ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

“দয়া করে কেউ আমায় বাঁচিয়ে রাখার নিশ্চয়তাটুকু দিন!”

রুটি বেলার বেলুন হাতে একটি কক্ষে এক ছেলে একজন মেয়েকে বেধড়ক পেটাচ্ছে, মেয়ের আকুতি মিনতিতেও তার মন গলছে না। এর মধ্যেই দৃশ্যপটে আরেকজন, হলুদ রঙয়ের শার্ট পরা। সে পেটাচ্ছে ঐ কক্ষেই থাকা আরেকটি মেয়েকে। দ্বিতীয় নির্যাতিতা ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে প্রথম নির্যাতিতার আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করলেন, পারলেন না। তাকে সেখানই জুতা দিয়ে মারছেন হলুদ শার্ট পরিহিত জন। এরপর তাকে একজন চুল ধরে রেখেছে, আর হলুদ শার্ট পরিহিত জন এবার জুতা রেখে রুটির বেলুন দিয়ে প্রচন্ড ভাবে পায়ে মারছে। এক নাগাড়ে মেরেই যাচ্ছে, যেন পা-গুলো ভেঙ্গেই ফেলবেন! দুইজন মেয়ে চিৎকার করে যাচ্ছে…

উপরের লিখা পড়ে সিনেমার কোন বর্বর ভিলেনের নির্যাতনের গল্পের মত মনে হলেও, এটি একটি সত্য ঘটনা। উপরের ঘটনাটির ভিডিওচিত্র সম্প্রতি ফেসবুকে আপলোড করেছেন ঐ ঘটনায় নির্যাতনের স্বীকার একজন নির্যাতিতা। ভিডিওটিতে দেখা হলুদ রঙয়ের শার্ট পরিহিত সেই ছেলেটির নাম মুজিবুর রহমান অনিক, মিরপুরের সরকারী বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি। মুজিবুর রহমান অনিকের সাথে থাকা অন্যজনের নাম সাদেক প্রধানীয়া। শুভ্র মাহমুদ নামের যে নির্যাতিতা ভিডিও চিত্রটি আপলোড করেছেন, তিনি নিজেও বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। উক্ত ঘটনায় অনিক সহ মোট আট জনের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় নারী নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলাও করেছেন নির্যাতিতা শুভ্র মাহমুদ।

নির্যাতক ও নির্যাতিতা ছাত্রলীগের শুনে ঘটনা দলীয় কোন্দল মনে হলেও, এর নেপথ্যে ঘটনা ভয়াবহ। এবং নারী নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা মামলা থাকা অবস্থায়ও নির্যাতক মুজিবুর রহমান অনিক দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নির্যাতিতার ভাষ্যমতে, থানায় মামলা থাকা অবস্থায় তার এই স্বগৌরবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো পিছনে রয়েছে একজন এমপির হাত।

ভিডিও চিত্রের ঘটনাটি ২০১৭ সালের অক্টোবরের ২৪ তারিখ দুপুরের। উক্ত ঘটনায় অনিক ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃতও হয়েছেন। কিন্তু আকস্মিকভাবে গত মাসে ‘কোটা সংস্কার’ আন্দোলন চলাকালীন সময়ে নারী নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী অনিকের সেই বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়ে তাকে সরকারী বাংলা কলেজ সভাপতি পদে পুনরায় বহাল করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

শুভ্রা মাহমুদ ঘটনার পরদিন (২৫/১০/১৭) নির্যাতনের আঘাতে জমাটবাঁধা রক্তের দাগের ছবি সম্বলিত একটি লিখা ফেসবুকে পোষ্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন,

“২০১৫ সালেও সে আমার হাতে কোপ দিয়েছিল, মামলা করেছিলাম, এক পর্যায় সে আমায় মামলায় আপোষনামা দিতে বাধ্য করে, তার পরে অবশ্য আমার আপন ভাই হয়েছিল মুখে মুখে।”

“আমার অপরাধ, Maimuna kamal নামক একটি মেয়েকে দুইদিন আমার বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলাম!! যে কিনা অনিকের লালসার স্বীকার! যাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে অনিক। যদিও, অনিকের বক্তব্য সে মাইমুনাকে চিনেনা! অথচ, মাইমুনার সাথে তার সম্পর্কের যথেষ্ট প্রমান রয়েছে!”

“আর আপনাদের কাছে প্রশ্ন এর শাস্তি কি হওয়া উচিৎ? সকলের সাহায্য কামনা করছি, বেঁচে থাকার জন্য! শুধু এইটুকু বলব, আমি রাজনীতি, বাংলা কলেজ, মিরপুর এড়িয়া সব ছেড়ে দেব, তবু দয়া করে কেউ আমায় বাঁচিয়ে রাখার নিশ্চয়তাটুকু দিন!”

গতকাল রাতে একটি ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিও চিত্রসহ নির্যাতনের প্রমান হিসেবে তিনি ফেসবুকে আপলোড করেন। সেটির ক্যাপশনে শুভ্রা মাহমুদ লিখেন,

“এই সেই ‘মুজিবুর রহমান অনিক’-( বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি) আর তার সহযোগী ‘সাদেক প্রধানীয়া’ আমায় অত্যাচার করেছিল। কে কি বলবেন বলুন। আমি মিথ্যা বলিনি, আজ আমি প্রমান দিয়েছি, আমি এবার বিচার চাই, সোহাগ ভাই, জাকির ভাই পুরো ছাত্রলীগের কাছে আজ বিচার চাই আমি। আমার বাসায় এসে এভাবে মেরেছিল আমায়, আমি এর বিচার চাই! চিৎকার করে বলেছিলাম, কেউ বিশ্বাস করেননি, আজ কার কি বলার আছে বলুন। আমি শুনতে চাই।”

এছাড়া ২০১৫ সালে বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের আরেক নেত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহরা বৃষ্টির আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলাতেও আসামি ছিলেন মুজিবর রহমান অনিক। (সূত্র- সমকাল)

শুভ্র মাহমুদের আপলোড করা ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close