আজকাল আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের ভেতর পপ-রক-মেটাল ব্যান্ডের গানের জন্য ক্রেজ দেখে ভালো লাগে, আমাদের তরুণ-যুবারা বিশ্ব সঙ্গীতের নানান ধারা আর আধুনিকতার সাথে মিশছে, জানছে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে সৃষ্টি করছে নতুন কিছু, পাল্টে দিচ্ছে এদেশের রক-পপ-মেটাল ঘরানার গানের ইতিহাস, দেখে অসম্ভব গর্ব হয়। ঠিক তার সাথেই ছুঁয়ে যায় অসম্ভব তীক্ষ্ণ এক আক্ষেপ! আজকে বাংলাদেশের এই নতুন প্রজন্মকে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের অসংখ্য তরুণ-তরুণীদের বাংলাদেশের হয়ে রক-পপ-মেটালের মাদকতায় মাতোয়ারা হবার সুযোগটা দেবার জন্য যে মানুষটা একাত্তরের রক্তাক্ত জন্মইতিহাসের সেই যুদ্ধে হাতে তুলে নিয়েছিলেন স্টেনগান, স্বাধীন দেশে সূচনা করেছিলেন পপ সঙ্গীতের ধারা, যার কণ্ঠের, সুরের, গানের আর গায়কীর অসামান্য জনপ্রিয়তায় ধীরে ধীরে আজকের এই বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়েছে রক-পপ-মেটালের ধারা, তৈরি হয়েছে অসংখ্য ব্যান্ড দল, সেই মানুষটা, একাত্তরের দুর্ধষ আরবান গেরিলা গুরু আজম খান কেন যেন আমাদের জাগতিক জীবনে ধীরে ধীরে বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাচ্ছেন। আজকের এই বাংলাদেশের অনেক নামীদামী তরুণ গায়কেরা হয়তো জানেই না তিনি কে ছিলেন, কি ছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে তার অবদান কতটা!
আজম খান ছিলেন একাধারে মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও গায়ক এবং বাংলাদেশের পপ সংগীতের অন্যতম পথপ্রদর্শক৷ যিনি আমাদের ব্যান্ডজগতে “গুরু” হিসেবে স্বীকৃত! শুধু বাংলাদেশেই নয় গোটা উপ মহাদেশেও আজম খান পেয়েছেন অসাধারণ জনপ্রিয়তা৷

আজম খানের জন্ম ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায়৷ আসল নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান৷ বাবা মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন খান ছিলেন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার, সেক্রেটারিয়েট হোম ডিপার্টমেন্ট, মা জোবেদা খাতুন। তার ছিল তিন ভাই ও এক বোন।পড়ালেখা শুরু হয় ১৯৫৫ সালে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী স্কুলে। ১৯৬৫ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাসের পর ১৯৭০ সালে টিঅ্যান্ডটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের জাগরণ তখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে পড়ালেখা আর এগোয়নি তার।

ষাট এবং সত্তরের দশক ছিল প্রথা না মানার সময়। শুরু পশ্চিমে হলেও এর জের এসে আছড়ে পড়েছিল এই বাংলাতেও। প্রথা না মানা এমনই একদল তরুণ বিদ্রোহ করেছিল রক্ষণশীল বাংলা গানের বিরুদ্ধে। খুলে দিয়েছিলেন পপ গানের উন্মাতাল অর্গল। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন আজম খান। দ্রোহী হয়ে সামাজিক প্রথা ভাঙলেও তাঁরা কখনো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হন নি। সাধারণ মানুষের নাড়ির সাথে যোগাযোগ সবসময়ই অক্ষুন্ন ছিল। তিনি আজীবনই ছিলেন সাধারণ মানুষের একজন, আম-জনতার কাতারে ছিল তার স্থান!

ছোটবেলা থেকেই আজম খান ডানপিটে স্বভাবের, ভয়ডর কম। ১৯৬৮ সালে আজম খানের বয়স সতের কি আঠারো। ‘ক্রান্তি’ শিল্পী গোষ্ঠীর হয়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে গান গাইতে গিয়ে তার একবারও বুক কাঁপেনি।

সেদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজম খান বললেন, “১৯৬৮ তে ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুবান্ধব মিলে গান করতাম। সেই সময় আমি গণসঙ্গীত শিল্পী গোষ্ঠি ‘ক্রান্তি’র সঙ্গে যুক্ত হই। ঢাকায়, ঢাকার বাইরে গান করতে গেলে পুলিশ নানা রকম হয়রানী করতো।”

“কত জেলায় জেলায় ঘুরেছি তখন। গান করেছি। আবার পুলিশের তাড়া খেয়ে দৌড়ও দিছি। তার পরেও পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে গান করা থামাই নাই। আমাদের দলে ছিল ফকির আলমগীর, মেসবাহ উদ্দিন সাবু সহ আরও অনেকে।”

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে পাকিস্তানীদের অত্যাচার আর মুখ বুজে সহ্য করবো না। তাই ২৫শে মার্চ ১৯৭১ যখন অপারেশন সার্চলাইটের নামে পৃথিবীর ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গণহত্যা চালাতে শুরু করলো পাকিস্তানী নরপিশাচের দল, তার আগেই আজম এবং তার বন্ধুরা বুঝতে পারছিলেন যে কিছু একটা হবে আজ। তাই তিনি ও তার পাড়ার বন্ধুরা মিলে এলাকার আশে পাশে ব্যারিকেড বানাতে শুরু করলেন। বাসা থেকে এক নলা, দো’নলা বন্দুক, দা, বটি, লাঠি, বাঁশ ইত্যাদি জোগাড় করতে শুরু করলেন। শুনতে হয়তো অবিশ্বাস্য শোনাচ্ছে, কিন্তু মনের প্রবল প্রতিজ্ঞা আর দেশপ্রেমে বলীয়ান আজম খানের মত এমন হাজারো তরুণ স্রেফ সেই কালরাতে এই যৎসামান্য অস্ত্র নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে! আজম খান বলেন,

“অস্ত্র যোগাড় করছিলাম, মিলিটারি ঠেকাব তাই। কিন্তু তখন কী আর জানতাম পাকিস্তানি মিলিটারি ট্যাঙ্ক নামাবে। রাতের বেলা শুরু হলো গোলাগুলি। ব্যারিকেড কোথায় উড়ে গেল! আমাদের বাড়িটা গলির ভিতর বলে এই দিকে মিলিটারি সেই রাতে ঢুকে নাই। কিন্তু আশপাশের এলাকা, কমলাপুর রেল স্টেশন, রাজারবাগ পুলিশ লাইন সব কিছু দখল করে নিলো মিলিটারিরা। আমরা তো আর ঘরে বসে নাই। বন্ধু বান্ধবরা সবাই মিলে একেক সময় একেক বাসার ছাদে গিয়ে উঁকি দিয়ে মিলিটারিদের ধ্বংসযজ্ঞ দেখি। শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলাম না বাসায়। ভোরের আগে আগে মসজিদে গেলাম। যাতে আমাদের মুসলমান মনে করে মিলিটারিরা গুলি না করে। ভোরের আলো ফোটার পর দেখি কমলাপুর স্টেশনে মিলিটারিরা ঘাঁটি গাড়ছে।”

মসজিদ থেকেই উঁকি ঝুঁকি মেরে আজম খান দেখেন মিলিটারিরা বাসার ছাদের ওপর ওড়ানো বাংলাদেশের পতাকা গুলি করে ফেলে দিচ্ছে। আজম খানের বাসার ছাদেও উড়ছিল পতাকা। আজম জানান, “সেটা বাঁচানোর জন্য আমার বোন ছাদে ওঠে। পতাকা খুলতে চেষ্টা করে। আমি সেটা দেখে দৌড়ে বাসায় যাই। বোনরে বলি-নাম নাম গুলি লাগব। এই বলতে বলতেই তার মাথার পাশ দিয়া একটা গুলি চলে গেল। অল্পের জন্য বেঁচে গেল আমার বোনটা।”

এরপরের গল্পটা যেমন হবার ছিল, তেমনই হল। পাকিস্তানীদের এই বর্বরতা এবং নৃশংসতা সহ্য করতে পারলেন না তিনি, যোগ দিলেন মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত করার লড়াইয়ে! মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবার সেই ঘটনা আজম বর্ণনা করেন এভাবেঃ

“সময়টা মনে নাই। তবে তখনও বর্ষা শুরু হয় নাই।” বলতে থাকেন আজম খান, “প্রথম প্রথম বাড়িতেই থাকতাম। এরপর যখন পাকিস্তানি মিলিটারি তরুণ যুবকদের ধরা শুরু করলো তখন পলাইয়া থাকতাম।” মিলিটারি এলেই বাড়ির পেছনের পাঁচিল টপকে অন্যদিকে চলে যেতেন তিনি। এভাবে কয়েক মাস যাওয়ার পর তার মনে হলো- এভাবে কতদিন, এরচেয়ে যুদ্ধে যাওয়াই ভালো। তার বেশ কয়েকজন বন্ধু আগেই যুদ্ধে গিয়েছিল। তাই একদিন মাকে গিয়ে বললেন, “আমি যুদ্ধে যাব।” শুনে তার ছেলের দিকে এক পলক তাকিয়ে বললেন, “আমি জানিনা, তোর বাপকে জিজ্ঞেস কর।”

আজম খানের বাবা আফতাব উদ্দিন খান তখন সচিবালয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। মনে যুদ্ধে যাওয়ার ভয়ের চেয়েও বড় ভয় হয়ে দাঁড়ালো  বাবা যদি যুদ্ধে যাওয়ার কথা শুনে থাপ্পড় মারে! শেষ পর্যন্ত সাহস করে বাবাকে বললেন কথাটাঃ

“ভাবলাম এবার কপালে একটা লাথি পাওনা হয়ে গেল। কিন্তু না, আমার দিকে বাবা তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন- যুদ্ধে যাচ্ছিস ভালো কথা, কিন্তু দেশ স্বাধীন না করে ফিরতে পারবি না।”এর পরের দিন ভোরে পায়ে হেঁটে রওনা হলাম। সঙ্গে আমার তিন বন্ধু। গন্তুব্য আগরতলা। হাঁটতে হাঁটতে পুবাইল, কালিগঞ্জ, ঘোড়াশাল, নরসিংদী, ভৈরব পার হয়ে গেলাম। পথে কোন সমস্যা হলো না। ব্রাক্ষণবাড়িয়া পৌছলাম মধ্যরাতে। সেখানে গ্রামের মধ্যে এক যুবককে পেলাম। সে গ্রামবাসীদের নিয়ে দেশপ্রেম সভা করছে। পরে জানলাম, সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা। নামটা মনে নাই। অত রাতে আমাদের দেখে সে সন্দেহ করে বসলো। পরে হাজার প্রশ্নর উত্তর দিয়ে তার সন্দেহ দূর করি। সে আমাদের থাকতে দেয় গোয়াল ঘরে। সারারাত গরুর পাশে মশার কামড় খেয়ে কাটিয়ে দিলাম। পরের দিনও হাঁটলাম সারা দিন। এরপর পৌঁছলাম আগরতলায়। সেখানের মেলাধর নামের এক জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের জন্য আসা তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্ধুরা যারা আগেই যুদ্ধে অংশ নিতে চলে আসছিল তাদের প্রায় সবার সঙ্গে মেলাধর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে দেখা হল। আমাদের দেখে তারা হৈহৈ করতে করতে জড়িয়ে ধরলো।”

