ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

একজন আইয়ুব বাচ্চু ও ধর্মান্ধদের ফতোয়াবাজি

এতদিন আমাদের ফেসবুকনিবাসী ধর্মান্ধরা সাকিব-তামিম বউকে পর্দা করার আদেশ দিয়ে আর তাসকিনের বাচ্চা নিয়ে নোংরামি করেই ধর্ম পালন করতো। গতকাল আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর তাদের ধর্ম পালনে যুক্ত হয়েছে নতুন এক কাজ। তারা এখন ফেসবুকে বসে ফতোয়া দিচ্ছে গান-বাজনা করার দায়ে বাচ্চু জান্নাতে যাবেন না জাহান্নামে যাবেন! আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে প্রবল আনন্দিত এই ধর্মান্ধরা রীতিমত ইসলামের ভয়ংকর সব গোঁজামিলে ভরা ব্যাখা দিয়ে তাদের আনন্দ প্রকাশ করছে। সারা দেশে লাখ লাখ মানুষ আইয়ুব বাচ্চুর শোকে কাঁদছে দেখে এই নির্লজ্জ ধর্মান্ধরা খুবই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ, তাদের চোখে গান-বাজনা হারাম, আইয়ুব বাচ্চু হারাম গানবাজনা করার দায়ে এবং তার গানে প্রেম-ভালোবাসা থাকার দায়ে অভিশপ্ত। তো আইয়ুব বাচ্চুকে অভিশাপ দেওয়ার সাথে সাথে তাদের শোকে কাতর হওয়ার জন্য এবং তাকে শ্রদ্ধা জানানোর দায়ে তারা ফেসবুকে আমাদের ভর্ৎসনা করছে। ভয় দেখাচ্ছে যে আমাদের পরিণতিও হবে বাচ্চু ভাইয়ের মতো!

তো সেটা নিয়ে তো সন্দেহ নাই। ভয়ও পাই না। জন্মিলে মরিতে হবে, এই তো বিধির খেলা! আমার মৃত্যুর পর কি হবে, সেটা তো আমি বুঝবো। এটা নিয়ে এরা নোংরামি করবে কেন? মৃত্যুর পর কার কি হবে, কে কোথায় যাবে, কার কপালে কি আছে, সেটা তো মৃত্যুর পরের জগতের হিসাব। সেই হিসাব এই জগতে বসে মেলানোর এবং একজন মৃত ব্যক্তিকে ধর্মের ইচ্ছেমত উদ্ভট অপব্যাখা দিয়ে গালাগালি করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? কোন ধর্মেই তো মানুষের পরকাল, ভালো-মন্দ বিচারের ভার স্রষ্টা অন্য কাউকে দিয়েছেন বলে শুনিনি। তাহলে ফেসবুকে বসে এরা কিসের ভিত্তিতে বাচ্চু ভাইয়ের বিচার করছে? এদের কি ন্যুনতম লজ্জাও নেই?

এসব নিয়ে আসলে কথা বলার ইচ্ছে ছিল না। প্রায় প্রতিদিনই আমাদের এগুলো নিয়ে কথা বলতে হয়। সাকিব-তামিম-তাসকিন থেকে শুরু করে দেশের সম্মানিত ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের প্রতি মুহূর্তেই এসব নোংরামি সহ্য করতে হয় অনলাইনে। এগুলোর প্রতিবাদ করতে করতে আসলে আমরা ক্লান্ত। গতকাল সকালে আইয়ুব বাচ্চুর হঠাৎ চলে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে এক মুহূর্তেই সব এলোমেলো হয়ে গেছে। বুদ্ধি হবার পর থেকে যে মানুষটার গান শুনতে শুনতে বড় হয়েছি, জীবনের হাসি-আনন্দ, ব্যথা-বেদনা, সুখ-দুঃখ সবসময়ে যে মানুষটার গান সঙ্গীর মত পাশে থেকেছে, সেই আইয়ুব বাচ্চু আর নেই, আর কখনো তিনি গাইবেন না, আর কখনো তার গান শুনবো না, শুনতে খুব সহজ কিন্তু ভয়ংকর নির্মম এই বাস্তবটা আসলে এখনো বিশ্বাস করতে পারিনি। মনটা খুব কাঁদছিল, কথা বলতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু দুপুরের পর থেকে হঠাৎ করেই এই ফেসবুকে বাস করা ধর্মান্ধরা একে একে নিকৃষ্ট আবর্জনা প্রসব করতে শুরু করলো। কোন সুস্থ স্বাভাবিক ন্যুনতম মানবতাবোধ থাকা মানুষ এভাবে একজনের মৃত্যুর পরেও তাকে নিয়ে নোংরামি আর গালাগালির বেসাতি খুলে বসতে পারে, ভাবতেও লজ্জা লাগে।

আর সব বাদ দিলাম, এদের বাপ-মা কিংবা খুব আপনজন মারা যাওয়ার পরে যদি তাদের নিয়ে কেউ এদের সামনে এমন নোংরামি করতো, এদের কেমন লাগতো?

