সাকিব- রোম্যান্টিক থ্রিলার সিনেমার ক্ষেত্রে যদি আপনাকে সুযোগ দেয়া হয় যে আপনি দেশ বিদেশের যে কাউকে নিতে পারবেন, কাকে নিবেন আপনি? ধরুন সব তৈরি, আপনার বাজেটও দেয়া হলো ঠিকমতো। কাকে নিবেন নায়ক হিসেবে?

আদনান- (একটু ভেবে) নায়ক তাহলে মনে হয় আমি ইন্ডিয়া থেকে নিতে পারি। আমার একটু রনবির কাপুর টাইপ একজনকে লাগবে।

সাকিব- মানে চকলেট বয়?

আদনান- চকলেট বয়, আবার কোনো বডিবিল্ডার নায়ক না। আর নায়িকা যে কাউকে নিতে পারি, এখান থেকে বা কলকাতা থেকে।

সাকিব- নাম যদি বলতেন স্পেসিফিক করে।

আদনান- নাম মানে… আমার কাহিনীটা আসলে একটু বেশ সাবকনটিনেন্ট কাইন্ড, আমি আসলে খুব বেশি হলিউডিশ না তো। নেব হয়তো কাউকে, মাথায় নাই আসলে, সেভাবে ভাবি নাই। চিন্তা করতে হবে।

সাকিব- আর আপনার ফ্যামিলি ড্রামার ক্ষেত্রে যদি বলি?

আদনান- একদম ফ্রেশ ফেইস নেয়ার ইচ্ছা। আমার গল্প যা আছে একদম বাংলাদেশের গল্প। বাবা ক্যারেক্টার নিলে অমরেশ পুরির মত কাওকে নেয়ার ইচ্ছা।

সাকিব- কিন্তু উনি তো মারা গেছেন!

আদনান- আরে নাহ, উনি না। ঐ যে কি জানি আরেকজন নাম, পুরি নামে?

সাকিব- ওম পুরি?

আদনান- আরে না না। পুরিই না। ঐ যে মাথায় টাক। নাম ভুলে গেছি!

সাকিব- অনুপম খের?

আদনান- রাইট! অনুপম খের!

সাকিব- নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকিকে কি নিবেন বলা হলে?

আদনান- নাহ, আমার সিনেমাতে অর টাইপের কোন ক্যারেক্টার নাই।

সাকিব- প্রিয় অভিনেতা তো তিনি, নাকি?

আদনান- ওয়ান অফ দ্যা প্রিয়, তবে গত কয়েকটা সিনেমাতে তার অভিনয় আমার কাছে ক্যান জানি টাইপড লাগতেছে! কেন জানি মনে হচ্ছে একই জিনিস করছেন বারবার। যেমন শাহরুখ খানের একটা সিগনেচার আছে। সবারই আসলে থাকে। আর সুপারস্টার হলে তো থাকবেই।

সাকিব- এটা কি খারাপ মনে হয়?

আদনান- আমাকে যদি জিজ্ঞেস কর, তাহলে আমার কাছে মনে হয় খারাপ। তবে আমি শিউর বড় স্টাররা কেউ এটাকে মনে করে না খারাপ। আমার খারাপ মনে হয়। নিজেকে ভাঙতে পারা উচিত। না ভাঙলে তাকে দিয়ে কাজ করানোর সময় মাথায় তার সেই স্টাইল, সিগনেচার কাজ করে, আমার গল্পে তাকে যেভাবে আমার দরকার সেটা আর কাজ করেনা। বাইরের দেশে কিন্তু এমন নাই, কেপ্রিও এর কথা চিন্তা করেন, প্রতিবার ভাঙ্গছে না  নিজেকে? এরপরেও তো সে স্টার, আবার অভিনেতাও। ওদের কোন সিগনেচার নাই। সিগনেচার জিনিসটা মনে হয় খালি বলিউডেই আছে। হলিউডে একজন ক্যারেক্টারের জন্য একবার চিকন হচ্ছে একবার মোটা হচ্ছে, ব্যাটম্যান হচ্ছে আবার সেই মানুষই ক্যারেক্টারের জন্য দ্যা মেশিনিস্ট করতেসে…

সাকিব- ক্রিশ্চিয়ান বেল।

আদনান- হ্যাঁ! 

সাকিব- বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আপনি কাদের কাজ পছন্দ করেন?

আদনান- দেশে?

সাকিব- দেশ, বিদেশ সব মিলিয়ে।

আদনান- বিদেশ বললে ওয়েস এন্ডারসন। তারপরে আছেন ইনারিতু। এরপরে আরেকজন আছেন, কি জানি নাম… আমি নাম ভুলে যাই আসলে, আজকাল সমস্যা হচ্ছে এটা।

সাকিব- দেশে?

আদনান- পিপলু আর খান।

সাকিব- নিজের বানানো পছন্দের বিজ্ঞাপন?