আজম আগরতলা মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে দুই নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল খালেদ মোশাররফের নির্দেশে কুমিল্লার সালদায় সরাসরি পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন আজম। এরপর তাকে ঢাকার আরবান গেরিলা দল ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য হিসেবে ঢাকার যাত্রাবাড়ী অঞ্চলে পাঠানো হয়। এখানে একের পর এক দুঃসাহসী অভিযান পরিচালনা করেন আজম এবং তার সহযোদ্ধারা। কমান্ডার হিসেবে আজমের অধীনে মুক্তিযোদ্ধা ছিল ২২ জনের মতো। এখানে তারা ‘অপারেশন তিতাস’ পরিচালনা করেন, যেখানে তিতাস গ্যাস লাইন উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানী কাপুরুষ নরপিশাচদের প্রচন্ড ভয় পাইয়ে দেন।
এখানে তার পরিচয় হয় শহী জননী জাহানারা ইমামের ছেলে রুমির সঙ্গে। খুব তাড়াতাড়িই দুজনে বন্ধু হয়ে যান। আজম খান জানালেন, “রুমিই আমাকে এলএমজি, রাইফেল চালানো, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করলো। আমাদের মধ্যে রুমিই ছিল সবচেয়ে এক্সপার্ট। একদিন সে চলে গেল যুদ্ধে। পরে খবর পেলাম সে শহীদ হয়েছে। মনটা খুবই খারাপ হলো।”

তবে বেশি দিন মন খারাপ করে থাকার সুযোগ পেলেন না। ততদিনে তাদের প্রশিক্ষণ শেষ। গেরিলা আক্রমণের জন্যই তাদের তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু মনোবল শক্ত করার জন্য একদিন তাদের দলকে পাঠানো হলো সম্মুখ যুদ্ধে। “কুমিল্লার সালদায় আমি প্রথম সরাসরি যুদ্ধ করি।” জানালেন আজম খান।

যুদ্ধ ক্ষেত্রের সেই প্রবল বিভীষিকার ভেতরেও গানকে ছাড়েননি আজম। ক্যাম্পে গভীর রাতে শোনা যেত উদাত্ত গলায় ভরাট কণ্ঠে গাইছেন আজম খান। সহযোদ্ধা ক্র্যাক প্লাটুনের দুর্ধষ গেরিলা শাফী ইমাম রুমি সেই গল্পই করেছিলেন আম্মা জাহানারা ইমামের কাছে। ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সেই বর্ণনাই তুলে এনেছেন শহীদ রুমির জবানীতে,

“সে রাতে টিলার মাথায় দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি কি, একটা তাঁবুতে আলো জ্বলছে, আর সেখান থেকে ভেসে আসছে গানের সুর:

“হিমালয় থেকে সুন্দরবন হঠাৎ বাংলাদেশ”

বুঝলাম আজম খান গাইছে৷ আজম খানের সুন্দর গানের গলা৷ আবার অন্যদিকে ভীষণ সাহসী গেরিলা, দুর্ধর্ষ যোদ্ধা৷ সেদিন সেই রাতে চারদিক ভীষণ অন্ধকার, অন্যসব ব্যারাক আর তাঁবুর সবাই বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে গেছে৷ ন’টা-দশটাতেই মনে হচ্ছে নিশুতি রাত৷ ঐ একটা তাঁবুর ভেতর হারিকেনের আলো ছড়িয়ে সাদা রঙের পুরো তাঁবুটা যেন ফসফরাসের মতো জ্বলছে৷”

ভয় কী বস্তু তা ছেলেবেলা থেকেই অজানা ছিল আজম খানের কাছে। সম্মুখ যুদ্ধেও লড়েছেন গান গাইতে গাইতে। তিনি বললেন, “আমি বেশির ভাগ সময় গান গাইতাম আর যুদ্ধ করতাম। সেসময় কিশোর কুমার ছিল হিট। তার গানই বেশি গাওয়া হতো। হিন্দি বাংলা কত গান করছি আর গুলি চালাইছি! এমনও হয়েছে গুলি করছি, গান গাইছি, আবার মুড়ি মুড়কি চিবাচ্ছি। আমার গান শুনে পাশ থেকে সহযোদ্ধারা বলত – ওই গান থামা, পাক সেনারা শুনলে বুইঝা যাইবো তুই কই আছস। তোর মরণের ভয় নাই নাকি। আমি বলতাম – আরে মরবই তো, ভয় পাওয়ার কী আছে! গান গাইয়া লই।”

গান গাইতে গাইতে যুদ্ধ করা এই গানওয়ালার এখনও মনে আছে যুদ্ধের সময়ের রোমাঞ্চকর অনেক কাহিনী। এর মধ্যে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধের কাহিনীটা তার স্মৃতিতে এরকম যেন গতকালের ঘটনা। সম্মুখ সমরে সরাসরি লড়াই করার সেই অসামান্য স্মৃতিচারণ করেছিলেন গেরিলা আজম খান ঠিক এভাবেঃ

“কুমিল্লার সালদায় আমাদের ক্যাম্পটা ছিল নদীর পাড়ে। আমাদের ওস্তাদতো অনেক অভিজ্ঞ ছিল। তিনি জানতেন কবে পাক সেনাদের রসদ আসবে। একদিন দুপুরে তিনি আমাদের ডাক দিয়া বলেন, তোরা আজ চোখ রাখিস। আজ রসদ আসতে পারে। বলেই তিনি চোখের উপর গামছা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।”
ঘুমালেন না আজম খানরা। তারা কিছুক্ষণ পরপর নদীর দিকে তাকান, আর নানান দুষ্টামি করেন। কেউ পেয়ারা গাছে উঠে পেয়ার খান, কেউ গান করেন। হঠাৎ দেখেন একটা নৌকা। প্রথমে সন্দেহ করেন নাই। তারপর দেখেন আরও দুইটা নৌকা। সঙ্গে সঙ্গে ওস্তাদকে ডাক দিলেন। তিনি দেখে বললেন, নাহ্, এইগুলা না। বলেই আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। একটু পরেই প্রায় বিশ ত্রিশটা নৌকা সারি চলে এলো দৃষ্টি সীমানায়। এবার আজম খান লাফিয়ে উঠলেন, “আবার ওস্তাদরে ডাক দিলাম। তিনি দেখে বললেন, খবরদার আমার নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কেউ গুলি করবি না। তারপর পজিশন মত আসতেই তিনি মেশিনগান দিয়া গুলি শুরু করলেন। আর আমরাও যার যার অস্ত্র দিয়া গুলি করতে থাকলাম। নৌকাগুলা সব ছাড়খাড় হয়ে গেল চোখের পলকে। আমরা ভাবতাম পাক সেনারা সাঁতার জানে না। কিন্তু দেখি কী, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাঁতার দিয়া পাড়ের দিকে আসছে। আমরা সেদিকে লক্ষ্য করে গুলি করা শুরু করলাম।”

সেদিন আজম খান এবং তার সহযোদ্ধাদের অসামান্য বীরত্বে নিহত হয়েছিল অসংখ্য পাকিস্তানী সেনা। তাই বিকালেই ওস্তাদ তাদের বললেন, এলাকা থেকে সরে যেতে। কারণ প্রতিশোধ নিতে অন্য পাক সেনারা আসবেই। হলোও তাই। সন্ধ্যা বেলা থেকেই শুরু হলো পাক সেনাদের আক্রমণ। আজম খান বলেন, “আমরা মাটিতে ক্রল করে, ক্ষেতের আইল আড়াল দিয়ে, মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে জান নিয়ে ওই এলাকা ছাড়লাম। এরপরই আমাদের পাঠিয়ে দেয় ঢাকার দিকে।”

এরপরেই আজম খানকে ঢাকার আরবান গেরিলা দল ক্র্যাক প্লাটুনের একটা সেকশনের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় যাত্রাবাড়ীতে। তাদের দায়িত্ব ছিল ঢাকার আশেপাশে হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতিতে গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানীদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলা।কুমিল্লার সম্মুখসমরের পর এবার ঢাকায় একেবারেই আলাদা এই লড়াইয়ে নেমে আজম অসামান্য বীরত্ব দেখালেন। ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ী হয়ে লক্ষানদী, বালুনদী, গুলশান, ইসাপুর ও ক্যন্টনমেন্টের পাশ পর্যন্ত নানা স্থানে অসংখ্য গেরিলা অপারেশনে পর্যদুস্ত করে তুললেন পাকিস্তানী সেনাদের!

