এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

যেখানে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে অনন্য বাংলাদেশ!

সৈকত খান

হিন্দু মুসলমান বিভক্তি থেকে ভারত ভাগ হলো। পাকিস্তান বা ভারত খুব আবেগ নিয়ে যাকে স্বাধীনতা বলে আসলে তা বৃটিশ ভারতের ডমেনিয়াল ভাগ করে শাসন ভার কারও উপর ন্যস্ত করা। যা হোক কিভাবে এই বিভক্তি টা এলো তা একটু যেনে আসা যাক।

সম্রাট আকবর এর শাসন কাল কে ইতিহাসে মুসলিম শাসন হিসেবেই অভিহিত করা হয়েছে। মুঘল স্থাপত্য, সংগীত, শিল্প অনন্য এক মাত্রায় যায় যা ভারত কে সমৃদ্ধ করেছে।  কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যায় আকবরের প্রধান সেনাপতি ছিলেন রাজা মান সিং। জি হাঁ ভাই। একজন হিন্দু ব্যক্তি ছিলেন মুসলমান শাসকের প্রধান সেনাপতি। 

আকবর এর সাথে হিন্দু রাজা রানা প্রতাপ সাহেবের যুদ্ধ হয় হলদী ঘাটি নামক ময়দানে। সেখানে দেখা যায় রাণাপ্রতাপ সাহেবের প্রধান সেনাপতি হাকিম খান শুর। ভাই চোখ কপালে উঠল? তুইলেন না হিন্দু রাজার সেনা পতি মুসলমান।  সহজ প্রশ্ন, আকবর বা রানা প্রতাপ সাহেবের মনের মাঝে কোথাও যদি ধর্মীয় অভিসন্ধী বা ধর্মীয় কারনে যুদ্ধ করার বিষয় থাকত তাহলে কি এনারা তাদের সেই সেনাপতিদের কে দায়িত্ব দিতেন?

আচ্ছা এরপর আসা যাক শিবাজী র কথায়। যারা ভারতে গেছেন তারা শিবাজী কে না চিনলেও নামটির সাথে খুবই পরিচিত। কারন রাস্তা ঘাট, ট্রেন স্টেশন থেকে শুরু করে অনেক কিছুর নামই করা হয়েছে এই মহান মানুষ টির নামে। কিন্তু সেখানে তাকে হিন্দু ধর্মের একজন ঝান্ডা ধারী বলা হচ্ছে। 

দেশভাগ, ভারতবর্ষ, মহাত্মা গান্ধী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা

আসলে নামে তিনি তাই’ই। কিন্তু তার সেনাবাহিনীর দিকে খেয়াল করলে দেখা যায় তার সেনা বাহিনীর প্রধান সেনাপতি রুস্তমী জামান থেকে শুরু করে ১২ জন ছিলেন মুসলমান।  উনি জাতিতে হিন্দু হয়ে ১২ জন মুসলিম সেনাপতি কেন রাখলেন? যদি মুসলমান রা এখন হিন্দুদের যেভাবে দেখে বা হিন্দু রা যেভাবে দেখে মুসলমানদের তেমন কোন জিনিসের ছিটে ফোটাও থাকত তাহলে ত এমন টা সম্ভব হওয়ার কথা না। 

এরপর আসেন, টিপু সুলতান এর একটা গল্পে। দক্ষিন ভারতের মহিশূর এর রাজা ছিলেন। অত্যন্ত সাহসী সুপুরুষ। শ্রীরঙ্গপত্তনম নামক এক যায়গায় দূর্গ ছিল তার। মারাঠা রাজা এ দূর্গ আক্রমণ করে টিকতে না পেরে পলায়ন করার সময় শ্রীরঙ্গপত্তনম এর একটি মন্দীর ভেঙ্গে দিয়ে যান। মারাঠা রাজা কিন্তু হিন্দু ছিলেন। যেখানে টিপু সুলতান মুসলিম। তাহলে হিন্দু হয়ে মারাঠা রাজা কেন মন্দীর ভাংলেন? নিশ্চই তাদের মাঝে ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ হয় নাই।

আচ্ছা, এতকিছু বলার কারন হল এ অঞ্চল ধর্মীয় গোঁড়ামির অঞ্চল ছিল না। কিন্তু কিভাবে হল? এখানে জড়িয়ে আছে ইংরেজদের নাম। তবে সব টুকু দোষ তাদের দিলেও ভূল হবে। যা হোক গল্পের আকারে কিছু লেখার চেষ্টা করব। 

