অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

এশিয়ার অদ্ভুত যত উৎসব!

আমরা এশিয়ানরা এমনিতেই একটু আমুদে স্বভাবের-উৎসবও যেমন বেশি উদযাপনও তেমন! আমাদেরএমন কিছু উৎসব আছে যার কথা শুনলে যে কেউ চোখ কপালে উঠাতে বাধ্য হবেন! বিবিসির জরিপে উঠে আসা এশিয়ার অদ্ভুত সব উৎসবগুলি চলুন জেনে নেয়া যাক!

কানামারা পেনিস ফেস্টিভালজাপান

জাপানে প্রতি বছর এপ্রিলে পালন করা হয় ‘পেনিস ফেস্টিভাল এই উৎসবের শোভাযাত্রাতে সবার হাতে আপনি দেখতে পাবেন পুরুষাঙ্গের আকৃতির ছোটবড় নানান প্রতিকৃতি তিনশো বছর পুরনো এই উৎসবে মূলত ঈশ্বরের কাছে যৌনরোগ মুক্ত সমাজের প্রার্থনা করা হয় বর্তমানে এই উৎসবে এইচআইভি রোগীদের জন্য অনুদানও সংগ্রহ করা হয়। দেশবিদেশের অনেক পর্যটক আসেন এই অদ্ভুত শোভাযাত্রায় অংশ নিতে চাইলে আপনিও অংশ নিতে পারেন!

ক্রাইং বেবি ফেস্টিভ্যাল

জাপানের আরেক উদ্ভট উৎসব হচ্ছে ‘ক্রাইং বেবি ফেস্টিভ্যাল’ বা বাচ্চা কাঁদানো উৎসবএই উৎসবে জাপানের সুমো কুস্তিগীররা প্রতিযোগিতা করে কে কার আগে বাচ্চা কাঁদাতে পারেচোখ মুখ খিঁচে হালকা দুলিয়ে যে তার কোলের বাচ্চাকে কাঁদাতে পারবে সেই এই প্রতিযোগিতায় প্রথম হবে! জাপানিদের বিশ্বাস এই প্রতিযোগিতা বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারী। কি অদ্ভুত, তাই না পাঠক!

তিহার উৎসব, নেপাল

নেপালীদের একটি উৎসব আছে যার নাম তিহার উৎসব সেখানে তারা দেবদেবী সহ প্রকৃতিপূজো করে থাকেন  এই উৎসবেরই একটি অংশ হচ্ছে কুকুরকে ধন্যবাদসূচক পুজো এই পূজোতে কুকুরদের কপালে তিলক লাগিয়ে খাবার খাইয়ে তাদের বিশ্বস্ততার প্রতি শ্রদ্ধা জানান নেপালিরা। পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা জানানোর এমন  উৎসবকে বিবিসি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আঞ্চলিক উৎসব বলে রায় দিয়েছে।

দ্যা নেইকেড ফেস্টিভ্যাল

জি হ্যাঁঠিকই পড়েছেনএটা উলঙ্গ হবার উৎসবই৫০০ বছর ধরে জাপানীরা এই ‘হাদাকা মাতসুরি’ অর্থাৎ উলঙ্গ হবার উৎসব পালন করে আসছে। এখানে প্রতিযোগীরা সবাই সাদা নেংটি পরে মন্দিরের নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। আর মন্দিরের ছাদ থেকে পুরোহিত এক জোড়া লাঠি ফেলেন। যে সবার আগে লাঠিখানা নিয়ে একটি বাক্সে রাখতে পারবে সেই হবে বিজয়ীজাপানিরা বিশ্বাস করে এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীর আগামী বছরটি হবে সৌভাগ্যের একটি বছর

থাইপুযাম উৎসব

ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের তামিল হিন্দুদের জনপ্রিয় একটি উৎসবের নাম হল থাইপুযাম উৎসব। এই উৎসবে অংশ নেয়া সবাই জিহ্বা, গাল, ঠোঁট সহ মুখের নানা অংশে ছিদ্র করে থাকে। মজার ব্যাপার হলো তারা নাকি একেবারেই কোন ব্যথা অনুভব করেন না! যুদ্ধদেবতা মুরগানের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতিবছর এই উৎসব উদযাপন করে তামিলরা। এই থাইপুযাম বা ‘ছিদ্র’ উৎসবটি দেখতে দেশবিদেশ থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার মাটি উৎসব

১৯৯৬ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বরিয়ং শহরে উদযাপন করা হয় ‘মিদু চুকজি’ বা মাটি উৎসব। এই উৎসবে কোরিয়ানরা একে অপরের সাথে কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়িতে মেতে উঠে। বলা হয়, বরিয়ং শহরের মাটিতে বেনটোনাইট ও জার্মেনিয়ামের পরিমাণ অস্বাভাবিক রকম বেশি যা ত্বকের জন্যে খুবই উপকারী। এই মাটির ওষুধি গুণাগুণও রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মত দিয়েছেন।

তো পাঠক, ট্র্যাভেললিস্টে যোগ করে নিয়েছেন তো এই উৎসবগুলি? না করলে করে নিন এখুনি!

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close