ডেমরার দিকে তিতাস গ্যাসের একটা পাইপ লাইন বোমা মেরে উড়িয়ে দেবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজম খান বলেছিলেন,

“প্রথমে বোমার ফিতায় আগুন ধরাতে গিয়া সমস্যা। ম্যাচের কাঠি শুধু নিবে যায়। শেষে একসঙ্গে অনেকগুলা কাঠি জ্বালিয়ে বোমাতে আগুন দিলাম।” কিন্তু পালানোর জন্য যে সময় রেখেছিলেন তার আগেই বোমা গেল ফেটে। গ্যাসের লাইন ফেটে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো। সেই আগুনে রাতের বেলাও আশেপাশের এলাকা দিনের মত পরিস্কার দেখা গেল। আর কী আওয়াজ! দুম দুম করে ফাটতে থাকলো গ্যাসের লাইন। আশেপাশের সব মানুষ পালানো শুরু করলো।
কিন্তু এলাকাটা যে রেকি করে এসেছিল সে হিসাবে একটু ভুল করছিলো। তাই পাইপ লাইন উড়িয়ে পালানোর সময় বিপদে পড়লেন আজম খানরা।
পাইপ লাইন উড়ালেন কেন জানতে চাইলে ব্যাখ্যা করলেন, “অভিজাত এলাকায় যাতে গ্যাস না থাকে, তারা যাতে চাপে পড়ে এই কারণে। তখন অভিজাত এলাকাতেই তো পাক আর্মিদের বড় বড় অফিসাররা থাকত।”
“আমাদের নৌকা ছিল নদীতে। আওয়াজ শুনে আমার সহযোদ্ধারা সবাই আগেই চলে গেছে। তাদের ওপর সেভাবেই নির্দেশ ছিল। কিন্তু আমার নৌকা নিয়া যখন পালাতে গেলাম, তখন দেখি আর দম নাই, শক্তিতে কুলোচ্ছে না। আমার সঙ্গে আরও দুই জন যোদ্ধা ছিল। নৌকায় আমাদের গোলা-বারুদ-অস্ত্র। আমরা তিনজন নৌকায় উঠতেই সেটাতে পানি উঠে গেল। ডুবে যায় যায় অবস্থা। শেষে আমরা তিনজনই পানিতে নেমে নৌকা ঠেলে এগুতে থাকলাম।”
দারুন টেনশনে ছিলেন তখন তারা। একদিকে জীবন আর অন্য দিকে অস্ত্র বাঁচানোর চিন্তা। কাছাকাছি আজম খানের পরিচিত একটা গ্রাম ছিল। সেখানের বেশ কিছু ছেলেকে তারা প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেখানে কোনমতে পৌঁছানোর পর আজম খান নিজেই এক হাতে টেনে নৌকা পাড়ে উঠালেন। লোকজন তাকে দেখতে ধরাধরি করে গ্রামে নিয়ে গেল। আজম খানের তখন চৈতন্য লোপ পাওয়ার দশা। “সেই রাতে আমার আর কিছু মনে নাই। পড়ে সকালে উঠে দেখি আমি খড়ের গাদার উপর শুয়ে আছি। আর হাত পা ছিলে গেছে।”

আরবান গেরিলাদের যে দলগুলো বিজয়ের অনেক আগেই ঢাকা প্রবেশ করেছিল তার মধ্যে অগ্রগন্য ছিল আজম খানের দলটা। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ২০ নভেম্বর ঢাকায় প্রবেশ করেন আজম খান। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজম খান বলেন, “শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জাকিরের কথা প্রায়ই মনে পড়ে। ঢাকার গোপীবাগে একজন আহত মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে সে পাকিস্তানী সেনাদের গুলিতে মারা যায়।… সে সময় জাকিরের মৃত্যুর খবর আমি গ্রুপের কাছে চেপে গিয়েছিলাম, নইলে তারা মনোবল হারাতে পারতো।”