১৬১২ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এর সাথে চুক্তি করে সুরাট বন্দরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী প্রথম তাদের ব্যাবসায়ীক কুঠি স্থাপ্ন করে। এর পর তারা আরও কয়েকটি অঞ্চলে ব্যবসায়িক কুঠি স্থাপনের মাধ্যমে নিজেরা শাসকের ভূমিকায় গেলেও পুরো ভারত তাদের ছিল না। ১৭৫৭ সালে পলাশীতে নবাব সিরাজ উদ দৌলা কে ষড়যন্ত্র করে হারানোর মধ্য দিয়ে ভারতে কোম্পানির শাসন শুরু হয়। বাংলার গুরূত্ব কিছুটা বুঝা যায় এখান থেকে। 

আচ্ছা। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসন ভার নেয়ার পর থেকে কিছুটা বিপ্লব, বা ইংরেজদের খেদানোর কিছু যুদ্ধ হয়েছে। যেমন বক্সারের যুদ্ধ। কিন্তু ১৮৫৭ সালে এসে হল সিপাহী বিদ্রোহ। ব্রিটিশ কোম্পানির সেনাবাহিনীতে যারা এদেশীয় ছিল তারা বিদ্রোহ করে। যদিও না না গুজব ও সমন্বয়হীনতার কারনে ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয় সিপাহী বিদ্রোহ। সেই বীর সৈন্যদের কে কামানের নলের মুখে বেঁধে তোপ দাগা হত। গণ হারে ফাঁসী দিয়ে মাথা ঝুলিয়ে রাখা হত। সেখানে হিন্দু, মুসলিম, শিখ সব ধর্মের মানুষই ছিল। 

এ ঘটনার পর ১৮৫৭ সালের ২ আগস্ট কোম্পানির শাসন থেকে ব্রিটিশ রয়াল সরকার এর আওতায় চলে যায় ভারত বর্ষ। বৃটিশ রা সংখ্যায় কম হলেও তারা সারা বিশ্বে শাসন করে বেরিয়েছে। তারা যেখানেই যেত সেখানে আগে নিজেদের ধামাধরা কিছু লোক তাদের দলে নিত। যেমন দারকানাথ ঠাকুর ছিলেন ইংরেজের ধামা ধরা প্রথম শ্রেণীর মানুষ। আবার মুসলমানদের বুদ্ধিজীবী শ্রেনী সিপাহী বিদ্রোহ কে সমর্থন করেনি। কলকাতা কেন্দ্রিক মুসলমানদের সংগঠন “আনজুমান” সেসময় ইংল্যান্ড এর রানীর কাছে চিঠি লিখে ধন্যবাদ জানান সিপাহী বিদ্রোহ দমন করার জন্য। আজব সেলুকাস। 

দেশভাগ, ভারতবর্ষ, মহাত্মা গান্ধী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা

কিন্তু সিপাহী বিদ্রোহ থেকে ইংরেজরা শিক্ষা নেয়। তারা বুঝতে পারে যে মানুষদের মাঝে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠলে তা একসময় না এক সময় বের হবে। তার তারা ক্ষোভ রিলিজ এর উপায় হিসেবে ভারতে একটি রাজনৈতিক দল করল। কংগ্রেস। তিন দিন যথেষ্ট তামাশার পর ১৮৮৫ সালে কংগ্রেস গঠিত হয়। সেখানে ইংরেজ দের ধামা ধরা অনেক মানুষ নেতা হন। তারা বছরের শেষে কোন বড় শহরে মিলিত হতেন আর ক্ষোভ ঝারতেন, না না কিছু সরকারের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পার্টির নামে বিভিন্ন এলাকায় এমন সভা হত। কিন্তু কংগ্রেস কখনও দাবি করেনি, তারা করেছিল আবেদন নিবেদন। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন যে আবেদন নিবেদন করে কিছু আদায় করা যায় না। আর নজরুল ত নিজের জীবন টা স্বাধীনতার জন্য যখন তখন বাজি রাখতেন। 

কংগ্রেস একটা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে এখানে হিন্দু মুসলমান সবাই ছিল এবং ভালো ভাবে খেয়াল করলে দেখবেন, গান্ধী, জিন্নাহ, নেহ্রু সবাই ব্যরিস্টার। ব্যরিস্টার মানে তারা ইংল্যান্ড এ পড়াশোনা করেছেন। আর গান্ধি জি র ডাইরি যারা পড়েছেন তারা জানবেন ব্যারিস্টারিতে কি পড়ানো হত।