আদনান- একেকদিন একেকটা ভাল্লাগে। লাস্ট ভাল লাগলো যেটা করলাম কয়েকদিন আগে- ডাবর আমলার একটা কাজ। এটা দেখে মনে হচ্ছে বেশ ভাল হইছে, মনে হইছে আমি আমার নিজের টোন থেকে বের হয়েছি, নিজেকে একটু ব্রেক করছি। আসলে নিজের কাজ কখনও ভাল্লাগে না। যখন বের হয়, দুই দিন অনেক ভাল্লাগে। এরপরে মনে হয়- নাহ, জমে নাই, আর একটু ভাল হতে পারতো।

সাকিব- ছোটবেলায় দেখা কোন বিজ্ঞাপনটা সবচেয়ে পছন্দের বা এখনও মাথায় গেঁথে আছে?

আদনান- প্রিয় বলতে তেমন কিছু নাই মনে হয়। ঐগুলা বেশি জিঙ্গেল বেজড ছিল। সেদিন ডানোর বিজ্ঞাপন দেখছিলাম একটা- মন পড়ে মনে পড়ে- বেশ ভাল্লাগলো অনেকদিন পর দেখে। তখন আসলে অনেক ভাল কাজ হতো, আসলেই হতো। তবে আমার মনে নেই তেমন। ওকে, একটা মনে আছে, বেশ প্রিয়। মেরিল ফ্রেশজেলের একটা বিজ্ঞাপন।

সাকিব- আফজাল হোসেনের?

আদনান- হ্যাঁ, তিনিই বানিয়েছিলেন সম্ভবত। ঐটা বেশ পছন্দের। তখনকার সময়ের তুলনায় বেশ ট্রেন্ডি ছিল জিনিসটা।

সাকিব- প্রিয় বই?

আদনান- অনেকদিন বই পড়ি না। সমানে সিনেমা দেখি এখন খালি। হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ি খালি। এছাড়াও আরও অনেক বই পড়েছি আগে, এখন মনে নাই।

সাকিব- তাহলে টেবিলে filmy manager বইটা কে পড়ে?

আদনান- (টেবিলে রাখা বইটার দিকে তাকিয়ে) ওহ! এটা আমার ছেলেপেলেদের জন্য আনছি।

সাকিব- আপনি পড়েন নাই?

আদনান- নাহ, আমি জাস্ট নিয়ে আসছি, পড়া হয় নাই, পড়ব। সময় হচ্ছে না আসলে।

সাকিব- লাস্ট কোন সিনেমাটা দেখলেন?

আদনান- ইদানিং সিনেমাটা কম দেখা হচ্ছে। সিরিজ দেখছি এখন। ওয়েস্টওয়ার্ল্ড। আটটা এপিসোড দেখসি।

সাকিব- লাস্টের দুইটায় খবর আছে! স্পয়লার দিব?

আদনান- এই, না না! (হাসি)

সাকিব- লাস্ট দেখা প্রিয় সিনেমা? দেশে?

আদনান- আয়নাবাজি।

সাকিব- বলিউড?

আদনান- ডিয়ার জিন্দেগি দেখলাম, ভাল্লাগে নাই। বোরিং। কাহানি ২ দেখলাম। চলে ঠিকঠাক, এরপরেও জমে নাই। কোনটা জানি ভাল লাগলো? এইইইই, ঐ যে, একটু অনুরাগ কাশ্যাপ মোডের সিনেমা, কি জানি নাম! হ্যাঁ, মাসান! মাসান অনেক ভাল্লাগসে।

সাকিব- আর হলিউড?

আদনান- হলিউড দেখা হয় না তেমন। ভাল্লাগে না এখন আমার তেমন। এই যে এত এভেঞ্জারস টাইপের সিনেমা, এগুলা পছন্দ না আমার। আর এখন সমানে সিরিজ দেখতেসি তো, মাথায় কিছু নাই আর।

সাকিব- কোন প্রোডিউসার সমস্ত টাকা থেকে শুরু করে সব সুযোগ সুবিধা দিয়ে যদি বলে- সিনেমাতে শাকিব খানকে নিতে হবে, আপনি কি রাজি?

আদনান- শাকিব খানে আমার সমস্যা নাই। এসব যদি হয়, এটা যদি স্বপ্ন হয়, আর সেই স্বপ্নে শাকিব খান ঢুকলে আমার কোন সমস্যা নাই। তার যে লুক আছে- তিনি খুবই গুড লুকিং! আমার যা দরকার সেটা হল আমার টাইপের অভিনয়। আমি তাকে দিয়ে যে ধরনের অভিনয় করাতে চাই, সেই ধরনের অভিনয়। আমি যেভাবে ক্যারেক্টার বিশ্লেষণ করি সেভাবে তিনি করবে কিনা। মানে সিনেমাটা ডিরেক্টরস ফিল্ম হতে হবে, আমার ভিশন তিনি ধরতে পারলেন আর যদি বলেন- চলেন আদনান কাজ করি, তাহলে আমার কোন সমস্যা নাই। তার মাঝে হিরোইজম জিনিসটা আছে।

সাকিব- আরেফিন শুভ যদি বলি?

আদনান- তার মাঝেও হিরোইজম বেশ ভাল আছে। দুই একটা জায়গায় একটু আমার মত করে চেঞ্জ করতে হবে, বাকি সব ঠিকঠাক। কোন সমস্যা নেই এই দুইজনকে নিয়ে আমার কাজ করতে। ডেডিকেশন আছে এরকম যেকোনো অভিনেতার সাথে আমি কাজ করতে রাজি।

সাকিব- নতুনদের সাথে আর পুরনোদের সাথে মানে যারা মঞ্চ থেকে আসা, দুই জেনারেশনের সাথে কাজের পার্থক্য কি?

আদনান- পুরনোদের সাথে একরকমের মজা আছে, নতুনদের সাথে এক রকমের মজা আছে। পুরনোদের খুব বেশি ভাঙা যায়না, কম ভাঙা যায় তবে তাদের চেষ্টাটা অনেক থাকে। উনারা একরকমভাবে অভিনয় করে আর আমি সেটা ইতিবাচক হিসেবেই বলছি। কিন্তু এই ধরনের অভিনয় আমরা তাদের কাছ থেকে এত বেশি দেখে আসছি যে, ঐখান থেকে বের করে আনাটা একটু কঠিন থাকে। দুই একজন ছাড়া বাকিদের বের করা যায় না। কিছু মানুষকে একেবারেই বের করা যায় না, কারণ তারা আসলে বছরের পর বছর এটা করেই আসছেন। তাদের মাঝে অনেকটা চলে আসে- আমি এরকমই, এটাই মানুষ খায়। সো আমি নাহয় এটাই করি। নতুনরা এমন একটা জায়গা থেকে আসে, ওদের কিছুই করা যায় না। আমি ওদের ব্যাকগ্রাউন্ড জানি না, ওদের দেখিও নাই আমি কখনো যে ওরা কেমন অভিনয় করে। তাই ওরা যাই করে আমার কাছে সেটাই নতুন লাগে। পুরনোরা করলে মনে হয়- এরকম অভিনয় তো আমি দেখছি অনেকবার।

সাকিব- আপনার জন্য কোনটা সুবিধা? নতুন না পুরনো? নাকি দুইটার কম্বিনেশন?

আদনান- আমার কাছে নতুন পুরনো কোন ব্যাপার না। যে আমার গল্পটা ধারণ করবে, আমার গল্পটার সাথে থাকবে, তাকে এই ক্যারেক্টারের সাথে যেতে হবে আর অবশ্যই অভিনয়টা পারতে হবে। নিজেকে ছেড়ে দিতে হবে একদম অভিনয়ের জন্য।

সাকিব- দেশে প্রিয় সিনেমার পরিচালক কে?

আদনান- ফারুকি ভাইকে আমি খুব পছন্দ করি সবসময়। তার কাজের আলাদা একটা টোন আছে। আমাকে ফিল্মমেকার বানাইছেনই তিনি। তিনি আসলে যা বলার বলে ফেলেন নিজের স্টাইলে, কোন কেয়ার করেন না কাউকে নিয়ে। হলে চলবে কি চলবে না, নাকি অন্য কিছু- তা নিয়া তিনি চিন্তা করেন না। আপনার সিনেমার গল্প আগে আপনার নিজেকে পছন্দ হতে হবে। আপনি নিজে কনভিন্সড কিনা সেটা আগে দেখতে হবে। সেটা হলে আপনার আশেপাশে কিছু মানুষ অটোম্যাটিক আপনার সাথে কনভিন্সড হয়ে যাবে। আমার মনে হয় সরওয়ার ভাইয়ের এই ক্ষমতাটা আছে। এটা দরকার আমার মনে হয়।

সাকিব- আর কেউ ফিল্মের ডিরেক্টর?

আদনান- জহির রায়হান। তার কনটেন্টের কারণে। তিনি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সম্পূর্ণ নতুন একটা মাত্রা যোগ করেছেন।

সাকিব- আর বাইরের দেশে প্রিয় সিনেমার পরিচালক?

আদনান- আছে অনেকে বলিউড আর হলিউড মিলিয়ে।

সাকিব- বলিউডে কে? কার কাজ দেখে মনে হয় – এ হতাশ করবে না।

আদনান- এরকম কাউকে না মনে হয় না। কেউ না কেউ কোন না কোন সময় হতাশ করবে (হাসি) নতুনদের কাজ আমি বেশ এপ্রিসিয়েট করি যারা ইন্ডিয়াতে কাজ করছে। মাসান যেরকম। হারামখোর যেমন দেখেই মনে হইছে ভাল কিছু একটা হবে। অনুরাগ কাশ্যাপকে ভাল্লাগে, কিন্তু তার মানে এই না যে সে সবসময় ভাল কাজ দিবে। আগলি ভাল্লাগছে, কিন্তু রমন রাঘব যেমন আবার আমার কাছে জমে নাই।

সাকিব- রাজকুমার হিরানি?

