ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ভাবনাটা বরাবরই একটু বেশী। বিশেষ করে বাংলাদেশের বেলায় এই ব্যাপারটা বেশী দেখা গেছে। ২০১৫ সালে প্রস্তাবিত সিরিজ খেলতে দল পাঠায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, পরের বছর অনূর্ধ্ব-উনিশ বিশ্বকাপে খেলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তারা। কিছুদিন আগে যখন বাংলাদেশ সফর করেছেন স্টিভেন স্মিথরা, তাদের দেয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। তবে দৃশ্যপট পাল্টে গেল ভারতে গিয়ে। গতকাল ভারতের সঙ্গে সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম থেকে টিম হোটেলে ফেরার পথে ওদের বাসে পাথর ছুঁড়ে মেরেছে দলের হারে উত্তেজিত কয়েক যুবক। বাসের জানালার গ্লাস ভেঙে গেলেও, কেউ হতাহত হননি বলেই জানা গেছে।

গৌহাটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ- আয়োজনের কমতি ছিল না আয়োজকদের। কিন্ত দর্শকদের হতাশ করে মাত্র ১১৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে নিয়েছে আট উইকেটে। হতাশ দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়, এমনিতেই উপমহাদেশের, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের দর্শকদের দলের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ হয়ে সহিংস আচরণের নজির অনেক আছে। বারসাপাড়া স্টেডিয়াম থেকে গৌহাটির দিকে ফিরছিল অস্ট্রেলিয়া দলের বাস, তখনই পাথর ছুঁড়ে মারা হয় বাসে। তবে অস্ট্রেলিয়ার কোন খেলোয়াড় বাঁ কোচিং স্টাফের কেউই এতে আহত হননি, জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ টুইটারে বাসের জানালার ভাঙা কাঁচের ছবি পোস্ট করেছেন, লিখেছেন- “খানিকটা ভয়ই পেয়েছিলাম, যখন হোটেলে ফেরার পথে কারো ছুঁড়ে মারা পাথরে আমাদের বাসের জানালাটা ভেঙে গেল!” 

অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ক্রিকেট, বাসে হামলা

ক’দিন আগে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া, চট্টগ্রাম টেস্ট চলাকালে সাগরিকার জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম থেকে শহরে হোটেলে ফেরার পথে অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসে হামলা চালিয়েছিল কেউ। এত কড়াকড়ি নিরাপত্তাব্যবস্থার পরেও এমন ঘটনা বেশ শঙ্কিত করেছিল সবাইকে। এবার ভারতে তো ছুঁড়ে মারা পাথরে একেবারে জানালার কাঁচই ভেঙে পড়লো। এবছরের শুরুতে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট মাঠে জড়িয়েছিল কথার লড়াইতে, এবার তো ভারতীয় সমর্থকেরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ‘হাত থাকতে মুখে কি’ টাইপের নীতি গ্রহণ করেছেন দেখা যাচ্ছে! 

এমন কোন ঘটনা অবশ্যই কাম্য নয়। ক্রিকেটভক্ত হিসেবে তো নয়ই, সাধারণ মানুষ হিসেবেও নয়। তবে মজার একটা ব্যপারও আছে এখানে। ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড বা খেলোয়াড়েরা আমাদের দেশে একটা পটকা ফুটলেও অনেক সময় সফর বাতিল করেন, দল থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখেন কেউ কেউ। তারাই আবার জঙ্গী হামলা বা অন্যান্য দুর্ঘটনার পরেও আন্তর্জাতিক বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে ঠিকই ছুটে যান ভারতে। ব্যপারটা কি আসলেই নিরাপত্তা ঝুঁকির, নাকি স্বার্থ বা অর্থের প্রলোভনের- সেটা বোঝা যায় না ঠিকঠাক।

দেখা যাক, এই ঘটনার পরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কি পদক্ষেপ নেয় দলের ‘নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করতে। নাকি তাদের একচোখা নীতির বলি কেবল বাংলাদেশের মতো উদীয়মান শক্তিই হবে- সেটা পরিস্কার হবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড তাদের অবস্থান ব্যক্ত করার পরেই।

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো