নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের ধরণটি যতটা না নিরাপদ সড়কের জন্য ছিলো, তার চেয়ে বেশী আমার চোখে এটি একটি দীর্ঘ দিনের অনিয়মের মধ্যে থাকা একটা সিস্টেমকে ধুয়ে-মুছে সাফ করার চেষ্টা। ‘রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে, সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত’- এমন একটা পোষ্টারও শোভা পেয়েছে শিক্ষার্থীদের হাতে। সত্যিই তাই, রাষ্ট্র সংস্কার! গাড়ির লাইসেন্স যাচাই, রাস্তায় গাড়ির ট্রাফিক সামলানো, লেন মেনে গাড়ি চলতে বাধ্য করা, মন্ত্রীর গাড়ি রং লেন থেকে সঠিক লেনে ফিরিয়ে দেয়া, এম্বুলেন্সের জন্য সড়কে ইমার্জেন্সি লেন, মানুষকে ফুটওভার ব্যাবহার করতে অনুরোধ করা- কী ছিল না এই আন্দোলনে? একটা ঘুণে ধরা সিস্টেমকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে নিরাপদ সড়ক কিংবা নিরাপদ শহরের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার অনেক কিছুই।

ছাত্র আন্দোলন, কলেজ ছাত্র, শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ

এরপর পক্ষ-বিপক্ষ কিংবা তৃতীয় পক্ষ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ১৮ না পেরুনো স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দেখানো ‘মনে রাখার মতো’ মুভমেন্ট শেষ অব্দি রাজনীতি-অপরাজনীতি, ছাত্র-ছাত্রী রক্তাক্ত হওয়া, গুজব, পুলিশের পাহাড়ায় বস্তির ছেলেদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় ভাংচুর ও ২২ ছাত্র গ্রেফতার দিয়ে শেষ হয়েছে অবশেষে! বাইরে থেকে দেখতে স্বস্তিতে ফেরা নাগরিক জীবনের ভেতরে হয়তো আন্দোলনের রেশ-ক্ষোভ থেকে গেছে এখনও কিন্তু বাইরের ঢাকা ফিরেছে আবার আগের সেই ব্যস্ততায়। সড়কে বাস ফিরেছে, ফিরছে অনিয়মও!

সরকার ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণা করেছে আজ চারদিন হলো। পরিবহন মালিক সমিতি বলেছে, তারা লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস যাচাই করেই গাড়ি ছাড়বে ডিপো থেকে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করে বাস ছাড়ছে পরিবহন মালিক সমিতি। ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে পঞ্চম দিনের মতো রাজধানী জুড়ে যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করছে পুলিশ।

গত চার দিনের মতো রাজধানীতে সকাল থেকেই ফিটনেস, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম তিন দিনে প্রায় ৫৯ হাজার মামলা ও ২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

নিজেদের দেয়া কথা অনুযায়ী রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রী তোলার আগেই যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করে পরিবহন মালিক সমিতি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া অনুমতি মিলছে না যানবাহন চলাচলের। মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা ফিটনেস না থাকলে বন্ধ রাখা হচ্ছে সেসব বাস। এছাড়া রুট পারমিট না থাকলেও অনুমতি মিলছে না বাস চলাচলের। (সূত্র- সময়টিভি)

নিরাপদ সড়ক চাই, ছাত্র আন্দোলন

এর মধ্যেই আইন অমান্য করে রাস্তা পারাপার, ফুটপাথ দিয়ে বাইক চালানোর কিছু ছবি ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে। যারা ছবি শেয়ার করছেন তাদের অভিযোগ, সচেতন হয়নি তেমন কেউই! অনিয়মে ফিরেছে আবার। তবে এর প্রতিকার কি? সচেতনতা নাকি আইনের প্রয়োগ?

আইনের প্রয়োগ, একমাত্র আইনের প্রয়োগ হলেই এগুলো কমবে। অপরাধ দমনে সচেতনতা একটু তুলতুলে পদ্ধতি। এমন তুলতুলে চর্চায় দিয়ে এসব বন্ধ হবে না। ছাত্রদের আন্দোলনে লাইসেন্স যাচাই দেখে সড়কে বাস কমে গেলো, গত তিনদিনে বিআরটিসিতে লাইসেন্স রিনিউ করার হিড়িক পড়ে গেলো, সামাল দিতে কর্মঘন্টা বাড়ানো হলো বিআরটিসিতে। এর কারণ কি? কারন রাস্তায় আইনের প্রয়োগ বেড়েছে। গত তিনদিনে প্রায় ৫৯ হাজার মামলা ও ২ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে, এটি গোটা বছরব্যাপী চলতে থাকলে অনিয়ম কিংবা আইন অমান্য করবে কেউ? না। হ্যাঁ, সচেতনতা প্রয়োজন, তবে আইন মানতে বাধ্য করা জরুরী। ‘প্রয়োজন’-এর চাইতে ‘জরুরী’ গুরুত্বপূর্ণ। সাজা কিংবা জরিমানার নিয়ম করে আইন মানতে বাধ্য করলে, এই মেনে চলার একটা সংস্কৃতি তৈরি হবে। এভাবে একদিন দমে যাবে অনিয়ম। জনগন নিজ থেকেই ফুটওভার ব্যবহার করবে, ফুটপাথে বাইক তুলে দিবে না বাইকার। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি বের করবে না কোন চালক।

আরও পড়ুন-

Comments
Spread the love