খেলা ও ধুলা

শহিদুলের হাস্যকর ভুলে এবারও হলো না!

অনিশ্চয়তা, কিংবা খেলায় দুর্ভাগ্যগুলো এমনই হয়। বাজে খেলেও প্রথম ম্যাচে নেপালের সাথে জিতেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের কাছে হেরেছে তার পরের ম্যাচ। কিন্তু নিজেদের শেষ ম্যাচে ভূটানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে সেই পাকিস্তানি! হারলে গোল ব্যাবধানে পিছিয়ে পড়ে আসর থেকে বিদায় নেয়ার উলটো চাপ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ, অথচ আজক পাকিস্তান-ভুটান ম্যাচের আগেও প্রায় নিশ্চিত ছিলো বাংলাদেশ খেলবে সেমিফাইনাল। তার জন্য প্রয়োজন কেবল ড্র, আর নেপালের জন্য একমাত্র সমীকরণ ছিলো জয়!

নেপালের সাথে আগের আঠারো বারের দেখায় বাংলাদেশ জিতেছে ১২, ড্র ১, হেরেছে ৫ টি। এর মধ্যে সাফের দেখা হয়েছে ৬ বার। বাংলাদেশ জিতেছে ৪টি, হেরেছে দুটি। আগের পরিসংখ্যান স্পষ্টই বাংলাদের পক্ষে। তবে সাফের শেষ দুইবারের দেখায় হেরেছে বাংলাদেশ, নেপালের জন্য পরিসংখ্যান থেকে অনুপ্রেরণা ছিলো কেবল এইটুকুই!

সাফের গত তিন আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বাজে ভাবে বিদায় নেয়াই ছিলো বাংলাদেশের সবশেষ সাফ সফলতা! কিন্তু এই আসরের শুরু থেকেই ‘ভয়ডরহীন’ ফুটবলে খেলে আশা দেখাচ্ছিলো বাংলাদেশ। যে আশার ভেলা বইতে শুরু করেছিলো, এশিয়ান গেমসে প্রথমবার নকআউট রাউন্ডে উঠে।

আজ ম্যাচের শুরু থেকেই কিছুটা রয়েসয়ে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে খেলছিলো দুই দল। মাঝে কিছুটা ডমিনেট করছে বাংলাদেশ। কিন্তু খেলার যখন তেত্রিশ মিনিট, ওয়ালী ফয়সালের করা ফাউল থেকে ফ্রিকিক পেলো নেপাল। ডি বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে গোল পোস্টে কিক নিলেন নেপালের ফরোয়ার্ড বিমল, বাতাসে ভেসে আসা বলের লাইনেই দাঁড়ানো ছিলেন শহিদুল। এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত গোলকিপিং করা রানাকে সরিয়ে শহিদুলের দলের অন্তর্ভুক্তি নিয়েই গুঞ্জন চলছিলো, আবাহনীতে খেলেন বলেই সুযোগ পেয়েছেন! তার ভুলে দিন কয়েক আগেই শ্রীলংকার সাথে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। সাফের আগের দুই ম্যাচে সেসব সমালোচনা সামলেছেন মোটামুটি, দলকেও কোন গোল হজম করতে হয়নি তার ভুলে। কিন্তু আজ একি করলেন শহিদুল, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোলরক্ষকের এমন অমার্জনীয় ভুল! এমন বিরক্তিকর ভুল! বাতাসে ভেসে আসা বল গ্রিপ করতেই পারেননি শহিদুল, তার হাতে লেগে বল বাংলাদেশের জালে। শহিদুলের এমন ‘গিফট’ করা গোলে ১-০ গোলের লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করেছে নেপাল।

ফুটবল, বাংলাদেশ ফুটবল দল, বাফুফে, সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ, বাংলাদেশ বনাম নেপাল, সাফ ব্যর্থতা

দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিটের মাথায় বাংলাদেশের দুই পরিবর্তন। বিপলুকে তুলে সোহেল রানা, আর আগের দুই ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা সাদের পরিবর্তে মাঠে ঢুকলে শাখওয়াত রনি। তাতেও খেলায় পরিবর্তন আসেনি। বাংলাদেশের সব আক্রমন গুলো নেপালের ডিবক্স অব্দি গিয়েই খেই হারিয়েছে। পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ যতটা চেপে ধরে খেলার কথা, তার বিপরীতে নেপাল বরং একাধিক ভালো আক্রমণ শানিয়েছে। বেশ কয়েকবার পরীক্ষায় ফেলেছে শহিদুলকে। ৫৭ মিনিটে সোহেল রানার ক্রস সুফিলের মাথার ছোঁয়া পেলে হয়তো গোল পারতো, কিন্তু সুফিল সেটি পারেননি। আজ সুফিল কেমন যেনো নিজের ছায়ায়, খোলস বন্দী! মাঝমাঠের সাথে আক্রমণ ভাগের সংযোগ বাড়াতে মাসুক মিয়া জনিকে তুলে মাঠে নামানো হলো ইমন মাহমুদকে। লাভ হয়নি তাতেও!

বরং ৮১ মিনিটে আরেকবার বাংলাদেশের জালে জড়িয়েছিলো বল, সেটিকে অবশ্য অফসাইড ডেকে বাতিল করে দিয়েছেন রেফারি। কিন্তু খেলার ৯০ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে এসে ডিবক্স থেকে দুর্দান্ত এক শট নিলেন বদলি হিসেবে নামা নাওয়াং শ্রেষ্ঠা। কাছ থেকে এত গতির শটে ঝাপানোর সময়টুকুও পাননি শহিদুল, বাংলাদেশের জালে জড়ালো বল। আগের দুই ম্যাচে কোন গোল হজম না করা বাংলাদেশ এই ম্যাচে হজম করলো দুই গোল!

ফুটবল, বাংলাদেশ ফুটবল দল, বাফুফে, সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ, বাংলাদেশ বনাম নেপাল, সাফ ব্যর্থতা

শেষ বাঁশির সাথেই মাঠে শুয়ে পড়লেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। দুর্দান্ত খেলতে থাকা একটা দলের এমন হারে ছিটকে পড়েছে টুর্নামেন্ট থেকেই। হতাশা মাঠে, হতাশা গোটা গ্যালারী জুড়ে! সমান দুই ম্যাচ করেই জিতেছে তিন দল, সমান পয়েন্ট। কিন্তু গোল ব্যাবধানে বাদ পড়ে গেলো বাংলাদেশ। হিসেব-নিকেশের ফুটবলে দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের। তবে ড্র করলেই দল সেমিফাইনালে উঠে যাবে, এমন ম্যাচে গোলরক্ষকের এত বাজে ভুলের মাশুল তো গুনতেই হয়!

সাফ বাংলাদেশ জিতেছে একবারই, সেটি আজ থেকে পনেরো বছর আগে; ২০০৩ সালে। শেষ সেমিফাইনাল খেলেছে সেও ৯ বছর আগে। নেপালের সাথে হেরে সে অপেক্ষা আরও বাড়লো, টানা চতুর্থ আসরে গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়লো বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Tanvir Hossain Jony

“আমি পথ কিংবা গন্তব্যহীন, ভীষণ বেখেয়ালিপনা আমার সব নিউরন জুড়েই। তবুও এমন কিছু করে মরতে চাই, যেন আমার মৃত্যুর খবর পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় হরফে লিখা হয়, শোক নেমে আসে গোটা দেশ জুড়ে!”

Related Articles

Close