তবুও বারবার ইগনোর করছিলাম। অনেকেই আর না পেরে প্রতিবাদ করছিলেন, এমনকি তাদের প্রতিবাদের পোষ্ট সামনে আসার পরেও সেগুলো স্ক্রল করে সরিয়ে দিচ্ছিলাম। কিন্তু সন্ধ্যার পর সাকিবা আহমেদ নামে এক ভদ্রমহিলার লেখা পড়ে আর সহ্য করতে পারলাম না! সে নিজেকে আইয়ুব বাচ্চুর গানের ফ্যান এবং মেয়ের স্কুল ফ্রেন্ড দাবী করে লিখেছে, ক্লাস টু-তে একদিন ক্লাসে আসার পর যখন সবাই জানতে পারলো যে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে তাদের সাথে একই ক্লাসে পড়ে, সেদিন নাকি তার খাতার সব পেইজ ছিঁড়ে তাকে অনুরোধ করেছিল যেন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের জন্য অটোগ্রাফ আনে সে। মেয়ের ফ্রেন্ড হিসেবে বাচ্চু ভাই নাকি এই সাকিবাকে দেওয়া অটোগ্রাফে লিখেছিলেন:

“ছোট্ট সুন্দর মেয়ে অনন্যা, তোমার সুন্দর কাজগুলো দিয়ে এই সুন্দর পৃথিবীকে তুমি জয় করো।
-আইয়্যুব বাচ্চু”

কি সুইট একটা উইশ, তাই না? সাকিবা আদৌ তার সুন্দর কাজ দিয়ে পৃথিবী জয় করতে পেরেছেন কিনা আমরা জানি না, কিন্তু তার মনের ভেতর পুষে রাখা ভয়ংকর গোঁড়া ধর্মান্ধতা যে তাকে আস্তে আস্তে অন্ধ করে ফেলেছে, সেটার প্রমাণ পেলাম একটু পরেই। গল্পের শেষদিকে পুরো মাথা নষ্ট করা অ্যান্টি-ক্লাইমেক্সের মত একটু পরেই সাকিবা যা বললেন, সেটার সহজ বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় এই যে আইয়ুব বাচ্চু সারাজীবন যে পাপ কাজ করেছেন, সেটার শাস্তি তিনি এখন পাচ্ছেন এবং তার মৃত্যুর পর আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে, তার গান বাজিয়ে নাকি তাকে আরো শাস্তির মুখোমুখি করছি! মানে তার সৃষ্টিকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানালে নাকি তার কবরে আজাব বাড়বে। কি, কিছু মনে পড়ে যাচ্ছে?

হ্যাঁ, ঠিক এই কথাগুলোই আমরা ছোটবেলায় অনেকেই শুনেছি। পুতুল বানানো হারাম, ভাস্কর্য গড়া হারাম, ছবি আঁকা হারাম, গান শোনা হারাম। কেন? কারণ পুতুল বানালে, ছবি আঁকালে নাকি তার ভেতরে প্রাণ দেওয়াও দায়িত্ব হয়ে পড়ে। সো, যেহেতু প্রাণ দিতে পারবা না, তাই সহজ সমাধান। ছবি আঁকবা না, পুতুল বানাবা না, ভাস্কর্য গড়বা না। আর তারপরেও যদি ছবি আঁকো, ভাস্কর্য গড়ো, গান গাও, তাহলে মৃত্যুর পর যতদিন এগুলো থাকবে, মানুষ তোমার এই সৃষ্টিকর্মকে উপভোগ করবে, ততদিন তুমি কবরে শাস্তি পাবা। কি উদ্ভট হাস্যকর নির্লজ্জ চিন্তাভাবনা, কল্পনা করতে পারেন? এগুলো সবই বাস্তব, অন্তত আমি ছোটবেলা থেকে এগুলো শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। আজ অনেকদিন পর এই মানুষটার লেখা পড়ে মনে পড়লো ধর্মকে পুঁজি করে মানুষের সহজ সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে চালানো সেই হাস্যকর অন্ধ মিথ্যাচার। 