আচ্ছা এর মাঝেই বৃটিশ বিরোধী নানা আন্দোলন বাংলায় শুরু হয়। সব কিছু মিলিয়ে বলা হত বাংলা যা আজ চিন্তা করে সারা ভারত তা চিন্তা করে আগামী কাল। এ জন্য বৃটিশ রা পূর্ব বাংলা আর আসাম কে এক করে একটি অঞ্চল আর পশ্চিম বাংলার ছোট অঞ্চল কে আলাদা করে আর একটি অঞ্চল করে বাংলা কে ভাগ করল। সেসময় তারা পূর্ব বংগের সংখ্যা গড়িষ্ঠ মুসলমানদের বুঝাতে চেষ্টা করল যে তারা ঢাকা কে রাজধানী করে পূর্ব বংগের মুসলমানদের উন্নতি করতে চায়। 

অপর দিকে জাতীয়তাবাদের যারা ধারক তারা একটি সংস্কৃতি কে ভাংগ, ভাষা কে ভাগ করা এসব অভিযোগে বঙ্গ ভঙ্গ কে রদ করার জন্য আন্দোলন করল। মুসলিম রা প্রথম থেকে যেহেতু ইংরেজী কে গ্রহন করেনি তাই হিন্দু রা শিক্ষায় এগিয়ে থাকায় এ আন্দোলনের নেতৃত্বে বা জাতিয়তাবাদের নেতৃত্বে হিন্দু মধ্যবিত্য শ্রেণী ছিল। এটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ইংরেজরা এদেশের মুসলমানদের বুঝালো যে দেখো হিন্দুরা তোমাদের বিরোধিতা করছে। আর তারা মুসলমান বিভিন্ন মানুষ কে কংগ্রেস এর বিপরীত একটি রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির জন্য উসকাতে শুরু করল।

এর মাঝেই আর একজন বাঙ্গালীর কথা না বললেই নয়। তিনি হলেন সুভাস বোস। তিনি সসস্ত্র সংগ্রাম কে ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের সমাধান মনে করতেন। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি হিটলারের সহযোগিতায় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি গঠন করে বার্মা সীমান্তে বৃটিশদের সাথে যুদ্ধ করেন। তিনি গান্ধী জি কে সম্মান করতেন কিন্তু তার সত্যাগ্রহ আন্দোলন কে সমর্থন করতে পারতেন না। 

দেশভাগ, ভারতবর্ষ, মহাত্মা গান্ধী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা

কংগ্রেসে ধীরে ধীরে বর্ণ হিন্দু বাদী সব কিছু খুব মাথা চারা দিয়ে ওঠে। যা মুসলমান ও শিখ রা ঠিক মেনে নিতে পারেনি। কারন এটি একটি সর্ব ভারতীয় প্লাটফর্ম ছিল। জাতীয়তাবাদী হিন্দুরাও হিন্দু মহাসভা বা এসব কাজ কর্মের ঘোর বিরোধী ছিল। কারন সুবাস বোস জানতেন হিন্দু মুসলমান ভাগ করা মানে নিজেদের শক্তি হারানো। কিন্তু তার কথা গুলো ঠিক কেউ কানে নেয় নি। 

এদিকে ১৯০৬ সালে আগা খান, নবাব সলিমুল্লাহ র চেষ্টায় মুসলিম লীগ গঠন হয়। জিন্নাহ কে তখন বলা হত হিন্দু মুসলমান ঐক্যের দূত। তিনি ১৪ দফা দাবি পেশ করেন। কিন্তু মতিলাল নেহেরু এক এক করে সব কটি দফা খন্ডন করে কংগ্রেস কে ঠিক সর্বভারতীয় প্লাটফর্ম রাখতে পারল না।

তখন জিন্নাহ বের হয়ে আসলেন কংগ্রেস থেকে। যোগ দিলেন মুসলিম লীগে। এখানে উল্লেখ থাকে যে মুসলিম লীগ, কংগ্রেস কেউ ই তখনও ভারত পাকিস্তান দুটি দেশ ভাবেনি। তখন এ ভারতীয় ভূখণ্ড পুরোটাই সবার দেশ।

কংগ্রেস তখন একটি মতবাদ কে নিয়ে আসে। তাহল ভারত হবে এক জাতির দেশ। বিষয় টা গোল বাধে এখানেই। ভারত কখনঈ এক জাতির দেশ নয়। এটি বহু জাতির দেশ। বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের নিজস্ব যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল তা ছিল ভাষা কে কেন্দ্র করে। ধর্ম কে নয়। যেমন, বাংলা, বিহার, পাঞ্জাব, সিন্ধ, মারাঠা ইত্যাদি। 