স্বাধীনতার পর অস্ত্র ছেড়ে কন্ঠে তুলে নেন সংগীত৷‘উচ্চারণ’ শিল্পী গোষ্ঠী নিয়ে সংগীত জগতে তাঁর প্রথম আত্মপ্রকাশ৷ উচ্চারণ ব্যান্ডে ছিলেন বাংলা সঙ্গীতের দুই লিজেন্ড হ্যাপী আখন্দ ও লাকী আখন্দ, গিটার বাতাজেন আজম খানের বন্ধু নিলু ও মনসুর, ড্রামে থাকলেন সাদেক। আর আজম ছিলেন মেইন ভোকাল! সত্তরের প্রথমার্ধে বংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয় তাঁর প্রথম কনসার্ট৷ ১৯৭২ সালে বিটিভির ডাকে দুটি গান উপস্থাপন করল তাদের ব্যান্ড। একটিতে গাইলেন, এতো সুন্দর দুনিয়া কিছুই রবে না, আরেকটি গান ছিল, ‘চার কালেমা সাক্ষী দেব’। মরমী ধারার এই গান দুটি মানুষের অন্তরের গভীরে নতুন এক আবেগের সঞ্চার ঘটায়, যা আজম খানকে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দেয়। তার পর থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশ জুড়ে৷ সেসময় তার সঙ্গে দেশের সঙ্গীতের এ নতুন ধারায় যুক্ত হন শিল্পী ফিরোজ সাঁই, ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, নাজমা জামানসহ সদ্যপ্রয়াত পিলু মমতাজের মতো সময়ের একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। পপগানে তুমুল জনপ্রিয়তা আজম খানকে এনে দেয় পপসম্রাটের খেতাব।

১৯৮২ সালে ‘এক যুগ’ নামের এ্যালবাম দিয়ে অডিও জগতে আত্মপ্রকাশ করেন আজম খান। এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে মোট ১৭টি একক এ্যালবাম করেন। তার উল্লেখযোগ্য এ্যালবামগুলোর মধ্যে আছে দিদি মা, বাংলাদেশ, কেউ নাই আমার, অনামিকা, কিছু চাওয়া, নীল নয়না ইত্যাদি। বিশেষ করে ও সালেকা, ও মালেকা, আলাল আর দুলাল, রেললাইনের ওই বস্তিতে, অভিমানী, আমি যারে চাইরে, হাইকোর্টের মাজারে, এত সুন্দর দুনিয়ায়, জীবনে কিছু পাব নারে, পাঁপড়ি কেন বুঝে না, চার কলেমা সাক্ষী দিবে এবং ও চাঁদ সুন্দর রূপ তোমার ইত্যাদি গানগুলো বিখ্যাত এবং এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে! বিশ্বের বেশ ক’টি দেশে কনসার্ট পরিবেশন করেন আজম খান৷ এসব কনসার্টে শুধু প্রবাসী বাঙালিই নয় বহু বিদেশী সংগীতানূরাগীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি৷ বাংলা সংগীতের নানা ধারার গান পপ আঙ্গিকে গেয়েছেন আজম৷

৪১ থেকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত (১৯৯১-২০০০) গোপীবাগ ফ্রেন্ডস ক্লাবের হয়ে তিনি প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন । বাংলাদেশে সম্ভবত তিনিই ছিলেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় । মাঝে মাঝে তিনি আফসোস করে বলতেন “ইশ যদি একটা বিশ্বকাপ খেলতে পারতাম” ।

খুব সহজ সরল সাদামাটা জীবন যাপন করতেন তিনি৷ যদিও ১৭ টিরও বেশি হিট গানের অ্যালবাম বেরিয়েছে বাজারে, কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রিও হয়েছে, কিন্তু কপিরাইটের কারচুপির কারণে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা তাঁর ছিল না৷ ২০১০ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা নামক মুখগহ্বরের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন আজম খান। প্রথমে তাকে বঙ্গুবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৪ জুলাই তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন। যে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে অস্ত্র ধরেছিলেন, সেই দেশের পপ সম্রাট হয়া সত্ত্বেও তাকে টাকার অভাবেই ধুঁকে ধুঁকে একটু একটু করে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যেতে হয়েছে। সিঙ্গাপুরে ক্যান্সারের চিকিৎসা পুরোটা শেষ করা সম্ভব হয়নি আজম খানের পক্ষে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দুরারোগ্য ব্যাধির সংগে লড়াই করে অবশেষে পাঁচ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা পপ সংগীতের কিংবদন্তি পুরুষ আজম খান৷

