ফটোগ্রাফির অন্যতম একটি মাধ্যম- স্ট্রিট ফটোগ্রাফি। স্ট্রিট ফটোগ্রাফাররা রাস্তায়,পাবলিক প্লেসগুলোতে ঘুরে ঘুরে মানুষের নানান কর্মকান্ডের ছবি তুলেন। ক্রিস পর্শও এমন একজন স্ট্রিট ফটোগ্রাফার। ৭০ এবং ৮০ এর দশকে ইংল্যান্ডের পিটারবোরো শহরে এমন অনেক ছবি তুলেছেন। তবে ক্রিস যা করেছেন, তা ভীষণ চমকপ্রদই! এসব ছবি নেয়ার বহু বছর পর তার হঠাৎ খেয়াল হলো- ত্রিশ বছর বা তারও বেশি আগে তিনি যাদের ছবি তুলেছিলেন, সেই মানুষদের ছবিগুলো আবার একই জায়গায় তুলবেন! পুরনো দৃশ্যগুলো আবার নতুন করে ফ্রেমবন্দী করবেন! যেই কথা সেই কাজ। দেখে নেওয়া যাক তার ফলাফল-

১। রেলগাড়িতে চুমু (১৯৮০ এবং ২০০৯)

এই ছবিটি সেই সময়কার ২২ বছর বয়সী টনি এবং ২১ বছর বয়সী স্যালির। ছবিটি তাদের অজান্তেই তুলেছিলেন ক্রিস। রঙ্গিন ছবিটি ২০০৯-এ তোলা। ততদিনে টনি-স্যালি বিবাহিত জীবনের বহু বছর পার করে দুই সন্তানের বাবা-মা!

rail

২। ইয়ান মেডলার এবং পিটার ইয়েটস (১৯৮০ এবং ২০১০)

সাদাকালো ছবিটি ইয়ান মেডলার এবং পিটার ইয়েটসের। নতুন ছবিটিতে পিটারের সাথে ইয়ানের ভাই।

walk

৩। সিঁড়িতে কয়েকজন ভবঘুরে (১৯৮০ এবং ২০১৫)

কয়েকজন বন্ধু অলস সময় কাটাচ্ছিলেন এক সিঁড়িতে বসে। সেটি ফ্রেমবন্দী করেছিলেন ক্রিস। নতুন ছবিটিতে ৩৫ বছর পরে তারাই, শুধু দুইজন নেই আর তাদের মাঝে।

sit

৪। জেনিফার হলের বাজার সদাই (১৯৮৫ এবং ২০১৫)

৩০ বছর আগে বাজার করছিলেন জেনিফার। সেই মুহূর্তের আবারও পুনঃমঞ্চায়ন হলো ক্রিসের হাত ধরেই।

bazar 

৫। ফোনের জন্য অপেক্ষা (১৯৮১ এবং ২০১৬)

ফোনবুথের সামনে অপেক্ষমান তিন বন্ধু। ৩৫ বছরে প্রযুক্তির পরিবর্তন এসেছে; কিন্তু তাদের বন্ধুত্ব, একসাথে সাইকেল চালানো কিংবা সাপ্তাহিক আড্ডা, সব আছে আগের মতোই।

phncall

৬। মেটাল মিকি (১৯৮০ এবং ২০১৬)

মেটাল মিকির আসল নাম স্টিভ অসবর্ন। ১৯৮০ সালে পরপর কয়েকটি মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা হারান। তবু ৩৬ বছর পরও ভুলে যাননি জীবনকে উপভোগ করার রেসিপিগুলো!

mikcky

 

৭। গয়নার দোকানের সেই মেয়েটি (১৯৯০ এবং ২০১৫)

২৫ বছর আগের গয়নার দোকানের বিক্রয়কর্মী ভিকি গার্সি, আর ২৫ বছর পরের বিবাহিত দুই সন্তানের মা ভিকি গার্সি। জীবনের পথচলায় এরই মাঝে নানারকম পেশার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে তার।

goyna

৮। নব্বি (১৯৮০ এবং ২০১৫)

মাইকেল রস, থাকেন স্কটল্যান্ডে, স্থানীয়রা ভালোবাসে ডাকে নব্বি নামে। তার বাড়ি পুড়ে গিয়েছিল, তারপর ১০ বছর কাটিয়েছেন ছিন্নমূল জীবন, থেকেছেন বাসস্ট্যান্ডে। কয়েক বছর আগে অবশ্য কর্তৃপক্ষ তাকে নতুন বাড়ির ব্যবস্থা করিয়ে দেয়। রঙিন ছবিতে ৩৫ বছর পরের সুখী মাইকেল।

nobby

৯। টিনা এবং “ডগ”(১৯৮৫ এবং ২০০৯)

৩০ বছর আগের আঠারো বয়সী টিনা এবং তার পাঙ্ক বয়ফ্রেন্ড “ডগ”। এই ছবি নেয়ার কয়েক বছর পর তারা সেই শহর ত্যাগ করে এবং নানান জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। এখন তারা দুইজনেই কর্মজীবি। অবসরে স্মৃতিচারণ করে সেই মধুর সময়গুলোর।

dog

*

অভিনব এই ফটোসিরিজের জন্য ফটোগ্রাফার ক্রিসের অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য। যারা তার আরো কাজ দেখতে চান, এই নিন তার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক- www.chrisporsz.com

(তথ্যসূত্র- www.brightside.me)

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-