সিনেমা হলের গলি

যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে শুটিং করবেন না অক্ষয়!

মি-টু ঝড়ে তোলপাড় ঘটে যাচ্ছে বলিউডে। এমন সব মানুষজনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আসছে, এসবের সঙ্গে যাদের জড়িত থাকার কথা হয়তো কেউ ভাবতেও পারতো না! আপাদমস্তক ক্লিন ইমেজধারী অভিনেতা বা পরিচালকদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন অনেকেই। সেসবের দমকা হাওয়ায় বলিউড এখন মোটামুটি বেসামাল।

নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রী দত্তের পুরনো অভিযোগ নতুন করে তোলা দিয়ে যেটা শুরু হয়েছিল, সেটা থামার কোন নামগন্ধও নেই। পরিচালক বিকাশ ভেল, প্রবীণ অভিনেতা অলোক নাথের পর এবার এই তালিকায় নাম লেখালেন হাউজফুল সিরিজের পরিচালক সাজিদ খানও। আর তাতেই এমন একটা ঘটনা ঘটে গেল, যেটা গত আটাশ বছরেও ঘটেনি। পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আসায় হাউজফুল-৪ এর শুটিং থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমার। 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী দত্ত আক্ষেপ করেছিলেন, অনেকেই তার পাশে দাঁড়ালেও, বলিউডের সবচেয়ে বড় তারকাদের অনেকেই এই যৌন হয়রানির ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজী নন। অমিতাভ বচ্চনকে যখন এইই ব্যপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন- “আমি তো নানা নই, আমি তনুশ্রীও নই। এই ব্যাপারে আমি কি বলতে পারি?” আমির খান এই ব্যাপারে খুব বেশিকিছু জানেন না বলে পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ এই অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠেই শোনা গিয়েছিল বিখ্যাত সংলাপ- ‘নো মীনস নো!’ নারীদের প্রতি যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে ‘সত্যমেব জয়তে’ টিভি শো-তে আমির ছিলেন বরাবরই সোচ্চার। অথচ তারাই কিনা ইন্ডাস্ট্রির এই বিশাল ঘটনায় নীরব দর্শক হয়ে আছেন। 

তবে তনুশ্রীর অভিযোগটা সবচেয়ে বেশি ছিল অক্ষয়ের প্রতি, অক্ষয়ের নাম উল্লেখ করেই তনুশ্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন তিনি এখনও নানা পাটেকরের সঙ্গে কাজ করছেন? যেহেতু অক্ষয় নিজে মেয়েদের সেলফ ডিফেন্স সহ নানারকমের ওম্যান এম্পাওয়ারমেন্টের কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকেন, সেই তিনিই কেন একজন নারী নিপীড়কের সঙ্গে স্ক্রীন শেয়ার করছেন, এটাই ছিল তনুশ্রীর প্রশ্ন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, অক্ষয়ের স্ত্রী টুইঙ্কেল খান্না আবার শুরু থেকেই তনুশ্রীকে সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। 

মি টু মুভমেন্ট, যৌন হয়রানি, তনুশ্রী দত্ত, নানা পাটেকর, ফারিয়া শাহরিন

নানা পাটেকরের ব্যাপারে নতুন করে অভিযোগ ওঠার পরেও হাউজফুল- ৪ এর শুটিং চালিয়ে গিয়েছিলেন অক্ষয় কুমার। তবে এবার যখন পরিচালক সাজিদ খানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠলো, তখন শুটিং না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এক পোস্ট মারফত সেটা সবাইকে জানিয়েও দিয়েছেন। ইতালি থেকে গতকাল মুম্বাইতে ফিরেই সাজিদ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার কথা শুনেছেন অক্ষয়। তারপরেই নিজের সিদ্ধান্তটা জানিয়েছেন তিনি। অক্ষয়ের আটাশ বছরের ক্যারিয়ারে তার পক্ষ থেকে শুটিং ক্যান্সেল করার ঘটনা ঘটলো এই প্রথম। 

প্রযোজকদের অক্ষয় বলেছেন, এই অভিযোগগুলোর তদন্ত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি যৌন হয়রানির অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করতে রাজী নন। সিনেমার ৭০ ভাগ শুটিং হয়ে গেছে, এই সময়ে পরিচালক আর অভিনেতার এমন ঘটনা সামনে আসায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা। তবে এরই মধ্যে হাউজফুলের পরিচালক সাজিদ খান সিনেমার পরিচালকের পদ ছেড়ে দিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় অভিনেত্রী রাচেল হোয়াইট, সহকারী পরিচালক সালোনি চোপড়া এবং সাংবাদিক কারিশমা উপাধ্যায় একসঙ্গে সাজিদ খানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। 

মি-টু মুভমেন্ট বেশ ভালোই সাড়া জাগিয়েছে বলিউডে। কাজল থেকে শুরু করে বরুন ধাওয়ান বা পরিণীতি চোপড়ার মতো তারকারা যেমন নারীর প্রতি যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করছেন, তেমনই যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠা অনেককেই বাদ দেয়া হচ্ছে কাজ থেকে। পরিচালক বিকাশ ভেলের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ ওঠায় অ্যামাজন প্রাইমের একটা সিরিজ থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে, শোনা যাচ্ছে ঋত্বিক রোশানও নাকি তার আপকামিং সিনেমা সুপার থার্টি’র পরিচালকের পদ থেকে বিকাশকে বাদ দিতে বলেছেন। এবং এটা মোটামুটি নিশ্চিত বলেই খবর। আমির খানও নাকি নাম ঠিক না হওয়া একটা প্রোজেক্ট ছেড়ে দিয়েছেন পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বলে। এবার দেখা যাক, যে নানা পাটেকরকে দিয়ে এত কাহিনীর শুরু, তাকে হাউজফুল- ৪ থেকে বাদ দেয়া হয় কিনা! 

আরও পড়ুন-

Comments

Tags

Related Articles