২০০৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে আজম খান বলেছিলেন,

“এই তো সেদিন ফকিরাপুলে আমার গ্রুপের একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেখি, ফুটপাতে চা বিক্রি করছে! কি আর করবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যার ভেতর আছে, সে তো আর চুরি করতে পারে না! … মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সরকারই তো মূল্যায়ন করেনি।”

স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কঠিন হয়ে গেছে। এখন রাজাকার, আলবদর, আলশামসরা সংগঠনিকভাবে অনেক বেশী শক্তিশালী। একজন গোলাম আজমের বিচার করলেই এদের ভিত্তি নির্মূল করা যাবে না। এদের যে বিস্তৃতি গত ৩৬ বছরে ঘটেছে, তাকে উৎখাত করা সত্যিই কঠিন। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একদিন না একদিন হতেই হবে।”

“স্বাধীনতার পর পরই এই বিচার হওয়া উচিৎ ছিল। একই সঙ্গে এর পরের সরকারগুলো ক্ষমতার লোভে পাক সেনাদের সহযোগী যুদ্ধাপরাধীদের লালন-পালন করেছে।”

“কিন্তু যুদ্ধাপরাধ কখনো তামাদী হয় না। তবে এদের বিচার বিলম্বিত হওয়ায় অনেক সাক্ষ্য প্রমান সংগ্রহ করা এখন কঠিন হয়ে গেছে। তাই অনেক দেরীতে হলেও আন্তর্জাতিক আদালত বসিয়ে এর বিচার করা উচিত। এ জন্য সরকারের সদিচ্ছা ছাড়াও আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন।”

“স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দায়িত্ব সৎ ও দেশপ্রেমিক সরকারকেই নিতে হবে। তবে যতদিন এটি জাতীয় দাবিতে পরিনত না হবে, ততদিন কোনো সরকারই এই বিচার করবে না।”

এখন নতুন প্রজন্মকে নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের গান, নতুন আশার গান শোনাবেন কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে শিল্পীর গলায়, “এই প্রজন্মের কেউ তো মুক্তিযুদ্ধের গান শুনতে চায় না! এদের জন্য এই সব গান করে লাভ নেই। তারা তো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই জানে না। তবু এখন দেশ গড়ার গান করছি। দেশের দুঃসময়ে আমাদের আমি এই প্রজন্মকে অন্য এক মুক্তির গান শোনাতে চাই। কারণ এ দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি, প্রগতিশীল চিন্তা – চেতনার মুক্তি এখনো আসেনি।”

তার এই কথাগুলো আজ বড় কষ্ট দেয়। আজম খান জানলেনও না যে তারই স্বাধীন করা বাংলাদেশে একাত্তরের বেঈমান রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের ফাসী হয়েছে, উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া গেছে এইসব নরপিশাচদের। কিন্তু আজো আমাদের দেশে সেইসব যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসূরীরা আস্ফালন করে বেড়ায়, নতুন প্রজন্মের যে তরুণেরা মুক্তিযুদ্ধের গান শুনতে চায় না বলে আক্ষেপ করেছিলেন আজম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে না বলে আফসোস করেছিলেন, তাদের অনেকেই আজ ক্রিকেট, গান কিংবা যে কোন অজুহাতেই পাকিস্তান সমর্থন করে। তাদের অনেকেই আজম খানকেও চেনে না। প্রতি বছর ২৮শে ফেব্রুয়ারি আসে-যায়, ভরাটগলায় উদাত্ত কণ্ঠে “বাংলাদেশ বাংলাদেশ” গান গাওয়া সেই মুক্তিযোদ্ধা আজম খানকে শুভ জন্মদিন বলার সময় আমাদের নেই!

শুভ জন্মদিন গুরু! আপনি বেঁচে থাকবেন আপনার কর্মে, সৃষ্টিতে, ভালোবাসায়, অনুপ্রেরণায়!

তথ্য ও সাক্ষাৎকার কৃতজ্ঞতা-

Comments
Spread the love