ফিচারটি যতবার পড়া হয়েছেঃ 59

ঝুঁকি আছে ড্রোন এবং ইমিগ্রেশন নিয়ে?

ড্রোন এলার্ট
Ad

ড্রোন নিয়ে একটা কন্সপিরেসি থিওরি (কন্সপিরেসি বলার কারণ, এক জায়গায় গিয়ে ঠেকে আছি, আর আগাতে পারছিনা) বলছি আজকে।

লিঙ্কে দেওয়া ঢাকা ট্রিবিউনের খবরটি ( http://bit.ly/29yvnuH ) আমাদের জানাচ্ছে, ২০১৪ সালে আন্সারুল্লাহ বাংলা টীমের দুই জন সদস্য ড্রোন সহ ধরা পড়েছিলো। তাদের পরিকল্পনা ছিল ড্রোন দিয়ে বোমা হামলা চালানোর। এবং ড্রোন বানানোর প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছিয়ে যাওয়ার পরে তারা ধরা পড়ে।

এই বার এই লিঙ্কের খবরটি পড়ুনঃ (http://bit.ly/29DXAAP ) কালের কণ্ঠের এই খবরটি অনুযায়ী এই বছরের ২১ জানুয়ারি, (২০১৬), চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর লাগেজ থেকে আরেকটি ড্রোন এবং স্টান্ট গান উদ্ধার করা হয়।

এইবার দেখুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত নভেম্বর, ২০১৫ সালের (http://bit.ly/2a9w7rK একটি প্রতিবেদন, যেটিতে বলা হচ্ছে তিন মাসে ৩৮টি ড্রোন আটক করা হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দর থেকে। এগুলোর প্রতিটিই ঘোষণা ছাড়া আমদানি করা; কিছু ড্রোন আমদানি করা হয়েছিলো অন্য পণ্যের ঘোষণা দিয়ে, অর্থাৎ সোজা বাংলাতে চোরাচালান। আটক করা কিছু ড্রোনের কোন মালিক পাওয়া যায়নি এবং এগুলো কারা এনেছিল, সেই ব্যপারেও কিছু জানতে পারেনি কেউ।
****
এইবার যে ঘটনাটি বলব, সেটির কোন লিঙ্ক নেই, বা কোথাও প্রকাশিতও হয়নি। পরিচিত একজনের ছোট বোন (ঢাকা, বসুন্ধরার বাসিন্দা) জানিয়েছেন ঘটনাটি, যেটি সিগ্নিফিকেন্ট কিনা, তখন বুঝতে পারিনি।

এই বছরের রোজার কোন এক ভোরে নিজের বাড়ির ছাদে ঘোরাঘুরি করবার সময়ে তিনি মোটামুটি বিশাকালারের একটি ড্রোন দেখেছিলেন।

এখনো নিশ্চিত নই, ব্যপারটি কতদূর গুরুত্বপূর্ণ।
****
বাংলাদেশের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কিছু ফ্লাইং স্কুল আছে। এগুলোতে কারা নজরদারি চালায়, বা আদৌ চালায় কিনা, সেটি জানি না। তবে গতকাল ইনবক্সে একটি ফেসবুক প্রোফাইলের লিঙ্ক পেলাম। প্রোফাইলটি একজন পাইলটের, যিনি দেশের ভেতরের অভ্যন্তরীণ একটি রুটে বিমান চালান। প্রোফাইল দেখেই নিশ্চিত হয়েছি, শতভাগ জঙ্গি মনোভাবাপন্ন এই লোকটি।

আমি সিদ্ধান্তে আসছিনা। তবে একটু বিচ্ছিরি রকমের আকাশ কুশুম কল্পনা করছি।
খেয়াল আছে কিনা জানিনা, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিমানবন্দর গুলো একেকটা সোনার খনি হয়ে উঠেছিলো। এত চোরাই সোনা ধরা পড়েছে, যে সেগুলোর কোন সঠিক হিসাব রাখাও মুশকিল হয়ে পড়েছিলো। আর চোরা চালান মানেই হল, সেখানে কোন না কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী লাভবান হবে। এই অবৈধ সোনার অধিকাংশের উৎসস্থলি ছিল মিডেল ইস্ট এবং সাউথইস্ট এশিয়ার দেশগুলো ( আটক সোনা গুলোর বিমানের গন্তব্যস্থল পর্যালোচনা করে বললাম)। এই দুই এরিয়ার মধ্যে একটা এরিয়া জঙ্গিদের পয়সাপাতি দেওয়ার জন্য বিখ্যাত। আর হালে অপর এরিয়াটিতে (ইস্ট এশিয়া- মালয়শিয়া, সিঙ্গাপুর) প্রচুর দেশী আধুনিক জঙ্গি ধরা পড়েছে। এতটুকু তথ্য এদের মধ্যে সম্পর্ক উদ্ঘাটনের জন্য যথেষ্ট না হলেও, এটা বলা যায় এদের মধ্যে কোন সম্পর্ক অবশ্যই আছে।

এই বিমান বন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা একটা জামাতি ছিল, তার সমর্থন কাদের পক্ষে থাকবে, সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। গুলশান হামলার জঙ্গিরা নিরাপদে ইমিগ্রেশন পার হয়ে যায়, দেশের বাইরে চলে যায়, এই ব্যপারগুলি তো ইমিগ্রেশনের গোয়েন্দাদের দেখার কথা, তাইনা?

পুলিশের ভাষ্যমতে একাধিক ব্লগার হত্যার আসামীরা বিভিন্ন দেশে পালিয়েছে। এদের পালানোটা অসম্ভব ছিল, যদি না এরা এই বিমানবন্দরের ভেতরের কারো সহযোগিতা না পায়।

৯/১১ এর হামলা এবং এর আগের হামলাগুলো আল কায়েদার সিগনেচার স্টাইল ছিল, বিমান নিয়ে হামলা। সেটা বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সম্ভব না হলেও তারা যে উচ্চ প্রযুক্তির সহায়তা নেবে না, সেটা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারিনা।

বাংলাদেশের ভেতরে যারা পাইলট লাইসেন্স নেয়, বা কর্মরত, তাদের সবার ব্যাক গ্রাউন্ড কি আমাদের গোয়েন্দারা পরীক্ষা করেছেন?

সংশ্লিষ্টরা কি একটু দেখবেন?

লেখকঃ সন্ত্রাসবাদ ও নিউ মিডিয়া বিষয়ক গবেষক

(এই লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। egiye-cholo.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে র মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতা নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে egiye-cholo.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না)

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad