অপচয়!

বিশ্বকাপের এক বছরও নেই। খুব ভালো লাগত না, এই সময়টায় অন্তত মোটামুটি ভালো করলেও দল তাকে নিয়েই বিশ্বকাপ পর্যন্ত ভাবত। এভাবে একজনের পর সুযোগ হারাচ্ছেন, আর বিপদে পড়ছে দল। দ্বিতীয় ওপেনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একজনকেও পাওয়া যাচ্ছে না!

বিজয় দলে ফিরেছিল, কারণ অন্যরা ব্যর্থ হয়েছিল। এখন বিজয়ও ব্যর্থ। আবার ফিরতে হবে হয়ত পুরোনো ব্যর্থদের কাছে। অথবা সংশয়-সম্ভাবনার দোলাচল নিয়ে তাকাতে হবে কোনো নতুনের পানে। দুটিই ঝুঁকিপূর্ণ, বিশ্বকাপের এক বছরও নেই।

সময়ই বলবে, কোন পথে হাঁটবে দল। তবে আমরা ক্রিকেটপ্রেমীরা নিঃসন্দেহে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে অনন্য। কেবল আমরাই সম্ভবত, অধিনায়ক, টিম ম্যানেজমেন্টের সমালোচনা করি দলের কারও পাশে দাঁড়ানোয়! সৌম্যর পাশে দাঁড়িয়েছিল, সমালোচনা হয়েছে। লিটনের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তুমুল সমালোচনা হয়েছে। এখন বিজয়কে কেন এত সুযোগ দিল, সেটারও সমালোচনা হচ্ছে!

সৌম্য-লিটন সুযোগ পেয়েছে। আমরা দুজনের ধর্ম নিয়ে টানটানি করেছি, কোটা তত্ত্ব বের করেছি, একজনকে ‘স্যার’ বানিয়েছি, আরেকজনকে ‘লর্ড’ বানিয়েছি। ফেসবুকে তখন তুফান দেখেছি, ‘বিজয়কে দলে চাই।’ এখন বিজয়কে নেওয়া হয়েছে, অবশ্যই অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব ছিল তাকে পূর্ণ সমর্থন ও পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া। অথচ এখন ঝড় দেখছি, কেন তাকে এত সুযোগ দেওয়া হলো!

যদিও আমরা নিজেরাও জানি না, আমরা কি চাই। তার পরও আমাদের দাবি মানতে হবে। ক্রিকেট খেলাটা একটা প্রসেসের ব্যাপার। দলকে, টিম ম্যানেজমেন্টকে সেই প্রসেস মানার চেষ্টা করতে হয়। সবসময় পরে না হয়ত। তবে চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু আমরা প্রসেস বুঝি না। আমরা শুধু বুঝি, “অমুককে দলে চাই… তমুককে দলে চাই।” “Dola cai, Dola cai” বলে ফেসবুকে ঝড় তুলি। যে দলের বাইরে আছে, আমাদের কাছে সেই ক্রিকেটারই হলো সকল মুশকিলের আসান!

Comments
Spread the love