এখন চলছে সেলফির যুগ- একথা বললে বুঝি খুব একটা বাড়াবাড়ি হবে না। হাতে যদি একটা স্মার্টফোন থাকে আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা অ্যাকাউন্ট, তবে তো কথাই নেই। সেলফি তুলে সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়ে গেছে। অবসরে শখ করে দু’একটা সেলফি তোলা কিন্তু খারাপ কিছু নয়। 

তবে অনেকে আছেন, যাদের কাছে সেলফি তোলাটা নেশার ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। তাদের সব সময়, সব কাজেই সেলফি চাই। বেড়াতে গেলে, খেতে গেলে, শপিং করতে গেলে, শুতে গেলে…জীবন সেলফিময়! সাইক্রিয়াটিস্টরা বলেন, সেলফি তোলার এরকম অতিরিক্ত ঝোঁক একধরণের মানসিক ব্যাধি। অবশ্য, এটা যে একধরণের মানসিক ব্যাধি, তা বুঝতে সাইক্রিয়াটিস্টদের দরকার হয়না। খালি চোখে দেখলেই বোঝা যায়।

বিশেষ করে, আজকাল সেলফি তুলতে গিয়ে যত ধরণের দুর্ঘটনার কথা শুনি তাতে তো ভয়ই লাগে। শখ করে সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় কত জনের যে কত ক্ষতি হয়, কত জনের প্রাণ যায় সেরকম বেদনাদায়ক খবরের তো ইয়ত্তা নেই। এমনই এক বেদনাদায়ক দুর্ঘটনার খবর শোনা গেল, গতকাল ভারতের সংবাদমাধ্যমে।

সেলফি, সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা, ভারতের রাজস্থান

ভারতের রাজস্থানের গঙ্গানগরে সেলফির কারণে প্রাণ গেল দশ মাস বয়সী একটা ছোট্ট মেয়ের। অসাবধানতাবশত, শপিংমলের এস্কেলেটরে সেলফি তুলতে গিয়ে মায়ের হাত থেকে ছিটকে পড়ে মারা গেছে শিশুটি।

শপিংমলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক দম্পতি গঙ্গানগরের এই শপিংমলটিতে কেনাকাটা করতে এলে, শপিংমলের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে থাকে। সেই দম্পতির সাথে তাদের দশ মাস বয়সী এক কন্যা শিশু। তারা যখন শিশুটিকে নিযে এস্কলেটরে উঠে, মায়ের কোলে ছিল বাচ্চাটি। এস্কেলেটরে উঠার পর শিশুটির বাবা তার মাকে সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার কথা বলে। তারা যখন সেলফি তুলতে যাবে, এমন সময় হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মায়ের হাত থেকে ফসকে যায় শিশুসন্তানটি। বারান্দা এবং এস্কেলেটরের মাঝের ফাঁকা জায়গা দিয়ে শিশুটি নিচে পড়ে যায়।

সেলফি, সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা, ভারতের রাজস্থান

ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব আশেপাশের দোকানীরা যখন দৌঁড়ে যায় শিশুটিকে উদ্ধার করতে ততক্ষণে দেড়ি হয়ে গেছে। নিচের তলার মেঝেতে পড়ার সাথে সাথেই প্রাণ হারায় কন্যা শিশুটি। তবুও তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালে নেওয়া হলে, চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর নিয়মানুযায়ী পুলিশ আসে, তদন্ত করে এবং তারা এটিকে দুর্ঘটনা বলে ঘোষণা করে। মৃত শিশুর পরিবারও এটাকে দূর্ঘটনা বলে মেনে নেয়। তার কোন প্রকার আইনি জটিলতায় যেতে চায়নি।

এভাবেই বাবা-মার সেলফি তোলার শখের কারণে অকালে ঝরে গেল একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ। ক্ষতিটা কি শুধু শিশুটিরই হলো? তার বাবা-মাও কি হারালো না তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদকে!

তাই বলি, সেলফি তুলবেন তুলুন। কিন্তু মনে রাখবেন, সবসময়, সব অবস্থায় সেলফি তোলা একটি মানসিক ব্যাধি। দরকার হলে ইন্টারনেটে একটু খুঁজে দেখুন প্রতিবছর কত মানুষের অকালে প্রাণ যায় শুধু এই সেলফির কারণে। দয়া করে, সাবধান হোন। নিজে ভালো থাকুন, অন্যদেরও ভালো রাখুন।

মায়ের হাই হিলের কারণে কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু!
Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-