এখানে একটু ভেজাল লাগতে পারে। যে মুসলিম লীগ হল, কংগ্রেস হল। স্বাধীনতা সংগ্রাম কই? আসলে ইংরেজ রা বলেছিল তারা চলে যাবে এ দেশ থেকে। আমাদের এ জন্য তৈরি করছে। আমরা তৈরি হলেই তারা আমাদের উপর শাসন ভার দিয়ে চলে যাবে। তাই এখানে তাদের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন ঠিক যায় নি। তবুও কমিউনিস্ট পার্টি কিছুটা চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কমিউনিস্ট রাও ক্ষমতা কংগ্রেস বা মুসলিম লীগ পাবে বলেই ধরে নিয়ে ছিল। 

দেশভাগ, ভারতবর্ষ, মহাত্মা গান্ধী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা

আচ্ছা। আমাদের বিষয় তা নয়। এখানে কংগ্রেস এর মাঝে উগ্র হিন্দুত্ব বাদের কারনে অনেক মুসলিম নেতাই বের হয়ে আসেন আবার অনেকে থেকেও গিয়েছেন। যেমন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ। 

তাহলে বুঝতে হবে তখনও ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হবে এমন কিছু হয় নাই। ১৯৪০ জিন্নাহ সাহেব লাহোর প্রস্তাব রাখলেন। অনেকে এটাকে পাকিস্তানের প্রস্তাব বললেও আসলে সেখানে সব প্রদেশের শায়ত্ব শাসন সহ উগ্র হিন্দুত্ববাদী কংগ্রেসের আচরণের কারনে পশ্চিমে চারটি প্রদেশ সহ, পূর্বে বাংলা আসাম কে এক করে স্টেটস এর কথা বলা হয়। মানে একটি যুক্ত রাষ্ট্র সেই সাথে মুসলমানদের স্বার্থ সংস্লিষ্ট কয়েকটি অঞ্চল। 

এখানেও পাকিস্তান কোথাও উল্লেখ ছিল না। এটার সমর্থনে কলকাতায় ময়দানে মিটিং হল। মুসলিম লীগের নেতারা কিছুটা জ্বালাময়ী ভাষণ দিলেন। ডাইরেক্ট একশন। কিন্তু এই কথা টিই কাল হল। ইংরেজদের কান পরা ত ছিলই। তার মাঝে এটাকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে উসকানী বলা হলো। ময়দানে সভা শেষ হতে না হতেই দাঙ্গা শুরু হলো। দাংগা মানে খুনো খুনি, ধর্মের নামে, ৪ দিনে মারা যায় ৫ হাজার মানুষ। কলকাতায়। গ্রেট কলকাতা কিলিং নামে খ্যাত। মুসলমান রা এর প্রতিশোধ তুলল নোয়াখালী তে, নোয়াখালীর প্রতিশোধ হিন্দুরা তুললো বিহারে, বিহারের প্রতিশোধ তুললো মুসলমানরা পাঞ্জাবে আর পাঞ্জাবের প্রতিশোধ তোলা হল বোম্বেতে।

যেখানে বৃটিশদের বিরুদ্ধে দেশকে স্বাধীন করার জন্য আন্দোলন ছিল তা হয়ে গেল ভয়ংকর ভাতৃত্বঘাতী এক ট্রাজেডি।

তখন থেকেই মুসলমান হিন্দু এর মাঝে অবিশ্বাস, সন্দেহ, তিক্ততা এমন পর্যায়ে গেল যে দরকার হলো পাকিস্তান ভারত নামের দুটি রাষ্ট্রের। রেডক্লিফ সাহেব ঘরে বসে ভাগ করলেন একটি দেশকে দু ভাগে। অথচ তিনি এ দেশ, মানুষ, সভ্যতা, অর্থনীতি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। মানুষ একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পেলো তারা অন্য এক দেশে ঘুমাচ্ছে। 

দেশভাগ, ভারতবর্ষ, মহাত্মা গান্ধী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা

দুটি ধর্মের মাঝে পার্থক্য থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। পার্থক্য থাকা মানে বিরোধী হওয়া নয়। আর এই পার্থক্য কে যখন বিরোধী হিসেবে তুলে ধরে রাজনীতি তে ব্যবহার করা হয় তাই হয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা হয় গণ আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মত্যাগের মাধ্যমে। যেখানে নেহেরু বা জিন্নাহ অনেক খানি নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ, গোষ্ঠির স্বার্থ দেখ ভারত কে ভাগ করতে সহযোগিতা করেছে, সেখানে শেখ মুজিবুর রহমান অনন্য। এই ভারত যদি অখণ্ড যুক্ত রাষ্ট্র হত তাহলে বাংলা অবশ্যই একটি শক্তিশালী প্রদেশ হত। কিন্তু যেখানে উদ্ভট ভাবে দু দেশে ভাগ করা হয়েছে, সেখানে এই ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক জাতির মাঝে একমাত্র বাংলাদেশই পেরেছে বাংলা নামে বিশ্বের বুকে একটি দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close