আকাশে ডানা মেলতে কে না চায়? পাখির মতো ওড়ার ইচ্ছে হয় না কার? লাল সবুজ এই বাংলাদেশের নীল আকাশে উড়ে বেড়ানোর সেই বাসনা নিয়েই ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ শ্লোগানকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন নাইমা হক এবং তামান্না-ই-লুৎফী। সেই স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে আগেই, এবার আরও বড় দায়িত্ব চেপেছে কাঁধে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে কোন নারী বৈমানিক যাচ্ছেন শান্তিরক্ষা মিশনে, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না আর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমার মাধ্যমেই খুলছে প্রতীক্ষিত এই পথ। ১১৫ সদস্যের দলের সঙ্গে ৭ ডিসেম্বর কঙ্গোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছাড়বেন তারা।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া শুরু হয় ২০০০ সাল থেকে। ২০১৩ সাল থেকে বৈমানিক হিসেবে নারীরাও কাজ করতে শুরু করেন। এর আগেই অবশ্য বিমানবাহিনীতে চাকুরী শুরু করেছিলেন নাইমা এবং তামান্না। বিমানবাহিনীতে চাকুরীর শুরুতে দুজনেই অন্য দায়িত্ব পালন করতেন। দুজনের পরিবারেই এয়ারফোর্সের সদস্য ছিলেন আগেও। নাইমার দাদা ছিলেন রয়েল ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের করপোরাল। আর তামান্নার বাবা ছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন।

বিমানবাহিনীতে বৈমানিক হিসেবে যখন নারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়, তখন আলাদা আলাদা জায়গা থেকেই তামান্না আর নাইমা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই চ্যালেঞ্জটাকে জয় করার। দুজনের পরিবারও তাদের সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন, আর যুগিয়েছেন সাহস। কঠোর পরিশ্রম আর প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৪ সালে দুজনে মনোনীত হয়েছিলেন দেশের প্রথম সামরিক নারী বৈমানিক হিসেবে। এবার তাদের আকাশযুদ্ধের সীমানাটা আরও বড়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হয়ে তারা সুরক্ষা দেবেন কঙ্গোর আকাশসীমাকে। ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা শান্তিরক্ষা মিশনে যাচ্ছেন, আর সাত বছর ধরে যাচ্ছেন নারী কর্মকর্তারা। তবে বাংলাদেশ থেকে নারী বৈমানিক পাঠানো হচ্ছে এবারই প্রথম।

আন্তঃবাহিনী পরিদপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এই তথ্য, এই সুসংবাদ পেয়ে তামান্না আর নাইমাও বেশ খুশী। কঠোর অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি পেলে কার না ভালো লাগে? গণমাধ্যমের সামনে তামান্না বলছিলেন-

“গত চৌদ্দ বছর ধরেই আমাদের এয়ারফোর্স খুব সম্মানের সাথেই জাতিসংঘকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ফার্স্ট টাইম আনরা দুজন ফিমেল পাইলট যাচ্ছি। যখনই বাংলাদেশ এয়ারফোর্সে প্রথম জয়েন করি, তখন থেকেই সব ধরণের চ্যালেঞ্জ অ্যাক্সেপ্ট করেই জয়েন করেছিলাম। সেই চ্যালেঞ্জেরই একটা অংশ হলো ইউনাইটেড নেশন্সে সার্ভ করা।”

নাইমা দোয়া চাইলেন সবার কাছে, জানালেন, ব্যাপারটা তার কাছে অনেক বেশী রোমাঞ্চের। বলছিলেন-

“এতদিন আমরা দেশের মাটিতে ফ্লাই করেছি, এখন আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটা জায়গায় গিয়ে ফ্লাই করবো। আমাদের জন্যে দোয়া করবেন, যাতে আমরা যে মনোবলটা নিয়ে যাচ্ছি, যা করার জন্যে যাচ্ছি তা যেন সুন্দরভাবে, সুস্থ দেহে করে ফেরত আসতে পারি।”

যে স্বপ্ন নিয়ে বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন নাইমা আর তামান্না, সেই স্বপ্ন আকাশ ছুঁয়েছে অনেক আগেই, এখন তার পরিধি কেবল বিস্তৃত হচ্ছে, দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখতে চলেছেন আমাদের নারী পাইলটেরা। ওঁদের হাত ধরে বাংলাদেশের পতাকা বিশ্ব দরবারে উড়বে সুনামের সঙ্গে, তাঁদের অর্জনে মহিমান্বিত হবে বাংলাদেশের গৌরব। নাইমা আর তামান্নার পথ ধরে আরও অনেকে আসবেন, বাধার পাহাড় মাড়িয়ে, সমাজ-সংসারের অলিখিত শৃঙখল ভেঙে আমাদের নারীরা এভাবেই জয় করবেন বিশ্ব, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ওঁদের জন্যে ভালোবাসা আর শুভকামনা।

কৃতজ্ঞতা- যমুনা টিভি

শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশি নারী বৈমানিক

বাংলাদেশের প্রথম নারী বৈমানিক হিসেবে জাতিসংঘের শান্তরক্ষী মিশনে যাচ্ছেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা।

Posted by Jamuna Television on Monday, December 4, 2017

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-