আচ্ছা, এতো মিথ্যাচার, এতো ধর্মান্ধতার বিষ নিয়ে তারা বাঁচে কিভাবে? এত হিপোক্রেট আর নির্লজ্জ এরা কিভাবে হয়? এরা আইয়ুব বাচ্চুকে গান গাওয়ার অপরাধে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিচ্ছে, অথচ এরা যে ২৪ ঘন্টা গান শুনছে, গানের মিউজিক ভিডিও দেখছে, এরা কোথায় যাবে? দেদারসে প্রতি মাসে গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করে বেড়ানো, প্রতিদিন রুমডেট করে বেড়ানো, খুব স্বাভাবিকভাবে অসংখ্য মেয়ের সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করে বেড়ানো একটা ক্যুল ড্যুড ছেলে কোরআনের আয়াত আর হাদিসের রেফারেন্স টেনে এনে সিদ্ধান্ত দিচ্ছে যে আইয়ুব বাচ্চু যেহেতু তার গানে প্রেম-ভালোবাসার কথা বলে ছেলেমেয়েদের নষ্ট করেছেন, সুতরাং তিনি জাহান্নামে যাবেন। কেউ কেউ এই চ্যালেঞ্জও দিচ্ছে যে ‘হ্যাডম’ থাকলে যেন বাচ্চু ফেরেশতাদের গান শোনায়! তার জন্য এত মানুষের শোক দেখে রীতিমত বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ, তার কথা হচ্ছে একটা মাতাল নেশাখোরের জন্য এতো কান্নাকাটি কিসের?

আইয়ুব বাচ্চু, আইয়ুব বাচ্চু মৃত্যু

সবচেয়ে অদ্ভুত ছিল কিছু দাড়ি-টুপি পরা ধর্মীয় লেবাসধারীর স্ট্যাটাস। ইহুদী ধর্মকে প্রবল ঘৃণা করা নামে-চেহারায় বেশ ইসলামিক ভাব আনা এই মানুষগুলো ইহুদী জাকারবার্গের তৈরি ফেসবুক নামের এই অ্যাপ্লিকেশনে এসে কোরআন-হাদিস টেনে ফতোয়া দিচ্ছে- আইয়ুব বাচ্চু জাহান্নামে গেছে, তাকে নিয়ে শোক করাও নাকি নাজায়েজ। স্রেফ চিন্তা করেন তো একবার, আপনার আপনজনের মৃত্যুর পর যদি কোন ধর্মান্ধ শয়তান এইভাবে ফতোয়া দিত, তার জন্য শোক করাও নাজায়েজ বলে ঘোষণা করতো, কি করতেন তাকে? এই এরাই সাকিবের পেজে গিয়ে সাকিবের বউকে পর্দা করার ফতোয়া দেয়, তাসকিনের বাচ্চা নিয়ে নোংরামি করে, তার স্ত্রীকে নিয়ে নোংরা ইঙ্গিত দেয়, একই সাথে চটি পেইজ আর কোরআন-হাদিসের পেইজে লাইক দিয়ে ফেসবুকে ধর্ম পালন করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এদের মোবাইলে খুঁজলে এখনো অসংখ্য হিন্দি-ইংরেজী গান পাওয়া যাবে, জীবনে এরা অসংখ্য গান শুনেছে। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে এরা যে জীবনে কখনো আইয়ুব বাচ্চুর একটা গানও শোনেনি এরা? তো যার গান শুনতে কোন সমস্যা হয়নি এদের, আজকে মৃত্যুর পর তাকে জাহান্নামে পাঠানোর ফতোয়া কোন স্পর্ধায় দেয় এই নির্লজ্জ ধর্মান্ধরা?

