সিনেমার কাজ চলছে গত আড়াই-তিন বছর ধরেই। মুক্তির তারিখ ইতিমধ্যে চার-পাঁঁচবার পরিবর্তন করা হয়েছে, মোশন পোস্টার বা স্টারকাস্টের কারণে সিনেমাটা নিয়ে হাইপ যা ছিল, সেসবের রেশ এখন আর নেই তেমন। তবুও আগ্রহ জেগে থাকে, কারণ এটা শঙ্করের সিনেমা, এটা রজনীকান্তের সিনেমা, তারচেয়ে বড় কথা, অক্ষয় কুমার একদমই ভিন্নধর্মী একটা ভিলেনের রোলে আছেন এখানে। রোবটের সিক্যুয়াল ২.০ সিনেমাটার কথা বলছি, অনেক জলঘোলার পরে অবশেষে তামিল, তেলুগু এবং হিন্দি ভাষায় টিজার মুক্তি পেয়েছে এই সিনেমার, এটাই প্রথম ভারতীয় সিনেমা, যেটার টিজার মুক্তি পেলো থ্রিডি টেকনোলজিতে। কিন্ত দেড় মিনিটের এই টিজারটা কতটুকু সন্তুষ্ট করতে পারলো দর্শককে? যে ভিএফএক্সের পেছনে হলিউডি টিম নিয়ে এত খরচা করা হলো, সেটাই বা কেমন হয়েছে?

রোবট চিট্টি আবার পর্দায় ফিরেছে, ফিরেছেন শঙ্কর-রজনীকান্ত জুটিও। ভিলেন ‘ক্রো ম্যান’ হিসেবে থাকছেন অক্ষয় কুমার, তার চরিত্রের নাম ড. রিচার্ড। এই টিজারটাই এবছরের মার্চে অনলাইনে লিক হয়ে গিয়েছিল। নতুন কয়েকটা দৃশ্য সংযোজন ছাড়া তেমন নতুনত্বও নেই, খুব বেশি নতুন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না কাহিনীতেও। যদিও দেড় মিনিটের টিজার দেখে সিনেমা সম্পর্কে মন্তব্য করা ঠিক নয়, তবুও বাজেটের অঙ্কটা শুনলে কিছু প্রশ্ন তো মনের ভেতরে জাগেই। 

২.০, রোবট, চিট্টি, রজনীকান্ত, শঙ্কর, অক্ষয় কুমার, দক্ষিণী সিনেমা

সাড়ে পাঁচশো কোটি রুপী বাজেট একটা দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার, শুনলেই তো চোখ কপালে ওঠার দশা হয়! বছর দুয়েক আগেও কেউ এই অসম্ভব ব্যাপারটা কল্পনা করতে পারতো না, কিন্ত এখন সেটা দিনের আলোর মতোই বাস্তব। সিনেমার প্রোডাকশন বাজেট ছিল চারশো কোটি রুপী, বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় পাঁচশো কোটি টাকার কাছাকাছি। এরমধ্যে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা হয়েছে গ্রাফিক্স আর ভিএফএক্স টিমের পেছনে। শঙ্কর দাবী করেছিলেন, এই সিনেমার অ্যানিমেশনের কাজ করা হয়েছে হলিউডি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে। ভিএফএক্স টিমের সদস্যরা এর আগে কাজ করেছিলেন ‘লাইফ অফ পাই’, ‘300’ এর মতো সিনেমায়।

কিন্ত বাস্তবে সেটার প্রতিফলন দেখা গেল কই? ভিএফএক্স এভারেজ লেভেলের, খুব আহামরি কিছু দেখা যায়নি। বাহুবলী-২ বা বলিউডি সিনেমা কৃষ-৩ এ যে ধরণের ভিএফএক্স ব্যবহার করা হয়েছিল, ২.০ সিনেমায় এরচেয়ে ভালো কিছু করা হয়েছে বলে মনে হয়নি। টাকা ঢাললেই যে কাজ ভালো হবে, সেটা সবসময় সত্যি নয়- এই বার্তাটাই যেন আরও একবার প্রমাণ করলো ২.০।

সিনেমার গল্পে কতটুকু নতুনত্ব আছে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে যাওয়া বা স্মার্টফোনের আগ্রাসনের সঙ্গে গল্পের সম্পর্ক আছে, সেটা তো বোঝা গেছে পরিস্কার। শঙ্করের পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জো নেই, তবুও খুঁত তো চোখে পড়েছেই। আসল রজনীকান্তের লুক যেমন তেমন, কিন্ত চিট্টিকে দেখে হাসি আসে। কেমন যেন একটা জোকার জোকার ভাব! তবে চোখে প্রশান্তি এনে দিয়েছেন অক্ষয় কুমার, একদম সামান্য একটু সময়ের জন্যে তার পূর্ণাঙ্গ অবয়ব দেখা গিয়েছে, তাতেই বাজীমাত করেছেন তিনি। 

২.০, রোবট, চিট্টি, রজনীকান্ত, শঙ্কর, অক্ষয় কুমার, দক্ষিণী সিনেমা

এই সিনেমার পুরো শুটিং হয়েছে থ্রিডি ক্যামেরায়, তাও একটা নয়, দুটো থ্রিডি ক্যামেরায় বন্দী হয়েছেন অভিনেতারা। দুনিয়ার নানা জায়গা থেকে মেধাবী টেকনিশিয়ানদের ভারতে উড়িয়ে এনেছেন শঙ্কর, টাকা ঢালতে কার্পণ্য করেননি কোথাও। হলিউডের কস্টিউম ডিজাইনার রোর রড্রিগুয়েজ কাজ করেছেন ২.০-তে, যিনি আগে ডেয়ারডেভিল এবং সুপারগার্লে কাজ করে এসেছেন। জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে মোট তেরোটা আলাদা ভাষায় মুক্তি দেয়া হবে সিনেমাটা।

একটা পোস্টারে সিনেমার ট্যাগলাইন বর্ণনা করা হয়েছিল এভাবে- ‘দিস ওয়ার্ল্ড ইজ নট অনলি ফর হিউম্যানস…’ পৃথিবীটা আসলেই কি শুধু মানুষের, নাকি সবার, সেটার দখল নিয়ে সিনেমায় যুদ্ধ তো হবে, কিন্ত তারচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ২.০ সিনেমার পুরো ব্যাপারস্যাপার কি গ্রাফিক্স বা ভিএফএক্স নিয়ে কিনা। শুধু ভিএফএক্সের মুলো ঝুলিয়েই কি সিনেমা বানানো হয়েছে? গল্পটা কতখানি শক্তিশালী, অভিনয় কেমন, সেসবও তো দেখতে হবে! শত শত কোটি টাকা এই ভিএফএক্সের পেছনে খরচা করা হয়েছে, তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্ত সিনেমায় যদি গল্পটাই না থাকে, সেসব দেখতে মানুষ যাবে তো? 

২.০, রোবট, চিট্টি, রজনীকান্ত, শঙ্কর, অক্ষয় কুমার, দক্ষিণী সিনেমা

রজনীকান্তের ভক্তরা তো অবশ্যই যাবেন, যাবেন শঙ্কর বা অক্ষয়ের ভক্তরাও। কিন্ত সাড়ে ছয়শো কোটি টাকা বাজেটের একটা সিনেমা নিয়ে যে পরিমাণ হাইপ থাকার কথা, সেসবের ছিঁটেফোঁটাও কি আছে? বারবার মুক্তির তারিখ পেছানো, টিজার ছাড়তে দেরী করা, সব মিলিয়ে যারা অধীর আগ্রহে ২.০ এর জন্যে অপেক্ষা করছিলেন, তারাও বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। তবুও স্বান্তনা, দেরীতে হলেও এসেছে টিজার, নভেম্বরে তো মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটাই। এখন কোন অঘটন ঘটে আবার মুক্তির তারিখটা না পেছায়, সেটাই শঙ্কার।

রোবটের দুর্দান্ত সাফল্য ছিল দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার এক নতুন যাত্রার সূচনা। এরপরে দুই খণ্ডের বাহুবলী এসেছে, ভারত জয় করেছে সেটা। ২.০ কি পারবে বাহুবলীকে পেছনে ফেলতে? সেটার জন্যে বড়সড় হাইপ দরকার, বাহুবলীর যেমন ‘কাটাপ্পা’ হাইপটা ছিল। কিংবা অ্যাভেঞ্জার্স সিরিজের ইনফিনিটি ওয়ার নিয়ে যেমন হাইপ উঠেছিল। তেমন কিছু শঙ্কর বা রজনীকান্তের ভাণ্ডারে নেই এখনও। এই হাইপটা ঠিকঠাক ওঠাতে না পারলে ৫৬৩ কোটি রুপী বাজেটের সিনেমা সুপারহিট করানোটাই মুশকিল হয়ে যেতে পারে! 

আরও পড়ুন- ২.০: হইহই কাণ্ড রইরই ব্যপার!

২.০ এর টিজার দেখুন এখানে- 

Comments
Spread the love