অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

সবচেয়ে বেশি মানুষের আগ্রহ যখন ৮ বছরের ধর্ষিতার ‘পর্ন’ দেখায়!

সম্প্রতি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে আট বছর বয়সী মুসলিম শিশু আসিফা বানুকে অপহরণের পর গণধর্ষণ শেষে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে উত্তাল ভারতসহ সারা বিশ্ব। ইতিমধ্যেই ভারতের লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমেছে বিচারের দাবিতে। সবার একটাই চাওয়া, অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি হোক। আর তা হলো ফাঁসি।

তবে এই দাবি যখন করা হচ্ছে, তখন আরও একটি বিষয়ও সামনে চলে আসছে। সেটি হলো, শুধু অপরাধীদের ফাঁসিই কি এখানে যথেষ্ট, যদি না সমাজের এ ধরণের নিকৃষ্ট জীবদের মানসিকতার পরিবর্তন করা যায়? ভাবতেই অবাক লাগে যে মানুষের মনুষ্যত্ব আজ কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে যে আট বছরের একটি শিশুকেও তাদের গণধর্ষণের পর হত্যা করতে বিবেকে বাঁধছে না!

তাই এখন অপরাধীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি এটিও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন কি আদৌ সম্ভব। এবং দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, খুব তাড়াতাড়ি হয়ত সেটি সম্ভব নয়। বরং মানবতা শব্দটাই বোধহয় কয়েকদিন পর অভিধান থেকে মুছে ফেলতে হবে। তা না হলে আট বছরের ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটির নাম কীভাবে পর্নসাইটের সার্চে সবার উপরে থাকে!

হ্যাঁ পাঠক, এইমাত্র যা পড়েছেন তাতে বিন্দুমাত্র মিথ্যা নেই। এই মুহূর্তে ভারতের মানুষ পর্ন সাইটগুলোতে সবচেয়ে বেশি যার পর্ন ভিডিও দেখতে চাচ্ছে, সেই অভাগীর নাম আসিফা। টপ সার্চ ট্রেন্ডে আসিফা এমনকি ছাড়িয়ে গেছে শীর্ষস্থানীয় বলিউড সেলিব্রেটি ও পর্ন স্টারদেরও।

বলাই বাহুল্য, কোন পর্ন সাইটেই আসিফার ভিডিও নেই। কিন্তু তারপরও মানুষের মানসিকতা আজ এতটাই বিকৃত যে তারা পর্ন সাইটগুলোতে গিয়ে আসিফার নাম লিখে সার্চ দিচ্ছে। উদ্দেশ্য অবশ্যই আসিফাকে ধর্ষণের ভিডিও দেখা ও তা উপভোগ করা।

আজ যারা ঘরে বসে নিজেদের ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলে আসিফাকে ধর্ষণের ভিডিও দেখার ইচ্ছা পোষণ করছে, তারা প্রত্যেকেই কি একেকজন পটেনশিয়াল রেপিস্ট নয়? সুযোগ পেলে তারাও কি আসিফার মত সাত-আট বছরের, কিংবা তারও কম বয়সী শিশুদের ধর্ষণ করতে চাইবে না? এবং যেহেতু সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ আসিফার নাম লিখে সার্চ দিয়েছে, তাই এ বিষয়টি পরিষ্কার যে আমাদের সমাজ এখন এ ধরণের পটেনশিয়াল রেপিস্টে ছেয়ে গেছে।

খুব স্বাভাবিক কারণেই মনে প্রশ্ন জাগে, এ সমাজ কি তবে আজ রসাতলে যাচ্ছে না? মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক সবকিছুই কি আজ লোপ পাচ্ছে না? এ সমাজে তবে শুধু শিশু বা নারী কেন, কোন সুস্থ-স্বাভাবিক ভালো মানুষই তো আজ নিরাপদ নয়।

প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতা খুললে বা ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করার সময়ে আমরা এক বা একাধিক ধর্ষণের সংবাদ দেখতে পাই। এবং তাতেই আমরা আঁতকে উঠি। কিন্তু আজ যখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের আশেপাশে এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়, যারা হয়ত সাহস করে কাউকে ধর্ষণ করে উঠতে পারছে না, কিন্তু মনে মনে ধর্ষণের স্পৃহা ঠিকই জিইয়ে রেখেছে। সুযোগ পেলে তারাও যদি একদিন ধর্ষক হয়ে ওঠে, তবে তা খুব অবাক হবার মত কিছু হবে না।

তথ্যসূত্র-

 

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close