আদনান- না থ্রি ইডিয়টস দেখে আমার সেরকম ভাল্লাগে নাই। সরি, থ্রি ইডিয়টস ব্রিলিয়ান্ট। প্রথমে দেখে আরেকবার দেখছিলাম, আরও ভাল লাগছিল। পিকের কথা বলতে চাচ্ছিলাম, সেভাবে ভাল লাগে নাই। একটু জোর করা হইছে বলে মনে হইছে।

সাকিব- ফারহান আখতার?

আদনান- ওর সেরা কাজ লাগসিল দিল চাহতা হ্যাঁয়। নতুন একটা জনরা দিসিল এই সিনেমা।

সাকিব- অভিনেতা হিসেবে তাকে বেশি ভাল্লাগে, নাকি ডিরেক্টর হিসেবে?

আদনান- আমার দুইটাই ভাল্লাগে। ডিরেকশন একটু বেশি ভাল্লাগে মনে হয়। যদিও আমি ডন দেখি নাই, অমিতাভেরটা দেখসি।

সাকিব- আর হলিউড?

আদনান- ইনারিতু, ডেফিনিটলি! এছাড়া আমি কুবরিকের বিশাল ফ্যান। আমি আসলে ইদানীংকালের পরিচালকদের ফ্যান যারা নতুন ধরনের গল্প বলে। ড্যারেন অ্যারোনোফস্কিকে বেশ ভাল্লাগে। ওয়েস এন্ডারসনকে ভাল্লাগে, তবে সব কাজ না, আর ওর কাজ দেখার আলাদা একটা মুড আছে, সবসময় সেই মুড থাকে না। আর একটা সিনেমা দেখছিলা, ডিরেক্টরের নাম মনে নাই, সিনেমার নাম হচ্ছে দ্যা ট্রেসি ফ্রেগমেন্ট! দেখে আমি জাস্ট ব্লোওন অ্যাওয়ে! কী বানাইছে এটা! আর একজনকে খুব ভাল্লাগে, কি জানি নাম! নাম একদম মনে আসছে না ইদানিং।

সাকিব- স্মৃতিশক্তির অবস্থা কি গজনীর আমির খানের চেয়েও খারাপ ইদানিং?

আদনান- তাই তো মনে হচ্ছে! ঐ যে, বুড়া করে লোকটা, চশমা পড়ে। ফ্রান্সে লোকেশন নিয়ে সিনেমা বানায়…

সাকিব-স্করসিসি?

আদনান- না না। তার বেশ কয়েকটা কাজ ভাল্লাগসে যদিও।

সাকিব- স্পিলবার্গ?

আদনান- আরে না। কি জানি নাম…

সাকিব- উডি অ্যালেন?

আদনান- হ্যাঁ! উডি অ্যালেন! চমৎকার লাগে আমার তার সিনেমা! এত সিম্পল জিনিস এত সুন্দর করে ডিল করে- পারে না সবাই এই জিনিস।

সাকিব- নতুন জেনারেশনের অভিনেতাদের নিয়ে আপনার কি মত? সবাই বলে এরা ইউটিউব থেকে আসা, এদের দিয়ে কি হবে?

আদনান- আসলেই তাই। ইউটিউব থেকে আসাটা আসলে ইস্যু না, আমাদের তো কোন ব্যাকগ্রাউন্ড নাই যে শিখব কাজ। এদের তো এভাবেই আসতে হবে, এরা কীভাবে আসবে আর? মঞ্চে গেলেই কি… মানে মঞ্চের টাইপ আলাদা, অবশ্যই সেটা একটা ভিন্ন এক্সপেরিয়েন্স। কিন্তু আপনি যদি ডেডিকেটেড না হন, তাহলে তো কোথাও যেয়ে লাভ নাই। আপনি নিজেকে কীভাবে ভাঙতে পারতেছেন, সেটা দরকার। এরাও হয়তো চেষ্টা করতেছে ভাঙার, তবে পারতেছে না, তবে আমি সিউর এরা পারবে। কেউ না কেউ তো পারবেই। ডেডিকেশন দরকার। কাজ কমাতে হবে, কাজ কমাতে হবে বলাও ঠিক না আসলে। কাজ কমালে খাবে কি?! বাংলাদেশের মার্কেটটাই এমন আসলে। রেগুলার কাজ না করলেও প্রবলেম। তবে চেঞ্জ আসতেছে না, সেটাও ঠিক না। আমার এখান থেকে যারা গেছে, তারা অনেকে অনেক কাজ করতেছে। আমি আশাবাদী।

সাকিব- সব সময়কার প্রিয় অভিনেতা?

আদনান- হুমায়ুন ফরিদি। সব সময়ের।

সাকিব- দেখা হয়েছিল তার সাথে তিনি বেঁচে থাকতে?

আদনান- নাহ, দেখা হয় নাই।

সাকিব- আর বাইরের দেশে?

আদনান- ক্রিশ্চিয়ান বেল। একবার মোটা, একবার চিকন, কীভাবে যে ভাঙ্গে নিজেকে। আর একজনকে ভাল্লাগে আমার, ব্যান্ড আছে ওর একটা। কি জানি নাম! ও হ্যাঁ, জেরেড লেটো। নিকল কিডম্যানকে বেশ ভাল্লাগে আমার।

সাকিব- আর একটু বয়স্ক অভিনেতাদের কথা বললে?

আদনান- রবার্ট ডি নিরো আর আল পাচিনো।

সাকিব- বেশি কে প্রিয়?

আদনান- বেশি নাই, দুইজনেই বেশি জোস। সেদিন ডগ ডে আফটারনুন দেখছিলাম, ও মাই গড! কি যে সিনেমা! কি অভিনয়।

সাকিব- একই সাথে ব্যাংক ডাকাত, আবার একই সাথে সমকামী!

আদনান- হ্যাঁ!

সাকিব- অনেকে বলে এই সিনেমার হলে দেখানোর জন্য, আবার অনেকে বলে এটা আসলে ফেস্টিভ্যালে পাঠানোর জন্য। আপনি বানালে কোনটা করবেন?

আদনান- আমার আগে দেশ। বিদেশ নিয়া মাথাব্যথা নাই আমার। দেশে আওয়াজ হতে হবে আগে।

সাকিব- কোন দিন বানাবেন?

আদনান- হবে এক দিন, যেদিন মনে হবে সেই দিন বানিয়ে ফেলব।

সাকিব- ছেলেবেলার একটা সময় কাটিয়েছেন দার্জিলিংয়ে। মুম্বাইতে বিজ্ঞাপনের কাজ করেছেন। ওদের কাজের পরিবেশের সাথে আমাদের কাজের পার্থক্য?

আদনান- ওরা এক্সপেরিয়েন্সড, ওরা প্রফেশনাল অনেক, ওরা জানে কি করতে হবে, ক্লায়েন্ট কি চাচ্ছে একদম সেটা ওরা জানে। যা প্ল্যান করে সেটা আউটপুট দেয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। অনেক বড় ইন্ডাস্ট্রি, অনেক লোকজন, কম্পিটেশন অনেক- কিন্তু যারা বেটার, তারা টিকে আছে।

সাকিব- আমাদের এখানে এই কম্পিটিশন নাই কেন?

আদনান- প্রথম কথা আমরা সিনেমা বানাতে পারিনা- এটা একদম বেসিক। মনপুরার পরে আয়নাবাজি, অজ্ঞাতনামা আর জালালের গল্প দেখে মনে হইছে- সিনেমা হইছে। খুবই ভাল সিনেমা।

সাকিব- কিন্তু আপনার কি মনে হয় না ইন্ডাস্ট্রি চলার জন্য কমার্শিয়াল সিনেমা দরকার?

আদনান- হ্যাঁ, সেটা তো দরকার। কিন্তু আমি আসলে কমার্শিয়াল, নন কমার্শিয়াল টাইপ সিনেমা ভাগ করতে পছন্দ করি না। সিনেমা তো সিনেমাই। এখন সিনেমাতে একটা গান ঢুকালে সেটা কমার্শিয়াল হয়ে যাবে? এটা কেমন চিন্তা! আমাদের বেসিক চিন্তা হওয়া উচিত, মার্কেট কীভাবে বাড়বে বা বড় হবে। আমাদের তো কোন শাহরুখ খান নাই, আমাদের এখানে বানানো হয় নাই শাহরুখ খান। সে এত বছর কাজ করার পরে একটা পর্যায়ে গেছে, শিক্ষিত মানুষ, বাইরের অনেক ভার্সিটিতে চমৎকার স্পীচ দিসে, তার মাধ্যমে তার ইন্ডাস্ট্রির পরিচিতি হইসে, মার্কেট বাড়ছে- এভাবেই তো হচ্ছে। আমাদেরকে যদি ঠিকমতো বাজেট দিয়ে বানাইতে দেয়া হয়, আমরাও পারব।

সাকিব- সাফল্যের সংজ্ঞা কি আদনান আল রাজিবের কাছে?

আদনান- সংজ্ঞা! হম… ডেডিকেশন। সাফল্যের সংজ্ঞা ডেডিকেশন। ডেডিকেশন দিয়ে রাখতে হবে, আমি এখানে আসছিলাম প্ল্যান না করে, কিন্তু কাজটা আনন্দ নিয়ে করতাম যাই করতাম। একদিন কেউ বলল- এই বিজ্ঞাপন কে করেছে? আদনান নামের নতুন একটা ছেলে। ঠিক আছে, ওর সাথে কাজ করা যাক। এভাবেই হইছে। এরপরে কাজ করেছি, এরপরে ব্রেক নিয়েছি কিছু দিন, এরপরে আবার কাজ করেছি। কিন্তু ডেডিকেশন ছিল, লেগে থাকতে হবে জাস্ট।

সাকিব- আদনান আল রাজিবকে এক শব্দে প্রকাশ করতে বললে?

আদনান- এক শব্দে? Introvert. Introvert কি আমি? না মনে হয়। এক শব্দে প্রকাশ হবে না মনে হয়।

সাকিব- তাহলে এক বাক্যে?

আদনান- এক বাক্যতেও সম্ভব না মনে হয়… আমাকে সংজ্ঞার মাঝে ফেলা যাবেনা।

সাকিব- তার মানে আপনি সংজ্ঞার উপরে?

আদনান- আরে নাহ, নিচে, অনেক নিচে!(হাসি)

সাকিব- জীবনদর্শন?

আদনান- লেট ইট ফ্লো। জীবন একটা গিফট। মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসা অনেক মানুষকে জিজ্ঞেস করা হইছিল যে ঐ সময় আপনার কি অনুভূতি হচ্ছিল? তাদের মাঝে ৯০% বলছে, আমাদের মনে হইছে জীবনে যেই কাজটা আমরা করি নাই, সেই কাজটার জন্য আফসোস হচ্ছিল শুধু। আমি যদি এটা করতে পারতাম! লাইফটা আসলে এভাবে নিতে হবে, যখন যা মনে হচ্ছে করতে হবে। করে ফেলো জাস্ট।

সাকিব- আপনি চাইলে করতে পারেন সব সময়?

আদনান- পারি না সবসময়, তবে চেষ্টা করি করার। যা ইচ্ছা হয় করে ফেলি। কি হবে এত ভেবে? আলটিমেটলি কি খুব বেশি কিছু হবে? আমার জীবনে অনেক পর্যায় গেছে। একসময় কষ্ট করছি, এখন অ্যাড বানাই। সেই কষ্ট তো পার করে আসছি, সেটা এখন আর সেভাবে ফিল হয় না, এখন তো বসে বসে খালি গল্প বলি। সময়ের সাথে চলে যায় আসলে। একটা সময় আসে, তখন মনে হয়- ঐগুলা অনেক কষ্ট ছিল। সেই কষ্টও একসময় চলে যায় আসলে। কষ্ট বলতে আসলে কিছু নাই। সময় চলে যায় জাস্ট।

সাকিব- আপনার কাজ নিয়ে আপনার বাবা মায়ের মূল্যায়ন কি?

আদনান- দেখেন তারা কাজ অল্পস্বল্প। তারা খুশি, কারণ আমি খুশি। আমি তাদের দেখাই না কাজ তেমন একটা। মাঝে মাঝে দেখলে বলেন- এটা তুই বানাইছিস? ভাল হইছে আদনান।

সাকিব- আর বোনেরা কাজের সমালোচনা কীভাবে করেন?

আদনান- তারা বলে, এইখানে এই নায়িকাকে নিলি ক্যান, এর চেয়েও সুন্দরী ছিল, তারে নিলি না ক্যান? (হাসি) আমি অভিনয় করিনা ক্যান?

সাকিব- আচ্ছা, হ্যাঁ। আপনি তো বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছিলেন, আর কাজ করলেন না কেন?

আদনান- আমি তো অভিনেতা না আসলে। হইলে কন্টিনিউ করতাম। আমাকে করতে বলছিল, তাই করা। বেকার ছিলাম তখন, কাজ কম ছিল। তাই করেছিলাম। ময়না পাখিকে ক্লাস টুতে পড়িয়েছিলাম!

সাকিব- সামনে ক্যামেরার সামনে প্রস্তাব পেলে আর কাজ করবেন?

আদনান- নাহ, ইচ্ছা নাই একদম। কত মেধাবী ছেলেমেয়ে আছে ক্যামেরার সামনে কাজ করার, এদেরকে সুযোগ দিতে পারছি না বলে দুঃখে আমি মারা যাচ্ছি, সেখানে নিজে অভিনয় করে এদেরকে মারার দরকার কি? (হাসি)

সাকিব- প্রিয় টিভি সিরিজ?

আদনান- নারকোস।

সাকিব- সমালোচনা কীভাবে হ্যান্ডেল করেন?

আদনান- I just don’t give a shit!

সাকিব- গঠনমূলক হলেও না?

আদনান- আরে না, ঐটা তো আলাদা, ঐটা আমি পড়ি। গঠনমূলক মানে বলতে এখন ফেসবুকে সমালোচনা বুঝায়। সেটা পুরাটা পড়ে সেখানে তর্ক করার সময় আমার হয় না, আর জিনিসটা কেমন জানি লাগে আমার কাছে। কেউ ট্যাগ করলে লেখা পড়ি, সে তার জায়গা থেকে বলে, সে সেখানে ঠিক আছে- সে তো আমার ক্লায়েন্টের চাহিদা জানে না। আমি এই ডিটেলিং কেন করলাম- জানেনা। আমি আমার মত কাজ করি। একেকজনের পারসেপশন আসলে একেক রকম। এত কিছুর ব্যাখ্যা করার নাই আসলে, অনেক ধাপে ধাপে এসে কাজ করতে হয়।

সাকিব- সিনেমার ক্ষেত্রেও যদি সমালোচনা করা হয় আপনার?

