ক্রিকইনফোতে গিয়ে অন্য যে কোন টেস্ট প্লেয়িং দেশের খেলোয়ারদের ঘরোয়া রেকর্ড দেখবেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ার যেমনই হোক, সবাই ফার্স্টক্লাস ক্রিকেট প্রচুর পরিমাণে খেলে। ঘরোয়া ক্রিকেটটা খুব সিরিয়াসলি নেয় তারা, বোর্ডগুলাও সিরিয়াসলি আয়োজন করে, পিচ-মাঠ ভালো রাখে, টাকাও থাকে ভালো। ইন্ডিয়াতে তো রঞ্জি ট্রফি পুরো ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচের মত টিভিতে দেখায়!

আর আমাদের জাতীয় দলে নিয়মিত মুখদের ঘরোয়া রেকর্ড দেইখেন। একবার জাতীয় দলে নিয়মিত হলে আল্লাহর ওয়াস্তে ঘরোয়াতে খেলাটা ছেড়েই দেয়। এক লিটন আর মোসাদ্দেক বাদে বর্তমান দলে কারো লাস্ট কয়েক সিজনে ফার্স্টক্লাস লীগে বলার মত কোন পারফরম্যান্স আছে কি? বোর্ড থেকেও কোন কড়াকড়ি আছে বলে মনে হয় না। তাদের কাছে ঘরোয়া লীগ চালানো লাগে বলে চালানোর মত। খুব স্লোলি ক্রিকেটের ভিত ফুটবলের মতই ধ্বসে যাচ্ছে, কেউ টের পাচ্ছে কি?

আজকের ম্যাচ হারার জন্য না, আমি চিন্তিত আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। একটা দেশের ক্রিকেট কতদুর যাবে তা অনেকটাই নির্ভর করে তার ঘরোয়া লীগ কতটা শক্তিশালী ও সিরিয়াস তার উপর। আর আমাদের দেশের ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট মাশাল্লাহ পটেনশিয়াল নষ্টতে দুনিয়ার সেরা। টেস্ট-ওয়ান্ডের খেলোয়ারকে টিটুয়েন্টিতে নামিয়ে দিবে, ফুটওয়ার্কহীন মারকুটে খেলোয়ার নামিয়ে দিবে টেস্টে। এভাবে অনেক প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়ার নষ্ট হচ্ছে। নাইম ইসলাম, মার্শাল আইয়ুবদের আরেকটু চান্স না দিয়ে টেস্টে সৌম্য-সাব্বিরদের নামিয়ে দেওয়ার জন্য কোন দিন ক্ষমা করবো না তাদের।

আমরা যারা ক্রিকেট নিয়ে বেশিই এডিক্টেড তারা অবসরে ইউটিউবে গিয়ে রশিদ, মুজিব, নারিন, মেন্ডিসের মত ম্যাজিকাল বোলারদের বোলিং দেখি, এম্নিই, বিনোদনের জন্য। কেন জানি সাব্বির অবসরে ক্রিকেট নিয়ে গবেষণা করতেসে- কল্পনা করতে পারি না। সেই ২০০৫-৭ এর মধ্যে যারা এসেছিলো তাদের নিয়েই এখনও জিতার চেষ্টা করা লাগে। মাঝে সৌম্য-মুস্তাফিজের ফ্লুকে ২০১৫ সালটা ভালো গেছে, বাদ বাকি যা জয়-অর্জন সব দলের সিনিয়র বিগ ফাইভের হাত ধরেই। নতুন যাদের অনেক প্রতিভাবান ভাবা হয়েছে, আশাবাদী হতে চেয়েছি যাদের নিয়ে তাদের এ্যটিচিউড, মাঠে খেলার প্রতি ডেডিকেশন দেখে মনে হয়েছে- জাতীয় দলে ঢুকাটাই ছিলো তাদের আলটিমেট গোল, সেটা এচিভড হয়ে গেছে এখন যত পারা যায় দ্রুত লাভ উঠিয়ে নেওয়া যাক।

আর যেহেতু পাইপ লাইন ঘুট ঘুটে অন্ধকার, দিনের পর দিন অসহ্য রকম অনিয়মিত অকিঞ্চিৎকর পারফর্ম করেও দলে টিকে থাকা যায়। তাতে তাদের ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ে, দলের কোন উন্নতি হয় না। সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাশরাফি-মাহমুদুল্লাহের কোন রিপ্লেসম্যান্ট আমরা দেখিনা। আমাদের নতুন প্রজন্মের ব্যাটসম্যানরা ৬০-৭০ ম্যাচ খেলেও কোন সেঞ্চুরির দেখা পাননা, তা নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা আছে বলেও মনে হয় না। উনাদের সময় চলে যায় বিজ্ঞাপন আর নারীভক্তদের সোশ্যাল মিডিয়ায় তুষ্ট রাখতেই!

সত্যি ব্যাপারটা হলো- বিসিবির কর্তা ব্যক্তিরা সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মত বাংলাদেশে ক্রিকেটের পেট চিড়ে হাতড়ে যত পারে লাভ তুলে নিচ্ছে। কিছু ডিম রেখে তা দিয়ে তাদের নতুন হাঁস জন্মানো নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা আছে বলে মনে হচ্ছে না। হাঁসের আয়ু বেশিদিন নাই বুঝা যাচ্ছে, প্রাণবায়ু ফুরিয়ে আসছে। অচিরেই পঞ্চপান্ডবের বিদায়ের সাথে যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নামক সোনার ডিম পাড়া হাঁসটার শেষ নিঃশ্বাসটা বেড়িয়ে যাবে, লাশটা মাটিতে ছুড়ে ফেলে এখনকার ত্যালত্যালে চেহারার ধরাকে সরা জ্ঞান করা বিসিবি কর্মকর্তারা লেজ তুলে পালাবে। মিডিয়ার সামনে ফুটেজ খাওয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা মানুষগুলোর কাউকেই তখন খুজে পাওয়া যাবে না। ২০০৩ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা কেনিয়া যেমন এখন বিলুপ্ত, আমাদেরও সেই দশা হবে, বেশি দেরি নাই।

এই সিরিজের আগে অনেক হাইপার পজিটিভ নাক উঁচা বিশিষ্ট ইন্টেলেকচুয়াল দেখেছিলাম যারা আফগানিস্তানকে গোনাতেই ধরতে চাননি, আমাদের রিসেন্ট জয়গুলো কিভাবে কারো একক নৈপুণ্যে বা মিরাকলি এসেছিলো সেটা দিব্যি ভুলে খেয়ে বসে আছেন। সমানে রশিদ খানের বয়স নিয়ে ট্রল হয়েছে, তার ছোট বেলার ছবি নিয়েও- অথচ মাঠেই সে প্রমাণ করে দিয়েছে সে কে। তার বয়স ১৯ দেখায় না? সে আরো ১৫-১৬ বছর খেলে ৮০০-১০০০ উইকেট নিয়ে অবসরে যাবে, আমরা তখনও তার বয়স নিয়েই ট্রল করে যাবো, নিজেদের হয়তো বলার মত কোন টিমও থাকবে না ততদিনে।

হে দুধের মাছি বিসিবি কর্তা-ব্যাক্তিরা, হে অতি আবেগী জনতা, বিদায়ঘন্টা বাজছে দূরে, শুনতে কি পাও?


এগিয়ে চলোর এই ১০০% কটন, ১৬০ জিএসএমের প্রোডাক্ট পেতে কল করুন এই নাম্বারে- 01670493495 অথবা নিজেই অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করে ফেসেবুকে ম্যাসেজ করুন।

 

Comments
Spread the love