আমিনুল ইসলাম

হুমায়ূন আহমেদ অনেক আগে কোথাও কেউ নেই লিখে গিয়েছেন। সেই লেখার উপর ভিত্তি করে এরপর নাটকও হয়েছে। আমি যদি হুমায়ূন স্যারকে এবং তার লেখা কিছুটা হলেও বুঝে থাকি, তাহলে বলতেই হচ্ছে, কোথাও কেউ নেই’র মাধ্যমে তিনি যেই মেসেজটা দিতে চেয়েছিলেন, সেটা হচ্ছে- আইন বলুন আর বিচার বলুন, আমরা সবাই মানুষ। আর মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল হতেই পারে। সেটাই স্বাভাবিক। আর সেই ভুলের জন্য যদি কোন নির্দোষ মানুষকে আমরা মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেই, তাহলে সেটা অনেক বড় অন্যায় হয়ে যায়।

হয়ত মৃত্যুদণ্ড না থাকাই ভালো, এটাই তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন। আজীবন কারাগারে থাকুক, এরপরও মৃত্যুদণ্ড দিয়ে একটা মানুষকে মেরে ফেলা’টা কতটুকু মানবিক, সেই বিষয়টাই হয়ত তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। আমি বুঝতে পারি, বাংলাদেশের মতো দেশে আইন করে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করা কঠিন বিষয়। কারো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবার পর দেখা যাবে রাজনৈতিক কারনে এক আমলের আসামী আরেক আমলে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে!

 

পৃথিবীর অনেক দেশেই মৃত্যুদণ্ড নেই। সেই দেশ গুলোর মানুষ তো সুখে শান্তিতেই জীবন পার করে দিচ্ছে। সুইডেনে তো এমন কি দণ্ড প্রাপ্ত আসামী, জেল থেকে বের হয়ে বাজার-সদাই পর্যন্তও করতে পারে! তবে আমি জানি, এটাও আমাদের দেশে সম্ভব না। কারন প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মৃত্যুদণ্ড থাকা না থাকা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে; আমি সেই বিতর্কেও যেতে চাইছি না। কিন্তু একজন মানুষকে বিনা বিচারে মেরে ফেলার যেই সংস্কৃতি আমাদের দেশে চালু হয়েছে; সেই সংস্কৃতি একদিন আমাদের’কে এমন অবস্থায় নিয়ে যাবে; যেখানে চাচাত ভাই, মামাত ভাইকে ক্রস ফায়ারে দিচ্ছে; একজনের সঙ্গে আরেকজনের শত্রুতা থাকলেই দেখা যাবে ক্রসফায়ার কিংবা বন্ধুক যুদ্ধের খবর পাওয়া যাচ্ছে! আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অল্প কিছু টাকা দিয়েই হয়ত এইসব করিয়ে নেয়া যাবে।

টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তিনি ইয়াবা ব্যবসা করতেন। তার এলাকার মানুষজন অবশ্য বলছে- তিনি ইয়াবার ব্যবসায় জড়িত ছিলেন না। আরও শুনা যাচ্ছে- ওই এলাকার সাংসদ বদির ইয়াবা সংক্রান্ত কাজকর্মের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন! তাই হয়ত তাকে ক্রসফায়ারে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

আমার জানা নেই কোন তথ্য সঠিক আর কোন তথ্য মিথ্যা! তবে আমি এতটুকু জানি, এতসব ভুল বুঝাবুঝি কিংবা এই ধরণের কানাঘুষার কোনটাই হয়ত হতো না যদি তাকে বিচারের আওয়তায় আনা হতো। এই ধরনের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যে করেই হোক বন্ধ করতে হবে। এখন হয়ত আপনারা এতে আনন্দিত হচ্ছেন! তবে একদিন দেখা যাবে আমার-আপনার আত্মীয়-স্বজন কিংবা আমি-আপনিই এর শিকারে পরিণত হচ্ছি।

একেকটা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয় আর আমার বার বার কোথাও কেউ নেই’র বাকের ভাইয়ের কথা মনে হয়! বিনা অপরাধে মানুষটাকে মৃত্যুদণ্ড বরণ করতে হয়েছিল। তাও ভালো- সে অন্তত বিচারে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পেরেছিল! আজকাল তো আর সেটাও দরকার হচ্ছে না! এখনো সময় আছে বন্ধ করুন, নইলে এই ক্রসফায়ার একদিন ব্যাকফায়ার হয়ে আপনাদের দিকেই ছুটে আসবে!

Comments
Spread the love