আদনান- কোন সমস্যা নাই, ভাল তো হবে এটা। সিনেমা নিয়ে আলোচনা হবে। আর আমি আসলে কোন কিছু দিয়েই সবাইকে কখনও খুশি করতে পারব না। না ভাল লাগলে নাই, আই ফেইলড।

সাকিব- স্বীকার করে নিবেন ব্যর্থতা?

আদনান- হ্যাঁ। হইলে তো মানুষজন পছন্দ করতো। আবার মানুষের পছন্দ নিয়েও ঝামেলা আছে। আজকাল এমন কিছু জিনিস দেখি যেগুলা মানুষের পছন্দ বা হিট, কিন্তু আমার কাছে ভাল্লাগে না। আমরা সবাই আসলে কেমন জানি একটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থায় আছি। আমি জানি না আসলে। যেটা আমার ভাল্লাগবে, যেটা আপ টু দ্যা মার্ক মনে হবে সেটা করব।

সাকিব- নতুন অ্যাডমেকার যারা আসবে, তাদের কে কি বলতে চান?

আদনান- ডেডিকেশন লাগবে ভাই, জান দিয়ে কাজ করতে হবে। তিন মাস কাজ করে আমি স্টার- মনে করলে হবেনা। তিন বছর কাজ করে আমার ১০০০ শেয়ার হইসে, আমি স্টার, এটা মনে করলে হবেনা। লাইক, শেয়ার, হিট হওয়া, অনলাইনে হিট হওয়া আমাদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। সেদিন এক ছোটভাইকে ফেসবুকে বলছিলাম, আমাদের দেশে ১৬ কোটির বেশি মানুষ আর আমাদের চিন্তা আমরা কত লাইক শেয়ার পাইলাম।

সাকিব- মাবরুর রশিদ বান্নাকে বলছিলেন সম্ভবত…

আদনান- হ্যাঁ, বান্নাকেই। আমরা মোট জনসংখ্যার ১% এর কাছেও পৌঁছাতে পারছি না। তাইলে আমরা আসলে কি বানাচ্ছি? এই অনলাইন হিট দিয়ে তাহলে লাভটা কি আসলে? এটা নিয়েই আমরা খুশি থাকি। লাইক শেয়ার হইলে ভাল, সমস্যা নাই, কিন্তু এটাই সব না। আমি খুব অল্পতে খুশি হয়ে যাই, এটা থেকে বের হতে হবে। আমার ছবিতে ১০০০ লাইক আসছে, কমেন্ট আসছে, আমি স্টার- এত সহজ না। স্টারডম এত সহজ না।  স্টার অনেক বড় ব্যাপার। স্টার আলাদা একটা ক্যারেক্টার। স্টার হচ্ছে সে যাকে আমরা ধরতে চাই, কিন্তু ধরতে পারিনা। যার মত আমরা হতে চাই। আমরা এত বেশি কানেক্টেড থাকি, আমরা কি আসলেই এত বড় সেলেব্রিটি? মে বি নট। আমাদেরকে অনেক বড় জায়গায় যেতে হবে, কত লোকজন আমাদের উপরে বসে আছে। কত প্রতিযোগিতা বিশ্বে, আমাদের তো সেটা চিন্তা করে কাজ করা উচিত। ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে চিন্তা করা উচিত নিজের ক্ষমতার মাঝে। যতটা সম্ভব।

সাকিব- বিজ্ঞাপনের আইডিয়া বা ব্রেনস্টোরমিং কীভাবে হয়?

আদনান- আমি আমার টীমের সাথে বসি, কথা বলি, আলোচনা করি। আইডিয়াকে কীভাবে আরও ভাল করা যায়- এভাবেই কাজ করি।

সাকিব- এমন কোন সময় আছে, যখন মাথা একদম ব্ল্যাংক থাকে? কোন আইডিয়া আসে না?

আদনান- নাহ। এরকম হয়না। বসলে, আলোচনা করলে আইডিয়া চলে আসে।

সাকিব- আইডিয়ার জন্য পড়াশুনাটা কেমন দরকার? বই?

আদনান- খুবই দরকার। শুধু বই না, যেকোনো কিছু। নলেজ তো বেসিক। যত কম পড়াশুনা তত ঝামেলা পাকাবে, বাজে জিনিস বানাবে। যত বেশি পড়াশুনা, তত বেশি চিন্তা করবে, ভয় করবে- হায় রে! সবাই কত কিছু বানায় ফেলছে, আমি তো কিছুই করি নাই।

সাকিব- ভয়টা দরকার তার মানে?

আদনান- হ্যাঁ, দরকার।

সাকিব- আদনান আল রাজিবের সাফল্যের সূত্র কি ভয়?

আদনান- হয়তো। সূত্র না আসলে, ভয়টা থাকেই। একটু আগে একটা কাজ করে আসছি, একই জিনিস তিনবার এডিট করছি, এরপরেও মনে হচ্ছে – এটা মনে হয় হচ্ছে না। এই ভয়টা দরকার আমার মনে হয়। ভয় না থাকলে হবেনা। “আরে বানায় ফেলসি, আমি হিট” এটা বললে হবেনা।

সাকিব- লাইক, শেয়ার এর ব্যাপারটা মাথা থেকে বের করবে কীভাবে?

আদনান- বের করতে পারবে না মনে হয়। সামনে এটাই হবে। এটা একদিক থেকে ভাল, কিন্তু এটাই যেন সব না বানাই। একসময় স্টারডম ছিল ওয়ান ম্যান শো এর মত। তাদের নাগাল পেতাম না। এখন আলাদা। নেগেটিভভাবে বলছি না আসলে। আমাদের বাপ দাদারা বলে- তোমরা কি বানাও? হয় না। আমরাও হয়ত একদিন এমন কথা সামনের জেনারেশনকে বলব। আজকে যদি বাংলাদেশে মদ ওপেন করা দেয়া হয়, সবাই দেখা যাবে টানা এক সপ্তাহ মদ খাচ্ছে। এরপরে যাদের হুঁশ হবে তারা বাদ দিয়ে যার যার কাজ চলে যাবে দুই বা তিনদিন পর, আর যারা খাওয়ার তারা খাবে। এরকম হয়ে গেছে জিনিসটা। সবকিছু ওপেন, অনেক জিনিস আসবে, অনেক কিছু থাকবে আবার অনেককিছু হারায় যাবে। তবে ভাল কাজ করলে থেকে যাবে- সিম্পল হিসাব।

সাকিব- কাছের বন্ধুরা কি বলে আগের আদনান আর এই আদনান চেঞ্জ হয়ে গেছে?

আদনান- বলে। ওদের সাথে দেখা কম হয় যদিও। দেখা হলে আমার কথা থাকে ফিল্ম আর বই নিয়ে, আর ওরা কথা বলে কয়টা চেয়ার টেবিল বিক্রি করলো, বউ বাচ্চা- এসব নিয়ে।    

সাকিব- বিয়ে কবে করবেন?

আদনান- জানি না এখনও। সিনেমার মত (অট্টহাসি)

সাকিব- রিলেশন কয়টা ছিল?

আদনান- তিনটা ছিল। সিরিয়াস বললে দুইটা। বাকি টুকটাক flirt  যেগুলো তো আসলে রিলেশন না। আস্তে আস্তে ওকে হয়ে যায় সব। লাইফটা এমন আসলে। I cannot live  without you, but you are living without her! (হাসি) পাশে থেকে আজীবন থাকতে পারব কিনা এটাই তো কথা। চিন্তাধারা না মিললে সমস্যা। এগুলা আসলে কোনোকিছু দিয়ে আটকে রাখা বা ব্যাখ্যা করা যাবেনা। ফেসবুক আমাদের নষ্ট করে দিছে- এই রিজন, অমুক রিজন দিয়ে এগুলা ব্যাখ্যা করা যাবেনা আসলে। এগুলা পার্ট অফ লাইফ। কানেক্ট করাটা দরকার একজনের সাথে আরেকজনের। বণ্ডিং দরকার। একমাত্র বাবা মায়ের সাথে আমাদের বণ্ডিং ঠিক থাকে।  ফ্যামিলিই সম্ভবত শেষ পর্যন্ত আসল।

সাকিব- বইয়ের প্রিয় ক্যারেক্টার?

আদনান- হিমু।

সাকিব- আপনি কি হিমু?

আদনান- নাহ। তবে হিমুর কাছ থেকে আমি অনেক কিছু নিয়েছি। কোন কিছু কেয়ার না করার ব্যাপারটা যেমন।

সাকিব- সিনেমার প্রিয় ক্যারেক্টার?

আদনান- সেভাবে মনে থাকে না আসলে। সিনেমাতে কে আছি, এগুলা আমি আসলে একদম মনে রাখি না, দেখি না। আমি শুধু দেখি গল্প। আমার যতটুকু রাখা দরকার, সেটা রাখি, বাকিটা আমি একদম মনে রাখিনা। এই ক্ষমতাটা আমার আছে। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে একটা লাল মুরগি দেখেছিলাম উঠানে, আমি তখনই মনে করেছিলাম এই জিনিসটা আমি সারাজীবন মনে রাখব। সেটা এখনও আমার মনে আছে।

সাকিব- আদনান আল রাজীব একদিন থাকবেন না। তিনি নিজেকে কীভাবে মনে রাখাতে চান মানুষের মাঝে?

আদনান- মানুষটা অনেক ভাল ছিল, এটা মনে রাখলেই হবে মনে হয়। অবশ্য মরে গেলে সবাই এমনেই মানুষটা ভাল ছিল বলে! (হাসি)  

পড়ুন ইন্টারভিউটির প্রথম পর্ব

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-