*

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর কথা মনে আছে আপনাদের? সেই যে একাত্তরে পাকিস্তানী নরপিশাচদের হাতে ধর্ষিত নির্যাতিত নিষ্পেষিত মা, যিনি শত নির্যাতনেও এক বিন্দু টলেননি, বরং গত ৪৭ বছর ধরে সেই পরাজিত আলবদর আর রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা চালিয়ে গেছেন নিরলসভাবে, সেই মা’কেও এরা ছাড়েনি তার মৃত্যুর পর। ফেরদোসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুর পর তাকে নিয়েও চরম নোংরামি করেছে এই ধর্মান্ধরা, জীবিত অবস্থাতেই তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছে ওরা, ঠিক যেভাবে একাত্তরের নরপিশাচ যুদ্ধাপরাধী দেইল্লা রাজাকার বা দেলোয়ার হোসেন সাইদী শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলতো। প্রিয়ভাষিণী আম্মার মৃত্যুর পরেও ফেসবুকে বসে তাকে জাহান্নামে চলে গেছে ফতোয়া দিয়েছে এরা। কারণ সেই পুরনো। সমস্যাটা ঐ গোড়াতেই। সমস্যাটা হচ্ছে একাত্তর।

এই মানুষগুলো একাত্তরের বীর। একাত্তরে আমরা স্রেফ পাকিস্তান রাষ্ট্রটাকেই পরাজিত করি নাই, পরাজিত করেছিলাম উগ্র ধর্মান্ধতা এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়িয়ে গণহত্যা চালানো নরপিশাচদের। সেসব পাকিস্তানপ্রেমী উগ্র ধর্মান্ধ নরপিশাচদের উত্তরসূরীরাই আজকাল আমাদের ফেসবুকে ধর্ম শেখায়, ফতোয়া দেয়, ধর্মের নামে মিথ্যাচার আর নোংরামি করে। একাত্তরের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরী হিসেবে যে বা যারাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, ২০১৩ সালে গণজাগরণের সময় রাজাকারের ফাঁসী চেয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেই এই উগ্র ধর্মান্ধ পরাজিত পাকিস্তানী শয়তানদের কাছে জাহান্নামী।

একটা প্রসঙ্গ না আনলেই নয়। আইয়ুব বাচ্চু ২০১৩ সালে রাজাকারের ফাঁসীর দাবীতে ওঠা গণজাগরণে সমর্থন জানিয়েছিলেন, স্পষ্ট কন্ঠে বলেছিলেন, “রাজাকারের ফাঁসী চাইতে কোন দল করা লাগে না”। এই মানুষটা তার প্রত্যেকটা কনসার্ট শেষ করতেন জাতীয় সঙ্গীতের সুর তুলে! তার প্রিয় রুপালী গিটারটা সামনে এনে বাজাতেন “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”। আর তার বাজানো সুরের সাথে যে যেখানে আছে সেখানেই দাঁড়িয়ে গেয়ে উঠতো জাতীয় সঙ্গীত! কনসার্টের শেষে কেন জাতীয় সঙ্গীত বাজান, জিজ্ঞেস করায় তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, কনসার্টের বেশিরভাগ দর্শকই ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ-তরুণী, ওদের ভেতরে দেশের প্রতি ভালোবাসাটা জাগিয়ে দিতে চাই, তাই প্রতি কনসার্টের শেষেই একবার মনে করিয়ে দেই দেশের কথা!

যে আইয়ুব বাচ্চু তার প্রত্যেক কনসার্টের শেষে দেশকে মনে করিয়ে এইভাবে জাতীয় সঙ্গীত বাজাতেন, জাতীয় সঙ্গীত সহ্য করতে না পারা উগ্র ধর্মান্ধ বেঈমান পাকিস্তানপ্রেমী রাজাকারের সন্তানেরা যে সেই আইয়ুব বাচ্চুকে সহ্য করতে পারবে না, তার মৃত্যুতে খুশী হবে, তাকে জাহান্নামে দেখতে চাইবে, ফতোয়া দেবে, এতে আর বিস্ময়ের কি আছে? কিন্তু আজ জাতীয় শহীদ মিনারে বাচ্চু ভাইকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনে আসা হাজারো–লাখো মানুষ এই ধর্মান্ধ পাপিষ্ঠদের উৎকট উল্লাসে মাতা খুশী হওয়া মুখে রীতিমত প্রস্রাব করে দিয়েছে। সপ্তাহের ছুটির দিন আজ, চাইলেই তারা পারতেন বিশ্রাম নিতে, কিন্তু বাচ্চু ভাইয়ের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনে তারা ছুটে এসেছেন, হাজারো লাখো কাতারে কাতারে, আরেকবার প্রমাণ করে দিয়েছেন এই ধর্মান্ধ ফতোয়াবাজেরা হেরে যাবে বারবার!

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close